বাবা-মায়ের কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত বিরোধী দলের চিফ হুইপ তাজুল ইসলাম

প্রকাশ : ১৫ আগস্ট ২০১৮, ২১:২৪ | অনলাইন সংস্করণ

  কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

বাবা-মায়ের কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন জাতীয় সংসদের বিরোধী দলের চিফ হুইপ ও কুড়িগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য তাজুল ইসলাম চৌধুরী।

বুধবার বিকাল ৩টায় কুড়িগ্রাম শহরের সবুজপাড়ার ঈদগাহ মাঠে জানাজা শেষে কেন্দ্রীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

তাজুল ইসলাম চৌধুরীর শেষ ইচ্ছা অনুসারে দুপুর ১২টার দিকে হেলিকপ্টারযোগে তার লাশ ঢাকা থেকে কুড়িগ্রামে নেয়া হয়। 

এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙ্গা, রংপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোস্তাফিজার রহমান, কুড়িগ্রাম-১ আসনের এমপি মোস্তফিজার রহমান মোস্তাক, কুড়িগ্রাম-৩ আসনের এমপি ডা. আক্কাছ আলী, বগুড়া-১ আসনের সাংসদ উমর ফারুক প্রমুখ।

প্রিয় নেতাকে একনজর দেখতে সমবেত হয় হাজার হাজার মানুষ। স্টেডিয়াম ঘিরে থাকে তার সমর্থকরা। এরপর লাশ নেয়া হয় কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ মাঠে। সেখানে সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা জানাতে লাশ রাখা হয়। ফুলে ফুলে সিক্ত হয় লাশের কফিন।

পরে লাশ নেয়া হয় কুড়িগ্রামের তার নিজ বাড়িতে। সেখানে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানানো হয়। সেখানেও হাজারো মানুষের ভিড় জমে।

বাড়ি থেকে জানাজার জন্য ঈদগা মাঠে লাশ আনা হলে মাঠ উপচে রাস্তায় নেমে আসে মানুষ। জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়।

জানা গেছে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম চৌধুরীর 

গত ১৩ আগস্ট রাত ১১টা ৫০ মিনিটে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম চৌধুরী মারা যান। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতায় ভুগছিলেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর। মঙ্গলবার বিকাল ৪টায় প্রথম জানাজা জাতীয় সংসদ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়।

তাজুল ইসলাম চৌধুরী ৭ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এর মধ্যে একবার বিএনপি ও বাকি ৬ বার জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হন।

জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য তাজুল ইসলাম চৌধুরী ১৯৭৯ সালে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর ১৯৮৬, ‘৮৮, ৯১, ‘৯৬, ২০০১  সালে এই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি এরশাদ সরকারের আমলে প্রভাবশালী মন্ত্রী ছিলেন। সর্বশেষ ২০১৪ সালের নির্বাচনে তিনি মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।

এরশাদ সরকারের আমলে তিনি ভূমি এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বপালন করেন। এছাড়া তিনি জাতীয় সংসদের হুইপ ও চিফ হুইপের দায়িত্বপালন করেন।