খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের শুনানি মুলতবি

প্রকাশ : ১০ জুন ২০১৮, ১১:৫১ | অনলাইন সংস্করণ

  যুগান্তর রিপোর্ট

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। ফাইল ছবি

কুমিল্লায় নাশকতার অভিযোগে বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন নিয়ে শুনানি সোমবার পর্যন্ত মুলতবি করেছেন হাইকোর্ট।

রোববার বিচারপতি মো. শওকত হোসেন ও বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন, অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। সঙ্গে ছিলেন, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মনিরুজ্জামান রুবেল ও এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক। আর বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি করেন খন্দকার মাহবুব হোসেন।

শুনানি শেষে এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক যুগান্তরকে জানান, ঢাকায় করা দুটি মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট পর্যবেক্ষণসহ আবেদনটি নিষ্পত্তি করে দেন। এ আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ লিভ টু আপিল করবে। সে জন্য সময় চাওয়া হলে আদালত শুনানি মুলতবি করেন। সোমবার আবেদনটি শুনানির জন্য রাখা হয়।

তিনি বলেন, অ্যাটর্নি জেনারেল আদালতে মানহানি মামলার ওই আদেশ নিয়ে আপিল বিভাগে আবেদনের কথা বলে সময় নিয়েছেন। এরপর আদালত সোমবার শুনানির জন্য দিন ঠিক করেছেন। এর আগে মঙ্গলবার এ আবেদন করেন খালেদা জিয়া।

শুনানি শেষে অ্যাটর্নি জেনারেলের সমালোচনা করে খালেদা জিয়ার আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, আজ তিনি (অ্যাটর্নি জেনারেল) ভিন্নরূপে আবির্ভূত হয়েছেন। অ্যাটর্নি জেনারেল বলেছেন- সরকারের নির্দেশ বা সিদ্ধান্ত হলো হাইকোর্টের সিনিয়র বেঞ্চ যে আদেশ দিয়েছেন ওই আদেশের বিরুদ্ধে তারা আপিল দায়ের করবে।

তিনি বলেন, আমরা ক্ষুব্ধ, লজ্জিত এই কারণে যে, অ্যাটর্নি জেনারেল যেহেতু আপিল বিভাগে যাবেন সেহেতু আজকে এটা মুলতবি করা হলো। এর অর্থ অ্যাটর্নি জেনারেলের সম্মতি ছাড়া আপাতত দৃষ্টিতে মনে হচ্ছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত কোনো আদেশ দিচ্ছেন না।

খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, অ্যাটর্নি জেনারেল সময় চেয়েছেন, আদালত তাকে সময় দিয়েছেন। আবার তিনি সময় চাইবেন, হয়তো আবার সময় দিবেন। এমনও হতে পারে, অ্যাটর্নি জেনারেলের সম্মতি হলে তখন খালেদা জিয়ার জামিন হবে। আমাদের সেই অপেক্ষায় থাকতে হবে।

তিনি বলেন, ব্যক্তিগতভাবে মনে হচ্ছে, দেশের সর্বোচ্চ আদালতের বিচার ব্যবস্থার ওপর আমরা আর আস্থা রাখতে পারছি না। এই অবস্থায় আইনজীবীরা কতদিন সুপ্রিম কোর্টের ওপর আস্থা রাখতে পারবে! মানুষ হয়তো এটাকে প্রত্যাখান করে আইন নিজেদের হাতে তুলে নেবে, সেই দিনের অপেক্ষায় আমরা আছি।

শুনানি শেষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, খালেদা জিয়া অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিলেন—এটি ঠিক নয়। সুগার লেভেল কমে যাওয়ায় তিনি দাঁড়ানো থেকে ঘুরে গিয়েছিলেন। চকলেট খাইয়ে সঙ্গে সঙ্গে তাকে ঠিক করা হয়েছে।

খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি জানি এ বিষয়টি নিয়ে তারা অনেক কিছু বলবেন। তাই আমি আদালতে যাওয়ার আগে আইজি প্রিজনের সঙ্গে আলাপ করেছি। তিনি আমাকে যে তথ্য দিয়েছেন- তা হলো ৫ জুন ইফতারের ঠিক আগে আগে খালেদা জিয়ার সুগার লেভেল কমে গিয়েছিল। সে জন্য তিনি অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিলেন তা ঠিক নয় বা অজ্ঞান ছিলেন এটিও ঠিক না। এ বয়সে যার ডায়বেটিস আছে, তার সুগার লেভেল সারা দিন পরে একটু এদিক–সেদিক হতেই পারে।’

খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের করা বক্তব্য প্রসঙ্গ অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, অ্যাটর্নি জেনারেলের সম্মতি ছাড়া খালেদা জিয়ার জামিন মিলবে না—এটা শুধু মিথ্যা কথা নয়, দুঃখজনক ও আদালত অবমাননাও। আদালত কারো কথায় চলে না। কাজেই তারা যে এ কথাগুলো বলেছেন, তাতে মনে হচ্ছে তারা হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছেন। কারণ তারা অনেক মামলায় জামিন পাচ্ছেন না।

২০ দলীয় জোটের অবরোধ চলাকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চৌদ্দগ্রামে বাসে দুষ্কৃতিকারীদের ছোড়া পেট্রল বোমার ঘটনায় ২০১৫ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি পুলিশ বাদী হয়ে এ মামলা করে। ২৮ মে কুমিল্লার একটি আদালতে গ্রেফতার দেখানোর পর জামিন আবেদন করেন খালেদা জিয়া। সে আবেদন নামঞ্জুর করে ৮ আগস্ট পরবর্তী দিন ধার্য করেন আদালত।

ওই আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে জামিনসহ আপিল আবেদন করেন খালেদা জিয়া। এদিকে একই মামলা বাতিলে হাইকোর্টে আরও একটি আবেদন বিচারাধীন রয়েছে।

প্রসঙ্গত জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন রাজধানীর বকশীবাজারে স্থাপিত অস্থায়ী পঞ্চম বিশেষ জজ আদালত। রায় ঘোষণার পরপরই খালেদা জিয়াকে পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়।

রায়ের পর আপিল করে জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন খালেদা জিয়া। গত ১২ মার্চ হাইকোর্ট তাকে চার মাসের জামিন দেন। এই জামিন স্থগিত চেয়ে দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষ পৃথক আবেদন করে। পরে হাইকোর্টের দেয়া জামিন বহাল রেখে ১৬ মে রায় দেন আপিল বিভাগ।

সেদিন খালেদা জিয়ার আইনজীবী মওদুদ আহমদ বলেছিলেন, বিএনপির চেয়ারপারসনের মুক্তিতে কিছুটা বাধা আছে। তিনি এই মুহূর্তে মুক্তি পাবেন না, কারণ নিম্ন আদালতে থাকা কয়েকটি মামলায় তাকে আসামি দেখানো হয়েছে।