বঙ্গবন্ধুর আদর্শ অক্ষুণ্ণ রাখতে প্রয়োজনে শেষ রক্তবিন্দুও বিসর্জন দেব: এমএ ওয়াহেদ
jugantor
বঙ্গবন্ধুর আদর্শ অক্ষুণ্ণ রাখতে প্রয়োজনে শেষ রক্তবিন্দুও বিসর্জন দেব: এমএ ওয়াহেদ

  ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি  

২৩ জুন ২০২২, ১৭:১২:০৪  |  অনলাইন সংস্করণ

‘যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা বাবার মুখে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ আর ত্যাগের ইতিহাস শুনে বড় হয়েছি। হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি আমাদের জাতির পিতাকে ধারণ করেছি বুকে। তার নীতি আর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে নাম লিখিয়েছি রাজনীতিতে। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে শক্তিশালী করেছি নেত্রীর (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার) হাত। যত বাধাই এসেছে, বিএনপি-জামায়াতের মতো স্বাধীনতা ও দেশবিরোধী কোনো অপশক্তিকে দাঁড়াতে দেইনি ময়মনসিংহের ভালুকার মাটিতে। বুক পেতে দিয়ে সর্বাগ্রে দাঁড়িয়েছিলাম বিভিন্ন আন্দোলনে। রুখে দিয়েছি সব অপশক্তিকে। বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে অক্ষুণ্ণ রাখতে প্রয়োজনে শেষ রক্তবিন্দুও বিসর্জন দেব দেশের জন্য।’

কথাগুলো বলছিলেন- বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ময়মনসিংহ জেলা শাখার কার্যনির্বাহী সদস্য এমএ ওয়াহেদ। একান্ত সাক্ষাতকালে যুগান্তরের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনায় উঠে এসেছে ভালুকা উপজেলা শাখার তুমুল জনপ্রিয় এই নেতার রাজনৈতিক বর্ণাঢ্য পরিচিতি।

জানা গেছে, দলের জন্য তার জেল-জুলুম আর ত্যাগ শিকারের রোমহর্ষক কাহিনী। উঠে এসেছে তার সামাজিক কর্মকাণ্ডের আদ্যোপান্ত।

জানা গেছে, ১৯৬৬ সালের ১২ এপ্রিল ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার ডাকাতিয়া ইউনিয়নের আংগারগাড়া গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন এমএ ওয়াহেদ। বীর মুক্তিযোদ্ধা যোদ্ধাহত মরহুম সাকেন আলী ছিলেন সমাজসেবী। বাবার কাছেই তার রাজনীতির হাতেখড়ি। ১৯৮২ সালে আংগারগাড়া ইউনাইটেড উচ্চ বিদ্যালয় থেকে পাশ করেন এসএসসি। ১৯৮৫ সালে ভালুকা ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি, অর্থনীতিতে বিএসএস (অনার্স) শেষে করেন ময়মনসিংহের আনন্দমোহন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে। ইউনির্ভাসিটি অব পাপুয়া নিউগিনি (অস্ট্রেলিয়া) থেকে ২০১৩ সালে এমবিএ শেষ করে বর্তমানে ব্যবসা করছেন।

দেশকে ভালো কিছু দেওয়ার প্রয়াসে ছোটবেলা থেকেই রাজনীতির সঙ্গে জড়িত এমএ ওয়াহেদ। স্কুল ছাত্রলীগের সদস্যদের সরাসরি ভোটে ১৯৭৯-১৯৮২ সময়কাল পর্যন্ত তিনি ভালুকার আংগারগাড়া ইউনাইটেড উচ্চ বিদ্যালয়ে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সফলতার সঙ্গে ১৯৮৪-১৯৮৫ সাল পর্যন্ত ছাত্রলীগের ডাকাতিয়া ইউনিয়ন শাখার সভাপতি ছিলেন। বর্তমানে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ময়মনসিংহ জেলা শাখার কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

এছাড়াও জাতীয় শ্রমিক লীগ, ভালুকা আঞ্চলিক শাখা উপদেষ্টা এবং বঙ্গবন্ধু পরিষদ, ময়মনসিংহ জেলা শাখার উপদেষ্টা হিসেবেও রয়েছেন তিনি। এর আগে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক উপ-কমিটিতে সদস্য (সাবেক) হিসেবেও নিরলস কাজ করেন এমএ ওয়াহেদ। বিএনপি-জামায়াত শিবিরের বিরুদ্ধে আন্দোলনেও জোরালো ভূমিকা রাখেন তিনি।

তিনি বলেন, ১৯৯০ সালে নির্বাচনের পর খালেদা জিয়াবিরোধী আন্দোলনেও বিভিন্ন সময়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করি। ২০০২ সালে বিএনপি সন্ত্রাসীদের হাতে আহত ময়মনসিংহে দলীয় নেতাকর্মীদের বিভিন্নভাবে সহায়তা প্রদান করি এবং দলীয় নেতাকর্মীদের মামলা মোকদ্দমায় আর্থিকভাবে সহযোগিতায় তাদের পাশে দাঁড়াই এবং আন্দোলনে সক্রিয় থাকি।

এমএ ওয়াহেদ বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে আমার বাবা যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা সাকেন আলী মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। সে সময় আমাদের বাড়িতে কয়েকটা কাচারি ঘর ছিল। তখন অনেক মুক্তিযোদ্ধা আমাদের ঘরে ক্যাম্প করে অবস্থান করেছেন এবং আমার বাবা তাদের নিজে রান্না করে খাওয়ানোসহ সর্বাত্মক সহযোগিতা ও সেবা শুশ্রূষা প্রদান করেছেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় ঢাকার পিলখানা থেকে একদল ইপিআর অস্ত্র এনে ডাকাতিয়া ইউনিয়নের আখালিয়া। এলাকায় গভীর জঙ্গলের ভেতর পরশুরামের বাড়ির পাশে মাটির নিচে লুকিয়ে রাখেন। সংবাদ পেয়ে সখিপুর থেকে কৃষিবিদ শওকত মোমেন শাহজাহান ও কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম প্রমুখ পরশুরামের বাড়ির পার্শ্বস্থ জঙ্গল থেকে অস্ত্র নিতে আসেন। আমার বাবা ৫টি মহিষের গাড়িযোগে হাঁটু সমান কাদাযুক্ত রাস্তা দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাতের অন্ধকারে অস্ত্রগুলো সখিপুরে পৌঁছে দেন। রাজাকাররা এই খবর পাকিস্তানী বাহিনীর কাছে পৌঁছে দেয়। এতে পাকবাহিনীরা আমার বাবাকে হত্যার উদ্দেশে আমাদের বাড়িতে প্রবেশ করে। সে সময় পাকবাহিনী বাবাকে না পেয়ে আমার চাচা সাইদ আলীর পায়ে রশি দিয়ে বেঁধে উল্টো করে ঝুলিয়ে অমানুষিক নির্যাতন চালায়। পিটাতে পিটাতে গায়ের বস্ত্র খুলে উলঙ্গ করে মৃত অবস্থায় ফেলে চলে যায়।

এমএ ওয়াহেদ বলেন, আমার পরিবারে সব মিলিয়ে ৮ জন মুক্তিযোদ্ধা আছেন। আমি শহীদ পরিবারের সন্তান। আমি জন্ম সূত্রে আওয়ামী পরিবারের সন্তান। আমার পিতা বীর মুক্তিযোদ্ধা সাকেন আলী বঙ্গবন্ধুর জীবনাদর্শ বুকে ধারণ করে রাজনীতি করে গেছেন। শিশুকাল থেকেই পিতার মুখ থেকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের কথা শুনেছি, শুনেছি কীভাবে দরিদ্র, অসহায় ও জনসাধারণের পাশে থেকে তাদের দুঃখ-দুর্দশার সঙ্গী হওয়া যায়। বাবার জীবনী অনুসরণ করে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে আমিও বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বুকে ধারণ করে বড় হয়েছি।

তিনি বলেন, ছাত্রজীবন থেকে আওয়ামী রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হয়ে সর্বদা অটুট থেকেছি রাজপথে। আমি আংগারগাড়া ইউনাইটেড উচ্চ বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণিতে অধ্যয়নকালে নির্বাচনের মাধ্যমে স্কুল ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হই। তৎকালীন সময় ভালুকায় আওয়ামী লীগের যে কোনো প্রকার কর্মসূচি অথবা ঢাকা-ময়মনসিংহ থেকে দলীয় নেতার আগমন ঘটলে হাঁটু সমান কাদাযুক্ত প্রায় ২০-২৫ কিলোমিটার রাস্তা পায়ে হেঁটে ভালুকায় এসে কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেছি। সেই সঙ্গে কর্মসূচি শেষে, সারাদিন অভুক্ত থেকেও পূর্বের ন্যায় পায়ে হেঁটে বাড়ি ফিরতে হয়েছে।

তিনি বলেন, ভালুকা ডিগ্রি কলেজে ভর্তি হয়ে কলেজ ছাত্রলীগের অন্যতম সক্রিয় কর্মী হিসাবে বিভিন্ন প্রোগ্রামে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা ও দায়িত্ব পালন করেছি। ভালুকা ডিগ্রি কলেজে একাদশ শ্রেণিতে অধ্যয়নরত অবস্থায় কলেজ হোস্টেলে থেকে পড়াশোনার পাশাপাশি ছাত্র রাজনীতি চালিয়ে যাই দৃঢ় সংকল্পে। বিএনপি কর্তৃক নেতাকর্মী কলেজ ছাত্রলীগের সঙ্গে অন্যায়ভাবে বিবাদে লিপ্ত হয় হোস্টেলটি ভেঙে ফেলে। তখন উপায় না দেখে নিকটস্থ একটি ভাড়া বাসায় উঠি।

এমএ ওয়াহেদ বলেন, ১৯৮৪ সালে ভালুকায় প্রথম উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না থাকলেও, তৎকালীন ভালুকা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আ. ছামাদ স্যার আওয়ামী লীগের সমর্থনে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। তখন পশ্চিম ভালুকা থেকে জুলহাজ তালুকদার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। আঞ্চলিকতার টানে পশ্চিম ভালুকার সকলে জুলহাজ তালুকদারকে সমর্থন করলেও, আমি আওয়ামী লীগকে ভালোবেসে সমর্থিত প্রার্থী আ. ছামাদ স্যারের পক্ষে নির্বাচনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করি। ওই সময় আমার ইয়ামাহা ১০০ সিসি একটি মোটরবাইক ছিল। আমি এই গাড়িতে করে ছামাদ স্যারকে নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় নিযুক্ত ছিলাম। ছামাদ স্যারের নির্বাচন না করার জন্য বিরোধী পক্ষের অনেকেই গালমন্দসহ প্রাণনাশের হুমকি দেয়। আমি এসব ভয়ভীতি ও হুমকির উপেক্ষা করে সচেষ্ট থাকায় হঠাৎ একদিন ১ হাজার ২শ রাজাকারের কমান্ডার আতিকুল্লাহ চৌধুরীর নির্দেশে বিএনপির একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনী আমাকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে আমার বাসায় হামলা চালায়। প্রতিপক্ষরা হারিকেনের আগুন জ্বালিয়ে আমার মোটরসাইকেলটি পুড়িয়ে দেয়। এই আগুনেই আমার চাচাত ভাই আলতাফ হোসেনের শরীরের ৭৫ ভাগ পুড়ে যায় এবং পুড়ে যাওয়ার দরুন এখন অব্দি কোন প্রকার কাজকর্ম করতে পারেন না। এছাড়াও বাড়ির মালিক জোসনার ৮ বছর বয়সী ছোট ছেলে এই আগুনে দগ্ধ হয়ে তৎক্ষণাত মৃত্যুবরণ করে এবং আমি নিজেও অগ্নিদগ্ধ হয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলাম। যার কারণে এইচএসসি পরীক্ষায় আমাকে এক বছর ড্রপ দিতে হয়েছে।

তিনি বলেন, ১৯৮৫ সালে আমি আনন্দমোহন কলেজে ভর্তি হই। এর কিছুদিন পরই আমি আনন্দমোহন কলেজ ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করি। সেই থেকে অদ্যবধি আওয়ামীলীগের সাথে কাজ করে আসছি। স্কুলজীবন থেকে ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম এবং আওয়ামী লীগের একজন ত্যাগী ও পরীক্ষিত কর্মী হিসেবে জীবন উৎসর্গ করতে চাই। এই পর্যন্ত বিএনপি, জামায়াত কর্তৃক ক্ষতিগ্রস্ত আওয়ামী পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করছি। সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও মাদকবিরোধী আন্দোলনেও নিজেকে সক্রিয় রেখে মানবতার জননী দেশরত্ন শেখ হাসিনার উন্নয়ন ও অগ্রগতির সংগ্রামে নিজেকে যুক্ত রেখেছি।

এমএ ওয়াহেদ বলেন, নিঃস্বার্থভাবে ভালুকার আর্থ-সামাজিক ও মানবিক উন্নয়নে আমি কাজ অব্যাহত রেখেছি। গরিব ও দুস্থ মানুষের আর্থিক সহায়তা, চিকিৎসা খরচ, দরিদ্র নারীদের জন্য চিকিৎসা খরচ বহন, বিধবা ও বয়স্ক পুরুষদের অর্থ প্রদান, মেধাবী ও দরিদ্র ছেলেমেয়ের লেখাপড়ার খরচ, প্রতিবন্ধীদের হুইলচেয়ার ইত্যাদি আর্থিক ও মানবিক সাহায্য প্রতিনিয়ত করে যাচ্ছি। ভালুকায় মসজিদ-মাদ্রাসা, এতিমখানা, স্কুল-কলেজ, ক্লাব, সমিতি, মন্দির, গীর্জা নির্মাণসহ নানাবিধ সামাজিক কাজে অংশগ্রহণ করে আসছি। প্রতি বছর ১৫ আগস্টে গণভোজ বাবদ নিজ এলাকা ডাকাতিয়া ইউনিয়নে প্রায় ১০ লাখ টাকা ও সমগ্র ভালুকায় প্রায় ২০ লাখ টাকা ব্যয় করে থাকি। এছাড়া বিভিন্ন জাতীয় দিবস, সামাজিক অনুষ্ঠানে অকাতরে অনুদান প্রদান করি। একজন সামাজিক মানুষ হিসেবে আওয়ামী লীগের একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে দায়বোধ থেকে এসব দান অনুদান প্রদান করা হয়ে থাকে। মানুষের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা, নির্মোহ ও নির্লোভী, সহজ-সরল নিরঅহংকারী একজন মানুষ আমি। অতিসাধারণ মানুষ হিসেবে আমাকে এলাকার মানুষ প্রায় ২০ বছর ধরে মূল্যায়ন করে আসছে। মানুষের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। জাতীয় ক্রীড়াঙ্গনেও আমার বিরাট অবদান রয়েছে।

তিনি বলেন, করোনাকালীন সময়ে সমগ্র ভালুকাব্যাপী ২০ হাজার মানুষকে জনপ্রতি খাদ্যসামগ্রী ১০ কেজি করে চাল, ৫ কেজি করে আটা, ২ কেজি করে ডাল, আলু, তেল, সাবান, নগদ অর্থসহ প্রচুর পরিমাণে স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী স্যানিটাইজার ও মাস্ক বিতরণ করি। জরুরি প্রয়োজনে ময়মনসিংহ সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫টি অত্যাধুনিক (ভিআইপি) আইসিইউ বেড প্রদান করি। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ময়মনসিংহ জেলা কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত ফিল্ড হাসপাতালে প্রচুর অক্সিজেন সিলিন্ডার, স্বাস্থ্য সুরক্ষ্মা সরঞ্জাম প্রদান করি। ভালুকায় ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস, গ্যাস অক্সিজেন সিলিন্ডার সরবরাহসহ করোনায় আক্রান্ত মুমূর্ষু রোগীকে ঢাকায় এনে আমার নিজ খরচে চিকিৎসা প্রদান করি।

তিনি আরও বলেন, প্রায় ১০০টিরও বেশি মসজিদ, মাদ্রাসা, প্রতিষ্ঠান উন্নয়ন, প্রতিষ্ঠা ও পুনর্নির্মাণ, প্রায় ১৩৩টি স্কুল কলেজ, ক্লাব, সমিতি উন্নয়ন, প্রতিষ্ঠা ও পুনর্নির্মাণ, প্রায় ২৫টি মন্দির-গির্জা, আশ্রম ইত্যাদির উন্নয়ন ও পুনর্নির্মাণ করেছি। প্রায় ১ হাজার ৭০০ ক্ষুদ্র ও নৃ-তাত্ত্বিকগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে আর্থিক অনুদান প্রদান করি। সামাজিক সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া উন্নয়নে নিয়মিত অনুদান প্রদান করছি। নিজ অর্থায়নে বিভিন্ন স্থানে কয়েক কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণ দরিদ্র ও মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে উপবৃত্তি প্রদান এখনো চলমান রেখেছি। প্রতি বছর ঈদুল ফিতর উপলক্ষে প্রায় ১০ হাজার দরিদ্র মানুষের মাঝে বস্ত্র ও নগদ অর্থ বিতরণ করি। গৃহহীনদের মাঝে ৪০০টিরও বেশি গৃহ নির্মাণ করেছি। এ পর্যন্ত দরিদ্র-ধার্মিক প্রায় দেড়শতাধিক জনকে হজব্রত পালনের ব্যবস্থা করেছি। গরিবদের বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করা ছাড়াও গরিব মেয়েদের বিয়েশাদি বা অন্যান্য বিপদ আপদে আর্থিক সহায়তা ও বিধবাদের সহায়তাসহ বৃদ্ধদের সহায়তা প্রদান করেছি।

শুধু তাই নয়, দেশ ও দেশের বাহিরে নিজস্ব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে প্রায় চার শতাধিক যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছি যোগ করেন আওয়ামী লীগ নেতা এমএ ওয়াহেদ।

বঙ্গবন্ধুর আদর্শ অক্ষুণ্ণ রাখতে প্রয়োজনে শেষ রক্তবিন্দুও বিসর্জন দেব: এমএ ওয়াহেদ

 ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি 
২৩ জুন ২০২২, ০৫:১২ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

‘যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা বাবার মুখে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ আর ত্যাগের ইতিহাস শুনে বড় হয়েছি। হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি আমাদের জাতির পিতাকে ধারণ করেছি বুকে। তার নীতি আর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে নাম লিখিয়েছি রাজনীতিতে। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে শক্তিশালী করেছি নেত্রীর (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার) হাত। যত বাধাই এসেছে, বিএনপি-জামায়াতের মতো স্বাধীনতা ও দেশবিরোধী কোনো অপশক্তিকে দাঁড়াতে দেইনি ময়মনসিংহের ভালুকার মাটিতে। বুক পেতে দিয়ে সর্বাগ্রে দাঁড়িয়েছিলাম বিভিন্ন আন্দোলনে। রুখে দিয়েছি সব অপশক্তিকে। বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে অক্ষুণ্ণ রাখতে প্রয়োজনে শেষ রক্তবিন্দুও বিসর্জন দেব দেশের জন্য।’

কথাগুলো বলছিলেন- বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ময়মনসিংহ জেলা শাখার কার্যনির্বাহী সদস্য এমএ ওয়াহেদ। একান্ত সাক্ষাতকালে যুগান্তরের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনায় উঠে এসেছে ভালুকা উপজেলা শাখার তুমুল জনপ্রিয় এই নেতার রাজনৈতিক বর্ণাঢ্য পরিচিতি।

জানা গেছে, দলের জন্য তার জেল-জুলুম আর ত্যাগ শিকারের রোমহর্ষক কাহিনী। উঠে এসেছে তার সামাজিক কর্মকাণ্ডের আদ্যোপান্ত।

জানা গেছে, ১৯৬৬ সালের ১২ এপ্রিল ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার ডাকাতিয়া ইউনিয়নের আংগারগাড়া গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন এমএ ওয়াহেদ। বীর মুক্তিযোদ্ধা যোদ্ধাহত মরহুম সাকেন আলী ছিলেন সমাজসেবী। বাবার কাছেই তার রাজনীতির হাতেখড়ি। ১৯৮২ সালে আংগারগাড়া ইউনাইটেড উচ্চ বিদ্যালয় থেকে পাশ করেন এসএসসি। ১৯৮৫ সালে ভালুকা ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি, অর্থনীতিতে বিএসএস (অনার্স) শেষে করেন ময়মনসিংহের আনন্দমোহন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে। ইউনির্ভাসিটি অব পাপুয়া নিউগিনি (অস্ট্রেলিয়া) থেকে ২০১৩ সালে এমবিএ শেষ করে বর্তমানে ব্যবসা করছেন।

দেশকে ভালো কিছু দেওয়ার প্রয়াসে ছোটবেলা থেকেই রাজনীতির সঙ্গে জড়িত এমএ ওয়াহেদ। স্কুল ছাত্রলীগের সদস্যদের সরাসরি ভোটে ১৯৭৯-১৯৮২ সময়কাল পর্যন্ত তিনি ভালুকার আংগারগাড়া ইউনাইটেড উচ্চ বিদ্যালয়ে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সফলতার সঙ্গে ১৯৮৪-১৯৮৫ সাল পর্যন্ত ছাত্রলীগের ডাকাতিয়া ইউনিয়ন শাখার সভাপতি ছিলেন। বর্তমানে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ময়মনসিংহ জেলা শাখার কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

এছাড়াও জাতীয় শ্রমিক লীগ, ভালুকা আঞ্চলিক শাখা উপদেষ্টা এবং বঙ্গবন্ধু পরিষদ, ময়মনসিংহ জেলা শাখার উপদেষ্টা হিসেবেও রয়েছেন তিনি। এর আগে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক উপ-কমিটিতে সদস্য (সাবেক) হিসেবেও নিরলস কাজ করেন এমএ ওয়াহেদ। বিএনপি-জামায়াত শিবিরের বিরুদ্ধে আন্দোলনেও জোরালো ভূমিকা রাখেন তিনি।

তিনি বলেন, ১৯৯০ সালে নির্বাচনের পর খালেদা জিয়াবিরোধী আন্দোলনেও বিভিন্ন সময়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করি। ২০০২ সালে বিএনপি সন্ত্রাসীদের হাতে আহত ময়মনসিংহে দলীয় নেতাকর্মীদের বিভিন্নভাবে সহায়তা প্রদান করি এবং দলীয় নেতাকর্মীদের মামলা মোকদ্দমায় আর্থিকভাবে সহযোগিতায় তাদের পাশে দাঁড়াই এবং আন্দোলনে সক্রিয় থাকি।

এমএ ওয়াহেদ বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে আমার বাবা যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা সাকেন আলী মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। সে সময় আমাদের বাড়িতে কয়েকটা কাচারি ঘর ছিল। তখন অনেক মুক্তিযোদ্ধা আমাদের ঘরে ক্যাম্প করে অবস্থান করেছেন এবং আমার বাবা তাদের নিজে রান্না করে খাওয়ানোসহ সর্বাত্মক সহযোগিতা ও সেবা শুশ্রূষা প্রদান করেছেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় ঢাকার পিলখানা থেকে একদল ইপিআর অস্ত্র এনে ডাকাতিয়া ইউনিয়নের আখালিয়া। এলাকায় গভীর জঙ্গলের ভেতর পরশুরামের বাড়ির পাশে মাটির নিচে লুকিয়ে রাখেন। সংবাদ পেয়ে সখিপুর থেকে কৃষিবিদ শওকত মোমেন শাহজাহান ও কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম প্রমুখ পরশুরামের বাড়ির পার্শ্বস্থ জঙ্গল থেকে অস্ত্র নিতে আসেন। আমার বাবা ৫টি মহিষের গাড়িযোগে হাঁটু সমান কাদাযুক্ত রাস্তা দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাতের অন্ধকারে অস্ত্রগুলো সখিপুরে পৌঁছে দেন। রাজাকাররা এই খবর পাকিস্তানী বাহিনীর কাছে পৌঁছে দেয়। এতে পাকবাহিনীরা আমার বাবাকে হত্যার উদ্দেশে আমাদের বাড়িতে প্রবেশ করে। সে সময় পাকবাহিনী বাবাকে না পেয়ে আমার চাচা সাইদ আলীর পায়ে রশি দিয়ে বেঁধে উল্টো করে ঝুলিয়ে অমানুষিক নির্যাতন চালায়। পিটাতে পিটাতে গায়ের বস্ত্র খুলে উলঙ্গ করে মৃত অবস্থায় ফেলে চলে যায়।

এমএ ওয়াহেদ বলেন, আমার পরিবারে সব মিলিয়ে ৮ জন মুক্তিযোদ্ধা আছেন। আমি শহীদ পরিবারের সন্তান। আমি জন্ম সূত্রে আওয়ামী পরিবারের সন্তান। আমার পিতা বীর মুক্তিযোদ্ধা সাকেন আলী বঙ্গবন্ধুর জীবনাদর্শ বুকে ধারণ করে রাজনীতি করে গেছেন। শিশুকাল থেকেই পিতার মুখ থেকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের কথা শুনেছি, শুনেছি কীভাবে দরিদ্র, অসহায় ও জনসাধারণের পাশে থেকে তাদের দুঃখ-দুর্দশার সঙ্গী হওয়া যায়। বাবার জীবনী অনুসরণ করে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে আমিও বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বুকে ধারণ করে বড় হয়েছি।

তিনি বলেন, ছাত্রজীবন থেকে আওয়ামী রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হয়ে সর্বদা অটুট থেকেছি রাজপথে। আমি আংগারগাড়া ইউনাইটেড উচ্চ বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণিতে অধ্যয়নকালে নির্বাচনের মাধ্যমে স্কুল ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হই। তৎকালীন সময় ভালুকায় আওয়ামী লীগের যে কোনো প্রকার কর্মসূচি অথবা ঢাকা-ময়মনসিংহ থেকে দলীয় নেতার আগমন ঘটলে হাঁটু সমান কাদাযুক্ত প্রায় ২০-২৫ কিলোমিটার রাস্তা পায়ে হেঁটে ভালুকায় এসে কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেছি। সেই সঙ্গে কর্মসূচি শেষে, সারাদিন অভুক্ত থেকেও পূর্বের ন্যায় পায়ে হেঁটে বাড়ি ফিরতে হয়েছে।

তিনি বলেন, ভালুকা ডিগ্রি কলেজে ভর্তি হয়ে কলেজ ছাত্রলীগের অন্যতম সক্রিয় কর্মী হিসাবে বিভিন্ন প্রোগ্রামে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা ও দায়িত্ব পালন করেছি। ভালুকা ডিগ্রি কলেজে একাদশ শ্রেণিতে অধ্যয়নরত অবস্থায় কলেজ হোস্টেলে থেকে পড়াশোনার পাশাপাশি ছাত্র রাজনীতি চালিয়ে যাই দৃঢ় সংকল্পে। বিএনপি কর্তৃক নেতাকর্মী কলেজ ছাত্রলীগের সঙ্গে অন্যায়ভাবে বিবাদে লিপ্ত হয় হোস্টেলটি ভেঙে ফেলে। তখন উপায় না দেখে নিকটস্থ একটি ভাড়া বাসায় উঠি।

এমএ ওয়াহেদ বলেন, ১৯৮৪ সালে ভালুকায় প্রথম উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না থাকলেও, তৎকালীন ভালুকা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আ. ছামাদ স্যার আওয়ামী লীগের সমর্থনে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। তখন পশ্চিম ভালুকা থেকে জুলহাজ তালুকদার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। আঞ্চলিকতার টানে পশ্চিম ভালুকার সকলে জুলহাজ তালুকদারকে সমর্থন করলেও, আমি আওয়ামী লীগকে ভালোবেসে সমর্থিত প্রার্থী আ. ছামাদ স্যারের পক্ষে নির্বাচনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করি। ওই সময় আমার ইয়ামাহা ১০০ সিসি একটি মোটরবাইক ছিল। আমি এই গাড়িতে করে ছামাদ স্যারকে নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় নিযুক্ত ছিলাম। ছামাদ স্যারের নির্বাচন না করার জন্য বিরোধী পক্ষের অনেকেই গালমন্দসহ প্রাণনাশের হুমকি দেয়। আমি এসব ভয়ভীতি ও হুমকির উপেক্ষা করে সচেষ্ট থাকায় হঠাৎ একদিন ১ হাজার ২শ রাজাকারের কমান্ডার আতিকুল্লাহ চৌধুরীর নির্দেশে বিএনপির একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনী আমাকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে আমার বাসায় হামলা চালায়। প্রতিপক্ষরা হারিকেনের আগুন জ্বালিয়ে আমার মোটরসাইকেলটি পুড়িয়ে দেয়। এই আগুনেই আমার চাচাত ভাই আলতাফ হোসেনের শরীরের ৭৫ ভাগ পুড়ে যায় এবং পুড়ে যাওয়ার দরুন এখন অব্দি কোন প্রকার কাজকর্ম করতে পারেন না। এছাড়াও বাড়ির মালিক জোসনার ৮ বছর বয়সী ছোট ছেলে এই আগুনে দগ্ধ হয়ে তৎক্ষণাত মৃত্যুবরণ করে এবং আমি নিজেও অগ্নিদগ্ধ হয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলাম। যার কারণে এইচএসসি পরীক্ষায় আমাকে এক বছর ড্রপ দিতে হয়েছে।

তিনি বলেন, ১৯৮৫ সালে আমি আনন্দমোহন কলেজে ভর্তি হই। এর কিছুদিন পরই আমি আনন্দমোহন কলেজ ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করি। সেই থেকে অদ্যবধি আওয়ামীলীগের সাথে কাজ করে আসছি। স্কুলজীবন থেকে ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম এবং আওয়ামী লীগের একজন ত্যাগী ও পরীক্ষিত কর্মী হিসেবে জীবন উৎসর্গ করতে চাই। এই পর্যন্ত বিএনপি, জামায়াত কর্তৃক ক্ষতিগ্রস্ত আওয়ামী পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করছি। সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও মাদকবিরোধী আন্দোলনেও নিজেকে সক্রিয় রেখে মানবতার জননী দেশরত্ন শেখ হাসিনার উন্নয়ন ও অগ্রগতির সংগ্রামে নিজেকে যুক্ত রেখেছি।

এমএ ওয়াহেদ বলেন, নিঃস্বার্থভাবে ভালুকার আর্থ-সামাজিক ও মানবিক উন্নয়নে আমি কাজ অব্যাহত রেখেছি। গরিব ও দুস্থ মানুষের আর্থিক সহায়তা, চিকিৎসা খরচ, দরিদ্র নারীদের জন্য চিকিৎসা খরচ বহন, বিধবা ও বয়স্ক পুরুষদের অর্থ প্রদান, মেধাবী ও দরিদ্র ছেলেমেয়ের লেখাপড়ার খরচ, প্রতিবন্ধীদের হুইলচেয়ার ইত্যাদি আর্থিক ও মানবিক সাহায্য প্রতিনিয়ত করে যাচ্ছি। ভালুকায় মসজিদ-মাদ্রাসা, এতিমখানা, স্কুল-কলেজ, ক্লাব, সমিতি, মন্দির, গীর্জা নির্মাণসহ নানাবিধ সামাজিক কাজে অংশগ্রহণ করে আসছি। প্রতি বছর ১৫ আগস্টে গণভোজ বাবদ নিজ এলাকা ডাকাতিয়া ইউনিয়নে প্রায় ১০ লাখ টাকা ও সমগ্র ভালুকায় প্রায় ২০ লাখ টাকা ব্যয় করে থাকি। এছাড়া বিভিন্ন জাতীয় দিবস, সামাজিক অনুষ্ঠানে অকাতরে অনুদান প্রদান করি। একজন সামাজিক মানুষ হিসেবে আওয়ামী লীগের একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে দায়বোধ থেকে এসব দান অনুদান প্রদান করা হয়ে থাকে। মানুষের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা, নির্মোহ ও নির্লোভী, সহজ-সরল নিরঅহংকারী একজন মানুষ আমি। অতিসাধারণ মানুষ হিসেবে আমাকে এলাকার মানুষ প্রায় ২০ বছর ধরে মূল্যায়ন করে আসছে। মানুষের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। জাতীয় ক্রীড়াঙ্গনেও আমার বিরাট অবদান রয়েছে।

তিনি বলেন, করোনাকালীন সময়ে সমগ্র ভালুকাব্যাপী ২০ হাজার মানুষকে জনপ্রতি খাদ্যসামগ্রী ১০ কেজি করে চাল, ৫ কেজি করে আটা, ২ কেজি করে ডাল, আলু, তেল, সাবান, নগদ অর্থসহ প্রচুর পরিমাণে স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী স্যানিটাইজার ও মাস্ক বিতরণ করি। জরুরি প্রয়োজনে ময়মনসিংহ সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫টি অত্যাধুনিক (ভিআইপি) আইসিইউ বেড প্রদান করি। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ময়মনসিংহ জেলা কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত ফিল্ড হাসপাতালে প্রচুর অক্সিজেন সিলিন্ডার, স্বাস্থ্য সুরক্ষ্মা সরঞ্জাম প্রদান করি। ভালুকায় ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস, গ্যাস অক্সিজেন সিলিন্ডার সরবরাহসহ করোনায় আক্রান্ত মুমূর্ষু রোগীকে ঢাকায় এনে আমার নিজ খরচে চিকিৎসা প্রদান করি।

তিনি আরও বলেন, প্রায় ১০০টিরও বেশি মসজিদ, মাদ্রাসা, প্রতিষ্ঠান উন্নয়ন, প্রতিষ্ঠা ও পুনর্নির্মাণ, প্রায় ১৩৩টি স্কুল কলেজ, ক্লাব, সমিতি উন্নয়ন, প্রতিষ্ঠা ও পুনর্নির্মাণ, প্রায় ২৫টি মন্দির-গির্জা, আশ্রম ইত্যাদির উন্নয়ন ও পুনর্নির্মাণ করেছি। প্রায় ১ হাজার ৭০০ ক্ষুদ্র ও নৃ-তাত্ত্বিকগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে আর্থিক অনুদান প্রদান করি। সামাজিক সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া উন্নয়নে নিয়মিত অনুদান প্রদান করছি। নিজ অর্থায়নে বিভিন্ন স্থানে কয়েক কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণ দরিদ্র ও মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে উপবৃত্তি প্রদান এখনো চলমান রেখেছি। প্রতি বছর ঈদুল ফিতর উপলক্ষে প্রায় ১০ হাজার দরিদ্র মানুষের মাঝে বস্ত্র ও নগদ অর্থ বিতরণ করি। গৃহহীনদের মাঝে ৪০০টিরও বেশি গৃহ নির্মাণ করেছি। এ পর্যন্ত দরিদ্র-ধার্মিক প্রায় দেড়শতাধিক জনকে হজব্রত পালনের ব্যবস্থা করেছি। গরিবদের বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করা ছাড়াও গরিব মেয়েদের বিয়েশাদি বা অন্যান্য বিপদ আপদে আর্থিক সহায়তা ও বিধবাদের সহায়তাসহ বৃদ্ধদের সহায়তা প্রদান করেছি।

শুধু তাই নয়, দেশ ও দেশের বাহিরে নিজস্ব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে প্রায় চার শতাধিক যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছি যোগ করেন আওয়ামী লীগ নেতা এমএ ওয়াহেদ।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও খবর