ইডেনের 'অপরাধী' চক্রকে দ্রুত গ্রেফতার করতে হবে: আ স ম‌ রব
jugantor
ইডেনের 'অপরাধী' চক্রকে দ্রুত গ্রেফতার করতে হবে: আ স ম‌ রব

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

০৬ অক্টোবর ২০২২, ০০:২৪:৪০  |  অনলাইন সংস্করণ

ইডেনের 'নারী শিক্ষার্থীদের নৈতিক জীবনযাপন' ধ্বংসের জন্য দায়ীদের দ্রুত গ্রেফতার, বিচার বিভাগীয় তদন্ত, শ্বেতপত্র প্রকাশের দাবি এবং ২১ নারী অধিকার কর্মীর ইতিবাচক বিবৃতিকে সমর্থন জানিয়ে স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলক আ স ম আবদুর রব গণমাধ্যমে নিম্নোক্ত বিবৃতি প্রদান করেছেন।

ছাত্রলীগ নেতাদের বিরুদ্ধে ইডেনের নারী শিক্ষার্থীদের যৌন-নিপীড়ন ও যৌন দাসত্বে বাধ্য করার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কোন তদন্ত, গ্রেফতার বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নিয়ে নারীদের প্রতি ভয়াবহ নিষ্ঠুরতাকে নীরবতায় সরকার সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে।

ছাত্রলীগ নেতাদের সিট বাণিজ্য, চাঁদাবাজি এবং শিক্ষার্থীদের 'অনৈতিক কাজে বাধ্য করার' সাক্ষ্য দিয়েছে সাধারণ ছাত্রীসহ ছাত্রলীগের নেত্রীরাই। তারাই এ ভয়াবহ অন্যায়ের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।

এই গুরুতর অভিযোগ উত্থাপিত হওয়ার সাথে সাথেই শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ এবং কলেজ অধ্যক্ষকে অপসারণ করা উচিত ছিল। অপরাধ সংঘঠনে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া রাষ্ট্রের কর্তব্য। ভয়ংকর অন্যায় করার পরও ছাত্রলীগ ও কলেজ প্রশাসন তাদের কর্মকাণ্ডকে যুক্তিযুক্ত করে তোলার অপচেষ্টা করছে। এই ধরনের নৈতিক অধঃপতন কোন পরিসংখ্যান দ্বারা পরিমাপ করা সম্ভব নয়।

সরকার ক্ষমতাকে দীর্ঘায়িত করতে ছাত্রলীগকে অর্থ ও পেশীশক্তি হিসেবে ব্যবহার করতে গিয়ে ধ্বংসের গহবরে ঠেলে দিয়েছে। সম্ভাবনাময় ছাত্র সমাজকে কুৎসিত পথে ধাবিত করেছে। নিজেদের পদ-পদবী সুরক্ষিত করতে মেয়েদেরকে অনৈতিক কাজে বাধ্য করার ভয়াবহ রাজনীতির ভয়ংকর কৌশল ছাত্রলীগের।

অপরাধী চক্রের সঙ্গে দলকানা শিক্ষা প্রশাসন ও সরকারের আঁতাত ইডেনের মত ঐতিহ্যময় ও গৌরবময় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে 'ঘৃণিত' প্রতিষ্ঠান হিসেবে চিহ্নিত করার পাঁয়তারা করছে যা দেশের সমগ্র দেশবাসীকে বিক্ষুদ্ধ করেছে। সরকারি ছাত্র সংগঠন তথা ছাত্রলীগসহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির দলকানা শিক্ষকদের এহেন ঘৃণিত অপকর্মের জন্য ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা পর্যন্ত পরিচয় দিতে লজ্জা বোধ করছে।

সরকারি ছাত্র সংগঠন আবরার হত্যাসহ বহু হত্যাকাণ্ড ও অপরাধে জড়িত, নিরাপদ সড়ক আন্দোলন এবং কোটাবিরোধী আন্দোলনে ছাত্রদের ওপর নিপীড়ন, হেলমেট বাহিনী হিসেবে আত্মপ্রকাশ, বিরোধী দলের ছাত্র সংগঠনের ওপর প্রতিনিয়ত হামলা এবং সর্বশেষ ইডেনের ঘটনার পর এই সংগঠনকে নৈতিক বা আইনগত সমর্থন যোগানোর জন্য সরকারকে জাতির নিকট জবাবদিহি করতে হবে। এই সংগঠন নৈতিকভাবে সংশোধিত হওয়ার অযোগ্য হয়ে উঠেছে।

এই ছাত্র সংগঠনের ওপর সরকারের অতিরিক্ত ভরসা সমাজে বিরূপ ও ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে এবং নারীদের মর্যাদা সহকারে বেঁচে থাকাকে কঠিন করে তুলছে। এতে নারীর সার্বিক মুক্তির প্রশ্নটি আরো কঠিনতর হয়ে পড়ছে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভয়াবহ পরিস্থিতির উত্তরণে;

১) বিচার বিভাগীয় 'তদন্ত কমিশন' গঠন এবং শ্বেতপত্র প্রকাশ করতে হবে।

২) ইডেনে সংঘঠিত নিকৃষ্টতম অন্যায়ের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।

৩) ইডেন কলেজের অধ্যক্ষকে অবিলম্বে অপসারণ করে কৃত অপরাধের জন্য বিচারের আওতায় আনতে হবে।

৪) ইডেনের অধ্যক্ষ কর্তৃক ভয়াবহ অন্যায়কে আড়াল করার 'পক্ষপাতদুষ্ট' তদন্ত বাতিল করতে হবে।

৫) ইডেনের শিক্ষার্থীদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, শিক্ষার স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে।

৬) শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রাজনীতির নামে 'বিপজ্জনক খেলা' অচিরেই বন্ধ করতে হবে।

ইডেনের 'অপরাধী' চক্রকে দ্রুত গ্রেফতার করতে হবে: আ স ম‌ রব

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
০৬ অক্টোবর ২০২২, ১২:২৪ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

ইডেনের 'নারী শিক্ষার্থীদের নৈতিক জীবনযাপন' ধ্বংসের জন্য দায়ীদের দ্রুত গ্রেফতার, বিচার বিভাগীয় তদন্ত, শ্বেতপত্র প্রকাশের দাবি এবং ২১ নারী অধিকার কর্মীর ইতিবাচক বিবৃতিকে সমর্থন জানিয়ে স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলক আ স ম আবদুর রব গণমাধ্যমে নিম্নোক্ত বিবৃতি প্রদান করেছেন।

ছাত্রলীগ নেতাদের বিরুদ্ধে ইডেনের নারী শিক্ষার্থীদের যৌন-নিপীড়ন ও যৌন দাসত্বে বাধ্য করার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কোন তদন্ত, গ্রেফতার বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নিয়ে নারীদের প্রতি ভয়াবহ নিষ্ঠুরতাকে নীরবতায় সরকার সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে।

ছাত্রলীগ নেতাদের সিট বাণিজ্য, চাঁদাবাজি এবং শিক্ষার্থীদের 'অনৈতিক কাজে বাধ্য করার' সাক্ষ্য দিয়েছে সাধারণ ছাত্রীসহ ছাত্রলীগের নেত্রীরাই। তারাই এ ভয়াবহ অন্যায়ের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।

এই গুরুতর অভিযোগ উত্থাপিত হওয়ার সাথে সাথেই শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ এবং কলেজ অধ্যক্ষকে অপসারণ করা উচিত ছিল। অপরাধ সংঘঠনে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া রাষ্ট্রের কর্তব্য। ভয়ংকর অন্যায় করার পরও ছাত্রলীগ ও কলেজ প্রশাসন তাদের কর্মকাণ্ডকে যুক্তিযুক্ত করে তোলার অপচেষ্টা করছে। এই ধরনের নৈতিক অধঃপতন কোন পরিসংখ্যান দ্বারা পরিমাপ করা সম্ভব নয়।

সরকার ক্ষমতাকে দীর্ঘায়িত করতে ছাত্রলীগকে অর্থ ও পেশীশক্তি হিসেবে ব্যবহার করতে গিয়ে ধ্বংসের গহবরে ঠেলে দিয়েছে। সম্ভাবনাময় ছাত্র সমাজকে কুৎসিত পথে ধাবিত করেছে। নিজেদের পদ-পদবী সুরক্ষিত করতে মেয়েদেরকে অনৈতিক কাজে বাধ্য করার ভয়াবহ রাজনীতির ভয়ংকর কৌশল ছাত্রলীগের।
 
অপরাধী চক্রের সঙ্গে দলকানা শিক্ষা প্রশাসন ও সরকারের আঁতাত ইডেনের মত ঐতিহ্যময় ও গৌরবময় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে 'ঘৃণিত' প্রতিষ্ঠান হিসেবে চিহ্নিত করার পাঁয়তারা করছে যা দেশের সমগ্র দেশবাসীকে বিক্ষুদ্ধ করেছে। সরকারি ছাত্র সংগঠন তথা ছাত্রলীগসহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির দলকানা শিক্ষকদের এহেন ঘৃণিত অপকর্মের জন্য ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা পর্যন্ত পরিচয় দিতে লজ্জা বোধ করছে।  

সরকারি ছাত্র সংগঠন আবরার হত্যাসহ বহু হত্যাকাণ্ড ও অপরাধে জড়িত, নিরাপদ সড়ক আন্দোলন এবং কোটাবিরোধী আন্দোলনে ছাত্রদের ওপর নিপীড়ন, হেলমেট বাহিনী হিসেবে আত্মপ্রকাশ, বিরোধী দলের ছাত্র সংগঠনের ওপর প্রতিনিয়ত হামলা এবং সর্বশেষ ইডেনের ঘটনার পর এই সংগঠনকে নৈতিক বা আইনগত সমর্থন যোগানোর জন্য সরকারকে জাতির নিকট জবাবদিহি করতে হবে। এই সংগঠন নৈতিকভাবে সংশোধিত হওয়ার অযোগ্য হয়ে উঠেছে।

এই ছাত্র সংগঠনের ওপর সরকারের অতিরিক্ত ভরসা সমাজে বিরূপ ও ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে এবং নারীদের মর্যাদা সহকারে বেঁচে থাকাকে কঠিন করে তুলছে। এতে নারীর সার্বিক মুক্তির প্রশ্নটি আরো কঠিনতর হয়ে পড়ছে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভয়াবহ পরিস্থিতির উত্তরণে;

১) বিচার বিভাগীয় 'তদন্ত কমিশন' গঠন এবং শ্বেতপত্র প্রকাশ করতে হবে।

২) ইডেনে সংঘঠিত নিকৃষ্টতম অন্যায়ের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।

৩) ইডেন কলেজের অধ্যক্ষকে অবিলম্বে অপসারণ করে কৃত অপরাধের জন্য বিচারের আওতায় আনতে হবে।

৪) ইডেনের অধ্যক্ষ কর্তৃক ভয়াবহ অন্যায়কে আড়াল করার 'পক্ষপাতদুষ্ট' তদন্ত বাতিল করতে হবে।

৫) ইডেনের শিক্ষার্থীদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, শিক্ষার স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে  আনতে হবে।

৬) শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রাজনীতির নামে 'বিপজ্জনক খেলা' অচিরেই বন্ধ করতে হবে।

 

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন