কোটা আন্দোলনকারীদের ওপর নিপীড়ন নির্যাতনের বিচার হবে: মওদুদ

প্রকাশ : ১৩ জুলাই ২০১৮, ২০:১০ | অনলাইন সংস্করণ

  যুগান্তর রিপোর্ট

আলোচনা সভায় বক্তব্য দিচ্ছেন মওদুদ আহমদ। ছবি-যুগান্তর

কোটা আন্দোলনকারীদেরও ওপর নিপীড়ন নির্যাতনের বিচার বাংলাদেশের মাটিতে অবশ্যই একদিন হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ।

শুক্রবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। 

‘খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় ষড়যন্ত্র ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে’ সভার আয়োজন করে স্বাধীনতা ফোরাম। 

মওদুদ আহমদ বলেন, সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিল নিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছে প্রধানমন্ত্রী কথা দিয়ে কথা রাখেননি। একজন প্রধানমন্ত্রী কথা দিয়ে কথা রাখেননি-এ কথা বাংলাদেশের মানুষ এবং আমাদের প্রজন্ম মনে রাখবে। 

তিনি বলেন, কোটা নিয়ে এখন যে কথা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী সরে যেতে চাইছেন তা মোটেও টেকসই নয়, গ্রহণযোগ্য নয়। যদি সত্যিকার অর্থে প্রধানমন্ত্রীর কথায় কোটা প্রত্যাহার করে নিতে চান তাতে হাইকোর্টে বাধা থাকলেও সেটা আপনারা অবশ্যই দূর করতে পারেন। যদি নিয়ত ঠিক থাকত তাহলে এটাই করতেন।

মওদুদ আহমদ বলেন, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী বলেছেন, ‘হাইকোর্টে নাকি একটা রায় আছে’। হাইকোর্টে এই ধরনের কোনো রায় আছে বলে আমি মনে করি না। তারপরও যদি হাইকোর্টে এই ধরনের কোনো রায় থাকে তা মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের ব্যাপারে আছে। তাদের নাতি-নাতনিদের ব্যাপারে আছে বলে আমি মনে করি না। 

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর তার নিজের প্রতিশ্রুতি রক্ষার জন্য এখন হাইকোর্টে গিয়ে ওইটাকে সংশোধন করতে পারেন। যদি সরকার মনে করেন হাইকোর্টের রায়ই হলো একমাত্র বাধা। তাহলে সরকারের পক্ষ থেকে অ্যাটর্নি জেনারেল কষ্ট করে রোববারে একটু যান, সোমবারে বিষয়টা যদি লিস্টে এনে একটু সংশোধনী করিয়ে নেন, একটু রিভিউ করিয়ে নেন। কত রকমেরই তো পথ আছে। যদি নিয়ত ঠিক থাকত তাহলে এটাই করতেন।

কোটা আন্দোলনকারীদের গ্রেফতার করে রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতনের কঠোর সমালোচনা করেন মওদুদ আহমদ। 

তিনি বলেন, কেন এই অত্যাচার-নির্যাতন করছেন। বৃহস্পতিবার সংসদে প্রধানমন্ত্রীর বক্তৃতা শুনে মর্মাহত হয়েছি। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এদের শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। এটাকেই বলে ফ্যাসিবাদ। কোটা আন্দোলনকারীদেরও ওপর নিপীড়ন নির্যাতনের বিচার বাংলাদেশের মাটিতে অবশ্যই একদিন হবে। 

আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারের পতন ঘটানো হবে মন্তব্য করে মওদুদ আহমদ বলেন, রাজনীতি অত্যন্ত গতিশীল। যে কোনো মুহূর্তে যে কোনো ঘটনা ঘটতে পারে। দেশের মানুষ এখন প্রস্তুত হয়ে গেছে মাঠে নামার জন্য। আরেকটু অপেক্ষা করতে হবে। উপযুক্ত সময় এলে এমন উপযুক্ত কর্মসূচি দেয়া হবে যার ফলে এই ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন ঘটবে।

খালেদা জিয়াকে সরকার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে আদালতের মাধ্যমে কারাবন্দি করে রেখেছে অভিযোগ করে মওদুদ আহমদ বলেন, খালেদা জিয়ার ব্যাপারে অনেক কষ্ট নিয়ে বলতে হয়। আমি একজন আইনজীবী। কী কৌশল অবলম্বন করে তার জামিনকে আটকিয়ে রেখেছে তারা। হাইকোর্ট চার মাসের জামিন দিয়েছিলেন। একটা দিনের জন্য আমার নেত্রী দিনের মুক্ত আলো দেখতে পারেননি। কেন? 

তিনি বলেন, ওই যে ম্যাজিস্ট্রেট বসে আছে। একেবারে নিম্নতম পর্যায়ের বিচারক তিনি বন্ধ করে দিয়েছেন। অর্থাৎ দেশের উচ্চতম আদালতের চেয়ে ওই ম্যাজিস্ট্রেট অনেক বেশি ক্ষমতাশালী। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা বলতে, মানসম্মান, ঐতিহ্য বলতে এখন আর কিছু নেই। সব বিলীন হয়ে গেছে।

সংগঠনটির সভাপতি আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহর সভাপতিত্বে ও সহসভাপতি ইশতিয়াক আহমেদ বাবুলের পরিচালনায় আরও বক্তব্য দেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, নির্বাহী কমিটির সদস্য খালেদা ইয়াসমীন, জাতীয় দলের সভাপতি সৈয়দ এহসানুল হুদা, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মাওলানা সোয়াইব আহমেদ প্রমুখ।