কোথায় কী হচ্ছে, সরকার সব জানে: ওবায়দুল কাদের

প্রকাশ : ০৭ আগস্ট ২০১৮, ২১:৩৮ | অনলাইন সংস্করণ

  যুগান্তর রিপোর্ট

ধানমণ্ডি আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন ওবায়দুল কাদের। ছবি: যুগান্তর

বিএনপি ও এক-এগারোর কুশীলবরা এক হয়ে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে বলে অভিযোগ করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, দেশে যখন শান্তিময় পরিবেশ বিরাজ করেছিল, ঠিক সেই সময়ে তারা রাজনৈতিক অঙ্গনে নেমে ‘ঘোলাপানিতে মাছ শিকারের’ অশুভ খেলায় মেতে উঠেতে চেয়েছিল।

মঙ্গলবার বিকালে ধানমণ্ডির আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, কোথায় কী হচ্ছে, সেটা আমরা জানি। দেশে হচ্ছে, বিদেশে হচ্ছে। প্রথম প্রহরে, মধ্যপ্রহরে, শেষ প্রহরেও হচ্ছে। সরকার কিছু জানে না, সেটা ভাবলে বোকার স্বর্গে বাস করছেন। সবকিছুই আমরা জানি। সবকিছুই আমাদের নলেজে আছে। কত ষড়যন্ত্র হয়েছে, শত বৈঠক হয়েছে, ব্যবস্থা নিলে কারও জেলের বাইরে থাকার কথা ছিল না। কিন্তু আমরা ধৈর্য ধরছি। 

দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র হচ্ছে বলে অভিযোগ করে কাদের বলেন, শিক্ষার্থী ঘরে ফিরে গেছে। কিন্তু এ সময়ে দেশকে অশান্ত করার জন্য, সারা দেশ থেকে তাদের ক্যাডারদেরকে এনে ঢাকা অচল কর্মসূচি বাস্তবায়নের চেষ্টা করে যাচ্ছে সুপরিকল্পিতভাবে। ঢাকা অচল করে বাংলাদেশ অচল করার পরিকল্পনা তাদের ছিল এবং আছে।

তিনি বলেন,  দেশে বিধ্বংসী রাজনীতি দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। আজকে অনেকেই অনাবশ্যক কটূ ভাষণ দিচ্ছে। কটূ ভাষণ দিয়ে তারা রাজনীতির দূষণ হয়ে আছে। রাজনীতিতে মতান্তর থাকবেই, কিন্তু সেই মতান্তরকে ছদ্মবেশী রাজনৈতিকরা বিধ্বংসী মতান্তরের সীমা অতিক্রমে নিয়ে যাচ্ছে। যা দেশের জাতি, গণতন্ত্র ও ভবিষ্যতের জন্য দুঃসংবাদ। 

আওয়ামী লীগ সম্পাদক বলেন, যারা ক্ষমতার জন্য দেশকে ধ্বংস করার রাজনীতি করে, তাদের সঙ্গে কী করে রাজনৈতিক সমঝোতা হবে, তা ভেবে পাই না। অন্দোলনে তাদের সফলতা দেখলাম না। আন্দোলনে ব্যর্থ এ দল কখনো কোটা সংস্কার আন্দোলনে কিন্তু সেখানেও তারা ব্যর্থ। এখন তারা শিক্ষার্থীদের অরাজনৈতিক আন্দোলনের ওপর ভর করেছে। সেটাও ব্যর্থতায় পর্যবসিত হওয়ার পথে। আর কত ষড়যন্ত্র করবে, চক্রান্ত করবে? এখন ১/১১ কুশীলবদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে নতুন করে কোনো জাল বোনা যায় কিনা সেই গোপন চক্রান্ত তারা করছে।

দেশে গুন্ডাতন্ত্র চলছে গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেনের এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে কাদের বলেন, গুন্ডাতন্ত্র কাকে বলে তা সবিনয়ে কামাল হোসেনকে জিজ্ঞেস করতে চাই? চোখ উপড়ে আমাদের স্বেচ্ছাসেবক লীগের কর্মী আরাফাত বাপ্পী যার একটি চোখ পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। তাকে এখন চেন্নাই পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। 

ওবায়দুল কাদের বলেন, আমাদের আহত কর্মীকে হাইজ্যাক করা হয়েছে। তা কোনো কোনো গণমাধ্যমেও দেখলাম, এ সংবাদ শুধু দেশে নয়, কিছু কিছু আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সংস্থাও করছে। আজকে দেশের বাহিরেও অপপ্রচারে লিপ্ত। 

তিনি বলেন, সব দোষ আওয়ামী লীগের, আমাদের ছাত্রলীগের। ছাত্রলীগের নতুন কমিটি হয়েছে। এখনও তারা ভালো করে গুছিয়ে উঠতে পারেনি। এ এলাকায় ছাত্রলীগের (ধানমণ্ডি) কোনো কমিটি ছিল না। যারা আহত হয়েছে তাদের বেশির ভাগই সাবেক ছাত্রনেতা, বিভিন্ন উপকমিটির সদস্য। তাদের মধ্যে ৪৬ জন আহত হয়েছে। আক্রান্ত হলাম আমরা কিন্তু এখন দেশে-বিদেশে সুপরিকল্পিতভাবে অপবাদ ছড়ানো হচ্ছে। আমাদের আক্রমণকারী চিহ্নিত করে দলের এবং ছাত্রলীগের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছে। 

ওবায়দুল কাদের বলেন, কানাডার আদালতে প্রমাণিত সন্ত্রাসী দল বিএনপি তাদের চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের জন্য যে কলঙ্ক অর্জন করেছিল, তা আজকে চাপিয়ে দিতে চেয়েছে আওয়ামী লীগের ওপর, আমাদের ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ওপর। আমরা এ ঘৃণ্য অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা জানাই। আমাদের ওপর যত অপবাদ ও ষড়যন্ত্র হোক না কেন আমরা উন্নয়নকাজ করে তার জবাব দেব। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে যতটা সম্ভব ধৈর্য সহনশীলতা প্রদর্শন করব। কিন্তু ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যাচ্ছে। 

তিনি বলেন, এ সময়ে যারা ‘ঘোলাপানিতে মাছ শিকার’ করতে চান, তারা টার্গেট করেন সাংবাদিকদের। কারণ সাংবাদিকদের টার্গেট করে ফায়দা তোলার চেষ্টা এ দেশে অনেকবার হয়েছে। পৃথিবীর অনেক দেশেই এটা হয়। আমাদের দেশেও আমরা তা বারবার লক্ষ্য করেছি।
 
ওবায়দুল কাদের বলেন, গতকাল (সোমবার) আমি সাংবাদিকদের বলেছি, ছাত্রলীগের ওপর অপবাদ আসছে। আপনারা আমাকে তালিকা দিন। কারা কারা এতে জড়িত আছে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেব। সঙ্গে সঙ্গে প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থাও আমরা নেব। শেখ হাসিনার সরকারের আমলে অন্যায় ও অপকর্ম করে কেউ রেহাই পায় না। ছাত্রলীগের কেউ যদি সাংবাদিক নির্যাতনে জড়িত থাকে তাহলে আমরা কোনো অবস্থায় ছাড় দেব না। এটা আমাদের নীতি এবং সিদ্ধান্ত।

শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতন করা হচ্ছে জতিসংঘের এমন বিবৃতি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কাদের বলেন, আমরা জাতিসংঘকে জানিয়েছি এগুলো অপপ্রচার।

সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সোহেল তাজের ফেসবুক স্ট্যাটাস সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরেই আমাদের রাজনীতির বাহিরে আছেন। এটা তার ব্যক্তিগত বিষয়। 

ওবায়দুল কাদের বলেন, রমিজ উদ্দিন কলেজসংলগ্ন রাস্তায় আন্ডারপাস দ্রুততার সঙ্গে নির্মাণের জন্য সেনাবাহিনীকে দায়িত্ব দিয়েছি। আগামী রোববার প্রধানমন্ত্রী এ আন্ডারপাস নির্মাণের কাজ উদ্বোধন করবেন। তিনি বলেন, সড়কে বিশৃঙ্খলা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না। শৃঙ্খলিত সড়ক ও পরিবহনব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য কর্মপ্রয়াস আমরা অব্যাহত রাখব।  

তিনি বলেন, নিরাপদ সড়কের আন্দোলন নিয়ে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের রাজনৈতিক খেলা আমরা লক্ষ্য করছি। এ আন্দোলনকে তৃতীয় কোনো পক্ষ যাতে তাদের ঘৃণ্য রাজনৈতিক পুঁজি হিসেবে ব্যবহার করতে না পারে, এ জন্য দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে সবাইকে সচেতন হতে হবে এবং দৃষ্টি রাখার অনুরোধ করছি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, কয়েক দিনের উত্তাল পরিস্থিতির মধ্যে অবশেষে একটা স্বস্তিদায়ক পরিবেশ ফিরে এসেছে। দেশের মানুষের জীবন যাত্রা স্বাভাবিক এবং পরিবহন সংকটের জন্য মানুষের দুর্ভোগেরও অবসান হতে চলছে। এটা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক না হলেও সংকট অনেকটাই কেটেছে। আশা করছি, দূরপাল্লাসহ পরিবহনের জন্য মানুষের যে দুর্ভোগ তা সহনীয় মাত্রায় চলে আসবে।

আন্দোলন প্রত্যাহার করে ক্লাসে ফিরে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, অভিভাবক, শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সবার প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। কিশোর-কিশোরী শিক্ষার্থীরা রাজপথ থেকে ঘরে ফিরে গেছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আহ্বানে সাড়া দিয়ে। 

সাংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, এনামুল হক শামীম, দফতর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, কৃষি ও সমবায় সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আফজাল হোসেন, সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক আব্দুস সবুর, উপদফতর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, কার্যনির্বাহী সদস্য আনোয়ার হোসেন, গোলাম রাব্বানী চিনু, মারুফা আক্তার পপি প্রমুখ।