একরাম ‘হত্যার’ অডিও বিশ্ববিবেককে নাড়িয়ে দিয়েছে : বিএনপি

  যুগান্তর রিপোর্ট ০৩ জুন ২০১৮, ১৩:১৩ | অনলাইন সংস্করণ

রুহুল কবির রিজভী
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। ফাইল ছবি

কাউন্সিলর একরাম ‘হত্যার’ অডিওতে তার স্ত্রী ও মেয়েদের কান্নার আহাজারি শুনে শুধু বাংলাদেশের মানুষের বিবেকই নয়, বিশ্ববিবেককেও নাড়িয়ে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

রোববার রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মাদকবিরোধী অভিযানে বিচারবহির্ভূত হত্যা সম্পর্কে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের যে বক্তব্য দিয়েছেন তারও সমালোচনা করেন রিজভী।

গতকাল শনিবার ঢাকার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলনকেন্দ্রে নারীদের জন্য ‘দোলনচাঁপা’ বাস উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এ ধরনের অভিযানে দুয়েকটি ভুল হতেই পারে।’

রিজভী বলেন, মানুষের জীবন নিয়ে ভুল! ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্য মানবাধিকারকে ঠাট্টা করা। খুনি-সন্ত্রাসীদের ন্যায় বেআইনি হত্যাকে স্বীকৃতি দেয়া।

বিএনপির এ নেতা বলেন, শুধু একরাম হত্যা নয়, এখন পর্যন্ত মাদকবিরোধী অভিযানের নামে প্রায় ১৩০ জনকে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যা করা হয়েছে। গত চার মাসে ২৫০ জন মানুষকে হত্যা করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। যাদের বেশিরভাগই তরুণ যুবক।

নিহতরা অপরাধের সঙ্গে কতটুকু জড়িত সে সম্পর্কে জনগণকে অন্ধকারে রেখে বিনাবিচারে হত্যার পেছনে সরকারের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য আছে বলে মন্তব্য করেন রিজভী।

তিনি বলেন, নিহতদের পরিবার শোকের সাগরে ভাসছে। মানুষের দুঃখকষ্ট নিয়ে যারা এমন মন্তব্য করতে পারেন, যারা অবৈধ ক্ষমতায় মশগুল থেকে মানবিক গুণাবলি হারিয়ে ফেলেন।

ওবায়দুল কাদেরকে উদ্দেশ করে রিজভী আরও বলেন, ড্রাগ চেইনের লিংক হিসেবে চুরি-চোট্টামি করা ছিঁচকে কিছু মানুষসহ প্রমাণহীন আরও অজ্ঞাত অনেকের বিরুদ্ধে হত্যা অভিযান চালানো হলেও চেইনের শীর্ষে বসে থাকা অমিত ক্ষমতাধর গডফাদাররা বসে আছে কী করে? সরবরাহের উৎস পথ আঁটকে যাচ্ছে না কেন? তা হলে কারা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে মাদক ঢুকতে সহায়তা করছে? রাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া কি উৎসমুখ খোলা থাকে? উৎসমুখগুলো প্রশাসনের সহায়তায় নিয়ন্ত্রণ করেন বদিদের মতো এমপিরা।

‘বদিসহ ক্ষমতাসীনদের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা কীভাবে এতগুলো গোয়েন্দা সংস্থার চোখ ফাঁকি দিয়ে দেশ ছেড়ে গেল জাতি তা জানতে চায়। সরকারই গডফাদারদের পালিয়ে যেতে সাহায্য করছে,’ বলেন রিজভী।

আওয়ামী সরকার দেশে ‘একটি এতিম জেনারেশন তৈরি করতে চায়’ মন্তব্য করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, বেআইনি হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে সরকার তাদের টিকে থাকার সমাধান খোঁজে। কিন্তু তারা ভুলে গেছে অন্যায়ের প্রতিশোধ প্রকৃতি নিজেই নেয়। একটি বেআইনি হত্যা আরও অনেক হত্যার বিস্তৃতি ঘটায়।

তিনি আরও বলেন, মাদকের বিস্তার ঘটিয়েছে আওয়ামী লীগ। তাদের সহায়তাকারী হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু সদস্য। তাদের এ সাড়ে ৯ বছরে মাদকে ছেয়ে গেছে দেশ। প্রতিবেশী দেশ যথা ভারত থেকে ফেনসিডিল ও মিয়ানমার থেকে ইয়াবা আমদানিকে মদদ দিয়ে যুবসমাজকে ধ্বংস করে ফেলা হচ্ছে।

‘শিক্ষাব্যবস্থাকে তারা পুরোপুরি ধ্বংস করে এখন মাদক ঢুকিয়ে দিয়ে যুবসমাজকে ধ্বংস করছে। এখন কথিত বন্দুকযুদ্ধের নামে অ্যাডহক ভিত্তিতে সমস্যা সমাধানের চেষ্টায় বিচারহীনতার সংস্কৃতিকে আরেক দফা উসকে দিচ্ছেন ওবায়দুল কাদেররা।’

শনিবার সকালে ধানমণ্ডির বাসায় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জমান খান কামাল বলেন, কক্সবাজারের টেকনাফের ওয়ার্ড কাউন্সিলর একরামুল হক নিহতের ঘটনায় একজন ম্যাজিস্ট্রেট তদন্ত করছেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এ বক্তব্যকে তামাশা বলে উল্লেখ করে রিজভী বলেন, এসব মন ভোলানো কথায় জনগণের আতঙ্ক দূর হবে না।

তিনি বলেন, বেআইনি এসব হত্যার জন্য তো বর্তমান সরকারই দায়ী। সরকারের আশকারাতেই কথিত বন্দুকযুদ্ধের নামে চলছে দেশব্যাপী মানুষ হত্যার বিভীষিকা।

ঘটনাপ্রবাহ : মাদকবিরোধী অভিযান ২০১৮

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter