দেশে পরিবর্তন আসবে: ফখরুল
jugantor
দেশে পরিবর্তন আসবে: ফখরুল

  যুগান্তর রিপোর্ট  

০৪ আগস্ট ২০২০, ২১:৩৫:১৭  |  অনলাইন সংস্করণ

দেশে পরিবর্তন আসবে: ফখরুল
ফাইল ছবি

গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে দেশে পরিবর্তন আসবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, হতাশার কোনো জায়গা নেই। পরিবর্তন তো হবেই, পরিবর্তন আসতে হবে। সেই পরিবর্তনের জন্যই কাজ করতে হবে। 

মঙ্গলবার বিকালে এক ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপির উদ্যোগে স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রয়াত সভাপতি শফিউল বারী বাবু ও বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল আউয়ালের স্মরণে এই ভার্চুয়াল আলোচনা সভা হয়। গত ২৮ জুলাই শফিউল বারী বাবু ফুসফুসের জটিলতায় ও ২০ জুলাই করোনায় আক্রান্ত হয়ে আবদুল আউয়াল মারা যান।

মির্জা ফখরুল বলেন, জনগণকে সামনে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে, সবার মধ্যে ঐক্য সৃষ্টি করে আমাদেরই পরিবর্তন আনতে হবে। দেশে গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনতে হবে। শফিউল বারী বাবু ও আবদুল আউয়ালের যে ত্যাগ তার মূল্যায়ন তখনই আমরা করতে পারি- যদি সেই সংগ্রামে, সেই লড়াইয়ে আমরা সবাই সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়ে এ ভয়ংকর ফ্যাসিবাদকে পরাজিত করতে পারি।

তিনি বলেন, আমরা যে লড়াইটা লড়ছি সেটা গণতন্ত্রের জন্য লড়াই। এ দেশের মানুষের বেঁচে থাকার জন্য লড়াই, এ দেশের মানুষের যে মালিকানা তা ফেরত পাওয়ার লড়াই। এ লড়াইয়ে প্রায় বেশিরভাগ মানুষের সমর্থন রয়েছে। গণতান্ত্রিক অবস্থা তারা ফিরে পেতে চায়, গণতন্ত্রকে ফিরে পেতে চায়, অধিকার ফিরে পেতে চায়, ভোট দিতে চায়। কিন্তু হচ্ছে না, পারা যাচ্ছে না। এখানে এমন একটা শক্তি যারা পুরোপুরিভাবে সমস্ত রাষ্ট্রযন্ত্রকে দখল করে নিয়ে, ক্ষমতা দখল করে বসে সেই স্বপ্নগুলোকে খান খান করে দিচ্ছে। এজন্য এখন আমাদের ভাবতে হবে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, এখন বিশ্বে যে রাজনীতি এসে দাঁড়িয়েছে, সেখানে আমাদের গণতন্ত্রের উত্তরণটা কীভাবে? এটা এত সহজ নয়। ডিক্টেটর থেকে ডেমোক্রেসি অথবা ফ্যাসিজম থেকে ডেমোক্রেসি- এটা এত সহজে আসে না। এর জন্য অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়, অনেক প্রাইজ পে করতে হয়। আমরা কিন্তু গণতান্ত্রিক দল হিসেবে ইতোমধ্যেই প্রচুর দাম দিয়েছি, দিচ্ছি, দিয়ে চলেছি। ২০ লাখ নেতাকর্মী মিথ্যা মামলায়, এক লাখের ওপরে মামলা। আমাদের প্রায় হাজারের ওপর মানুষ গুম হয়ে গেছে, হাজারের ওপরে মানুষ খুন হয়ে গেছে। কথা বলার কোনো স্বাধীনতা নেই, বিচার পাওয়া যাচ্ছে না। অর্থনৈতিক ন্যূনতম যেটুকু স্বাধীনতা ছিল সেটাও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, এক্ষেত্রে আমাদের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব বলে আমরা মনে করি আমাদের রাজনৈতিক দল হিসেবে জনগণকে সংগঠিত করা। যেই জনগণ আমরা বিশ্বাস করি, আজকে এই যে ভয়াবহ স্বৈরাচার ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে একটা বিক্ষুব্ধ হয়ে আছে, তাদের আমাদের সংগঠিত করতে হবে। জনগণকে সংগঠিত করার মধ্য দিয়েই কিন্তু আমরা তাদের অধিকারটা ফিরিয়ে দিতে সক্ষম হব, এছাড়া হবে না।

স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, শফিউল বারী বাবু ও আউয়াল খানকে হারিয়ে আমরা একেকজন উদীয়মান তরুণ নেতাকে হারালাম। তারা নিজ নিজ এলাকায় যেভাবে কাজ করছিলেন, আমাদের ভবিষ্যত নেতৃত্ব দেয়ার জন্য তারা প্রস্তুত হচ্ছিলেন। নেতা একদিনে তৈরি হয় না। তাদের জীবনটা যদি আলোচনা করা যায়, তাহলে দেখা যাবে নেতা হতে হলে কত পরীক্ষা, কত ত্যাগ, কত জেল, কত জুলুম, কত মামলা খেয়ে একজন নেতা হতে পারে। এই দুই উদীয়মান নেতা আমাদের থেকে চলে গিয়ে বিএনপির অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। এই ক্ষতি কীভাবে পূরণ হবে সেটা আমরা এখনও বলতে পারি না।

বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহিদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানীর পরিচালনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন- দলের ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান, শামসুজ্জামান দুদু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান, যুগ্ম-মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, হাবিব-উন নবী খান সোহেল, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক কামরুজ্জামান রতন, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর শরাফত আলী সপু, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদির ভুঁইয়া জুয়েল।
 

দেশে পরিবর্তন আসবে: ফখরুল

 যুগান্তর রিপোর্ট 
০৪ আগস্ট ২০২০, ০৯:৩৫ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
দেশে পরিবর্তন আসবে: ফখরুল
ফাইল ছবি

গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে দেশে পরিবর্তন আসবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, হতাশার কোনো জায়গা নেই। পরিবর্তন তো হবেই, পরিবর্তন আসতে হবে। সেই পরিবর্তনের জন্যই কাজ করতে হবে।

মঙ্গলবার বিকালে এক ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপির উদ্যোগে স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রয়াত সভাপতি শফিউল বারী বাবু ও বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল আউয়ালের স্মরণে এই ভার্চুয়াল আলোচনা সভা হয়। গত ২৮ জুলাই শফিউল বারী বাবু ফুসফুসের জটিলতায় ও ২০ জুলাই করোনায় আক্রান্ত হয়ে আবদুল আউয়াল মারা যান।

মির্জা ফখরুল বলেন, জনগণকে সামনে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে, সবার মধ্যে ঐক্য সৃষ্টি করে আমাদেরই পরিবর্তন আনতে হবে। দেশে গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনতে হবে। শফিউল বারী বাবু ও আবদুল আউয়ালের যে ত্যাগ তার মূল্যায়ন তখনই আমরা করতে পারি- যদি সেই সংগ্রামে, সেই লড়াইয়ে আমরা সবাই সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়ে এ ভয়ংকর ফ্যাসিবাদকে পরাজিত করতে পারি।

তিনি বলেন, আমরা যে লড়াইটা লড়ছি সেটা গণতন্ত্রের জন্য লড়াই। এ দেশের মানুষের বেঁচে থাকার জন্য লড়াই, এ দেশের মানুষের যে মালিকানা তা ফেরত পাওয়ার লড়াই। এ লড়াইয়ে প্রায় বেশিরভাগ মানুষের সমর্থন রয়েছে। গণতান্ত্রিক অবস্থা তারা ফিরে পেতে চায়, গণতন্ত্রকে ফিরে পেতে চায়, অধিকার ফিরে পেতে চায়, ভোট দিতে চায়। কিন্তু হচ্ছে না, পারা যাচ্ছে না। এখানে এমন একটা শক্তি যারা পুরোপুরিভাবে সমস্ত রাষ্ট্রযন্ত্রকে দখল করে নিয়ে, ক্ষমতা দখল করে বসে সেই স্বপ্নগুলোকে খান খান করে দিচ্ছে। এজন্য এখন আমাদের ভাবতে হবে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, এখন বিশ্বে যে রাজনীতি এসে দাঁড়িয়েছে, সেখানে আমাদের গণতন্ত্রের উত্তরণটা কীভাবে? এটা এত সহজ নয়। ডিক্টেটর থেকে ডেমোক্রেসি অথবা ফ্যাসিজম থেকে ডেমোক্রেসি- এটা এত সহজে আসে না। এর জন্য অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়, অনেক প্রাইজ পে করতে হয়। আমরা কিন্তু গণতান্ত্রিক দল হিসেবে ইতোমধ্যেই প্রচুর দাম দিয়েছি, দিচ্ছি, দিয়ে চলেছি। ২০ লাখ নেতাকর্মী মিথ্যা মামলায়, এক লাখের ওপরে মামলা। আমাদের প্রায় হাজারের ওপর মানুষ গুম হয়ে গেছে, হাজারের ওপরে মানুষ খুন হয়ে গেছে। কথা বলার কোনো স্বাধীনতা নেই, বিচার পাওয়া যাচ্ছে না। অর্থনৈতিক ন্যূনতম যেটুকু স্বাধীনতা ছিল সেটাও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, এক্ষেত্রে আমাদের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব বলে আমরা মনে করি আমাদের রাজনৈতিক দল হিসেবে জনগণকে সংগঠিত করা। যেই জনগণ আমরা বিশ্বাস করি, আজকে এই যে ভয়াবহ স্বৈরাচার ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে একটা বিক্ষুব্ধ হয়ে আছে, তাদের আমাদের সংগঠিত করতে হবে। জনগণকে সংগঠিত করার মধ্য দিয়েই কিন্তু আমরা তাদের অধিকারটা ফিরিয়ে দিতে সক্ষম হব, এছাড়া হবে না।

স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, শফিউল বারী বাবু ও আউয়াল খানকে হারিয়ে আমরা একেকজন উদীয়মান তরুণ নেতাকে হারালাম। তারা নিজ নিজ এলাকায় যেভাবে কাজ করছিলেন, আমাদের ভবিষ্যত নেতৃত্ব দেয়ার জন্য তারা প্রস্তুত হচ্ছিলেন। নেতা একদিনে তৈরি হয় না। তাদের জীবনটা যদি আলোচনা করা যায়, তাহলে দেখা যাবে নেতা হতে হলে কত পরীক্ষা, কত ত্যাগ, কত জেল, কত জুলুম, কত মামলা খেয়ে একজন নেতা হতে পারে। এই দুই উদীয়মান নেতা আমাদের থেকে চলে গিয়ে বিএনপির অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। এই ক্ষতি কীভাবে পূরণ হবে সেটা আমরা এখনও বলতে পারি না।

বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহিদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানীর পরিচালনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন- দলের ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান, শামসুজ্জামান দুদু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান, যুগ্ম-মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, হাবিব-উন নবী খান সোহেল, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক কামরুজ্জামান রতন, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর শরাফত আলী সপু, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদির ভুঁইয়া জুয়েল।