প্রধানমন্ত্রীকে সরানোর এজেন্ডা নিয়েছে গণমাধ্যমের একটি পক্ষ: কাদের

  যুগান্তর রিপোর্ট ১৮ আগস্ট ২০১৮, ১৩:৪৯ | অনলাইন সংস্করণ

প্রধানমন্ত্রীকে সরানোর এজেন্ডা

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে সরানোর এজেন্ডা নিয়ে মাঠে নেমেছে গণমাধ্যমের একটি পক্ষ।

শনিবার রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরে এক অনুষ্ঠানে তিনি আরও বলেন, আমরা জানি- আরও এরকম আন্দোলন করার চক্রান্ত আছে। গোপন বৈঠক হচ্ছে, দেশে হচ্ছে, বিদেশে হচ্ছে। এ ব্যাপারে আমরা যথেষ্ট সতর্ক ও প্রস্তুত আছি।

আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা উপকমিটি ‘গুজব সন্ত্রাস-অপপ্রচার রুখে দাঁড়াও বাংলাদেশ’ শীর্ষক এই আলোচনা সভার আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে ‘সরকার উৎখাতে বিএনপি-জামায়াতের ষড়যন্ত্র, আগুন-সন্ত্রাস, জ্বালাও-পোড়াও ও গুজব-অপপ্রচার’ নিয়ে একটি ভিডিও চিত্র প্রদর্শন করা হয়।

এরপর সম্প্রতি নিরাপদ সড়ক দাবির আন্দোলনকে কেন্দ্র করে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের উসকানি দিতে সরকারবিরোধী মহলের অপপ্রচার ও গুজব নিয়ে অভিমত ব্যক্ত করেন বিভিন্ন স্কুল কলেজের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা।

পরে আন্দোলনের সময় আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যালয় ও পাশের নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলার ঘটনাটি তুলে ধরেন ওবায়দুল কাদের।

সেই দিন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, বারবার অফিস থেকে ফোন করেছিলাম, নেত্রী ( শেখ হাসিনা)! পার্টি অফিসের গেটে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আসছে। ওরা আক্রমণ করবে, আমরা কী করব? নেত্রী বললেন, মার খাও কিন্তু উত্তেজিত হওয়া চলবে না।

নেত্রী যদি ‘ছাত্রছাত্রীদের ওপর বলপ্রয়োগ করা যাবে না; এই ধৈর্য ধরার পরামর্শ না দিতেন, তাহলে কি পুলিশ ধৈর্য ও সংযম দেখাতে পারত? সেতুমন্ত্রী কাদের বলেন, একটি আন্দোলনকে হিংসাত্মকভাবে ভয়াবহ রাজনৈতিক আন্দোলনে রূপ দেয়ার যে বিপদজনক এজেন্ডা, সেই এজেন্ডাকে তিনি সৎ সাহস ও দৃঢ়তা নিয়ে চিন্তানায়ক ও রাষ্ট্রনায়কের মতো মোকাবেলা করেছেন।

তিনি বলেন, কোটা আন্দোলনের ওপর বিএনপি ও তার সাম্প্রদায়িক দোসররা ভর করেছিল। লন্ডন থেকে নির্দেশনা এসেছিল। ভয়ংকর আরও কিছু হতে পারত। কিন্তু সেটা সরকার নাইসলি (ভালোভাবে) পরিস্থিতি হ্যান্ডেল করেছেন এবং সেটা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, আমাদের পার্টি এখন প্রোঅ্যাকটিভ পার্টি। আমাদের পার্টি যদি প্রোঅ্যাকটিভ না হতো তাহলে আমরা হেরে যাওয়া চারটি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে জিততে পারতাম না।

তিনি বলেন, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত আমাদের অফিস সক্রিয় থাকে। প্রতিদিন আমরা পরিস্থিতির মূল্যায়ন করি। কোনো বিষয়ে আমাদের যদি ঘাটতি থাকে নেত্রীর সঙ্গে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নেই এবং এগিয়ে যাই।

নিরাপদ সড়কের আন্দোলনের সময় গুজব রটনাকারীরা আইনশৃংখলা বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হওয়ার পর কোনো কোনো গণমাধ্যম সংবাদ প্রকাশ করেনি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন সড়ক পরিবহন মন্ত্রী।

তিনি বলেন,সবকিছুর একটা সীমা আছে। ধরা পড়ল। তারপরও সেই নিউজ কোনো কোনো কাগজে নেই। আর আমার বিরুদ্ধে তো লেগেই আছে। একটা দিনও বাদ নাই। আর তারা শেখ হাসিনাকে হঠাতে চায়। কিছু সাংবাদিকের ভ‚মিকা এখনো আগের মতোই আছে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, 'আমি বুঝি কেন এটা হচ্ছে? আমি জানি এটা রাজনৈতিক আক্রমণ। ইন্টারভিউ দিতে আমাকে চিঠি লিখেছে, অনুরোধ করেছে। আমার দলের সিদ্ধান্ত, এখানে ইন্টারভিউ দেয়া যাবে না। আমি দলের সিদ্ধান্ত মেনেছি। সেজন্য আমাকে আক্রমণ করছে কেন?”

বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা এখানকার মতো উন্নয়ন কবে হয়েছিল প্রশ্ন রেখে সড়ক যোগাযোগ উন্নয়নের সরকারের বিভিন্ন দৃশ্যমান পদক্ষেপগুলোর কথা তুলে ধরেন তিনি। বলেন, কোনো দিনও নিজের অফিসকে ফাঁকি দেইনি। কখনো পার্টি অফিস, কখনো সরকারি অফিস। দুপুরে যেতে না পারলে বিকালে, বিকালে যেতে না পারলে রাতেও আমি ফাইল নিষ্পন্ন করেছি। আমার মন্ত্রণালয়ে এ পর্যন্ত কোনো ফাইল পরের দিনের জন্য অনিষ্পন্ন থাকেনি। ১৬ ঘণ্টা পরিশ্রম করি। দেশের জন্য করি। কমিটমেন্ট নিয়ে করি।

এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপির উদ্দেশে কাদের বলেন, নির্বাচন প্রক্রিয়াই বাদ দিতে হবে? তাহলে কোন প্রক্রিয়ায় নির্বাচন হবে? নির্বাচন প্রক্রিয়া বাংলাদেশের সংবিধানের বিধান। এই নির্বাচন প্রক্রিয়া থেকে সরে যাওয়ার কোনো সুযোগ আগামী নির্বাচনের আগে নেই। সংবিধানের বাইরে গিয়ে সরকার নির্বাচন করবে না। এই ধরনের দাবি মামা বাড়ির আবদার ছাড়া কিছুই নয়।

প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং উপকমিটির সদস্য সচিব ড. হাছান মাহমুদের সভাপতিত্বে সভা পরিচালনা করেন উপপ্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন। এতে বক্তব্য রাখেন একাত্তর টেলিভিশনের সিইও মোজাম্মেল বাবু, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে এম এনামুল হক শামীম, শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক শামসুন্নাহার চাঁপা, কার্যনির্বাহী সদস্য মারুফা আক্তার পপি, প্রচার উপকমিটির সদস্য শাহ মোস্তফা আলমগীর, অভিনেত্রী অরুনা বিশ্বাস প্রমুখ।

শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভিকারুননিসা স্কুলের শিক্ষার্থী জাফরিন আহমেদ রূপন্তী, সিটি কলেজের শিক্ষার্থী মানরাজ হোসেন শামীম, সিটি কলেজের সহকারী শিক্ষক আহসান হাসীব রাজা তাদের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter