কারাগারেই ঈদ করতে হবে খালেদা জিয়াকে

প্রকাশ : ৩১ মে ২০১৮, ১৭:৫৮ | অনলাইন সংস্করণ

  যুগান্তর রিপোর্ট

ফাইল ফটো

কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে কুমিল্লায় হত্যা ও বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় হাইকোর্টের দেয়া জামিন স্থগিতই থাকছে। খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেয়া জামিন স্থগিত করে আগামী ২৪ জুনের মধ্যে রাষ্ট্রপক্ষকে নিয়মিত লিভ টু আপিল করতে বলেছেন আপিল বিভাগ। 

এর ফলে ঈদুল ফিতরের আগে খালেদা জিয়ার কারামুক্তির বিষয়টি আটকে গেল। 

বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আপিল বিভাগ এই আদেশ দেন।

এদিকে ঢাকায় করা মানহানির দুই মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন চেয়ে করা আবেদন নিষ্পত্তি করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ঢাকার সংশ্লিষ্ট আদালতে খালেদা জিয়ার আবেদন নিষ্পত্তির নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। 

অপরদিকে হাইকোর্টের অন্য একটি বেঞ্চ কুমিল্লার বিশেষ ক্ষমতা আইনের আরেক মামলায় জামিন ও মামলা বাতিল চেয়ে করা আবেদনের শুনানি অবকাশকালীন ছুটির পর পর্যন্ত মুলতবি করেছেন। 

গত সোমবার হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ কুমিল্লায় হত্যা ও বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় খালেদা জিয়াকে ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন। আর নড়াইলের মানহানির মামলায় আবেদন উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ করে দেন আদালত।
 
খালেদা জিয়ার জামিন আদেশ স্থগিত চেয়ে সেদিনই আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ, যা পরের দিন চেম্বার বিচারপতির আদালতে শুনানির জন্য ওঠে। চেম্বার বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী শুনানি নিয়ে খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেয়া জামিন ৩১ মে (বৃহস্পতিবার) পর্যন্ত স্থগিত করেন। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন দুটি বৃহস্পতিবার আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠিয়ে দেন। এর ধারাবাহিকতায়  শুনানি নিয়ে আদেশ দেন আপিল বিভাগ। শুনানি শেষে আদালত  খালেদা জিয়াকে কুমিল্লায় হত্যা ও বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় হাইকোর্টের দেয়া জামিন স্থগিত রাখেন। এবং আগামী ২৪ জুনের মধ্যে রাষ্ট্রপক্ষকে নিয়মিত লিভ টু আপিল করতে বলেন। 

বৃহস্পতিবার আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিশ্বজিৎ দেবনাথ। খালেদার পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন, এ জে মোহাম্মদ আলী, জয়নুল আবেদীন ও মাহবুব উদ্দিন খোকন।

আদেশের পর খালেদা জিয়ার আইনজীবী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন বলেন, খালেদা জিয়াকে সরকার উদ্দেশ্যমূলকভাবে রাজনৈতিকভাবে দীর্ঘদিন তাকে জেলে রাখতে চায়। যেহেতু ইতিমধ্যে নির্বাচনের শিডিউল ঘোষণা হবে এটা সরকারও জানে। ডিসেম্বর মাসে নির্বাচন হবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। 

তিনি বলেন, হাইকোর্ট মেরিটে বেইল কনসিডার করলেও সুপ্রিমকোর্ট এটা ইন্টারটেইন করেছে। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে এ মামলা চলতে পারে না। আমরা যেহেতু ওয়ারেন্ট হয়েছে সেহেতু আমরা আবেদন করেছি। আদালত আমাদের বেইল দিয়েছে। আমরা সেই বেইলটা বহাল রাখার জন্য বলেছি। 

খালেদা জিয়ার এই আইনজীবী আরও বলেন, আর সরকার চাইছে যে কোনো উপায়ে খালেদা জিয়াকে জেলে রাখতে হবে, কারাবন্দি রাখতে হবে। যে মামলায় খালেদা জিয়ার সাজা হয়েছে সে মামলায় আমরা জামিন পেয়েছি। অথচ রাজনৈতিক মামলায় যেখানে খালেদা জিয়া বন্দি ছিল গুলশান অফিসে। তাকে সম্পৃক্ত করে আসামি করা হয়েছে।

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, খালেদা জিয়াকে কুমিল্লায় হত্যা ও বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় হাইকোর্টের দেয়া জামিন স্থগিত রেখেছেন আপিল বিভাগ। আগামী ২৪ জুনের মধ্যে রাষ্ট্রপক্ষকে নিয়মিত লিভ টু আপিল করতে বলেছেন আদালত। ওই পর্যন্ত খালেদা জিয়ার জামিন স্থগিত থাকবে। 

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে ৮ ফেব্রুয়ারি পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন বিচারিক আদালত। সেই দিন থেকে পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় করাগারে রয়েছেন তিনি। ওই মামলায় আপিলের পর খালেদা জিয়াকে চার মাসের জামিন দেন হাইকোর্ট। ১৭ মে এ আদেশ বহাল রাখেন আপিল বিভাগ।