নির্বাচনের মাঠে ফাউল করলে লাল কার্ড: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২০:২৫ | অনলাইন সংস্করণ

  যুগান্তর রিপোর্ট

স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। ফাইল ছবি

স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, বিএনপি নেতারা বলেছেন তারা কোনোভাবেই নির্বাচন হতে দেবেন না। তাদের এই আবদার অসাংবিধানিক, এ কথা গণতন্ত্রবিরোধী। এসব কথা বলে তারা সংবিধানের বিরোধিতা করছেন। 

তিনি বলেন, নির্বাচন হবে সংবিধান অনুযায়ী। নির্বচানে রেফারি থাকবে নির্বচান কমিশন। তাই বিএনপি নেতাদের প্রতি আহ্বান এসব কথা না বলে যোগ্যভাবে নির্বাচনের মাঠে খেলার প্রস্তুতি নিন। তবে মনে রাখবেন ফাউল করলে কিন্তু লাল কার্ড। 

বুধবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ের জাতীয় নাক-কান-গলা ইন্সটিটিউট মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

শ্রবণ প্রতিবন্ধী শিশুদের ‘কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট বরাদ্দপত্র বিতরণ’ উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। 

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়নের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে ৫ হাজার বেডে উন্নীত করা হবে। তিনি বলেন, আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে, আগামীতে ক্ষমতায় আসলে প্রথমেই আমরা এ কাজটি সম্পাদন করব। এর মাধ্যমে আমরা উন্নত বিশ্বের সঙ্গে আমাদের স্বাস্থ্যসেবার তুলনা করতে পারব। 

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার এতটা উন্নতি করা সম্ভব হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কারণে। তিনি সব বিষয়ে অবগত থাকেন এবং খোঁজখবর রাখেন। তার নির্দেশনাতেই সব উন্নয়ন কার্যক্রম সম্পাদিত হচ্ছে। স্বাস্থ্য খাতে উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্গত সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। আগামী ২০ অক্টোবরের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় ৫০০ শয্যার শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইন্সটিটিউট উদ্বোধন করবেন তিনি। 

তিনি বলেন, এছাড়া প্রধানমন্ত্রী আগামী ১৮ অক্টোবর পঙ্গু হাসপাতালের নবনির্মিত এক্সটেনশন ভবনে উদ্বোধন করবেন। একই সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে নবনির্মিত ডাইজেস্টিভ ডিজিজ হাসপাতাল, সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভার্টিক্যাল এক্সটেশনসহ হৃদরোগ, চক্ষু, কিডনি হাসপাতালের ভার্টিক্যাল এক্সটেশন কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন। 

কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট বিষয়ে তিনি বলেন, গরিব অসহায় মানুষরা সরকারের সহযোগিতা না পেলে এ ধরনের ব্যয়বহুল চিকিৎসার সুযোগ পাবেন না। বর্তমান সরকার তাদের স্বপ্ন পূরণের কাজ বাস্তবায়ন করছে। এ সময় তিনি ১২টি দরিদ্র পরিবারের হাতে কক্লিয়ার ইমপ্লান্টের বরাদ্দপত্র বিতরণ করেন।

এ সময় জানানো হয়, দেশে বধির মানুষের সংখ্যা প্রায় ১৬ লাখ। প্রতিবছর ২৬’শ শিশু বধিরতা নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। বর্তমানে দেশের প্রায় লক্ষাধিক শিশুর কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট প্রয়োজন। ২০১০ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নাক-কান-গলা বিভাগের অধ্যাপক ডা. আবুল হাসনাত জোয়ারদারের হাত ধরে দেশে কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট কার্যক্রম শুরু হয়। এ পর্যন্ত তিনি ও তার দল প্রায় পৌনে ৩০০ শিশুর সফল কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট স্থাপন করেছেন। প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপে যাদের ইমপ্লান্ট করা হয়েছে তারা সবাই এখন স্বাভাবিক জীবনযাপন করছেন। 

জাতীয় নাক-কান-গলা ইন্সটিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মাহমুদুল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. জিল্লার রহমান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত।