‘দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু-নিরপেক্ষ নির্বাচন আশা করা যায় না’

প্রকাশ : ১৫ মে ২০১৮, ২২:০৫ | অনলাইন সংস্করণ

  খুলনা ব্যুরো

ইসলামী আন্দোলনের মেয়র প্রার্থী মাওলানা মুজ্জাম্মিল হক। ফাইল ছবি

ব্যর্থ নির্বাচন কমিশন ও দলীয় সরকারের অধীনে যে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আশা করা যায় না বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলনের মেয়র প্রার্থী মাওলানা মুজ্জাম্মিল হক।

খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি) নির্বাচন নিয়ে মঙ্গলবার বিকালে খুলনা মহানগর কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন। 

মাওলানা মুজ্জাম্মিল হক বলেন, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়নি। ব্যর্থ নির্বাচন কমিশন ও দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু-নিরপেক্ষ নির্বাচন আশা করা যায় না তার প্রমাণ আজকের নির্বাচন।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র দখল, ভোট ডাকাতি, ভোটারদের হয়রানি, ভোট না দিতে দেয়া, এজেন্টদের বুথ থেকে বের করে দেয়া, এজেন্টদের মারধর, পুলিশ কর্তৃক জাল ভোট প্রদানে সহযোগিতা। নিরাপত্তার ভয়ে অনেক ভোটাররা ভোটকেন্দ্রেই আসেনি।

বিভিন্ন অনিয়ম তুলে ধরে তিনি বলেন, ৩০নং ওয়ার্ড’এ রূপসা  প্রাইমারি স্কুল, হাইস্কুল, ইউসুফ স্কুলের সেন্টারগুলোতে ভোট প্রদান বন্ধ হয়ে গেছে। সম্ভবত জাল ভোট কাটা হয়েছে। ১২নং ওয়ার্ডের স্যাটেলাইট স্কুল কেন্দ্র জোর করে দখল করে নিয়েছে। ১২ ও ৩০’এ বিভিন্ন কেন্দ্রগুলোতে নির্বাচনী এজেন্টকে ঢুকতে দেয়া হয়নি। ১৩নং’এ সকাল থেকেই কাউকে ঢুকতে দেয়া হয়নি। শুধুই নৌকার ভোটাররা ঢুকেছে। ৩১নং ওয়ার্ড কার্যালয়, লবণচরা প্রাথমিক বিদ্যালয়, শিপইয়ার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয় মারামারি হয়েছে। মাওয়াখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ইব্রাহিমীয়া মাদ্রাসা সেন্টার বন্ধ। ওয়ার্ডের সব অফিস থেকে লোকজন বের করে দেয়া হয়েছে। 

মাওলানা মুজ্জাম্মিল হক বলেন, ইকবালনগর স্কুল সেন্টারে ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক ভোটগ্রহণ স্থগিত, নিরালা টিনশেড সেন্টার বন্ধ। ২নং ওয়ার্ডে নগরঘাট কৃষ্ণমোহন স্কুলে, রেলিগেট ও আর, আর এফ এ ব্যাপক কারচুপি হয়েছে। অথচ প্রশাসন নীরব। ব্যাপক হারে জাল ভোট প্রয়োগ হয়েছে। ২৯নং ওয়ার্ডে গগন বাবু রোড সবুরুন্নেসা সেন্টারে প্রকাশ্যে নৌকায় সিল মারতে বাধ্য করা হয়েছে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুল আউয়াল, জেলা সভাপতি মাওলানা আব্দল্লাহ ইমরান, নগর সহসভাপতি মাওলানা মুজাফ্ফার হোসাইন, নগর সহসভাপতি শেখ মো. নাসির উদ্দিন, নগর সেক্রেটারি মুফতি আমানুল্লাহ, জেলা সেক্রেটারি শেখ হাসান ওবায়দুল করীম, সৌদি আরব কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি হাফেজ আসাদুল্লাহ, নগর সহপ্রশিক্ষণ সম্পাদক মুফতি আ. রহমান মিয়াজী, নগর শ্রমিক আন্দোলনের সভাপতি আলহাজ জাহিদুল ইসলাম প্রমুখ।