বাস চলুক আর না চলুক তাদের সঙ্গে কোনো আপস নয়: এরশাদ

  যুগান্তর রিপোর্ট ০৪ আগস্ট ২০১৮, ১৯:০৪ | অনলাইন সংস্করণ

হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ
ফাইল ছবি

সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেন, পরিবহন শ্রমিকদের কাছে আজ আমরা জিম্মি। বাস চলুক আর না চলুক, সরকারকে অনুরোধ করব তাদের সঙ্গে কোনো আপস নয়। আইন সবাইকে মানতে হবে।

শনিবার সুপ্রিমকোর্ট বার মিলনায়তনে জাতীয় আইনজীবী ফেডারেশনের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এসব কথা বলেন।

আইনজীবী ফেডারেশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট শেখ মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন- জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের, মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার, বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট বাসেত মজুমদার, অ্যাডভোকেট তোফাজ্জল হোসেন, পরিমল কুমার বিশ্বাস, অ্যাডভোকেট ইয়াহিয়, গিয়াস উদ্দিন, ফরিদ উদ্দিন আহমেদ।

হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ নৌমন্ত্রী শাহাজাহান খাঁনের সমালোচনা করে বলেছেন, তার একটি হাসি গোটা দেশকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে। তারা আজ মানুষ মরলে হাসে। তাদের কাছে মানুষের কোনো মূল্য নেই। কোমলমতি শিশুরা রাজনীতি বোঝে না। তারা বাচঁতে চায়। তারপরও তাদের ওপর ছাত্রলীগ যেভাবে হামলা করছে তা দুঃখজনক।

তিনি বলেন, রাজনীতিবিদদের এখন কোনো সম্মান নেই, ঘৃণার চোখে দেখে। সেজন্য নিজেকে সৈনিক পরিচয় দেই। বর্তমান সংসদে ১৫৪ জন এমপি বিনা ভোটে নির্বাচিত, তাদের রাজনীতিবিদ বলিইবা কি করে।

এরশাদ বলেন, আমার মতো নির্যাতিত রাজনীতিবিদ আর দেখিনি। আমি ক্ষমতায় থেকে একদিনের জন্যও শান্তিতে দেশ চালাতে পারিনি। ৩৬৮ দিন হরতাল দেয়া হয়েছে। এখনও শান্তিতে ঘুমাতে পারি না। মামলায় জর্জরিত। আমি কী এমন খারাপ কাজ করেছি, কী অন্যায় করেছি? যে আমাকে এত অত্যাচার সইতে হবে।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, ১৪ বছর নয় মাস পর মঞ্জু হত্যা মামলা করা হলো আমার বিরুদ্ধে। জিয়া হত্যার বিরুদ্ধে অভিযুক্ত মঞ্জু। অথচ তারা জিয়া হত্যার বিচার চায় না। যখনই মঞ্জু হত্যার রায় ঘোষণার সময় হয়, তখনই জজ পরিবর্তন করা হয়। এই পর্যন্ত ৭টি জজ পরিবর্তন করা হয়েছে। আমার মতো নির্যাতিত রাজনীতিবিদ যেন আর জন্মগ্রহণ না করে।

সাবেক এই রাষ্ট্রপতি বলেন, সামনে নির্বাচন। এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নেই নাই। গত কয়েক বছর অনেক বঞ্চনার শিকার হয়েছি। আর হতে চাই না। ভেবেচিন্তেই সঠিক সিদ্ধান্ত নেব। তিনি আরও বলেন, আমি রাস্তায় বেরোলেই দেখি ফুটপাতে মানুষ শুয়ে আছে। খাবার নেই, চাকরি নেই। কেউ দেখে না। আর এটাই হচ্ছে আমাদের উন্নয়নের মহাসড়ক।

তারেক রহমানের সমালোচনা করে এরশাদ বলেন, ১/১১-এর আগে তারেক আমার বাসায় এসে আমাকে হাওয়া ভবনে যেতে বললেন। বললেন, আপনি আমাদের সঙ্গে জোট করবেন এবং আপনাকে ১৮টি আসন দেয়া হবে। না হলে আপনাকে দেশ ছাড়তে হবে। আমি ওর পিতৃসমতুল্য, সে আমার সঙ্গে এ ভাষায় কথা বলতে পারে ভাবতেও অবাক লাগে। তারপর আওয়ামী লীগকে সমর্থন করেছিলাম। কিন্তু কী পেলাম? তারাও আমার প্রতি অবিচার করল। দল ভাঙল, আমাকে জেলে নিয়ে নির্বাচনে অযোগ্য করল।

এরশাদ আরও বলেন, এ দেশে গাড়ি চালাতে হলে অবশ্যই শ্রমিকদের আইন মানতে হবে। এজন্য সরকারকে আরও দায়িত্বশীল হতে আহ্বান জানান।

এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ছাত্রদের চলমান আন্দোলন কোনো রাজনৈতিক ইস্যু নয়, নিরাপদ সড়কের দাবিতে এই আন্দোলন। এটা তাদের বাঁচতে চাওয়ার আন্দোলন।

ছাত্রদের চলমান আন্দোলনে সমর্থন জানিয়ে তিনি বলেন, ছাত্রলীগের কর্মীরা আন্দোলনরত শিশুদের ওপর যে হামলা করেছে তা খুবই দুঃখজনক। প্রতিদিন মৃত্যুর মিছিল বড় হচ্ছে, এমন দেশের মুক্তিযুদ্ধ হয়নি।

তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, বাঁচার দাবিতে রাজপথে ছাত্ররা আন্দোলন করবে, এমন দেশের জন্য কি মুক্তিযোদ্ধারা জীবন দিয়েছিলেন? মানুষের জীবনের যেন কোনো মূল্য নেই।

হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেন, দেশে খুন, গুম, সন্ত্রাস, নৈরাজ্য চলছে... এভাবে দেশ চলতে পারে না। ছাত্ররা জেগে উঠেছে, সাধারণ মানুষ জেগে উঠেছে। এবার আমাদেরও জেগে উঠতে হবে। দেশের মানুষকে বাঁচাতে হবে। দেশে সুশাসন ফিরিয়ে দিতে আমাদের দায়িত্ব নিতে হবে।

তিনি বলেন, মানুষ জাতীয় পার্টির ৯ বছরের শাসনামলকে স্বর্ণযুগ মনে করে। সাধারণ মানুষ জাতীয় পার্টির শাসনামলে ফিরে যেতে চায়। আমরা উন্নয়ন আর ভালোবাসা দিয়ে মানুষকে জয় করেছি।

ঘটনাপ্রবাহ : বিমানবন্দর সড়কে দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.