‘জয়ের খোঁজ নিতে এফবিআইকে অ্যাপ্রোচ করে বিএনপি নেতার ছেলে’
jugantor
‘জয়ের খোঁজ নিতে এফবিআইকে অ্যাপ্রোচ করে বিএনপি নেতার ছেলে’

  সংসদ প্রতিবেদক  

২৬ জানুয়ারি ২০২২, ১৮:৪০:৪৩  |  অনলাইন সংস্করণ

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন বলেছেন, বিএনপি ২০১৭ সাল পর্যন্ত চারটি এবং ২০১৯ সালে একটি ‘লবিস্ট ফার্ম’ নিয়োগ করে। আর যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ঠেকাতে জামায়াত-বিএনপি তিনটি ‘লবিস্ট ফার্ম’ নিয়োগ করে।

যুক্তরাষ্ট্রে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির লবিস্ট নিয়োগ নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যে জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এর আগে জাতীয় সংসদে অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে এ বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিবৃতি দাবি করেছিলেন বিএনপির সংসদ সদস্য মো. হারুনুর রশীদ এবং জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য মুজিবুল হক।

মন্ত্রী আবদুল মোমেন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজিব ওয়াজেদ জয় ও তার পরিবার যুক্তরাষ্ট্রে কোথায় যান, কী করেন- সে খোঁজ নেওয়ার জন্য এফবিআইয়ের প্রতি অ্যাপ্রোচ করে বিএনপি নেতার ছেলে সিজার। তারা জয়কে অপহরণের ষড়যন্ত্র করেছিল। যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে সিজার ও তার সহযোগীদের সাজাও হয়েছে। তিনি বলেন, একটি দলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে পারেন, অনুযোগ করতে পারেন। কিন্তু দেশের বিরুদ্ধে যারা এই ধরনের অপপ্রচার করে তাদের প্রতি ধিক্কার জানাই।

দেশের অমঙ্গল ডেকে এনে নিজের ক্ষুদ্র স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য বিএনপি নানামুখী অপচেষ্টা চালাচ্ছে দাবি করে একে আবদুল মোমেন বলেন, আমাদের প্রতিপক্ষ দলের নেতারা বিভিন্ন দেশের প্রায় ১৮টি কমিটির লোকজনকে চিঠি দিয়েছেন। চিঠিতে বলেছেন, দেশের সব রকমের সাহায্য বন্ধ করতে। আমেরিকার নিরাপত্তা বাংলাদেশের কারণে বিঘ্নিত হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছেন, বিশেষ করে ভাসানচরে নিয়ে যে পরিকল্পনা করেছেন, এটা আত্মঘাতী। এই আশ্রয়ের ফলে আমেরিকার আন্তঃএশিয়া পলিসি বিঘ্নিত হবে। ফলে আমেরিকার সিকিউরিটি ধ্বংস হবে। এই রকমের বাজে কথা যারা বলে ‘শেইম অন দেম’। আগামীতে এই ধরনের দুরভিসন্ধিমূলক কাজ থেকে বিরত থাকবে বলে আশা করি।

তিনি আরও বলেন, আমাদের দল সন্ত্রাসে বিশ্বাস করে না, দুরভিসন্ধিতে বিশ্বাস করে না, ষড়যন্ত্রে বিশ্বাস করে না। আমরা তাদের (বিএনপি) ষড়যন্ত্রের খবর পাই ‘টাইম টু টাইম’ কিন্তু তারা যে দুনিয়ার সবগুলো হিউম্যান রাইটস এজেন্ডকে নক করেছেন। এটার জন্য দুঃখ করতে হয়।

দেশের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় বিদেশি রাষ্ট্রগুলোতে লবিস্ট ফার্ম নিয়োগের তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরে আবদুল মোমেন বলেন, আমাদের দেশে যুদ্ধাপরাধী বিচার যখন চলে তখন আমেরিকার সরকারকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে সেই বিচার ভুল প্রমাণিত করার জন্য চেষ্টা করে ‘পিস অ্যান্ড জাস্টিস’ নামের জামায়াত-বিএনপির প্রতিষ্ঠান। তারা এক লাখ ৩২ হাজার ডলার দিয়ে এই প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ করে। তারা যুদ্ধাপরাধী মামলা বন্ধ করার জন্য পরবর্তীতে কন্ট্রাক্ট পাবলিক অ্যাফেয়ার্স আউট রিচ নামের আবার লবিস্ট নিয়োগ করে। শুধু জামায়াত নয়, বিএনপি ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০১৭ সালের এপ্রিল পর্যন্ত ২৭ লাখ ডলার খরচ করেছে। তারা প্রতি মাসে ১ লাখ ২০ হাজার ডলার খরচ করেছে। এগুলো আমেরিকার ওয়েবসাইটে আছে সবাই দেখতে পাবেন। বিএনপি ‘একিন গভমেন্ট’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান ও হুইফ্রেড তিনটি প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ দিয়েছে। সেখানে প্রতি মাসে এক লাখ ২০ হাজার ডলার খরচ করে। এরপর তারা একটি প্রতিষ্ঠানকে ১০ লাখ ৫০ হাজার ডলার দেবেন বলে নিয়োগ করেছেন।

‘জয়ের খোঁজ নিতে এফবিআইকে অ্যাপ্রোচ করে বিএনপি নেতার ছেলে’

 সংসদ প্রতিবেদক 
২৬ জানুয়ারি ২০২২, ০৬:৪০ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন বলেছেন, বিএনপি ২০১৭ সাল পর্যন্ত চারটি এবং ২০১৯ সালে একটি ‘লবিস্ট ফার্ম’ নিয়োগ করে। আর যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ঠেকাতে জামায়াত-বিএনপি তিনটি ‘লবিস্ট ফার্ম’ নিয়োগ করে।

যুক্তরাষ্ট্রে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির লবিস্ট নিয়োগ নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যে জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এর আগে জাতীয় সংসদে অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে এ বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিবৃতি দাবি করেছিলেন বিএনপির সংসদ সদস্য মো. হারুনুর রশীদ এবং জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য মুজিবুল হক। 

মন্ত্রী আবদুল মোমেন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজিব ওয়াজেদ জয় ও তার পরিবার যুক্তরাষ্ট্রে কোথায় যান, কী করেন- সে খোঁজ নেওয়ার জন্য এফবিআইয়ের প্রতি অ্যাপ্রোচ করে বিএনপি নেতার ছেলে সিজার। তারা জয়কে অপহরণের ষড়যন্ত্র করেছিল। যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে সিজার ও তার সহযোগীদের সাজাও হয়েছে। তিনি বলেন, একটি দলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে পারেন, অনুযোগ করতে পারেন। কিন্তু দেশের বিরুদ্ধে যারা এই ধরনের অপপ্রচার করে তাদের প্রতি ধিক্কার জানাই। 

দেশের অমঙ্গল ডেকে এনে নিজের ক্ষুদ্র স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য বিএনপি নানামুখী অপচেষ্টা চালাচ্ছে দাবি করে একে আবদুল মোমেন বলেন, আমাদের প্রতিপক্ষ দলের নেতারা বিভিন্ন দেশের প্রায় ১৮টি কমিটির লোকজনকে চিঠি দিয়েছেন। চিঠিতে বলেছেন, দেশের সব রকমের সাহায্য বন্ধ করতে। আমেরিকার নিরাপত্তা বাংলাদেশের কারণে বিঘ্নিত হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছেন, বিশেষ করে ভাসানচরে নিয়ে যে পরিকল্পনা করেছেন, এটা আত্মঘাতী। এই আশ্রয়ের ফলে আমেরিকার আন্তঃএশিয়া পলিসি বিঘ্নিত হবে। ফলে আমেরিকার সিকিউরিটি ধ্বংস হবে। এই রকমের বাজে কথা যারা বলে ‘শেইম অন দেম’। আগামীতে এই ধরনের দুরভিসন্ধিমূলক কাজ থেকে বিরত থাকবে বলে আশা করি।

তিনি আরও বলেন, আমাদের দল সন্ত্রাসে বিশ্বাস করে না, দুরভিসন্ধিতে বিশ্বাস করে না, ষড়যন্ত্রে বিশ্বাস করে না। আমরা তাদের (বিএনপি) ষড়যন্ত্রের খবর পাই ‘টাইম টু টাইম’ কিন্তু তারা যে দুনিয়ার সবগুলো হিউম্যান রাইটস এজেন্ডকে নক করেছেন। এটার জন্য দুঃখ করতে হয়।

দেশের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় বিদেশি রাষ্ট্রগুলোতে লবিস্ট ফার্ম নিয়োগের তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরে আবদুল মোমেন বলেন, আমাদের দেশে যুদ্ধাপরাধী বিচার যখন চলে তখন আমেরিকার সরকারকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে সেই বিচার ভুল প্রমাণিত করার জন্য চেষ্টা করে ‘পিস অ্যান্ড জাস্টিস ’ নামের জামায়াত-বিএনপির প্রতিষ্ঠান। তারা এক লাখ ৩২ হাজার ডলার দিয়ে এই প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ করে। তারা যুদ্ধাপরাধী মামলা বন্ধ করার জন্য পরবর্তীতে কন্ট্রাক্ট পাবলিক অ্যাফেয়ার্স আউট রিচ নামের আবার লবিস্ট নিয়োগ করে। শুধু জামায়াত নয়, বিএনপি ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০১৭ সালের এপ্রিল পর্যন্ত ২৭ লাখ ডলার খরচ করেছে। তারা প্রতি মাসে ১ লাখ ২০ হাজার ডলার খরচ করেছে। এগুলো আমেরিকার ওয়েবসাইটে আছে সবাই দেখতে পাবেন। বিএনপি ‘একিন গভমেন্ট’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান ও হুইফ্রেড তিনটি প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ দিয়েছে। সেখানে প্রতি মাসে এক লাখ ২০ হাজার ডলার খরচ করে। এরপর তারা একটি প্রতিষ্ঠানকে ১০ লাখ ৫০ হাজার ডলার দেবেন বলে নিয়োগ করেছেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও খবর