জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা

খালেদা জিয়ার জামিন ৭ আগস্ট পর্যন্ত বর্ধিত

প্রকাশ : ৩১ জুলাই ২০১৮, ১৯:০০ | অনলাইন সংস্করণ

  যুগান্তর রিপোর্ট

আদালতে খালেদা জিয়া। ফাইল ছবি

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন আগামী ৭ আগস্ট পর্যন্ত বর্ধিত করেছেন আদালত। 

মঙ্গলবার পুরান ঢাকার বকশিবাজারস্থ অস্থায়ী আদালতে ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ জজ ড. মো. আখতারুজ্জামান এ আদেশ দেন।

এদিন মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য ধার্য ছিল। কিন্তু মামলার প্রধান আসামি খালেদাকে আদালতে হাজির করা হয়নি। খালেদা জিয়ার পক্ষে আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া জামিনের মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন করেন। 

শুনানি শেষে আদালত আসামিপক্ষের সময় আবেদন মঞ্জুর করে যুক্তিতর্কের পরবর্তী ওই দিন ধার্য করেন এবং ওই দিন পর্যন্ত খালেদা জিয়ার জামিনের মেয়াদ বর্ধিত করেন।

এদিন বেলা ১২টা ৯ মিনিটের দিকে আদালতের কার্যক্রম শুরু হয়। শুরুতেই খালেদা জিয়ার পক্ষে সময় আবেদন করেন তার আইনজীবী। 

দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল আদালতে বলেন, মামলাটিতে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য দিন ধার্য রয়েছে। খালেদা জিয়ার পক্ষেও আংশিক যুক্তিতর্ক উপস্থান হয়েছে। কারাগার থেকে খালেদা জিয়াকে আজ আনার কথা ছিল। কিন্তু তিনি আসেননি। সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেন, যাতে আমরা মামলার কার্যক্রম দ্রুত শেষ করতে পারি। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত ওই আদেশ দেন।

চলতি বছরের ৩০ জানুয়ারি এ মামলায় খালেদা জিয়াসহ সব আসামির সর্বোচ্চ সাজা অর্থাৎ ৭ বছর কারাদণ্ড দাবি করে দুদক প্রসিকিউশন। জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগে ২০১০ সালের ৮ আগস্ট রাজধানীর তেজগাঁও থানায় মামলাটি দায়ের করে দুদক। 

তদন্ত শেষে ২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি খালেদা জিয়াসহ চারজনকে আসামি করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়। এরপর ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে আসামিদের বিচার শুরু হয়।

খালেদা জিয়া ছাড়া মামলায় অপর আসামিরা হলেন, তার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, হারিছ চৌধুরীর তৎকালীন সহকারী একান্ত সচিব জিয়াউল ইসলাম মুন্না ও ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান। মামলায় হারিছ চৌধুরী পলাতক। তার বিরুদ্ধে গ্রেফতাররি পরোয়ানা রয়েছে। আর অপর দুই আসামি জামিনে আছেন।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও আর্থিক জরিমানা করা হয়। 

একই সঙ্গে তার বড় ছেলে তারেক রহমানসহ পাঁচ আসামিকে ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং প্রত্যেকের ২ কোটি ১০ লাখ টাকা করে জারিমানা করে রায় ঘোষণা করেন আদালত। 

রায় ঘোষণার পরপরই খালেদা জিয়াকে পুরনো ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়েছে। প্রথম শ্রেণির কারাবন্দি হিসেবে বর্তমানে তিনি সেখানেই অবস্থান করছেন।