খালেদা জিয়ার জন্মদিনে সারা দেশে দোয়া মাহফিল

প্রকাশ : ১২ আগস্ট ২০১৮, ১৮:৫৪ | অনলাইন সংস্করণ

  যুগান্তর রিপোর্ট

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। ফাইল ছবি

১৫ আগস্ট দলের বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জন্মদিন উপলক্ষে তার কারামুক্তি, আশু রোগমুক্তি ও দীর্ঘায়ু কামনায় সারা দেশের জেলা ও উপজেলায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেন, ঈদের দিন সকাল সাড়ে ১১টায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে বিএনপির সিনিয়র নেতারা জিয়াউর রহমানের মাজার জিয়ারত করবেন।

রোববার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টন দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে তিনি এসব কথা জানান।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্রয়াত ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর জন্মদিন উপলক্ষে মহিলা দল এই আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে আয়োজন করে।

এতে আরও উপস্থিত ছিলেন মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, বিএনপির মহিলাবিষয়ক সম্পাদক নূরে আরা সাফা, ঢাকা মহানগর উত্তর মহিলা দলের সভানেত্রী পিয়ারা মোস্তফা, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভানেত্রী রাজিয়া আলিম, সাবেক এমপি রওশনারা ফরিদ প্রমুখ। 

রিজভী বলেন, অবৈধ সরকারের বিরুদ্ধে রাজপথে বের হতে পারি না এটা ভাবলে মনে হয় নিজেকেই ধিক্কার দিই।

তিনি বলেন, আজকে জাতি অবরুদ্ধ। কচি কচি বাচ্চাদের যেভাবে রক্তাক্ত করা হয়েছে। তাদের রক্তমাখা কেডস ও শার্ট দেখলে কার না হৃদয় ভেঙে যায়। অথচ এই ঘটনাও ঘটিয়েছে এই সরকার। শিক্ষার্থীদের ওপরে যারা আক্রমণ করেছে প্রধানমন্ত্রী তাদের দেখতে যান কিন্তু যারা আক্রান্ত হয়েছে সেই স্কুলপড়ুয়া বাচ্চাদের দেখতে যান না। এই নিষ্ঠুরতার মধ্যে আমরা এখনও বাস করছি। আমরা এখনও কেন ঘর থেকে বের হতে পারি না? কেন আমরা এই অবৈধ সরকারের বিরুদ্ধে রাজপথের ইট, কাঠ ও কংক্রিটের ধুলা উড়িয়ে দাঁড়াতে পারি না? সেটা ভাবলে নিজের কাছে নিজেকেই ধিক্কার লাগে।

রিজভী আহমেদ বলেন, যখন খালেদা জিয়া গুলশানের অফিসে অবরুদ্ধ। তখন তার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যুসংবাদ শুনতে হয়েছে তাকে। তখন তিনি শেখ হাসিনার রক্তচক্ষুর কাছে মাথানত করেননি। ভয়কে তিনি উড়িয়ে দিয়েছেন। খালেদা জিয়া তখন নির্ভীক ছিলেন। এটাই হলো খালেদা জিয়ার বৈশিষ্ট্য। এটা নিয়েই তিনি দশকের পর দশক জাতীয়তাবাদের পতাকা, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের পতাকা উড়িয়েছেন। আজ খালেদা জিয়া কারাগারে আছেন, তাকে মুক্ত করতে হবে। কারণ তার মুক্তির মাধ্যমে শুধু একজন ব্যক্তির মুক্তি হবে না। মুক্তি হবে দেশ ও জনগণের।

কোকোর স্মৃতিচারণা করে এই বিএনপি নেতা বলেন, আরাফাত রহমান কোকো নীরবে নিভৃতে চলাফেরা করতেন। সবার সঙ্গে অত্যন্ত আন্তরিক ছিলেন। কোনো কথা বললে অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে বলতেন। তিনি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। অত্যন্ত মিতভাষী ছিলেন।

তিনি পৃথিবী থেকে চলে যাওয়ার কথা নয়। তার মায়ের ওপর জুলুম দেখে তিনি পৃথিবী থেকে চলে গেছেন বলেও মন্তব্য করেন রিজভী।