সাংবাদিকদের ওপর হামলা

ছাত্রলীগের কারা জড়িত, আমি তার বিচার করব: কাদের

প্রকাশ : ০৬ আগস্ট ২০১৮, ১৮:১০ | অনলাইন সংস্করণ

  যুগান্তর ডেস্ক

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলায় ছাত্রলীগের কারা জড়িত, আমি তার বিচার করব।  

তিনি বলেন, ‘আপনারা আমাকে তথ্যপ্রমাণ দেন, আমি বিচার করব। সাংবাদিকদের ওপর হামলায় ছাত্রলীগের কেউ যদি জড়িত থাকে তাকে… আমি বলছি ছাত্রলীগের কারা জড়িত আমি তার বিচার করব। আপনি (সাংবাদিক) তাদের লিস্ট দেন।’

সোমবার বিকালে ধানমণ্ডি আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

আমির খসরু মাহমুদের বক্তব্যকে মির্জা ফখরুল ইসলামের সমর্থন করার বিষয়ে তিনি বলেন, উনি সমর্থন করার মধ্য দিয়ে প্রমাণ করে এটা সুগভীর ষড়যন্ত্র।

বিএনপি-জামায়াতের দিকে ইঙ্গিত করে ওবায়দুল কাদের বলেন, একটা অরাজনৈতিক নিরীহ আন্দোলন এখন তারা নিজেদের স্বার্থে এটার সঙ্গে অনুপ্রবেশ ঘটিয়ে এই আন্দোলনকে সরকার হটানোর আন্দোলনে রূপ দিতে চাইছে।

তিনি বলেন, এটাতে এখন অনেক কিছুর অনুপ্রবেশ হয়ে গেছে। এটা পরিষ্কার, মির্জা ফখরুল সাহেব আমির খসরু মাহমুদের ফোনালাপের উসকানিমূলক বক্তব্যকে প্রকাশ্যে সমর্থন করে তখন এটা দিবালোকের মতো পরিষ্কার হয়ে গেছে। একটা অরাজনৈতিক নিরীহ আন্দোলন এখন তারা নিজেদের স্বার্থে এটার সঙ্গে অনুপ্রবেশ ঘটিয়ে এই আন্দোলনকে নোংরা রাজনীতিক উদ্দেশ্যে তথা সরকার হটানোর আন্দোলনে রূপ দিতে চাচ্ছে।

রোববার রাজধানীর সায়েন্সল্যাব মোড়ে হামলার ঘটনায় ঢাকা কলেজ শাখা ছাত্রদলের এক নেতার ছবিসংবলিত একটি পত্রিকায় কাটিং দেখিয়ে ওবায়দুল কাদের, আমির খসরু মাহমুদের প্রকাশ্য যে আহ্বান, এই আহ্বানটি তারা সিক্রেটলি সারা দেশে পৌঁছে দিয়েছিল। যার ফলে বিএনপি এবং জামায়াতের তরুণ ক্যাডাররা গত কয়েক দিন ধরে ঢাকায় আসে। যেই মুহূর্তে তারা দেখল শিক্ষার্থীদের আন্দোলন জমছে না, তারা ঘরে ফিরে যাচ্ছিল, সেই মুহূর্তে এই দুই দলের তরুণ ক্যাডাররা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সেই শাহবাগ মোড় থেকে সায়েন্সল্যাব মোড় হয়ে আওয়ামী লীগ অফিসের দিকে আসে।

তাদের টার্গেট হচ্ছে আওয়ামী লীগ অফিস দাবি করে ওবায়দুল কাদের বলেন, আমি বিশ্বাস করি সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা, কিশোর-কিশোরীরা কেউ অস্ত্র নিয়ে রাস্তায় আসেনি। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক কোনো উদ্দেশ্য নাই। এদের আওয়ামী লীগ অফিসে হামলা করার কোনো এজেন্ডা নেই। এই এজেন্ডা তাদের যারা, তাদের আন্দোলনের ওপর ভর করে এখানে রাজনীতির ডার্টি খেলায় মেতে উঠেছে।

বেপরোয়া যান চালনায় মানুষ হত্যা হলে সর্বোচ্চ ৫ বছর জেলের বিধান এবং হত্যার উদ্দেশ্যে যানবাহন চালানোর ফলে হত্যা হলে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে উল্লেখ করেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, বেপরোয়া যান চালনায় মানুষ হত্যা হলে ১৯৮৩ সালের আইনে তিন বছর জেল-এর বিধান ছিল, সেটাই স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনা করে ৫ বছর জেলের বিধান করা হয়েছে। এ আইনে জামিনের কোনো সুযোগ নেই।

সেতুমন্ত্রী বলেন, হত্যার উদ্দেশ্যে যানবাহন চালালে এবং তা প্রমাণ হলে তা ৩০২ ধারায় চলে যাবে এবং তাতে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। প্রসঙ্গত ১৯৮৩ সালের সড়ক নিরাপত্তা আইনে বেপরোয়া যান চালনায় হত্যা হলে সর্বোচ্চ তিন বছরের জেলের বিধান ছিল।

রমিজ উদ্দিন কলেজের ছাত্র দুর্ঘটনায় দুজন মারা যাওয়ার বিষয়ে কাদের বলেন গাড়ির মালিক, ড্রাইভার, হেলপার গ্রেফতার হয়েছে, রিমান্ডে নেয়া হয়েছে এবং যদি প্রমাণিত হয় তারা হত্যার উদ্দেশ্যে গাড়ি চালিয়েছে তাহলে ৩০২ ধারায় বিচার করার সুযোগ আছে বলেও জানান তিনি।

মহাসড়কে ছোট যানবাহনের কারণে বিভিন্ন দুর্ঘটনা ঘটে, এ বিষয়টি আইনে আছে কি না এক সাংবাদিক জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, সবকিছু আইনে আসে না। কিছু বিধিবিধান আছে। সেগুলো সবাইকে মেনে চলেতে হয়। বিধিবিধান আইনে যুক্ত করতে গেলে অনেক বড় হয়ে যাবে।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রাজ্জাক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, দীপু মনি, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, এ কে এম এনামুল হক শামীম, দফতর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সবুর, সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, কেন্দ্রীয় সদস্য ইকবাল হোসেন অপু, ত্রাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, উপদফতর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, কার্যনির্বাহী সদস্য এস এম কামাল হোসেন, ইকবাল হোসেন অপু, আনোয়ার হোসেন, মারুফা আক্তার পপিসহ অনেকে।