চুনোপুঁটি নয়, মাদক সম্রাটদের ধরুন: মোশাররফ

প্রকাশ : ২২ মে ২০১৮, ১৯:৩০ | অনলাইন সংস্করণ

  যুগান্তর রিপোর্ট

বক্তব্য রাখছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন

চুনোপুঁটিদের না মেরে মাদকের মূল নায়কদের নাম প্রকাশ করে বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। 

তিনি দাবি করেন, মাদকের সম্রাটরা সবাই আওয়ামী লীগের বড় নেতা। ক্ষমতাসীন দলের এমপিও রয়েছেন, যাকে সারা দেশের মানুষ চেনে মাদকের সম্রাট হিসেবে। তাকে গ্রেফতারের পরিবর্তে ফুলের মালা পরানো হয়েছে।

মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনাসভায় তিনি এসব কথা বলেন। প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৩৭তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সভার আয়োজন করে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল।

সংগঠনটির সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাতের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সাদেক আহমেদ খানের পরিচালনায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, মুক্তিযোদ্ধা দলের জয়নাল আবেদীন, স্বনির্ভরবিষয়ক সম্পাদক শিরিন সুলতানা প্রমুখ। 

মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘সারা দেশে মাদক অভিযানের নামে সরকার বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড করছে। সোমবার ১১ জনকে বিচারবহির্ভূত হত্যা করা হয়েছে। দেশে কি কোনো আইন নেই? যদি মাদক ব্যবসায়ী হয়, যদি কোনো মাদক ব্যবহারকারী হয়-এ দেশে বিচারের ব্যবস্থা আছে। আইন আছে, আমাদের সংবিধান আছে। সেটাকে ভ্রুক্ষেপ করছে না এই সরকার।’

তিনি বলেন, ‘মাদক অভিযানের নামে যাদেরকে বিচারবহির্ভূত হত্যা করা হচ্ছে আমরা জানি না আসলে তারা কে?  তারা কী রাজনৈতিকবিরোধী কণ্ঠস্বর, না তারা আসলে মাদক ব্যবসায়ী বা মাদকসেবী। প্রমাণ করার দরকার ছিল কোর্টে- তারা কারা? কোনো সভ্য দেশে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হতে পারে না।’

বিএনপি মাদকের বিরুদ্ধে মন্তব্য করে মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘মাদকের বিরুদ্ধে ক্ষমতাসীন দলের এমপি থেকে শুরু করে যারা মাদকের সম্রাট প্রথমে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন। ঢাকায় মাদকের যারা মূল নায়ক তাদের নাম প্রকাশ করুন। এটা প্রকাশ করা হলে দেখা যাবে তারা কোনো না কোনো আওয়ামী লীগের নেতা বা কর্মী হবে। কিন্তু সরকার সেই তালিকা প্রকাশ করবে না। একটা প্রলেপ দেয়ার জন্য কিছু লোককে হত্যা করে জনগণকে দেখাতে চায়। উদ্দেশ্যে আগামী নির্বাচন ও জনগণকে আতঙ্কিত করা। খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনেও এভাবে সরকার পুলিশের মাধ্যমে গ্রেফতার করে ভোটারদের ভয়-আতঙ্ক সৃষ্টি করেছিল।’

সরকার গায়ের জোরে আগামী নির্বাচন করার ষড়যন্ত্র করছে অভিযোগ করে এর বিরুদ্ধে সাবাইকে সংগঠিত হওয়ার আহ্বানও জানান খন্দকার মোশাররফ। 

তিনি বলেন, ‘জনগণের ক্ষোভে-দুঃখে আগুনের ফুলকিতে পরিণত হয়েছে, অগ্নুৎপাতের শুধু বাকি। তাই যার যার অবস্থান থেকে সবাই প্রস্তুতি নিন। এবারও যদি সরকার সব কিছুকে উপেক্ষা করে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মতো নির্বাচনের দিকে অগ্রসর হয়, জনগণ এটা হতে দেবে না।’