কোটাবিরোধী আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা, ছাত্রলীগের অস্বীকার

  যুগান্তর রিপোর্ট ৩০ জুন ২০১৮, ১৮:২৪ | অনলাইন সংস্করণ

কোটাবিরোধী আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা, ছাত্রলীগের অস্বীকার
কোটাবিরোধী আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা, ছাত্রলীগের অস্বীকার। ছবি: যুগান্তর

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার সঙ্গে সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছে ছাত্রলীগ। সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ বলেছেন, ওই হামলার ঘটনায় ছাত্রলীগ জড়িত নয়।

শনিবার বিকালে তিনি গণমাধ্যমের কাছে এ দাবি করেন। ছাত্রলীগ সভাপতি বলেন, কোটাবিরোধী আন্দোলনকারীদের মারধরের ঘটনায় ছাত্রলীগ জড়িত নয়। তারা নিজেরাই ‘ঝামেলা’ করেছে।

এর আগে শনিবার সকালে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীদের সংবাদ সম্মেলন করার কথা ছিল। বেলা ১১টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা করা হয়।

সেখানে ছাত্রলীগ ও সরকারি দলের লোকজন সশস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন আন্দোলনকারীরা। হামলার বিভিন্ন ছবি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

হামলায় কোটা আন্দোলনের প্লাটফর্ম বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল্লাহ নূরসহ সাতজন আহত হয়েছেন। তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

জানা গেছে, কোটাপ্রথা বাতিলে জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণার বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারির দাবিতে ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের সর্বশেষ কর্মসূচি ছিল পরীক্ষা ও ক্লাস বর্জন কর্মসূচি।

গত ১৪-২০ মে পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে এ কর্মসূচি পালিত হয়। পরে রমজান মাসের কারণে কর্মসূচি স্থগিতের ঘোষণা দেন পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন।

ওই সময় বলা হয়েছিল, কোটা বাতিলের প্রজ্ঞাপন জারির দাবিতে ঈদের পর নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। এর জন্য ঈদের পর থেকে ফেসবুকসহ সামাজিকমাধ্যমে প্রচারেও চলছিল।

এর মধ্যে গত বুধবার জাতীয় সংসদে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানসন্ততির জন্য কোটা থাকবে বলে ইঙ্গিত দেন।

কোটাপ্রথা বাতিলের বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা সব দিক বিবেচনা করে চাকরিতে কোটাব্যবস্থা চালু করি। কিন্তু যারা এই কোটার সুবিধাভোগী, তারাই তা চাইল না। এমনকি মেয়েরা বলছেন, তারাও কোটা চায় না। আমি বলেছি- তারা যখন চায় না, তখন কোটার দরকার নেই। এ বিষয়ে কেবিনেট সেক্রেটারিকে দিয়ে একটি কমিটি গঠন করে দিয়েছি। বলেছি- কোটা কীভাবে বাস্তবায়ন করা যায় তা তিনি ঠিক করবেন। এর পর যদি মফস্বলের কেউ চাকরি না পায়, তাহলে আমাদের দায়ী করতে পারবে না। তবে এখানে বিরোধী দলের নেত্রী মুক্তিযোদ্ধাদের সাপোর্ট করে বললেন- আমরা মুক্তিযোদ্ধাদের ত্যাগের বিনিময়ে দেশের স্বাধীনতা পেয়েছি। তাই তাদের প্রতি আমাদের কর্তব্য রয়েছে। তাদের বিষয়টি বিবেচনা করা প্রয়োজন। সে জন্য মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানসন্ততির জন্য কোটা থাকবে বলেও ইঙ্গিত দেন প্রধানমন্ত্রী।

উল্লেখ্য, গত ৮ এপ্রিল থেকে চার দিন ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের প্রায় সব পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন করেন।

ঘটনাপ্রবাহ : কোটাবিরোধী আন্দোলন ২০১৮

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter