সাক্কু কি গ্রিন সিগন্যাল পেলেন?
jugantor
সাক্কু কি গ্রিন সিগন্যাল পেলেন?

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

২৯ নভেম্বর ২০২২, ১১:৫৯:২৯  |  অনলাইন সংস্করণ

সাক্কু কি গ্রিন সিগন্যাল পেলেন?

কুমিল্লায় বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশের পর নগরজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে সাবেক মেয়র মনিরুল হক সাক্কু। সমাবেশকে ঘিরে তার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের যে আশা ছিল তার নেতাকর্মীদের সেটি এখনো পূরণ হয়নি।

কুমিল্লার মহাসমাবেশ সফল করতে সর্বোচ্চ শ্রম দিয়েছেন সাবেক এই বিএনপি নেতা। ব্যাপক শোডাউন, দৌড়ঝাঁপ, গণসংযোগ, নানা তৎপরতা, দলের কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা, কেন্দ্রীয় নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ সবই করেছেন।দলীয় নেতাকর্মীদের আশ্রয় ও খাবার দেওয়া। সেই সঙ্গে সমাবেশের খরচ কিছুটা বহন করেছেন সাক্কু।

এসবের ফলাফল কি শূন্য? সাক্কুর কি আর দলে ফেরা হবে না? তার কর্মযজ্ঞে কি হাইকমান্ড সন্তুষ্ট হয়নি? কুমিল্লায় বিএনপি নেতাকর্মী তথা রাজনৈতিক সচেতন মহলে এমন নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে।

এদিকে গণসমাবেশের আগে নগরজুড়ে আলোচনায় ছিল কুসিক নির্বাচনে দুই মেয়র প্রার্থী মনিরুল হক সাক্কু ও নিজাম উদ্দিন কায়সার। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ‘সবুজ সংকেত’ নিয়ে তারা সমাবেশের মঞ্চে উঠবেন-এমন প্রত্যাশা ছিল কর্মী-সমর্থকদের। নেতাদেরও এমন ধারণা ছিল। সবশেষ এ দুই নেতার অনুকূলে জ্বলেনি কাঙ্ক্ষিত সবুজ বাতি। তাই কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে মাঠেই অবস্থান করেছেন বহিষ্কৃত এ দুই নেতা।

সমাবেশের দিন মঞ্চে ছিলেন না সাক্কু। অবশ্য মঞ্চে উঠতে সাক্কুর খুব একটা আগ্রহ নেই। আগে কুমিল্লায় বিএনপি সমাবেশগুলোতেও তিনি মঞ্চে অবস্থান নেওয়ার বিষয়ে আগ্রহী ছিলেন না।

সাক্কুকে দলের ফেরার গ্রিন সিগন্যাল না দেওয়ায় তার কর্মী-সমর্থকরা কিছুটা হতাশ। তবে সাক্কু হাল ছাড়তে নারাজ।

জানা যায়, কুমিল্লায় দক্ষিণ জেলা এবং মহানগর বিএনপিতে রয়েছে হাজী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন এবং সাবেক মেয়র মনিরুল হক সাক্কুর মাঝে গ্রুপিং দ্বন্দ্ব। মূলধারার বিএনপির নেতৃত্ব দিচ্ছেন হাজী ইয়াছিন। আর সাক্কু একটি গ্রুপের নেতৃত্বে রয়েছেন। গত কুসিক নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ভোটে অংশগ্রহণ করায় সাক্কু দল থেকে বহিষ্কৃত হন। এতে সাক্কুর দুর্গে ব্যাপক ভাটা পড়ে।

তাছাড়া সাক্কুর সেকেন্ড ইন কমান্ড ইউসুফ মোল্লা টিপু মহানগর বিএনপির সদস্য সচিবের পদ লাভ করে মূলধারার সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েন। ফলে দলীয় রাজনীতিতে সাক্কু কোণঠাসা হয়ে পড়েন।

এর আগে তিনি ছিলেন সদ্য বিলুপ্ত দক্ষিণ জেলার যুগ্মসাধারণ সম্পাদক।

বিগত কুসিক নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে মেয়র পদে নির্বাচনে অংশ নিয়ে দল থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার হন সাবেক মেয়র মনিরুল হক সাক্কু। তিনি কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন।

দলে ফিরতে বিভাগীয় সমাবেশের চার দিন আগে থেকেই সমাবেশস্থলে অবস্থান নেন সাক্কু। তিনি সস্ত্রীক সব কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছেন।

কুমিল্লা টাউন হল মাঠে সমাবেশস্থলে বসে নেতাকর্মীদের নিয়ে দুপুরের খাবারও খেয়েছেন সাক্কু দম্পতি।

এ সময় কর্মীদের সামনে একে অপরের মুখে খাবার তুলে দেন সাক্কু ও আফরোজা জেসমিন টিকলি। এমন একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়।

দলে ফেরার বিষয়ে মনিরুল হক সাক্কু বলেন, দল আমাকে বহিষ্কার করলেও আমি দল ছেড়ে যাব না, ৪০ বছর ধরে এ দলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত, এখন অন্য কোথায় যাব?

সাক্কু কি গ্রিন সিগন্যাল পেলেন?

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
২৯ নভেম্বর ২০২২, ১১:৫৯ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ
সাক্কু কি গ্রিন সিগন্যাল পেলেন?
সমাবেশের আগে সস্ত্রীক সাক্কু

কুমিল্লায় বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশের পর নগরজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে সাবেক মেয়র মনিরুল হক সাক্কু। সমাবেশকে ঘিরে তার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের যে আশা ছিল তার নেতাকর্মীদের সেটি এখনো পূরণ হয়নি। 

কুমিল্লার মহাসমাবেশ সফল করতে সর্বোচ্চ শ্রম দিয়েছেন সাবেক এই বিএনপি নেতা। ব্যাপক শোডাউন, দৌড়ঝাঁপ, গণসংযোগ, নানা তৎপরতা, দলের কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা, কেন্দ্রীয় নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ সবই করেছেন।দলীয় নেতাকর্মীদের আশ্রয় ও খাবার দেওয়া। সেই সঙ্গে সমাবেশের খরচ কিছুটা বহন করেছেন সাক্কু।

এসবের ফলাফল কি শূন্য? সাক্কুর কি আর দলে ফেরা হবে না?  তার কর্মযজ্ঞে কি হাইকমান্ড সন্তুষ্ট হয়নি? কুমিল্লায় বিএনপি নেতাকর্মী তথা রাজনৈতিক সচেতন মহলে এমন নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে।

এদিকে গণসমাবেশের আগে নগরজুড়ে আলোচনায় ছিল কুসিক নির্বাচনে দুই মেয়র প্রার্থী মনিরুল হক সাক্কু ও নিজাম উদ্দিন কায়সার। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ‘সবুজ সংকেত’ নিয়ে তারা সমাবেশের মঞ্চে উঠবেন-এমন প্রত্যাশা ছিল কর্মী-সমর্থকদের। নেতাদেরও এমন ধারণা ছিল। সবশেষ এ দুই নেতার অনুকূলে জ্বলেনি কাঙ্ক্ষিত সবুজ বাতি। তাই কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে মাঠেই অবস্থান করেছেন বহিষ্কৃত এ দুই নেতা।

সমাবেশের দিন মঞ্চে ছিলেন না সাক্কু। অবশ্য মঞ্চে উঠতে সাক্কুর খুব একটা আগ্রহ নেই। আগে  কুমিল্লায় বিএনপি সমাবেশগুলোতেও তিনি মঞ্চে অবস্থান নেওয়ার বিষয়ে আগ্রহী ছিলেন না। 

সাক্কুকে দলের ফেরার গ্রিন সিগন্যাল না দেওয়ায় তার কর্মী-সমর্থকরা কিছুটা হতাশ। তবে সাক্কু হাল ছাড়তে নারাজ।

জানা যায়, কুমিল্লায় দক্ষিণ জেলা এবং মহানগর বিএনপিতে রয়েছে হাজী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন এবং সাবেক মেয়র মনিরুল হক সাক্কুর মাঝে গ্রুপিং দ্বন্দ্ব। মূলধারার বিএনপির নেতৃত্ব দিচ্ছেন হাজী ইয়াছিন। আর সাক্কু একটি গ্রুপের নেতৃত্বে রয়েছেন। গত কুসিক নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ভোটে অংশগ্রহণ করায় সাক্কু দল থেকে বহিষ্কৃত হন। এতে সাক্কুর দুর্গে ব্যাপক ভাটা পড়ে। 

তাছাড়া সাক্কুর সেকেন্ড ইন কমান্ড ইউসুফ মোল্লা টিপু মহানগর বিএনপির সদস্য সচিবের পদ লাভ করে মূলধারার সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েন। ফলে দলীয় রাজনীতিতে সাক্কু কোণঠাসা হয়ে পড়েন।

এর আগে তিনি ছিলেন সদ্য বিলুপ্ত দক্ষিণ জেলার যুগ্মসাধারণ সম্পাদক। 

বিগত কুসিক নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে মেয়র পদে নির্বাচনে অংশ নিয়ে দল থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার হন সাবেক মেয়র মনিরুল হক সাক্কু। তিনি কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। 

দলে ফিরতে বিভাগীয় সমাবেশের চার দিন আগে থেকেই সমাবেশস্থলে অবস্থান নেন সাক্কু। তিনি সস্ত্রীক সব কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছেন। 

কুমিল্লা টাউন হল মাঠে সমাবেশস্থলে বসে নেতাকর্মীদের নিয়ে দুপুরের খাবারও খেয়েছেন সাক্কু দম্পতি।

এ সময় কর্মীদের সামনে একে অপরের মুখে খাবার তুলে দেন সাক্কু ও আফরোজা জেসমিন টিকলি। এমন একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়।

দলে ফেরার বিষয়ে মনিরুল হক সাক্কু বলেন, দল আমাকে বহিষ্কার করলেও আমি দল ছেড়ে যাব না, ৪০ বছর ধরে এ দলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত, এখন অন্য কোথায় যাব? 
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন