গ্রেফতারকৃত শিক্ষার্থীর মুক্তি দাবি ফখরুলের

প্রকাশ : ০১ আগস্ট ২০১৮, ১৬:৫২ | অনলাইন সংস্করণ

  যুগান্তর ডেস্ক   

ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীতে বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহতের প্রতিবাদে বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলা ও নির্যাতনের কঠোর সমালোচনা করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেছেন, বেপরোয়া বাসচালকের দ্বারা মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের আইন শৃঙ্খলা বাহিনী গুলি, টিয়ার গ্যাস ও বেধড়ক লাঠিচার্জে যেভাবে ক্ষতবিক্ষত করেছে, তা কেবল নিষ্ঠুর স্বৈরশাসকদের দ্বারাই সম্ভব।

বিএনপি মহাসচিব অবিলম্বে গ্রেফতারকৃত সব শিক্ষার্থীকে মুক্তি দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এছাড়া সরকারকে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বসে আলোচনা করে সমস্যার সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন।

বুধবার দুপুরে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ আহ্বান জানান।

বিবৃতিতে শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট স্কুল ও কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে উদ্ভুত পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে বলে দাবি করেন বিএনপি মহাসচিব।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে বর্তমান সরকার সব ক্ষেত্রে সীমাহীন ব্যর্থতায় পর্যবসিত। সরকারের প্রশ্রয়ে দুষ্কৃতিকারীদের দাপট এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, এই দেশে এখন মানুষের জীবন-জীবিকা চরমভাবে নিরাপত্তাহীন।

ফরুল বলেন, মানুষের ক্ষোভের আঁচ উপলব্ধি করতে পারে না বলেই সরকার গণবিরোধী বেপরোয়া কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়ে পড়েছে। কোমলমতি কিশোর-কিশোরী ছাত্র-ছাত্রীদের জীবন ঝরে পড়াটাও দুঃশাসনের ফলশ্রুতি।

তিনি বলেন, শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী বাসচাপায় নিহত হওয়ার পরে যখন সমগ্র বাংলাদেশের মানুষ বেদনার্ত, শোকাহত ও ক্ষুদ্ধ, তখন নৌ-পরিবহন মন্ত্রীর হাসি যেন বিদ্রুপের হাসি।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, নৌমন্ত্রী শাহজাহান খান পরিবহন সেক্টরের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা। তার আশকারায় দীর্ঘদিন ধরে এই সেক্টরে অরাজকতা লেগেই আছে।

তিনি অভিযোগ করেন, দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে দেশজুড়ে মানুষ ক্ষোভে ফেটে পড়লেও সরকারের বিন্দুমাত্র টনক নড়েনি, যা হঠকারি বাসচালকদের উৎসাহিত করেছে। মঙ্গলবারও একজন শিক্ষার্থী কুমিল্লায় গাড়ী চাপায় নিহত হয়েছেন।

ক্ষমতা কুক্ষিগত করা জবাবদিহিবিহীন সরকার শুধু ন্যায়সঙ্গত আন্দোলনকে নির্দয়ভাবে দমন করতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে বলেই অপরাধীরা প্রকাশ্যে আইন নিজের হাতে তুলে নিচ্ছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল।