‘সরকার-বাস মালিক আঁতাত আছে?’
jugantor
‘সরকার-বাস মালিক আঁতাত আছে?’

  সংসদ প্রতিবেদক  

২৮ নভেম্বর ২০২১, ১৮:৩১:১০  |  অনলাইন সংস্করণ

‘সরকার-বাস মালিক আঁতাত আছে?’

সরকারের কর্তাব্যক্তিদের সঙ্গে বাস মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির ‘আঁতাত’ রয়েছে কিনা- এমন প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও বিরোধীদলীয় উপনেতা জিএম কাদের।

রোববার জাতীয় সংসদের পঞ্চদশ অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে এ প্রশ্ন রাখেন তিনি। এ সময় তার পাশের আসনে ছিলেন বিরোধীদলীয় প্রধান হুইপ মসিউর রহমান রাঙ্গা।

বক্তব্যের সময় হাসতে হাসতে সে কথাও বলেন জিএম কাদের। তখন পাশ থেকে রাঙ্গাকে বলতে শোনা যায়, ‘আমরা গরিব। সবচেয়ে গরিব।’

বক্তব্যে জিএম কাদের বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে বাসের মালিকরা ভাড়া বৃদ্ধির দাবি করতেই পারেন। এটা অত্যন্ত স্বাভাবিক। কিন্তু দেশব্যাপী মানুষ অমানবিক নির্যাতনের শিকার হলো। তেলচালিত বাস বন্ধ হলো। সেটা হতেই পারে, মানলাম। গ্যাসচালিত বাস বন্ধ হলো কেন?

তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্দেশ বা সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া সারা দেশে পরিবহন বন্ধ হওয়া স্বাভাবিক নয়। আমাদের বিআরটিএ বলে একটা সংস্থা আছে। যাত্রীদের জিম্মি করে অঘোষিত ধর্মঘট ডেকে যারা দাবি আদায় করে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। এ ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার উদাহরণ দেখছি না।

বিরোধীদলীয় উপনেতা বলেন, মালিক সমিতির দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বিআরটিএ নতুন ভাড়া নির্ধারণ করে। ডিজেলচালিত বাসের জন্য একটা আর গ্যাসের জন্য একটা। কিন্তু নেওয়া হচ্ছে একই ভাড়া। একটা অনিয়মের চিত্র দেখা গেলো। পত্রিকায় দেখলাম, যাত্রীরা সরকার নির্ধারিত ভাড়া দিয়ে যেতে চাইলে বাস থেকে নামিয়ে দিচ্ছে।

তিনি বলেন, পরিবহন সেক্টর আসলে কে নিয়ন্ত্রণ করছে, সরকার? সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ আছে এখানে? নাকি মালিক-শ্রমিক সমিতি করছে? সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্তরা কি এই খাতের নেতাদের সঙ্গে আঁতাত করছেন?

বিরোধীদলীয় উপনেতা জিএম কাদের শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়ার দাবিকে যৌক্তিক আখ্যা দিয়ে সরকারকে দ্রুত এ বিষয়ে সিদ্ধান্তে আসার আহ্বান জানান।

জিএম কাদের সংসদ সদস্যদের জন্য অবসরকালীন আর্থিক সুবিধার দাবি করে বলেন, আমাদের অনেক সংসদ সদস্য আছেন, ১৫-২০-২৫ বছর আছেন। তারা সৎভাবে কাজ করেন। প্রশাসনের বা অনেক জায়গায় অবসরের পর আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। অনেক দেশে এমপিদের অবসর সহায়তা দেওয়া হয়। আমাদের দেশে এ ধরনের ব্যবস্থা করার দাবি করছি। তাহলে যারা সৎভাবে কাজ করতে চান, তারা মানবেতর জীবনে পড়বেন না।

তিনি বলেন, অবসরের পর কর্মকর্তারা ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহার করেন। এমপিরা পারেন না। সচিবদের দেওয়া হচ্ছে। অন্যদের দেওয়া হচ্ছে। আর্মিদের দেওয়া হচ্ছে। এমপিরা পান না। স্থানীয় সরকারে যারা আছেন, তাদেরও আর্থিক সহায়তা দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।

সম্প্রতি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে নথি চুরি হওয়ার ঘটনা তুলে ধরে জিএম কাদের বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনিয়ম নিয়ে অনেক দিন ধরে কথা বলছি। দুর্নীতি দূর হয়েছে- এমন মনে হচ্ছে না। সম্প্রতি কেনাকাটা সংক্রান্ত ১৭টি নথি গায়েব হয়ে গেলো। তদন্ত কমিটির রিপোর্ট দেওয়া হলো, ফাইল ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। দুর্নীতি ধামাচাপা দেওয়া হয়েছে। যেখানে দুর্নীতি হয়, সেখানে ফাইল গায়েব করে দিলে আর সাজা হয় না। ফাইল গায়েবে বোঝা দুর্নীতি হচ্ছে।

জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির সমালোচনা করে জাতীয় পাটির চেয়ারম্যান বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের দোহাই দিয়ে মূল্যবৃদ্ধি খুব কি বেশি প্রয়োজন ছিল? আমাদের দেশে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমলে কমানো হয় না। কিন্তু বাড়লে বাড়ানো হয়। করোনার সময় আমরা সেটা করিনি। তেলের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে কমবে বলে অনেকে মনে করছেন। এটি দেশের বাজারে পুন:নির্ধারণ করা উচিত।

তিনি বলেন, দারিদ্র্যের হার বাড়ছে, বেকারত্বের হার বাড়ছে। খোলাবাজারে সব পণ্যের দাম বেড়েছে। কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ চোখে পড়েনি। বাজারে কোনো নিয়ন্ত্রণ আছে বল মনে হয় না। বেকারত্ব বাড়ছে, দারিদ্র্য বাড়ছে, আয় কমছে। নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে। সাধারণ মানুষ কষ্টে দিন অতিবাহিত করছে। মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা।

তেলের দাম বাড়ানোর সমালোচনা করে জি এম কাদের বলেন, সরকার গত ৩ নভেম্বর তেলের দাম বাড়িয়ে দেয়। অর্থনীতিবিদদের মতে জ্বালানি একটি কৌশলগত পন্য। জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধির প্রভাব সরাসরি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও সকল প্রকার সেবার দামের উপর পড়ে। আর পরিকল্পনাহীন মূল্য বৃদ্ধি অনেক সময় বিকাশমান অর্থনীতিকে স্থবির করে দেয়।

তিনি বলেন, করোনা মহামারিতে বিপর্যস্ত অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে একদিকে সরকারের অব্যাহত প্রণোদনা অন্যদিকে তেলের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধির বিষয়টি কিছুটা সাংঘর্ষিক মনে হয়।

বিরোধীদলীয় উপনেতা বলেন, করোনার প্রকোপ কমায় দরিদ্র সীমায় পৌছে যাওয়া মানুষগুলো নতুনভাবে জীবিকার সংগ্রামে নিয়োজিত করেছে নিজেকে। এমন প্রেক্ষাপটে তেলের মূল্য বৃদ্ধির প্রভাবে অন্যান্য জনগোষ্ঠির সাথে নতুন ভাবে দারিদ্র সীমায় পৌছে যাওয়া মানুষগুলো জীবিকার ব্যায় নির্বাহ করতে না পেরে আরো পিছিয়ে পড়তে পারে।

জি এম কাদের বলেন, সরকারের জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের হিসাব বলছে গত তিন মাস ধরে প্রতিদিন সরকারের লস হচ্ছ ২০-২২ কোটি টাকার মতো। বিপিসির চেয়ারম্যান গণমাধ্যমকে বলেছেন বিপিসির লাভের অর্থ থেকে সরকারের নির্দেশে সরকারের কোষাগারে ১০ হাজার কোটি টাকা জমা দিতে হয়েছে। যদি লভ্যাংশের অর্থ সরকারকে না দিতে হতো তাহলে আরো ছয় মাস দাম না বড়িয়েও বিপিসি চালিয়ে নিতে পারত।

তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, লভ্যাংশের এমন হিসাবের পর আমার প্রশ্ন হচ্ছে আন্তর্জাতিক বাজারের দোহাই দিয়ে এই মুহূর্তে আমাদের অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধির খুব বেশি প্রয়োজন ছিল কি?

দ্রব্যমূল্যের সীমাহীন ঊর্ধ্বগতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, করোনাকালীন নতুনভাবে দরিদ্র হয়েছে ৩ কোটি ২৪ লাখ। ব্রাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স এন্ড ডেভেলপমেন্ট (বিআইজিডি) এবং বেসরকারী গবেষনা সংস্থা পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্স সেন্টার (পিপিআরসি) এর এক যৌথ জরিপে উঠে এসেছে এমন তথ্য।বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য মতে, দেশে মোট শ্রম শক্তির আকার ৬ কোটি ৪০ লাখ।

গত বছর চাকরি হারিয়েছে ৪.৩ শতাংশ। সংখ্যার হিসাবে ২৬ লাখ ১৪ হাজার ৪০০জন। বেসরকারি সংস্থার হিসাবে এই সংখ্যা ১ কোটি ৫০ লাখের বেশি।

জিএম কাদের বলেন, বেকারত্বের সংখ্যা বাড়ছে। দেশে দরিদ্রের সংখ্যা বাড়ছে। মানুষের আয় কমছে। এ প্রেক্ষাপটে, দেখা যাচ্ছে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কোন যুক্তি সঙ্গত কারন ছাড়া নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে সাধারন মানুষ অনেক কষ্টে তাদের প্রতিটি দিন অতিবাহিত করছে। মাননীয় স্পিকার আপনার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। বেকারত্ব, দারিদ্র্যতার মাঝে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা, জীবন বাঁচাতে হিমশিম খেতে হতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। সম্প্রতি জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি এ দুর্দশাকে কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে এবং প্রতিদিন বৃদ্ধি করেই চলছে।

রাষ্ট্রধর্ম ইসলামের সমালোচনাকারী মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী এবং অন্যান্য মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী ক্ষমতা গ্রহণের পূর্বে নিম্নোক্ত শপথ গ্রহণ করেন— ‘আমি সংবিধানের রক্ষণ, সমর্থন ও নিরাপত্তা বিধান করিব।’ ফলে, মন্ত্রী প্রতিমন্ত্রী যারা বলেছেন ইসলাম রাষ্ট্র ধর্ম মানি না। তারা শপথ ভঙ্গের দায়ে দোষী, যা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসাবে গণ্য করা যায়।

‘সরকার-বাস মালিক আঁতাত আছে?’

 সংসদ প্রতিবেদক 
২৮ নভেম্বর ২০২১, ০৬:৩১ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
‘সরকার-বাস মালিক আঁতাত আছে?’
ফাইল ছবি

সরকারের কর্তাব্যক্তিদের সঙ্গে বাস মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির ‘আঁতাত’ রয়েছে কিনা- এমন প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও বিরোধীদলীয় উপনেতা জিএম কাদের। 

রোববার জাতীয় সংসদের পঞ্চদশ অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে এ প্রশ্ন রাখেন তিনি। এ সময় তার পাশের আসনে ছিলেন বিরোধীদলীয় প্রধান হুইপ মসিউর রহমান রাঙ্গা। 

বক্তব্যের সময় হাসতে হাসতে সে কথাও বলেন জিএম কাদের। তখন পাশ থেকে রাঙ্গাকে বলতে শোনা যায়, ‘আমরা গরিব। সবচেয়ে গরিব।’

বক্তব্যে জিএম কাদের বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে বাসের মালিকরা ভাড়া বৃদ্ধির দাবি করতেই পারেন। এটা অত্যন্ত স্বাভাবিক। কিন্তু দেশব্যাপী মানুষ অমানবিক নির্যাতনের শিকার হলো। তেলচালিত বাস বন্ধ হলো। সেটা হতেই পারে, মানলাম। গ্যাসচালিত বাস বন্ধ হলো কেন? 

তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্দেশ বা সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া সারা দেশে পরিবহন বন্ধ হওয়া স্বাভাবিক নয়। আমাদের বিআরটিএ বলে একটা সংস্থা আছে। যাত্রীদের জিম্মি করে অঘোষিত ধর্মঘট ডেকে যারা দাবি আদায় করে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। এ ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার উদাহরণ দেখছি না।

বিরোধীদলীয় উপনেতা বলেন, মালিক সমিতির দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বিআরটিএ নতুন ভাড়া নির্ধারণ করে। ডিজেলচালিত বাসের জন্য একটা আর গ্যাসের জন্য একটা। কিন্তু নেওয়া হচ্ছে একই ভাড়া। একটা অনিয়মের চিত্র দেখা গেলো। পত্রিকায় দেখলাম, যাত্রীরা সরকার নির্ধারিত ভাড়া দিয়ে যেতে চাইলে বাস থেকে নামিয়ে দিচ্ছে।

তিনি বলেন, পরিবহন সেক্টর আসলে কে নিয়ন্ত্রণ করছে, সরকার? সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ আছে এখানে? নাকি মালিক-শ্রমিক সমিতি করছে? সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্তরা কি এই খাতের নেতাদের সঙ্গে আঁতাত করছেন? 

বিরোধীদলীয় উপনেতা জিএম কাদের শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়ার দাবিকে যৌক্তিক আখ্যা দিয়ে সরকারকে দ্রুত এ বিষয়ে সিদ্ধান্তে আসার আহ্বান জানান।

জিএম কাদের সংসদ সদস্যদের জন্য অবসরকালীন আর্থিক সুবিধার দাবি করে বলেন, আমাদের অনেক সংসদ  সদস্য আছেন, ১৫-২০-২৫ বছর আছেন। তারা সৎভাবে কাজ করেন। প্রশাসনের বা অনেক জায়গায় অবসরের পর আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। অনেক দেশে এমপিদের অবসর সহায়তা দেওয়া হয়। আমাদের দেশে এ ধরনের ব্যবস্থা করার দাবি করছি। তাহলে যারা সৎভাবে কাজ করতে চান, তারা মানবেতর জীবনে পড়বেন না। 

তিনি বলেন, অবসরের পর কর্মকর্তারা ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহার করেন। এমপিরা পারেন না। সচিবদের দেওয়া হচ্ছে। অন্যদের দেওয়া হচ্ছে। আর্মিদের দেওয়া হচ্ছে। এমপিরা পান না। স্থানীয় সরকারে যারা আছেন, তাদেরও আর্থিক সহায়তা দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।

সম্প্রতি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে নথি চুরি হওয়ার ঘটনা তুলে ধরে জিএম কাদের বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনিয়ম নিয়ে অনেক দিন ধরে কথা বলছি। দুর্নীতি দূর হয়েছে- এমন মনে হচ্ছে না। সম্প্রতি কেনাকাটা সংক্রান্ত ১৭টি নথি গায়েব হয়ে গেলো। তদন্ত কমিটির রিপোর্ট দেওয়া হলো, ফাইল ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। দুর্নীতি ধামাচাপা দেওয়া হয়েছে। যেখানে দুর্নীতি হয়, সেখানে ফাইল গায়েব করে দিলে আর সাজা হয় না। ফাইল গায়েবে বোঝা দুর্নীতি হচ্ছে।

জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির সমালোচনা করে জাতীয় পাটির চেয়ারম্যান বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের দোহাই দিয়ে মূল্যবৃদ্ধি খুব কি বেশি প্রয়োজন ছিল? আমাদের দেশে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমলে কমানো হয় না। কিন্তু বাড়লে বাড়ানো হয়। করোনার সময় আমরা সেটা করিনি। তেলের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে কমবে বলে অনেকে মনে করছেন। এটি দেশের বাজারে পুন:নির্ধারণ করা উচিত। 

তিনি বলেন, দারিদ্র্যের হার বাড়ছে, বেকারত্বের হার বাড়ছে। খোলাবাজারে সব পণ্যের দাম বেড়েছে। কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ চোখে পড়েনি। বাজারে কোনো নিয়ন্ত্রণ আছে বল মনে হয় না। বেকারত্ব বাড়ছে, দারিদ্র্য বাড়ছে, আয় কমছে। নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে। সাধারণ মানুষ কষ্টে দিন অতিবাহিত করছে। মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা।

তেলের দাম বাড়ানোর সমালোচনা করে জি এম কাদের বলেন, সরকার গত ৩ নভেম্বর তেলের দাম বাড়িয়ে দেয়। অর্থনীতিবিদদের মতে জ্বালানি একটি কৌশলগত পন্য। জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধির প্রভাব সরাসরি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও সকল প্রকার সেবার দামের উপর পড়ে। আর পরিকল্পনাহীন মূল্য বৃদ্ধি অনেক সময় বিকাশমান অর্থনীতিকে স্থবির করে দেয়। 

তিনি বলেন, করোনা মহামারিতে বিপর্যস্ত অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে একদিকে সরকারের অব্যাহত প্রণোদনা অন্যদিকে তেলের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধির বিষয়টি কিছুটা সাংঘর্ষিক মনে হয়।

বিরোধীদলীয় উপনেতা বলেন, করোনার প্রকোপ কমায় দরিদ্র সীমায় পৌছে যাওয়া মানুষগুলো নতুনভাবে জীবিকার সংগ্রামে নিয়োজিত করেছে নিজেকে। এমন প্রেক্ষাপটে তেলের মূল্য বৃদ্ধির প্রভাবে অন্যান্য জনগোষ্ঠির সাথে নতুন ভাবে দারিদ্র সীমায় পৌছে যাওয়া মানুষগুলো জীবিকার ব্যায় নির্বাহ করতে না পেরে আরো পিছিয়ে পড়তে পারে।

জি এম কাদের বলেন, সরকারের জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের হিসাব বলছে গত তিন মাস ধরে প্রতিদিন সরকারের লস হচ্ছ ২০-২২ কোটি টাকার মতো। বিপিসির চেয়ারম্যান গণমাধ্যমকে বলেছেন বিপিসির লাভের অর্থ থেকে সরকারের নির্দেশে সরকারের কোষাগারে ১০ হাজার কোটি টাকা জমা দিতে হয়েছে। যদি লভ্যাংশের অর্থ সরকারকে না দিতে হতো তাহলে আরো ছয় মাস দাম না বড়িয়েও বিপিসি চালিয়ে নিতে পারত। 

তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, লভ্যাংশের এমন হিসাবের পর আমার প্রশ্ন হচ্ছে আন্তর্জাতিক বাজারের দোহাই দিয়ে এই মুহূর্তে আমাদের অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধির খুব বেশি প্রয়োজন ছিল কি?

দ্রব্যমূল্যের সীমাহীন ঊর্ধ্বগতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, করোনাকালীন নতুনভাবে দরিদ্র হয়েছে ৩ কোটি ২৪ লাখ। ব্রাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স এন্ড ডেভেলপমেন্ট (বিআইজিডি) এবং বেসরকারী গবেষনা সংস্থা পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্স সেন্টার (পিপিআরসি) এর এক যৌথ জরিপে উঠে এসেছে এমন তথ্য।বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য মতে, দেশে মোট শ্রম শক্তির আকার  ৬ কোটি ৪০ লাখ। 

গত বছর চাকরি হারিয়েছে ৪.৩ শতাংশ। সংখ্যার হিসাবে ২৬ লাখ ১৪ হাজার ৪০০জন। বেসরকারি সংস্থার হিসাবে এই সংখ্যা ১ কোটি ৫০ লাখের বেশি। 

জিএম কাদের বলেন, বেকারত্বের সংখ্যা বাড়ছে। দেশে দরিদ্রের সংখ্যা বাড়ছে। মানুষের আয় কমছে। এ প্রেক্ষাপটে, দেখা যাচ্ছে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কোন যুক্তি সঙ্গত কারন ছাড়া নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে সাধারন মানুষ অনেক কষ্টে তাদের প্রতিটি দিন অতিবাহিত করছে। মাননীয় স্পিকার আপনার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। বেকারত্ব, দারিদ্র্যতার মাঝে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা, জীবন বাঁচাতে হিমশিম খেতে হতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। সম্প্রতি জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি এ দুর্দশাকে কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে এবং প্রতিদিন বৃদ্ধি করেই চলছে।

রাষ্ট্রধর্ম ইসলামের সমালোচনাকারী মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী এবং অন্যান্য মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী ক্ষমতা গ্রহণের পূর্বে নিম্নোক্ত শপথ গ্রহণ করেন— ‘আমি সংবিধানের রক্ষণ, সমর্থন ও নিরাপত্তা বিধান করিব।’ ফলে, মন্ত্রী প্রতিমন্ত্রী যারা বলেছেন ইসলাম রাষ্ট্র ধর্ম মানি না। তারা শপথ ভঙ্গের দায়ে দোষী, যা  শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসাবে গণ্য করা যায়।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন