খালেদা জিয়ার জামিন স্থগিত হওয়ায় বিএনপির নতুন কর্মসূচি

প্রকাশ : ০২ জুলাই ২০১৮, ২১:৫৮ | অনলাইন সংস্করণ

  যুগান্তর রিপোর্ট

ফাইল ছবি

দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন স্থগিতাদেশে বিস্ময় প্রকাশ করে এর প্রতিবাদে আগামী বৃহস্পতিবার ঢাকাসহ সারা দেশে প্রতিবাদ সমাবেশ করবে বিএনপি। 

একই সঙ্গে তার মুক্তি ও সুচিকিৎসার দাবিতে ৯ জুলাই ঢাকাসহ সারা দেশে প্রতীক অনশনের কর্মসূচিও ঘোষণা করেছে দলটি। 

ঢাকা মহানগরীতে প্রতিবাদ সমাবেশ হবে সকাল ১১টায় নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে। আর ঢাকাতে প্রতীক অনশনের জন্য ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন অথবা মহানগর নাট্যমঞ্চে অনুমতি চাইবে বিএনপি।

সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন। 

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান খন্দকার মাহবুব হোসেন, জয়নাল আবেদীন, নিতাই রায় চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এজে মোহাম্মদ আলী, আবদুল কাইয়ুম, কোষাধ্যক্ষ মিজানুর রহমান সিনহা, যুগ্ম মহাসচিব মাহবুবউদ্দিন খোকন, আইনবিষয়ক সম্পাদক কায়সার কামাল প্রমুখ।

বিএনপি মহাসচিব বলেন , গণতন্ত্রের মাতা খালেদা জিয়ার একটি মামলায় সোমবার আদেশ দেয়া হয়েছে। যে আদেশটি আমাদের বিস্মিত ও বিক্ষুব্ধ করেছে। গোটা জাতি আজকে বিক্ষুব্ধ হয়েছে। আপিল বিভাগ থেকে এই আদেশটি হয়েছে। বিচার বিভাগকে সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করা হচ্ছে এবং নিয়ন্ত্রণ করে দেশনেত্রীকে দীর্ঘস্থায়ীভাবে কারাগারে আটক রাখার চেষ্টা করছে সরকার। আমরা এই প্রক্রিয়ার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং সরকারের এহেন প্রক্রিয়ায় ঘৃণা প্রকাশ করছি।

মির্জা ফখরুল বলেন, সোমবারের প্রতিবাদ সমাবেশ কর্মসূচি ঢাকার বাইরের সব জেলায় স্থানীয় নেতারা তাদের সুবিধাজনক সময় পালন করবে। একইভাবে ৯ জুলাই প্রতীক অনশন কর্মসূচিও সুবিধাজনক সময় পালন করবে সব জেলার নেতাকর্মীরা।

খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে পরবর্তী কর্মসূচি যথাসময়ে গণমাধ্যমকে জানানো হবে বলেও জানান মির্জা ফখরুল।

এছাড়া কোটা সংস্কার আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর ‘সরকারের পেটুয়া বাহিনী’ হামলা ও গ্রেফতারের ঘটনার নিন্দা জানান বিএনপি মহাসচিব।

স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ বলেন, খালেদা জিয়ার জামিন উচ্চ আদালতের বহাল রাখার পরও কেনো তিনি এখনো মুক্তি পাচ্ছেন না। সারা দেশে দেশের মানুষের কাছে এটা বড় প্রশ্ন। এর প্রধান কারণ হলো নিম্ন আদালত। কুমিল্লায় ৩টি, নড়াইলে একটি ও ঢাকায় দুইটি মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে তাকে। এগুলো একেবারে নিষ্ক্রিয় ও হয়রানিমূলক মামলা ছিল। এই ৬টি মামলায় অন্যান্য আসামিরাও কিন্তু জামিনে মুক্ত আছেন। এই যে বৈষম্যটা দেশনেত্রীর জন্য করা হচ্ছে শুধুমাত্র তার জামিন বিলম্বিত করার জন্য।

তিনি বলেন, ছয়টি ছাড়া সব মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন হয়েছে। এসব মামলায় হাইকোর্ট নিম্ন আদালতকে দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য আদেশ দিলেও নড়াইল ও কুমিল্লার মামলায় আদেশ দেবে যথাক্রমে ১৭ জুলাই ও ৮ আগস্ট। কত নিচু মনের সরকার। নিম্ন আদালতকে সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে সরকার। তারা যা বলছে নিম্ন আদালতের বিচারকরা তাই করছেন। তা নাহলে হাইকোর্টের আদেশের পরও নিম্ন আদালতের বিচারকরা তা মানছেন না। এটা ভয়ংকর একটা বিষয়। এটা আদালত অবমাননার শামিল তো বটেই; বড় অপরাধও।