কোটা সমস্যা সমাধানে সরকার রাইট ট্র্যাকে আছে: কাদের

  যুগান্তর রিপোর্ট ১৪ জুলাই ২০১৮, ২৩:৪৭ | অনলাইন সংস্করণ

ওবায়দুল কাদের
ওবায়দুল কাদের ও মার্কিন রাষ্ট্রদূত বার্নিকাট। ছবি-যুগান্তর

রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেট সিটি কর্পোরেশনে সুষ্ঠু নির্বাচন প্রত্যাশা করে যুক্তরাষ্ট্র। ওই নির্বাচন যতটা সম্ভব অবাধ ও সুষ্ঠু করতে বাংলাদেশের সরকারের কাছে আহ্বান জানিয়েছে দেশটি।

রাজধানীর সেতু ভবনে শনিবার সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এ আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শিয়া স্টিফেন ব্লম বার্নিকাট।

অপরদিকে ওবায়দুল কাদের বলেছেন, নির্বাচনে অনিয়ম হলে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ব্যবস্থা নিয়ে থাকে। তিনি মার্কিন রাষ্ট্রদূতের কাছে প্রত্যাশা করেন, দেশের জনগণের মধ্যে যেন কোনো বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি না হয় বা বন্ধুত্বের মধ্যে কোনো ধরনের ফাটল যেন না ধরে, সেভাবে সবার কথা বলা উচিত।

তিনি জানান, কোটা সমস্যা সমাধানে সরকার রাইট ট্র্যাকে রয়েছে। বৈঠক শেষে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ও মার্কিন রাষ্ট্রদূত বার্নিকাট সাংবাদিকদের সামনে এসব কথা বলেন।

বার্নিকাট বলেন, ওয়াশিংটন আসন্ন তিন সিটি কর্পোরেশনে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন প্রত্যাশা করে। এ বিষয়ে সরকারের অবস্থানও জানতে চান মার্কিন রাষ্ট্রদূত।

বার্নিকাট আরও বলেন, আমরা উভয় দেশই গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি। আমাদের দেশের সংবিধান কথা বলার স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দিয়েছে। দেশের জনগণের মতোই যুক্তরাষ্ট্রের কর্মচারীদেরও যে কোনো বিষয়ে কথা বলার স্বাধীনতা রয়েছে। আমরা আলোচনার মাধ্যমে সবকিছুর সমাধান আসবে এমনটা বিশ্বাস করি।

তিনি বলেন, ওয়াশিংটন কখনও আলোচনার দরজা বন্ধ করে না। আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি। এটা যে কোনো শাসন ব্যবস্থা থেকে ভালো। এ সময় তিনি কোটা সংস্কার নিয়ে সাম্প্রতিক আন্দোলন সম্পর্কেও কথা বলেন।

পরে বার্নিকাটের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, গাজীপুর সিটি নির্বাচন নিয়ে তারা অনিয়ম বলছে, খুলনা সম্পর্কে তাদের কিছু অভিযোগ রয়েছে। কিছু অনিয়মের বিষয়েও তারা কথা বলেছে। সামনের নির্বাচনগুলোয় এসব অনিয়ম দূর করতে সরকারের অবস্থানও জানতে চেয়েছেন। এসব বিষয়ে সরকার বরাবরই একই অবস্থানে আছে।

তিনি বলেন, অনিয়ম যেখানে, সেখানে নির্বাচন কমিশন ব্যবস্থা নিচ্ছে। খুলনায় যা হয়েছে ব্যবস্থা নিয়েছে, গাজীপুরেও ব্যবস্থা নিয়েছে। তারা যদি আরও অন্য কোনো অনিয়মের বিষয়ে তদন্ত করতে চায়, সেটা নির্বাচন কমিশনের ওপর নির্ভর করে। এ অধিকার নির্বাচন কমিশনের। নির্বাচন কমিশন চাইলে তদন্ত করতে পারে।

গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন নিয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, মার্কিন রাষ্ট্রদূত গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন নিয়ে যে কথা বলেছেন, সে বিষয়ে আমাদের কথা বলা উচিত। আমি বিষয়টি তাকে এমনভাবে বলেছি, আমাদের দু’দেশের জনগণের মধ্যে কোনো বিরূপ প্রতিক্রিয়া হয়, বন্ধুত্বের মধ্যে কোনো ধরনের ফাটল ধরে এমন কিছু না হলেই ভালো।

তিনি বলেন, আমি ডিপ্লোমেটিক ওয়েতেই কথাগুলো বলেছি। এখানে আমেরিকাকে অ্যাটাক করে, ওয়াশিংটনকে অ্যাটাক করে বা ওয়াশিংটনের রাষ্ট্রদূতের ভূমিকাকে কোনো প্রকার সমালোচনা আমি করতে যাইনি। আমি বলেছি, দু’দেশের জনগণের মধ্যকার সম্পর্কটা কিংবা বন্ধুত্বের সম্পর্কে ছেদ হয় এসব কিছু থেকে আমাদের বিরত থাকা উচিত।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, দেশে সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠান হবে। রাষ্ট্রদূতকে বলেছি, এ ব্যাপারে আপনাদের দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নাই। আপনাদের পর্যবেক্ষকদের স্বাগত, আপনারা যত পর্যবেক্ষক পাঠাতে চান, অন্য দেশ থেকে যত পর্যবেক্ষক আসুক কোনো বাধা নেই।

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণের বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, তারাও (যুক্তরাষ্ট্র) তো আমাকে বলছেন যে বিএনপি নির্বাচনে আসবে। কাজেই এখানে অংশগ্রহণ নিয়ে কোনো সন্দেহ বা সংশয় আছে বলে মনে করি না। বিএনপি এলে সরকার কোনো বাধা দেবে না। ২০১৪ সালের নির্বাচনে যদি বিএনপি আসত সরকার কি বাধা দিত?

তিনি বলেন, তারা আসেনি এটা তাদের বিষয়, তাদের ভুল। এবার আসবে কী আসবে না সেটা তাদের সিদ্ধান্ত। বিএনপি নির্বাচনে আসবে তাদের নেতারাই তো বলেছেন, বিএনপি না এলে তাদের ‘আসুন আসুন আসুন’ বলে টেনে আনার কোনো দায়িত্ব আমাদের না।

ওবায়দুল কাদের বলেন, আমরা পৃথিবীর অন্যান্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে, ওয়াশিংটনের নিজস্ব বিষয় নিয়ে কখনও কথা বলিনি। আমরা কখনও কোনো মন্তব্য করি না। আমি আমাদের কথাটাই শুধু বলেছি। আমাদের মধ্যে এ প্র্যাকটিস আছে, যে বন্ধুদেশের রাজনৈতিক বিষয় হোক বা অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক যে বিষয়ই হোক; অন্য দেশ হিসেবে আমাদের নাক গলানো সমীচীন মনে করি না।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক তুলে ধরে তিনি বলেন, সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোনো বিতর্কে আমি যেতে চাই না। আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক সুদৃঢ়। রোহিঙ্গা সংকটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন মানবিকতার দরজা খুলে দিয়েছিলেন তখন থেকেই ওয়াশিংটন আমাদের পাশে রয়েছে।

কাদের বলেন, রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিতে গিয়ে বাংলাদেশ সংকটে পড়েছে। এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র শুরু থেকেই মানবিক ভূমিকা পালন করছে। আমরা পরিবেশগত-অর্থনৈতিক বিভিন্নভাবে আক্রান্ত হচ্ছি। এগুলো মোকাবেলায় যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন আমাদের শক্তি ও প্রেরণা জোগাচ্ছে।

কোটা সমস্যার বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, কোটা সমস্যার সমাধানে সরকার এখন একেবারে রাইট ট্র্যাকে আছে। ফরমালি একটা কমিটি গঠন হয়েছে কেবিনেট সেক্রেটারির নেতৃত্বে। এ কমিটি খোঁজখবর নিচ্ছে, অন্যান্য দেশের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করছে। বিষয়টা দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনে যারা আছেন, তাদের অনুরোধ করব ধৈর্য ধরার জন্য। প্রধানমন্ত্রী যে স্টেপ নিয়েছেন, এ পদক্ষেপের প্রতি আস্থা রেখে আরেকটু ধৈর্য ধরতে অনুরোধ করব। আন্দোলনকারীদের গ্রেফতার প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যে বক্তব্য সেটা হচ্ছে যে, ভাইস চ্যান্সেলরের বাড়িতে যে নারকীয় তাণ্ডব তার সঙ্গে যারা জড়িত তাদেরই শুধু তারা গ্রেফতার করছে।

ঘটনাপ্রবাহ : কোটাবিরোধী আন্দোলন ২০১৮

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter