হিন্দু সম্প্রদায়কে ব্যক্তিগত সম্পদ মনে করে আ.লীগ: মির্জা ফখরুল
jugantor
হিন্দু সম্প্রদায়কে ব্যক্তিগত সম্পদ মনে করে আ.লীগ: মির্জা ফখরুল

  ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি  

০৩ নভেম্বর ২০২১, ১৯:৩৫:০২  |  অনলাইন সংস্করণ

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আওয়ামী লীগ হিন্দু সম্প্রদায়কে তাদের ব্যক্তিগত সম্পদ মনে করে। তিনি দেশে সাম্প্রদায়িক হামলা ও সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন এবং হিন্দুদের সম্পদ লুটের পেছনে আওয়ামী লীগকেই দায়ী করেন। তিনি হিন্দু সম্প্রদায়কে নিরাপত্তা দিতে সরকার ব্যর্থ বলে দাবি করেছেন।

বুধবার দুপুরে ঠাকুরগাঁও শহরের তাঁতীপাড়া মহল্লায় তার পৈতৃক বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপির মহাসচিব এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, কুমিল্লার সাম্প্রদায়িক হামলার ব্যাপারে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মহল এই কাজটি আওয়ামী লীগকে দিয়ে করানো হয়েছে বলেন তিনি এই মন্তব্য করেন। ফখরুল বলেছেন এ দায় ভার আওয়ামী লীগ সরকারকেই নিতে হবে।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকতে এ ধরনের সাম্প্রদায়িক সহিংসতার সঠিক বিচার হয় না। অনেকেই ধারণা করছে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক চক্রান্তে সরকারের মদদেই হিন্দুদের মন্দিরে ও তাদের বাড়িতে সহিংসতার ঘটনা ঘটছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আড়াল করতে গিয়ে সরকার উল্টো বিরোধীদলীয় লোকজনের ওপর দোষ চাপাতে চৌমুহনীর ঘটনায় বরকতুল্লাহ বুলুসহ প্রায় ১ হাজার ৬০০ নিরীহ মানুষকে আসামি করে মামলা দিয়েছে।

তিনি বলেন, বরকতুল্লাহ বুলু একজন প্রগতিশীল রাজনীতিবিদ। তিনি জনগণের সঙ্গে থেকে বারবার নির্বাচিত হয়েছেন। জনগণের দৃষ্টি সরকার অন্যদিকে প্রবাহিত করতে এ ধরনের হয়রানিমূলক মামলা দিয়ে মানুষকে গ্রাম ছাড়া করছে।

বিএনপি একটি জনবিচ্ছিন্ন দলে পরিণত হয়েছে- আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, পুলিশকে তুলে নিক তারা। নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিক। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে প্রমাণ হবে যে, বিএনপি গণবিচ্ছিন্ন দল নাকি জনবান্ধব দল। আওয়ামী লীগ জোর করে ক্ষমতা দখল করে থাকবে, পুলিশ ও রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে জোর করে ক্ষমতায় থাকবেন। ভোটের আগের রাতে ভোট চুরির মাধ্যমে অবৈধভাবে ক্ষমতায় থাকবেন তাহলে ক্যামনে হয়। একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিন, তাহলে পরিষ্কার হয়ে যাবে বিএনপির প্রতি জনগণের আস্থা আছে কিনা।

তিনি আরও বলেন, দেশের মানুষের মুখে আজ হাসি নেই। নিত্যপ্রয়োজনীয় সব কিছুর দাম আজ আকাশচুম্বী। সব কিছুতেই আজ অস্থিতিশীল পরিবেশ বিরাজ করছে। এ অবস্থায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের উচিত আয়নায় নিজের চেহারা দেখে তা দেশের সাধারণ জনগণের চেহারার সঙ্গে মিলিয়ে দেখা। তাহলেই তিনি পার্থক্য বুঝতে পারবেন বলে উল্লেখ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল।

তিনি বলেন, তাদের জনগণের ভোট লাগে না। তারা নিজেরাই সব করতে পারে। খুব সুকৌশলে আওয়ামী লীগ ১/১১ থেকেই দেশে বিরাজনীতিকরণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। দেশের জনগণ আজ রাজনীতি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। এর মাশুল তাদেরই দিতে হবে।

নির্বাচন কমিশন নিয়ে বিএনপির কোনো আগ্রহ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থাটা এখন এই সরকারের হাতে পরে বিনষ্ট হয়ে গিয়েছে। সে কারণেই আমরা বিগত নির্বাচনগুলো বর্জন করেছি, নির্বাচন কমিশনকে সার্চ কমিটিতে আমাদের মতামত দিয়েছি কিন্তু এ সরকার কোনো কিছু গ্রহণ করে নাই। কারণ তারা জানে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে বিএনপির জয় নিশ্চিত।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পৌর মেয়র মির্জা ফয়সল আমিন, সহ-সভাপতি পয়গাম আলী, অর্থ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম শরিফ, দপ্তর সম্পাদক মামুন উর রশিদ, সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হামিদসহ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

হিন্দু সম্প্রদায়কে ব্যক্তিগত সম্পদ মনে করে আ.লীগ: মির্জা ফখরুল

 ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি 
০৩ নভেম্বর ২০২১, ০৭:৩৫ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আওয়ামী লীগ হিন্দু সম্প্রদায়কে তাদের ব্যক্তিগত সম্পদ মনে করে। তিনি দেশে সাম্প্রদায়িক হামলা ও সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন এবং হিন্দুদের সম্পদ লুটের পেছনে আওয়ামী লীগকেই দায়ী করেন। তিনি হিন্দু সম্প্রদায়কে নিরাপত্তা দিতে সরকার ব্যর্থ বলে দাবি করেছেন।

বুধবার দুপুরে ঠাকুরগাঁও শহরের তাঁতীপাড়া মহল্লায় তার পৈতৃক  বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপির মহাসচিব এসব কথা বলেন। 

তিনি বলেন, কুমিল্লার সাম্প্রদায়িক হামলার ব্যাপারে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মহল এই কাজটি আওয়ামী লীগকে দিয়ে করানো হয়েছে বলেন তিনি এই মন্তব্য করেন। ফখরুল বলেছেন এ দায় ভার আওয়ামী লীগ সরকারকেই নিতে হবে। 

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আওয়ামী লীগ  ক্ষমতায় থাকতে এ ধরনের সাম্প্রদায়িক সহিংসতার সঠিক বিচার হয় না। অনেকেই ধারণা করছে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক চক্রান্তে  সরকারের মদদেই হিন্দুদের মন্দিরে ও তাদের বাড়িতে সহিংসতার ঘটনা ঘটছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আড়াল করতে গিয়ে সরকার উল্টো বিরোধীদলীয় লোকজনের ওপর দোষ চাপাতে চৌমুহনীর ঘটনায় বরকতুল্লাহ বুলুসহ প্রায় ১ হাজার ৬০০ নিরীহ মানুষকে আসামি করে মামলা দিয়েছে।

তিনি বলেন, বরকতুল্লাহ বুলু একজন প্রগতিশীল রাজনীতিবিদ। তিনি জনগণের সঙ্গে থেকে বারবার নির্বাচিত হয়েছেন। জনগণের দৃষ্টি সরকার অন্যদিকে প্রবাহিত করতে এ ধরনের হয়রানিমূলক মামলা দিয়ে মানুষকে গ্রাম ছাড়া করছে।

বিএনপি একটি জনবিচ্ছিন্ন দলে পরিণত হয়েছে- আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, পুলিশকে তুলে নিক তারা। নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিক। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে প্রমাণ হবে যে, বিএনপি গণবিচ্ছিন্ন দল নাকি জনবান্ধব দল। আওয়ামী লীগ জোর করে ক্ষমতা দখল করে থাকবে, পুলিশ ও রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে জোর করে ক্ষমতায় থাকবেন। ভোটের আগের রাতে ভোট চুরির মাধ্যমে অবৈধভাবে ক্ষমতায় থাকবেন তাহলে ক্যামনে হয়। একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিন, তাহলে পরিষ্কার হয়ে যাবে বিএনপির প্রতি জনগণের আস্থা আছে কিনা।

তিনি আরও বলেন, দেশের মানুষের মুখে আজ হাসি নেই। নিত্যপ্রয়োজনীয় সব কিছুর দাম আজ আকাশচুম্বী। সব কিছুতেই আজ অস্থিতিশীল পরিবেশ বিরাজ করছে। এ অবস্থায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের উচিত আয়নায় নিজের চেহারা দেখে তা দেশের সাধারণ জনগণের চেহারার সঙ্গে মিলিয়ে দেখা। তাহলেই তিনি পার্থক্য বুঝতে পারবেন বলে উল্লেখ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল। 

তিনি বলেন, তাদের জনগণের ভোট লাগে না। তারা নিজেরাই সব করতে পারে। খুব সুকৌশলে আওয়ামী লীগ ১/১১ থেকেই দেশে বিরাজনীতিকরণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। দেশের জনগণ আজ রাজনীতি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। এর মাশুল তাদেরই দিতে হবে।

নির্বাচন কমিশন নিয়ে বিএনপির কোনো আগ্রহ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থাটা এখন এই সরকারের হাতে পরে বিনষ্ট হয়ে গিয়েছে। সে কারণেই আমরা বিগত নির্বাচনগুলো বর্জন করেছি, নির্বাচন কমিশনকে সার্চ কমিটিতে আমাদের মতামত দিয়েছি কিন্তু এ সরকার কোনো কিছু গ্রহণ করে নাই। কারণ তারা জানে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে বিএনপির জয় নিশ্চিত।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পৌর মেয়র মির্জা ফয়সল আমিন, সহ-সভাপতি পয়গাম আলী, অর্থ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম শরিফ, দপ্তর সম্পাদক মামুন উর রশিদ, সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হামিদসহ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন