ইভিএমে যে কেউ জাল ভোট দিতে পারে: কাদের সিদ্দিকী

প্রকাশ : ৩১ আগস্ট ২০১৮, ২১:২৭ | অনলাইন সংস্করণ

  যুগান্তর রিপোর্ট

জাতীয় প্রেসক্লাবে বঙ্গবন্ধু হত্যা ও তার প্রতিবাদ, প্রতিরোধ সংগ্রাম শীর্ষক আলোচনা সভায় বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী। ছবি-যুগান্তর

নির্বাচন কমিশনের ইভিএম পদ্ধতি সমালোচনা করে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলছেন, ইভিএম পদ্ধতির মাধ্যমে যে কেউ জাল ভোট দিতে পারে। এটা পরীক্ষিত। 

শুক্রবার বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে বঙ্গবন্ধু হত্যা ও তার প্রতিবাদ, প্রতিরোধ সংগ্রাম শীর্ষক আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেন ‘গত পরশু নির্বোধ নির্বাচন কমিশন ইভিএমের একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ইতিহাসে নেই কোনো কমিশনের সদস্য কমিশনের মিটিং বয়কট করে, সেটাও হয়েছে। এই মুহূর্তে ইভিএম হওয়ার কোনো মানে নেই। যারা ইভিএম চালাবেন তারাও শেখেন নাই। যারা ভোট দেবেন তারাও জানেন না।

তিনি বলেন, নির্বাচনে ইভিএম চলবে কি চলবে না, তা নিয়ে হুদা কমিশন রাজনৈতিক দলগুলোর মতামতের জন্য ডেকেছিলেন। সেখানে উপস্থিত সবার সামনে আমাদের দলের সাধারণ সম্পাদক ছয় ছয়টি জাল ভোট দিয়েছিলেন। তখন আমি বলেছিলাম নির্বাচন কমিশনার আপনাদের চোখের সামনে ছয়বার জাল ভোট দেয়া হলো আপনি কিছুই করতে পারলেন না। আপনার ইভিএম কিছু করতে পারল না। এই ইভিএম চলবে না। সেই ইভিএম তৈরি করেন যেটা একবারের বেশি কোনো মানুষকে গ্রহণ করবে না।

এই ইভিএমে যে কেউ জাল ভোট দিতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সিল মারতে কষ্ট আছে । ভোট দিতে একটা পদ্ধতি আছে, একটা স্বাক্ষর দিতে হয় অথবা টিপসই দিতে হয়। যে ভোট দেয়া হয় সেখানে প্রিসাইডিং অফিসারের একটা স্বাক্ষর থাকে। এখন ইভিএমে যদি এর কিছুই না থাকে, তাহলে একজনই তো একটা পাঁচটা টিপে ভোট দিতে পারে। তাই এই ইভিএম মানুষ চায় না।

জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলা প্রসঙ্গে কাদের সিদ্দিকী বলেন, আমরা দীর্ঘদিন একটা জাতীয় ঐক্যের চেষ্টা করছি। এটা ঐক্যের ব্যাপারও না, অনৈক্যের ব্যাপারে না। আমি বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে রাজনীতি শুরু করেছি। যে কয়দিন বেঁচে থাকব, বঙ্গবন্ধুকে নিয়েই রাজনীতি করব। আমার দলে যে কয়জনই থাকুক। আজ আমার গর্বে বুকটা ভরে গেছে। কোন উপলক্ষ ছাড়াই যদি ঢাকায় এতগুলো লোক আসে। তাহলে আমি একটা ডাক দেব। 

কাদের সিদ্দিকী বলেন, গত পরশু ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্সটিটিউটে আওয়ামী লীগের একটা অনুষ্ঠান ছিল। সেখানে ড. কামাল হোসেনকে নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতারা যেভাবে গালমন্দ করছে, সেটা রাজনীতির শিষ্টাচারবহির্ভূত। কামাল হোসেন ভালো মানুষ নাই হতে পারেন। কিন্তু তিনি একজন যে মাপের প্রবীণ লোক তাকে কিছু বলার আগে ভাষাজ্ঞান থাকতে হবে না? মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনার পাশের লোকদের ভাষা শেখান। মানুষকে সমালোচনা করার জন্য বাংলা অভিধানে অনেক শব্দ রয়েছে। আপনারা ক্ষমতায় আছেন, আপনারাই শুধু দেশপ্রেমিক, আর আমরা সবাই দেশদ্রোহী। সবাইকে আপনি জামায়াত ভাববেন, বিএনপি ভাববেন। 

কাদের সিদ্দিকী বলেন, আমরা জাতীয় ঐক্য চাই। সেটা আমরা আওয়ামী লীগ নিয়েও চাই না, বিএনপিকে নিয়েও চাই না। তাদের থেকে সমদূরত্বে থেকে আমরা একটা জাতীয় ঐক্য করতে চাই। সেই জাতীয় ঐক্য যদি তৈরি হয়, সেই ঐক্যে কেউ যাদি আসে তারা গ্রহণযোগ্য হয় আসবে। সিট ভাগাভাগির এখানে কোনো  দরকার নেই। নানান খেল হচ্ছে, নানান খেলা হবে। আমি সরকারকে বলছি, এই সরকার কেয়ামত পর্যন্ত সরকার না।