জাবালে নূরের অপর চালক জোবায়েরের স্বীকারোক্তি

প্রকাশ : ১৩ আগস্ট ২০১৮, ২০:৩৫ | অনলাইন সংস্করণ

  যুগান্তর রিপোর্ট

ফাইল ছবি

রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় জাবালে নূরের ঘাতক বাসের চালকের পর প্রতিযোগিতায় লিপ্ত অপর বাসের চালক মো. জোবায়ের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তাকেসহ অপর তিন আসামিকে আদালত কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।

সোমবার রিমান্ড শেষে আসামিদের আদালতে হাজির করে বাসচালক মো. জোবায়েরের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি ও অপর তিন আসামি বাসচালক মো. সোহাগ আলী, চালকের সহকারী মো. এনায়েত হোসেন, ও চালকের সহকারী মো. রিপন হোসেনকে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা।

এদিন ঢাকা মহানগর হাকিম মো. গোলাম নবী আসামি মো. জোবায়েরের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করেন। জবানবন্দি রেকর্ড শেষে আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। 

অপরদিকে ঢাকা মহানগর হাকিম কেশব রায় চৌধুরীর আদালতে অপর তিন আসামির মধ্যে সোহাগ আলী ও রিপন হোসেনের জামিন আবেদন করা হয়। 

আদালত ওই দুই আসামির জামিন নাকচ করে তিন আসামিকেই কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। ৬ আগস্ট ওই চার আসামির সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

আদালত সূত্র জানায়, এর আগে চলতি মাসের ৮ আগস্ট ঘাতক বাসের চালক মো. মাসুম বিল্লাহ বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালিয়ে ওই দুর্ঘটনা ঘটনা বলে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। ৯ আগস্ট ঘাতক বাস জাবালে নূরের মালিক মো. শাহাদত হোসেন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।  

স্বীকারোক্তিতে তিনি বাসচালক মো. মাসুম বিল্লাহর ড্রাইভিং লাইসেন্স যাচাই-বাছাই না করেই নিয়োগ দেয়ার কথা বলেন। চলতি বছরের ২৯ জুলাই দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আবদুল্লাহপুর-মোহাম্মদপুর রুটে চলাচলকারী জাবালে নূর পরিবহনের তিনটি বাসের রেষারেষিতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। 

এতে শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী আবদুল করিম রাজিব ও একই কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী দিয়া খানম মিম নিহত হন। 

এছাড়াও আরও অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। ওই ঘটনায় ওই রাতেই রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানায় নিহত দিয়া খানম মিমের বাবা জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

সূত্র আরও জানায়, শহীদ রমিজ উদ্দিন কলেজের ২০-২৫ জন শিক্ষার্থী হোটেল র‌্যাডিসন ব্লু’র বিপরীত পাশে ফ্লাইওভার থেকে নামার মুখে যে বাসস্ট্যান্ড সেখানে দাঁড়িয়ে বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। 

দুপুর সোয়া ১২টার দিকে জাবালে নূর পরিবহনের একটি বাস সেখানে আসে। কিছুক্ষণ পর একই পরিবহনের আরেকটি বাস দ্রুতগতিতে এসে দাঁড়িয়ে থাকা বাসটিকে ওভারটেক করতে গিয়ে টার্ন নেয় এবং নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। 

নিমেষে দাঁড়িয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের ওপর উঠে যায় বাসটি। কেউ চাকার নিচে পিষ্ট হয়, কেউ ধাক্কা খেয়ে ছিটকে পড়ে। আহত শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হলে করিম ও মিমকে মৃত ঘোষণা করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক।