জাতীয় প্রেস ক্লাবে মঈন খান

সরকার ব্যর্থ বলেই কোমলমতি শিক্ষার্থীরা রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছে

প্রকাশ : ০২ আগস্ট ২০১৮, ২১:৫১ | অনলাইন সংস্করণ

  যুগান্তর রিপোর্ট

‘সাধারণ শিক্ষার্থীদের হত্যা, নিপীড়ন এবং বর্তমান রাজনীতি’ শীর্ষক সভায় ড. আবদুল মঈন খান। ছবি: সংগৃহীত

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান বলেছেন, সরকার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। তাই কোমলমতি শিশুরা রাজপথে নেমে আন্দোলন করতে বাধ্য হচ্ছে। বাংলাদেশের মানুষকে দাবিয়ে রাখা যাবে না, এটা প্রমাণিত হয়েছে এই আন্দোলনের মাধ্যমে। দেশের জনগণ একদিন জেগে উঠবে আর সেদিন এ সরকার পালানোরও রাস্তা খুঁজে পাবে না।

বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

‘সাধারণ শিক্ষার্থীদের হত্যা, নিপীড়ন এবং বর্তমান রাজনীতি’ শীর্ষক সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ ইয়ুথ ফোরাম। সংগঠনটির উপদেষ্টা কৃষিবিদ মেহেদী হাসান পলাশের সভাপতিত্বে ও সাইদুর রহমানের সঞ্চালনায় সভায় আরও ছিলেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য আহসান হাবিব লিংকন, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ প্রমুখ।

মঈন খান বলেন, ছাত্ররা বুঝতে পেরেছে এ সরকার রাষ্ট্র পরিচালনা করতে ব্যর্থ। তাই তারা রাস্তায় নেমে সরকারকে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে। তারা সরকারের অত্যাচার-অনাচারের বহিঃপ্রকাশ ঘটাচ্ছে, যা গত দুই-তিন দিন রাজধানীতে দেখা গেছে। এটা কোনো আকস্মিক বিষয় না, এটা মানুষের ক্ষোভ ও দুঃখেরই বহিঃপ্রকাশ।

তিনি বলেন, এ কোমলমতি ছাত্রদের আন্দোলনের ভাষা তাদের দুঃখ-কষ্ট আমাদের বুঝতে হবে। যদি তা বুঝতে না পারি তাহলে সেটা আমাদের জন্যও ব্যর্থতা।

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে রাজপথে নামতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, দেশকে বদলানোর জন্য কিশোররা যে আন্দোলনে নেমেছে এখন আমাদের সবার দায়িত্ব তাদের সঙ্গে রাজপথে নামা।

মান্না বলেন, ন্যায্য দাবি আদায়ের জন্য কোমলমতি ছাত্রছাত্রীরা যে আন্দোলন শুরু করেছে তাতে জনগণের দুর্ভোগ সৃষ্টি হলেও জনগণ কিন্তু খুশি। তাদের অনেককেই বলতে শুনেছি দেশে যদি কোনো কাজ হয় তাহলে এরাই করতে পারবে।

তিনি বলেন, রাস্তায় ট্রাফিক পুলিশকে কখনও লাইসেন্স দেখতে দেখিনি। সেই দায়িত্ব এখন এ কোমলমতি ছাত্ররা নিয়েছে। যদি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের কাজ ঠিকমতো না করে তাহলে তো তাদের কাজ শিখিয়ে দেয়ার জন্য ছাত্ররাই এগিয়ে আসবে।

তিনি বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর মিছিল দিন দিন বাড়ছেই।  কিছুদিন আগে সড়কে দুই বাসের রেষারেষিতে রাজীবের হাত কাটা পড়ল।  শেষ পর্যন্ত ছেলেটা মারাই গেল।  এরপর প্রেস ক্লাবের সামনে এক মহিলা বাস দুর্ঘটনায় মারা গেল।  মর্মান্তিক এসব দুর্ঘটনা ঘটলেও সরকার দোষীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। আর এসব কারণেই শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নামতে বাধ্য হয়েছে।

মান্না বলেন, আইয়ুব খান আর হাসিনার মধ্যে কোনো তফাৎ নেই।  ৬৯-এ আইয়ুব খান ছাত্রদের আন্দোলন ঠেকাতে যে পন্থা অবলম্বন করেছিল, এখন শেখ হাসিনার সরকারও একই পদ্ধতি অবলম্বন করছে।  পুলিশ দিয়ে ছাত্রদের পেটানো হচ্ছে।