দুই মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন শুনানি মঙ্গলবার

  যুগান্তর রিপোর্ট ২১ মে ২০১৮, ১৮:০৮ | অনলাইন সংস্করণ

খালেদা জিয়া
ফাইল ছবি

কুমিল্লায় হত্যা ও নড়াইলে মানহানির একটি মামলায় কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার করা জামিন আবেদেনের শুনানি হয়নি। অ্যাটর্নি জেনারেলের সময় আবেদনের প্রেক্ষিতে শুনানির জন্য মঙ্গলবার ফের দিন ধার্য করেছেন আদালত।

সোমবার এ দুটি মামলায় জামিন শুনানির জন্য আজকের কার্যতালিকায় ছিল। তবে এদিন রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম প্রস্তুতির জন্য সময় চান।

পরে বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি জে বি এম হাসানের হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ জামিন আবেদনের বিষয়ে শুনানির জন্য মঙ্গলবার বেলা আড়াইটায় সময় নির্ধারণ করে দেন।

আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন। সঙ্গে ছিলেন ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল, অ্যাডভোকেট মাসুদ রানা ও ব্যারিস্টার এহসানুর রহমান।

অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। এর আগে গত রোববার আদালতের অনুমতি নিয়ে ৩টি মামলায় হাইকোর্টে জামিন আবেদন করেন খালেদা জিয়া।

অ্যাডভোকেট মাসুদ রানা যুগান্তরকে বলেন, কুমিল্লায় হত্যা ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে নাশকতার অভিযোগে করা দুটি এবং নড়াইলে মানহানির এক মামলায় আমরা হাইকোর্টে জামিন আবেদনের অনুমতি চেয়ে আবেদন করি। আদালত আমাদের আবেদন মঞ্জুর করেন। সে অনুযায়ী আমরা আবেদন দায়ের করেছি। এর মধ্যে কুমিল্লায় হত্যা ও নড়াইলে মানহানির মামলা দুটি শুনানির জন্য আজকের কার্যতালিকায় ছিল। অপরটি আগামী বৃহস্পতিবার কার্যতালিকায় আসতে পারে’।

তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম প্রস্তুতির জন্য সময় চাইলে আদালত শুনানির জন্য মঙ্গলবার বেলা আড়াইটায় সময় ধার্য করেন’।

গত ১৬ মে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে দেয়া হাইকোর্টের জামিন বহাল রাখেন আপিল বিভাগ। তবে তার কারামুক্তির জন্য আরও দুটি মামলায় জামিন নিতে হবে। পাশাপাশি ৪টি মামলায় হাজিরা পরোয়ানা প্রত্যাহারের প্রয়োজন রয়েছে। সে অনুযায়ী খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা গত বৃহস্পতিবার ঢাকার পৃথক আাদালতে দুটি মানহানির মামলায় জামিনের আবেদন জানান।

এছাড়া ৪টি মামলায় হাজিরা পরোয়ানা প্রত্যাহারের আবেদন জানান। আদালত শুধু নাইকো মামলায় হাজিরা পরোয়ানা প্রত্যাহার করেছেন। বাকিগুলো পরে আদেশ দেয়া হবে উল্লেখ করে দিন ধার্য করেছেন।

এছাড়া কুমিল্লায় দায়ের হওয়া তিনটি মামলার মধ্যে দুটি মামলায় জামিন আবেদন জানালে বিচারিক আদালত আগামী ৭ জুন শুনানির দিন ধার্য করেন।

এছাড়া নড়াইলে মানহানির অভিযোগে করা মামলায় ম্যাজিস্ট্রেট আদালত জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করেন। সেসব মামলায়ই এবার অনুমতি নিয়ে জামিনের জন্য সরাসরি হাইকোর্টে আবেদন করা হয়েছে।

কুমিল্লায় হত্যা মামলা: ২০১৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে একটি বাসে পেট্টল বোমা নিক্ষেপের ঘটনায় ৭ যাত্রী মারা যান এবং আরও ২৫/২৬ জন গুরুতর আহত হন।

ঘটনার পরদিন (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকাল ৩টায় চৌদ্দগ্রাম থানার এসআই নুরুজ্জামান বাদী হয়ে ৫৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে এ মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র দেয়া হয়।

বিচারকালে দায়রা জজ আদালতে খালেদা জিয়ার জামিন চেয়ে আবেদন করা হয়। সেই জামিন আবেদনের পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ৭ জুন দিন ধার্য রাখা হয়েছে। কিন্তু এ অবস্থায় খালেদা জিয়াকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়।

তাই ফৌজদারী কার্যবিধির ৪৯৮ ধারায় হাইকোর্টে জামিন চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। এই মামলায় জামিন আবেদনে যুক্তি দেখানো হয়েছে, মামলার ৩ জন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

কিন্তু তাদের কেউ জবানবন্দিতে খালেদা জিয়ার নাম উল্লেখ করেননি। এছাড়াও খালেদা জিয়া অসুস্থ, বয়স্ক ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী হওয়ায় হাইকোর্টে তাঁর জামিন চাওয়া হয়েছে।

নড়াইলে মানহানি মামলা: ২০১৫ সালের ২১ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধাদের সংখ্যা নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করেন খালেদা জিয়া। এ অভিযোগে একই বছরের ২৪ ডিসেম্বর খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে নড়াইলে মানহানির মামলা করা হয়। স্থানীয় এক মুক্তিযোদ্ধার সন্তান রায়হান ফারুকী ইমাম বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। নড়াইলের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে মামলাটি বিচরাধীন রয়েছে। এ মামলায় চলতি বছরের ১৬ এপ্রিল খালেদা জিয়ার জামিন চেয়ে তাঁর আইনজীবীরা আবেদন করেন।

কিন্তু বিচারক বাদীর উপস্থিতিতে জামিন শুনানির জন্য গত ৮ এপ্রিল শুনানির পরবর্তী দিন ধার্য করেছিলেন। এরপর ওইদিন শুনানি নিয়ে পুনরায় জামিন শুনানির জন্য আগামী ২৫ মে দিন ধার্য রেখেছেন আদালত।

এ অবস্থায় চলমান মামলায় খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা তাঁর জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন। এই মামলায় খালেদা জিয়ার পক্ষে যুক্তিতে বলা হয়েছে, দণ্ডবিধির ৫০০, ৫০১ ও ৫০২ এর অধীনে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলাটি করা হয়।

কিন্তু এই তিন ধারার মামলায় জামিনযোগ্য। তাছাড়াও খালেদা জিয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বয়স্ক একজন নেত্রী। তাই এসব যুক্তিতে এ মামলায় জামিন চেয়েছেন তার আইনজীবীরা।

উল্লেখ, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্ণীতি মামলায় পাঁচ বছরের সাজা নিয়ে গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কারাগারে আছেন খালেদা জিয়া।

SELECT id,hl2,parent_cat_id,entry_time,tmp_photo FROM news WHERE ((spc_tags REGEXP '.*"event";s:[0-9]+:"কারাগারে খালেদা জিয়া".*')) AND id<>51167 ORDER BY id DESC

ঘটনাপ্রবাহ : কারাগারে খালেদা জিয়া

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
bestelectronics

 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.