কুমিল্লাসহ বিভিন্ন হামলার ঘটনা সরকারের ‘নীলনকশা’: গয়েশ্বর
jugantor
কুমিল্লাসহ বিভিন্ন হামলার ঘটনা সরকারের ‘নীলনকশা’: গয়েশ্বর

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

২৫ অক্টোবর ২০২১, ১৮:৪৭:৩৯  |  অনলাইন সংস্করণ

গয়েশ্বর চন্দ্র রায়

কুমিল্লাসহ বিভিন্ন পূজামণ্ডপে হামলার ঘটনা সরকারের ‘নীলনকশা’ বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও দলের গঠিত কমিটির প্রধান গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

পূজামণ্ডপে হামলার ঘটনা সরজমিনে পরিদর্শনের পর সোমবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন। নয়া পল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন হয়।

তিনি বলেন, আমরা সরজমিনে মন্দিরে গিয়ে সবার সঙ্গে কথা বলেছি, প্রত্যক্ষদর্শীদের মতামত শুনেছি। সঠিকভাবে অনুসন্ধান করলে দেখা যায়, এসব হামলার সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ছেলে-পেলেরা।

‘আজকে সরকার হামলাকারীদের মোকাবিলা করা বা আইনের আওতায় এনে তাদেরকে শাস্তি দেওয়া বা বিচার করার উদ্যোগ নেয়নি। উদ্যোগটা হলো এই ইস্যুতে মিথ্যা মামলার মধ্য দিয়ে বিএনপির নেতা-কর্মীদেরকে তুলে নেওয়া বা গ্রেফতার-হয়রানি করার একটা নীলনকশা এবং হামলাকারীদের আড়াল করা। এটা নিঃসন্দেহে বলা যায়, সরকার সুপরিকল্পিতভাবে বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাদেরকে হেনস্তা করার ইস্যুগুলো তৈরি করেছে।

গণমাধ্যমেরে উদ্দেশ্যে গয়েশ্বর বলেন, আজকের যে ঘটনা (পূজামণ্ডপে) এটা শুধু হিন্দু আক্রান্ত হয়েছে আমরা বলব না। গোটা জাতি আক্রান্ত হয়েছে। সেই আক্রমণকারীদের প্রতিরোধ করতে হলে অবশ্যই আমাদের একটা সম্মিলিত প্রচেষ্টা দরকার। লেখনির মাধ্যমে, প্রচারের মধ্য দিয়ে গণমাধ্যম সব সময় জনগণের পক্ষে কথা বলেছে।

‘আমি আশা করব, মিডিয়া ও গণমাধ্যমের ভাইয়েরা এই অবস্থার বিরুদ্ধে, এই অপকর্মের বিরুদ্ধে আপনারা সোচ্চার হবেন আপনাদের পেশাগত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে’।

গত ১৩ অক্টোবর কুমিল্লাসহ পূজামণ্ডপে হামলার ঘটনার বিএনপি দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের নেতৃত্বে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াতে একটি কমিটি গঠন করে।

গত ২৩ অক্টোবর গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল কুমিল্লার চাঁন্দমনি রক্ষা কালী মন্দির, চাঁদপুরের হাজীগঞ্জের রামকৃষ্ণ সেবা আশ্রম ও রাজা লক্ষী নারায়ণ জিউ আখড়া এই তিনটি মন্দির পরিদর্শন করেন এবং মন্দিরের পুরোহিতসহ প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলেন।

গয়েশ্বর বলেন, কুমিল্লার চাঁন্দমনি রক্ষা কালী মন্দিরে গত ১৩ অক্টোবর দুপুর আড়াইটায় একদিনে তিন দফা আক্রমণ করেছে। নানুয়া দিঘির পাড়ের ঘটনা হলো সকালে। সেখানে (চাঁন্দমনি রক্ষা কালী মন্দির) আক্রমণ করার পরে স্থানীয় লোকজন তারা যেভাবে পেরেছে আত্মরক্ষা করেছে। ঘটনার পরে পুলিশ আসছে, তারা বলেছে, আপনারা ভয় পাবেন না আমরা আছি। ওনারা চলে যাওয়ার পরে আবার তিনটায় আক্রমণ হয়েছে। ঠিক একইভাবে আক্রমণকারীরা চলে যাওয়ার পরে পুলিশ এসেছে। এসে বলল যে, আমরা আছি আপনারা ভয় পাবেন না। আবার বিকাল চারটায় আক্রমণ হয়েছে। অর্থাৎ একটা মন্দির তিনবার আক্রমল হয়েছে এবং আগুন দেওয়া হয়েছে।

‘সেই মন্দিরে পুরোহিতের সঙ্গে কথা বলেছি। কারণ, আমার ধারণা সরকার অথবা স্থানীয় প্রশাসন থেকে তাদেরকে নিশ্চয় কোনো হুমকি-টুমকি দেওয়ার কারণে মন্দিরের কমিটির সাধারণ সম্পাদকসহ কেউ কেউ উপস্থিত হননি, এটা স্বাভাবিকভাবে বুঝা যায়। আশপাশের দোকানদার আছে তাদেরকে আমরা ডেকে তাদের কাছ থেকে ঘটনার বর্ণনা শুনেছি। মন্দিরে আগুন দিয়েছে কোনো প্রাণহানি ঘটে নাই। তবে বিরাজমান আতঙ্কটা এখনো তাদের মন থেকে মুছে যায়নি। একটা নিরব নিস্তব্ধ মানে দিনের বেলাও গা শিরশির করে উঠে। চারিদিকে মানুষের চোখে-মুখে একটা আতঙ্কের ছাপ দেখেছি। কোনো কথাই তারা বলতে চায় না। কারণ তাদেরও জীবন আছে, ভয় থাকতেই পারে যদি কথাগুলো প্রকাশ করে।’

তিনি অভিযোগ করে বলেন, গোপালগঞ্জ শেখ হাসিনার ভোট পয়েন্ট। তার যে নির্বাচনী এলাকা টুঙ্গিপাড়া একটা গুরুত্বপূর্ণ হিন্দু অধ্যুষিত এলাকা, সেই টুঙ্গিপাড়াতেও একটি মন্দির ভাংচুর করা হয়েছে। এখান থেকে অনুমান করা যায় যে, সরকার বড় স্পর্শকাতর সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার মধ্য দিয়ে জনদৃষ্টিকে অন্যদিকে সরানো এবং তার স্বৈরাতান্ত্রিক ফ্যাসিবাদী মনোভাব দিয়ে তার ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করার একটা হীন প্রচেষ্টায় লিপ্ত।

‘আমি মনে করি, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। আমাদেরকে এখানে মৌলবাদী বা জঙ্গিবাদী বা সাম্প্রদায়িকভাবে আখ্যায়িত করা হয় এটা ষড়যন্ত্রমূলক। যার কারণে আজকে আক্রমণের শিকার হয়েছেন তারা দূর্বল। আজকে সমাজের সব নেতৃবৃন্দকে সামনে আসতে হবে। জাতির ধর্ম নির্বিশেষ বাংলাদেশের অসাম্প্রদায়িক যে সংস্কৃতি সেটাকে লালন করতে হলে আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধভাবে একটি প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে তোলার মধ্য দিয়ে এই ধরনের স্পর্শকাতর সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে।

তিনি বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে একটি দলের প্রতিনিধি। আমি বিএনপি করি। যেই দলের দর্শন হচ্ছে- আলাদা কোনো বিভাজন নয় অর্থাঁ এই ভুখণ্ডে জন্ম যারা নিয়েছেন সবাইকে নিয়ে আমরা সবাই বাংলাদেশি। আমরা জন্মে হিন্দু হতে পারি, মুসলিম হতে পারি, আমরা অনেক কিছু হতে পারি..। কিন্তু আমাদের পরিচয় বাংলাদেশি।

‘সেই বাংলাদেশি পরিচয়ের ঐতিহ্য নিয়ে আমাদের জাতি সত্ত্বার ওপর ভিত্তি করে আমরা এই চেতনায় ঐক্যবদ্ধভাবে বর্তমান এই ফ্যাসিবাদী সরকারের এই ধরনের হীন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য আমি আহ্বান করছি। আমরাও মাঠে নামব। আজকে এটার প্রয়োজন আছে। প্রথমত এই জাতিকে টিকিয়ে রাখা, আমার রাষ্ট্রকে টিকিয়ে রাখা। এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলে বা অব্যাহত থাকলে গণতন্ত্র তো নাই, রাষ্ট্র থাকবে কিনা সন্দেহ। আমাদের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব হুমকির সম্মুখিন হবে।

তিনি বলেন, আমরা হিন্দু চেতনাবোধ থেকে মন্দিরে (হামলা হওয়া মন্দির) যাইনি। আমরা একটা ন্যাশনাল স্পিরিট অর্থাঁ আমরা বাংলাদেশের নাগরিক, আমরা একটা রাজনৈতিক দল করি সেই দলের দায়িত্ববোধ থেকে আমরা বিএনপির প্রতিনিধি হিসেব গিয়েছি এবং যাব।

‘এটা ভাবার কারণ নেই যে, শুধু হিন্দুদের মন্দির বা বাড়ি হামলা হয়েছে বলে আমরা সেখানে গিয়েছি। যেকোনো হামলা, যেকোনো আক্রমণে আমরা ইতিপূর্বে সেখানে গেয়েছি এবং আমরা প্রতিবাদ করেছি, প্রতিরোধ করার চেষ্টা করব অব্যাহতভাবে।

সংবাদ সম্মেলনে দলের ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, নিতাই রায় চৌধুরী, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, কেন্দ্রীয় নেতা গৌতম চক্রবর্তী, মীর সরফত আলী সপু, আবদুস সালাম আজাদ, অমলেন্দু দাস অপু, দেবাশীষ রায় মধু, চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে উপজেলার সভাপতি প্রকৌশলী মমিনুল হক ও নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার সভাপতি কামাক্ষা চন্দ্র দাস উপস্থিত ছিলেন।

কুমিল্লাসহ বিভিন্ন হামলার ঘটনা সরকারের ‘নীলনকশা’: গয়েশ্বর

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
২৫ অক্টোবর ২০২১, ০৬:৪৭ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
গয়েশ্বর চন্দ্র রায়
ফাইল ছবি

কুমিল্লাসহ বিভিন্ন পূজামণ্ডপে হামলার ঘটনা সরকারের ‘নীলনকশা’ বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও দলের গঠিত কমিটির প্রধান গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। 

পূজামণ্ডপে হামলার ঘটনা সরজমিনে পরিদর্শনের পর সোমবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন। নয়া পল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন হয়। 

তিনি বলেন, আমরা সরজমিনে মন্দিরে গিয়ে সবার সঙ্গে কথা বলেছি, প্রত্যক্ষদর্শীদের মতামত শুনেছি। সঠিকভাবে অনুসন্ধান করলে দেখা যায়, এসব হামলার সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ছেলে-পেলেরা।

‘আজকে সরকার হামলাকারীদের মোকাবিলা করা বা আইনের আওতায় এনে তাদেরকে শাস্তি দেওয়া বা বিচার করার উদ্যোগ নেয়নি। উদ্যোগটা হলো এই ইস্যুতে মিথ্যা মামলার মধ্য দিয়ে বিএনপির নেতা-কর্মীদেরকে তুলে নেওয়া বা গ্রেফতার-হয়রানি করার একটা নীলনকশা এবং হামলাকারীদের আড়াল করা। এটা নিঃসন্দেহে বলা যায়, সরকার সুপরিকল্পিতভাবে বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাদেরকে হেনস্তা করার ইস্যুগুলো তৈরি করেছে।

গণমাধ্যমেরে উদ্দেশ্যে গয়েশ্বর বলেন, আজকের যে ঘটনা (পূজামণ্ডপে) এটা শুধু হিন্দু আক্রান্ত হয়েছে আমরা বলব না। গোটা জাতি আক্রান্ত হয়েছে। সেই আক্রমণকারীদের প্রতিরোধ করতে হলে অবশ্যই আমাদের একটা সম্মিলিত প্রচেষ্টা দরকার। লেখনির মাধ্যমে, প্রচারের মধ্য দিয়ে গণমাধ্যম সব সময় জনগণের পক্ষে কথা বলেছে।

‘আমি আশা করব, মিডিয়া ও গণমাধ্যমের ভাইয়েরা এই অবস্থার বিরুদ্ধে, এই অপকর্মের বিরুদ্ধে আপনারা সোচ্চার হবেন আপনাদের পেশাগত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে’।

গত ১৩ অক্টোবর কুমিল্লাসহ পূজামণ্ডপে হামলার ঘটনার বিএনপি দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের নেতৃত্বে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াতে একটি কমিটি গঠন করে।

গত ২৩ অক্টোবর গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল কুমিল্লার চাঁন্দমনি রক্ষা কালী মন্দির, চাঁদপুরের হাজীগঞ্জের রামকৃষ্ণ সেবা আশ্রম ও রাজা লক্ষী নারায়ণ জিউ আখড়া এই তিনটি মন্দির পরিদর্শন করেন এবং মন্দিরের পুরোহিতসহ প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলেন।

গয়েশ্বর বলেন, কুমিল্লার চাঁন্দমনি রক্ষা কালী মন্দিরে গত ১৩ অক্টোবর দুপুর আড়াইটায় একদিনে তিন দফা আক্রমণ করেছে। নানুয়া দিঘির পাড়ের ঘটনা হলো সকালে। সেখানে (চাঁন্দমনি রক্ষা কালী মন্দির) আক্রমণ করার পরে স্থানীয় লোকজন তারা যেভাবে পেরেছে আত্মরক্ষা করেছে। ঘটনার পরে পুলিশ আসছে, তারা বলেছে, আপনারা ভয় পাবেন না আমরা আছি। ওনারা চলে যাওয়ার পরে আবার তিনটায় আক্রমণ হয়েছে। ঠিক একইভাবে আক্রমণকারীরা চলে যাওয়ার পরে পুলিশ এসেছে। এসে বলল যে, আমরা আছি আপনারা ভয় পাবেন না। আবার বিকাল চারটায় আক্রমণ হয়েছে। অর্থাৎ একটা মন্দির তিনবার আক্রমল হয়েছে এবং আগুন দেওয়া হয়েছে।

‘সেই মন্দিরে পুরোহিতের সঙ্গে কথা বলেছি। কারণ, আমার ধারণা সরকার অথবা স্থানীয় প্রশাসন থেকে তাদেরকে নিশ্চয় কোনো হুমকি-টুমকি দেওয়ার কারণে মন্দিরের কমিটির সাধারণ সম্পাদকসহ কেউ কেউ উপস্থিত হননি, এটা স্বাভাবিকভাবে বুঝা যায়। আশপাশের দোকানদার আছে তাদেরকে আমরা ডেকে তাদের কাছ থেকে ঘটনার বর্ণনা শুনেছি। মন্দিরে আগুন দিয়েছে কোনো প্রাণহানি ঘটে নাই। তবে বিরাজমান আতঙ্কটা এখনো তাদের মন থেকে মুছে যায়নি। একটা নিরব নিস্তব্ধ মানে দিনের বেলাও গা শিরশির করে উঠে। চারিদিকে মানুষের চোখে-মুখে একটা আতঙ্কের ছাপ দেখেছি। কোনো কথাই তারা বলতে চায় না। কারণ তাদেরও জীবন আছে, ভয় থাকতেই পারে যদি কথাগুলো প্রকাশ করে।’

তিনি অভিযোগ করে বলেন, গোপালগঞ্জ শেখ হাসিনার ভোট পয়েন্ট। তার যে নির্বাচনী এলাকা টুঙ্গিপাড়া একটা গুরুত্বপূর্ণ হিন্দু অধ্যুষিত এলাকা, সেই টুঙ্গিপাড়াতেও একটি মন্দির ভাংচুর করা হয়েছে। এখান থেকে অনুমান করা যায় যে, সরকার বড় স্পর্শকাতর সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার মধ্য দিয়ে জনদৃষ্টিকে অন্যদিকে সরানো এবং তার স্বৈরাতান্ত্রিক ফ্যাসিবাদী মনোভাব দিয়ে তার ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করার একটা হীন প্রচেষ্টায় লিপ্ত।

‘আমি মনে করি, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। আমাদেরকে এখানে মৌলবাদী বা জঙ্গিবাদী বা সাম্প্রদায়িকভাবে আখ্যায়িত করা হয় এটা ষড়যন্ত্রমূলক। যার কারণে আজকে আক্রমণের শিকার হয়েছেন তারা দূর্বল। আজকে সমাজের সব নেতৃবৃন্দকে সামনে আসতে হবে। জাতির ধর্ম নির্বিশেষ বাংলাদেশের অসাম্প্রদায়িক যে সংস্কৃতি সেটাকে লালন করতে হলে আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধভাবে একটি প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে তোলার মধ্য দিয়ে এই ধরনের স্পর্শকাতর সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে।

তিনি বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে একটি দলের প্রতিনিধি। আমি বিএনপি করি। যেই দলের দর্শন হচ্ছে- আলাদা কোনো বিভাজন নয় অর্থাঁ এই ভুখণ্ডে জন্ম যারা নিয়েছেন সবাইকে নিয়ে আমরা সবাই বাংলাদেশি। আমরা জন্মে হিন্দু হতে পারি, মুসলিম হতে পারি, আমরা অনেক কিছু হতে পারি..। কিন্তু আমাদের পরিচয় বাংলাদেশি।

‘সেই বাংলাদেশি পরিচয়ের ঐতিহ্য নিয়ে আমাদের জাতি সত্ত্বার ওপর ভিত্তি করে আমরা এই চেতনায় ঐক্যবদ্ধভাবে বর্তমান এই ফ্যাসিবাদী সরকারের এই ধরনের হীন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য আমি আহ্বান করছি। আমরাও মাঠে নামব। আজকে এটার প্রয়োজন আছে। প্রথমত এই জাতিকে টিকিয়ে রাখা, আমার রাষ্ট্রকে টিকিয়ে রাখা। এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলে বা অব্যাহত থাকলে গণতন্ত্র তো নাই, রাষ্ট্র থাকবে কিনা সন্দেহ। আমাদের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব হুমকির সম্মুখিন হবে।

তিনি বলেন, আমরা হিন্দু চেতনাবোধ থেকে মন্দিরে (হামলা হওয়া মন্দির) যাইনি। আমরা একটা ন্যাশনাল স্পিরিট অর্থাঁ আমরা বাংলাদেশের নাগরিক, আমরা একটা রাজনৈতিক দল করি সেই দলের দায়িত্ববোধ থেকে আমরা বিএনপির প্রতিনিধি হিসেব গিয়েছি এবং যাব।

‘এটা ভাবার কারণ নেই যে, শুধু হিন্দুদের মন্দির বা বাড়ি হামলা হয়েছে বলে আমরা সেখানে গিয়েছি। যেকোনো হামলা, যেকোনো আক্রমণে আমরা ইতিপূর্বে সেখানে গেয়েছি এবং আমরা প্রতিবাদ করেছি, প্রতিরোধ করার চেষ্টা করব অব্যাহতভাবে।

সংবাদ সম্মেলনে দলের ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, নিতাই রায় চৌধুরী, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, কেন্দ্রীয় নেতা গৌতম চক্রবর্তী, মীর সরফত আলী সপু, আবদুস সালাম আজাদ, অমলেন্দু দাস অপু, দেবাশীষ রায় মধু, চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে উপজেলার সভাপতি প্রকৌশলী মমিনুল হক ও নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার সভাপতি কামাক্ষা চন্দ্র দাস উপস্থিত ছিলেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন