জাতীয় প্রেসক্লাবে ফখরুল

খালেদা জিয়ার মুক্তি ছাড়া জনগণ ভোট হতে দেবে না

  যুগান্তর রিপোর্ট ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১:১৮ | অনলাইন সংস্করণ

খালেদা জিয়ার মুক্তি ছাড়া জনগণ ভোট হতে দেবে না
জাতীয় প্রেসক্লাবে স্মরণসভায় বক্তব্য দেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: যুগান্তর

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেছেন, সরকার কোথাও সভা-সমাবেশ করতে দেবে না। ফেসবুকে লিখলেও ৫৭ ধারায় মামলা দেয়া হচ্ছে। কাগজে লিখতে দিচ্ছে না। কিন্তু দেশের মানুষ তাদের জানিয়ে দিয়েছে শেষ রক্ষা হবে না। খালেদা জিয়ার মুক্তি ছাড়া জনগণ ভোট হতে দেবে না।

শনিবার বিকালে ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক স্মরণসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

২০ দলীয় জোটের প্রয়াত নেতা কাজী জাফর আহমেদের তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এই আলোচনা সভা হয়। জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) সভার আয়োজন করে।

দলটির মহাসচিব মোস্তফা জামাল হায়দারের সভাপতিত্বে ও যুগ্ম মহাসচিব এএসএম শামীমের পরিচালনায় আরও বক্তব্য দেন প্রেসিডিয়াম সদস্য এসএমএম আলম, আহসান হাবিব লিংকন, নওয়াব আলী আব্বাস, মাওলানা রুহুল আমীন, সেলিম মাস্টার, প্রয়াত নেতা কাজী জাফর আহমদের মেয়ে কাজী জয়া, এলডিপির রেদোয়ান আহমেদ, এনপিপির ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, এনডিপির খন্দকার গোলাম মূর্তজা, জাগপার তাসমিয়া প্রধান, খন্দকার লুৎফর রহমান, ন্যাপের গোলাম মোস্তফা ভুঁইয়া প্রমুখ।

মির্জা ফখরুল বলেন, নির্বাচনের পরিবেশ যখন হবে তখন নির্বাচন হবে। নির্বাচনের আগে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে। সংসদ ভেঙে দিতে হবে, নির্বাচন কমিশন ভেঙে যোগ্য ব্যক্তিকে দিয়ে কমিশন গঠন করতে হবে। নির্বাচনে সেনা মোতায়েন করতে হবে- এগুলোর মাধ্যমে নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হবে।

তিনি বলেন, সরকার সুষ্ঠু নির্বাচনের সব রাস্তা বন্ধ করে দিচ্ছে। সরকারের লোকেরা বহু কথা বলছেন। কিছুদিন আগে তারা ছবক দিতেন, নির্বাচনের কথা বলতেন। আসেন না নির্বাচনে, ভয় কেন?

বিএনপি মহাসচিব বলেন, কোনো কিছু পরিবর্তন না করে পুলিশ দিয়ে নেতাকর্মীদের কারাগারে আটকে রেখে একা একা হেলিকপ্টারে করে ঘুরে বেড়িয়ে ভোট নেয়া, এটি দেশের মানুষ হতে দেবে না। মানুষ গ্রহণ করবে না।

তিনি বলেন, সারা দেশ কারাগারে পরিণত হয়েছে। এটি আসলে এখন নরক হয়ে গেছে। প্রতিটি গ্রাম, ইউনিয়নে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে আগাম মামলা দিয়ে রাখা হচ্ছে। ঢাকার সব থানায়, ওয়ার্ডে আগাম মামলা দিয়ে রাখা হচ্ছে। নির্বাচন আসলে এসব মামলায় নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা হবে। কী কাপুরুষ? সরকার কতটা কাপুরুষ হলে এই ব্যবস্থা নিতে পারে।

ইদানীং ভারতের পত্রপত্রিকা ভিন্ন সুরে কথা বলছে দাবি করে মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী লিখেছেন, যদি অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন হয় আওয়ামী লীগের লজ্জাজনক পরাজয় ঘটবে। এটাই বাস্তবতা।

সরকারের বিদ্যুৎ উৎপাদন উদযাপনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, উন্নয়নের ফুলঝুরি ছড়ানো হচ্ছে। অন্ধকার আকাশে আতশবাজি করা হচ্ছে। এতে কাজ হবে না। আওয়ামী লীগ প্রচণ্ড ভয় পেয়েছে। সামনের নির্বাচনে পরাজয় ঠেকাতে অন্যায়, অগণতান্ত্রিক সব ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। বাস্তবতা ঠেকাতে আওয়ামী লীগ যা খুশি তাই করছে। টিকে থাকতে সবকিছু তছনছ করে দিচ্ছে।

প্রয়াত কাজী জাফরের স্মৃতিচারণ করে বিএনপির মহাসচিব বলেন বলেন, কিউবার নেতা ফিদেল কাস্ত্রোকে বাতিস্তা সরকার সাজা দেয়ার পর তিনি বলেছিলেন- ‘ইতিহাস আমাকে ধারণ করবে, তোমরা আমাকে সাজা দিতে পার।’ কাজী জাফর আহমেদকে ইতিহাস ধারণ করে আছে। খালেদা জিয়াকে ইতিহাস ধারণ করছে।

ঘটনাপ্রবাহ : কারাগারে খালেদা জিয়া

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter