খালেদা জিয়ার কারামুক্তি বিলম্ব হতে পারে

প্রকাশ : ২০ মে ২০১৮, ০১:৩০ | অনলাইন সংস্করণ

  আলমগীর হোসেন

ফাইল ফটো

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে মুক্তি পেতে হলে এখনই দুটি মামলায় জামিন নিতে হবে। কুমিল্লার দায়রা জেলা জজ আদালত থেকে জামিন নিতে হবে এ দুটি মামলায়। তবে দুই মামলায় জামিন হওয়ার আগেই যদি তাকে আরও কোনো মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয় সেক্ষেত্রে মুক্তির প্রক্রিয়া বিলম্বিত হবে। এরই মধ্যে তার বিরুদ্ধে দুই মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
  
খালেদা জিয়ার কারামুক্তিতে আইনি কোনো বাধা আছে কিনা জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান শনিবার যুগান্তরকে বলেন, ‘এ বিষয়ে আইনমন্ত্রী ভালো বলতে পারবেন। তবে আমার জানা মতে তিনি অন্য মামলায় গ্রেফতার রয়েছেন। এসব মামলায় জামিন পেলেই তিনি মুক্তি পেতে পারেন।’

কারাবন্দি খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে বর্তমানে ৩৭টি মামলা আছে। এর মধ্যে কুমিল্লার দুটি মামলায় চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো আছে। এ দুটি মামলায় বিচারিক আদালত থেকে জামিন মঞ্জুর অথবা জামিন নাকচ বিষয়ে কোনো আদেশ না হওয়ায় উচ্চ আদালতে যেতে পারছেন না তার আইনজীবীরা। 

ঢাকা ও নড়াইলের তিনটি মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি আছে। তিন মামলার মধ্যে দুটিতে গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আদেশ কার্যকর হলে তাকে এ দুই মামলায় জামিন নিয়ে কারাগার থেকে বের হতে হবে। এর আগে বুধবার জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেয়া জামিন বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। 

একই সঙ্গে নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে খালেদা জিয়া ও দুদকের করা আপিল ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন সর্বোচ্চ আদালত। এদিকে কতগুলো মামলায় খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে, তা সঠিক করে বলতে পারছেন না তার আইনজীবীরা। তারা এ নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দিচ্ছেন। 

জানতে চাইলে খালেদা জিয়ার আইনজীবী ও ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি মো. মাসুদ আহমেদ তালুকদার যুগান্তরকে বলেন, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ৩৭টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ৫টি দুর্নীতির মামলা, ৩টি মানহানির অভিযোগে করা মামলা। আর বাকি ২৯টি মামলা ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে ও পরে বিভিন্ন সময়ে করা মামলা। 

এছাড়া ৩৭টি মামলার মধ্যে উচ্চ আদালতের নির্দেশে ১২টি মামলার কার্যক্রম বর্তমানে স্থগিত রয়েছে। আর ৩টি মামলা তদন্তাধীন রয়েছে। বাকি ২২টি মামলার বিচার চলছে।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ঢাকার দুই মানহানির মামলায় জামিন না দিয়ে গ্রেফতারি পরোয়ানা তামিল করার আদেশ দিয়েছেন ঢাকা মহানগর হাকিম আদালত। 

৫ জুলাইয়ের মধ্যে এ আদেশ কার্যকর করে আদালতকে অবহিত করতে বলা হয়েছে। চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে হাজিরা পরোয়ানা জারি আছে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট, গ্যাটকো ও বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি মামলায়। সবমিলিয়ে মামলার বেড়াজালে আটকে আছে খালেদা জিয়ার কারামুক্তির বিষয়টি। 

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সবকিছু বিবেচনায় মনে হয় খালেদা জিয়ার কারামুক্তি বিলম্ব হতে পারে। সরকারের সদিচ্ছা ছাড়া খালেদা জিয়ার কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে রাজনীতির মাঠে নামা কঠিন হবে। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় ৫ বছরের দণ্ড নিয়ে ৮ ফেব্র“য়ারি থেকে ৩ মাস ১১ দিন ধরে কারাগারে আছেন খালেদা জিয়া। 

সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক যুগান্তরকে বলেন, শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো উদ্ভট আইনের বিধান। তিনি বলেন, বিরোধী দলকে হেনস্থা করার জন্য শ্যোন অ্যারেস্টের বিধানটি বছর বছর ধরে বিদ্যমান। শ্যোন অ্যারেস্ট বিধান সব সময় অপপ্রয়োগ হয়। এখন এর অপপ্রয়োগের মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে আরও কিছু দিন কারাগারে আটকে রাখতে পারবে। পাঁচ মামলায় খালেদা জিয়া জামিন পেলেও সরকার ইচ্ছে করলে আরও পাঁচ-দশটা মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট দেখাতে পারবে। 

খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ৩৭টি মামলার মধ্যে অন্যতম হচ্ছেন- কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে যাত্রীবাহী বাসে পেট্রলবোমা ছুড়ে আটজনকে হত্যার ঘটনা। একই ঘটনায় বিস্ফোরক ধারায় করা আরও একটি মামলা আছে তার নামে। এ দুটি মামলায় খালেদা জিয়াকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়েছে। আর একই ঘটনায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে করা মামলায় কোনো আদেশ দেননি আদালত। এটি এখন শুনানির জন্য ধার্য আছে। আর জিয়া চ্যারিটেবল, গ্যাটকো ও বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি মামলায় হাজিরা পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। 

এছাড়া খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে পতাকা অবমাননা ও ভুয়া জন্মদিন পালনের জন্য আলাদাভাবে মানহানির দুই মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকর করার আদেশ দিয়েছেন আদালত।

খালেদা জিয়ার আরেক আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া শনিবার যুগান্তরকে বলেন, সর্বশেষ কুমিল্লার দুটি মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে শ্যোন অ্যারেস্ট এবং ঢাকা ও নড়াইলের তিনটি মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি রয়েছে। আর হাজিরা পরোয়ানা জারি আছে জিয়া চ্যারিটেবল, গ্যাটকো ও বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি মামলায়। 

তিনি বলেন, সরকার খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে বের হতে দেবে না। একের পর এক মামলা দিয়ে কারাগারে আটকে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। সরকারের সদিচ্ছা ছাড়া খালেদা জিয়া কিছুতেই মুক্ত হবেন না।