ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের জবাবে যা বললেন মির্জা ফখরুল
jugantor
ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের জবাবে যা বললেন মির্জা ফখরুল

  ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি  

২০ মে ২০২২, ১৪:৫৭:০৮  |  অনলাইন সংস্করণ

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বিএনপিকে পচনশীল দল হিসেবে মন্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, তার (ওবায়দুল কাদের) কথা আমরা বেশি গুরুত্ব দিই না। কারণ কোনো সিদ্ধান্ত তিনি নিতে পারেন না। সব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন শেখ হাসিনা।

শুক্রবার বেলা ১১টায় ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপি কার্যালয়ে আয়োজিত স্বেচ্ছাসেবক দলের এক মতবিনিময়সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বৃহস্পতিবার গাজীপুর জেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বিএনপিকে একটি পচনশীল দল উল্লেখ করে বলেছিলেন— তাদের রাজপথের আন্দোলনের কথা শুনতে শুনতে ১৩ বছর পার হলো। বিএনপি আর কোনো দিন ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না। ওরা এখন ফেসবুকে আন্দোলন প্রিয় দল।

২০১৮ সালের মতো নির্বাচন হলে বিএনপি ঠেকাতে পারবে কিনা সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে দলটির মহাসচিব বলেন, দেখা যাক এমন যদি তারা করে, তখন দেখা যাবে কে ঠেকাতে পারে, আর কে পারে না।

মির্জা ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা যিনি এখন প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। গত পরশু তার প্রত্যাবর্তন দিবসের একটা অনুষ্ঠানে তিনি বিএনপির ব্যপারে, দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার ব্যাপারে এবং দেশের যারা আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ব্যক্তিত্ব তাদের বিরুদ্ধে বিষোদগার করেছে। এমনকি একটি পত্রিকার সম্পাদক তাদের বিরুদ্ধেও বিষোদগার করেছে। অর্থনীতিবিদদের বিরুদ্ধেও বিষোদগার করেছে এবং বিএনপির বিরুদ্ধে বিষোদগার করতে গিয়ে তিনি তার বক্তব্যে বিএনপি নির্বাচনে র‌্যাগিং করে ক্ষমতায় আসে এ ধরনের কথা বলেছেন। তার এ মন্তব্যের আমি তীব্র বিরোধিতা করছি এবং নিন্দা জানাচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, প্রকৃতপক্ষে আওয়ামী লীগ তাদের যে স্বভাব সুলভ চরিত্র, সন্ত্রাস করে ত্রাস করে ক্ষমতায় যায়। সেভাবে আগামী নির্বাচনে একই অবস্থা তৈরি করে তারা ক্ষমতায় যাওয়ার চেষ্টা করছে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ২০১৪ সালে তারা ত্রাস করে এমন একটা অবস্থা সৃষ্টি করেছিল এবং জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করে সৃষ্টি করেছিল যে জনগণকে ভোট দেওয়ার কোনো সুযোগই দেয়নি। ১৫৪টা আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচন করে তারা ক্ষমতায় গেছে। একইভাবে ২০১৮-তেও তারা সারাদেশে সন্ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টি করে নির্বাচনপূর্বক গায়েবি মামলা, হাজার হাজার নেতাকর্মীকে কারারুদ্ধ করা— এমনকি প্রার্থী ১৯ জনকে বন্দি করা, আদালতকে ব্যবহার করা, নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করে আগের রাতেই রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে নির্বাচনি ফল তারা তাদের পক্ষে নিয়ে গেছে। এই তাদের ইতিহাস।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ১৯৭৫ সালে আমরা সবাই জানি কোনো রেফারেন্ডাম ছাড়াই পার্লামেন্টে ৫ মিনিটের মধ্যে ক্যু করে একটা একদলীয় শাসন বাকশাল প্রতিষ্ঠা করেছিল এই আওয়ামী লীগ। সুতরাং তাদের মুখে যখন আমরা গণতন্ত্রের কথা শুনি তখন আমরা এবং অন্য যারা রাজনৈতিক দলগুলো শুনে তখন একটা হাস্যকর পরিস্থিতিতে দাড়ায় এবং এটা জনগণের সাথে প্রতারণা ছাড়া কিছু নয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি তৈমুর রহমান, অর্থবিষয়ক সম্পাদক শরিফুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির নেতা আব্দুল হামিদ, স্বেচ্ছাসেবক দলের জেলা সভাপতি নূরুজ্জামান সরকার, সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানাসহ বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা।

ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের জবাবে যা বললেন মির্জা ফখরুল

 ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি 
২০ মে ২০২২, ০২:৫৭ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বিএনপিকে পচনশীল দল হিসেবে মন্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, তার (ওবায়দুল কাদের) কথা আমরা বেশি গুরুত্ব দিই না। কারণ কোনো সিদ্ধান্ত তিনি নিতে পারেন না। সব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন শেখ হাসিনা। 

শুক্রবার বেলা ১১টায় ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপি কার্যালয়ে আয়োজিত স্বেচ্ছাসেবক দলের এক মতবিনিময়সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

বৃহস্পতিবার গাজীপুর জেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক  ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বিএনপিকে একটি পচনশীল দল উল্লেখ করে বলেছিলেন— তাদের রাজপথের আন্দোলনের কথা শুনতে শুনতে ১৩ বছর পার হলো। বিএনপি আর কোনো দিন ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না। ওরা এখন ফেসবুকে আন্দোলন প্রিয় দল। 

২০১৮ সালের মতো নির্বাচন হলে বিএনপি ঠেকাতে পারবে কিনা সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে দলটির মহাসচিব বলেন, দেখা যাক এমন যদি তারা করে, তখন দেখা যাবে কে ঠেকাতে পারে, আর কে পারে না। 

মির্জা ফখরুল বলেন,  আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা যিনি এখন প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। গত পরশু তার প্রত্যাবর্তন দিবসের একটা অনুষ্ঠানে তিনি বিএনপির ব্যপারে, দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার ব্যাপারে এবং দেশের যারা আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ব্যক্তিত্ব তাদের বিরুদ্ধে বিষোদগার করেছে। এমনকি একটি পত্রিকার সম্পাদক তাদের বিরুদ্ধেও বিষোদগার করেছে। অর্থনীতিবিদদের বিরুদ্ধেও বিষোদগার করেছে এবং বিএনপির বিরুদ্ধে বিষোদগার করতে গিয়ে তিনি তার বক্তব্যে বিএনপি নির্বাচনে র‌্যাগিং করে ক্ষমতায় আসে এ ধরনের কথা বলেছেন। তার এ মন্তব্যের আমি তীব্র বিরোধিতা করছি এবং নিন্দা জানাচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, প্রকৃতপক্ষে আওয়ামী লীগ তাদের যে স্বভাব সুলভ চরিত্র, সন্ত্রাস করে ত্রাস করে ক্ষমতায় যায়। সেভাবে আগামী নির্বাচনে একই অবস্থা তৈরি করে তারা ক্ষমতায় যাওয়ার চেষ্টা করছে। 

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ২০১৪ সালে তারা ত্রাস করে এমন একটা অবস্থা সৃষ্টি করেছিল এবং জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করে সৃষ্টি করেছিল যে জনগণকে ভোট দেওয়ার কোনো সুযোগই দেয়নি। ১৫৪টা আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচন করে তারা ক্ষমতায় গেছে। একইভাবে ২০১৮-তেও তারা সারাদেশে সন্ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টি করে নির্বাচনপূর্বক গায়েবি মামলা, হাজার হাজার নেতাকর্মীকে কারারুদ্ধ করা— এমনকি প্রার্থী ১৯ জনকে বন্দি করা, আদালতকে ব্যবহার করা, নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করে আগের রাতেই রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে নির্বাচনি ফল তারা তাদের পক্ষে নিয়ে গেছে। এই তাদের ইতিহাস।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ১৯৭৫ সালে আমরা সবাই জানি কোনো রেফারেন্ডাম ছাড়াই পার্লামেন্টে ৫ মিনিটের মধ্যে ক্যু করে একটা একদলীয় শাসন বাকশাল প্রতিষ্ঠা করেছিল এই আওয়ামী লীগ। সুতরাং তাদের মুখে যখন আমরা গণতন্ত্রের কথা শুনি তখন আমরা এবং অন্য যারা রাজনৈতিক দলগুলো শুনে তখন একটা হাস্যকর পরিস্থিতিতে দাড়ায় এবং এটা জনগণের সাথে প্রতারণা ছাড়া কিছু নয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি তৈমুর রহমান, অর্থবিষয়ক সম্পাদক শরিফুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির নেতা আব্দুল হামিদ, স্বেচ্ছাসেবক দলের জেলা সভাপতি নূরুজ্জামান সরকার, সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানাসহ বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন