সরকার নানা ভাইরাসে আক্রান্ত: নজরুল
jugantor
সরকার নানা ভাইরাসে আক্রান্ত: নজরুল

  যুগান্তর রিপোর্ট  

২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৬:৩৩:৪৬  |  অনলাইন সংস্করণ

দেশে নানামুখী সংকট চলছে। আমরা করোনার কারণে একটা মাস্ক পরি। কিন্তু সরকারের আরও মাস্ক পরা দরকার। তারা নানা ভাইরাসে আক্রান্ত। এ ধরনের ভাইরাস থেকে বাঁচতে সবার উচিত দুর্নীতিবিরোধী মাস্ক পরা।

মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক পেশাজীবী সমাবেশে এসব কথা বলেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।

।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খানকে অব্যাহতির প্রতিবাদ ও পুনর্বহালের দাবিতে সমাবেশের আয়োজন করে বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ (বিএসপিপি)।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের মার্চে একটি জাতীয় দৈনিকে নিবন্ধ লেখেন ড. মোর্শেদ হাসান খান। প্রকাশিত নিবন্ধে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি ও বঙ্গবন্ধুকে অবমাননার অভিযোগ এনে গত ৯ সেপ্টেম্বর তাকে চাকুরি থেকে অব্যাহতি দেয় ঢাবি সিন্ডিকেট। ড. মোর্শেদ বিএনপির নির্বাহী কমিটির সহ-প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক।

বিএসপিপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক ও জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি শওকত মাহমুদের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব অধ্যাপক ডা. জাহিদ হোসেনের পরিচালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন- নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, ঢাবির সাবেক প্রোভিসি ড. আ ফ ম ইউসুফ হায়দার, বিএফইউজের সভাপতি রুহুল আমিন গাজী, ডিইউজের সভাপতি কাদের গণি চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মো. শহিদুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাদা দলের আহ্বায়ক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক লুৎফর রহমান, বিএনপির সহ-স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম, সহ-প্রচার সম্পাদক কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীম, শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ সেলিম ভূইয়া, জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক জোটের মহাসচিব মো. রফিকুল ইসলাম প্রমুখ।

আরও উপস্থিত ছিলেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান, নূরুল আমিন, ইসরাফিল প্রামণিক, দাউদ খান, সাবেক ছাত্রনেতা শহীদুল্লাহ ইমরান, ইখতিয়ার রহমান কবির, স্বেচ্ছাসেবক দলের কাজী ইফতেখায়রুজ্জামান শিমুল, শামসুল আলম রানা, আবুল হাসান, বিএনপি নেত্রী জাহানারা বেগম, ঢাবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক রাকিবুল ইসলাম রাকিব, সদস্য সচিব আমান উল্লাহ আমান, ইডেন কলেজ ছাত্রদলের সানজিদা ইয়াসমিন তুলি প্রমুখ।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. মোর্শেদ হাসান খান ফার্স্ট ক্লাস পেয়েছেন। মেট্রিক ও ইন্টারে বোর্ড স্ট্যান্ড করেছেন। তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে! এভাবে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে হয়রানি করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কোনো ভুল সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। তিনি হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, আইন ভঙ্গ করে যাদের চাকরি খেয়েছে তাদেরকে পুনর্বহাল করতে হবে। এখন না হলেও একদিন তাদের পুনর্বহাল হবেই, ইনশাআল্লাহ।

নজরুল ইসলাম বলেন, দেশে নারী নির্যাতন মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। এটা এখন তিন নাম্বার ভাইরাস। এজন্যও তাদের মাস্ক পরা উচিত। তবে তারা বাঁচতে পারবেন।

তিনি বলেন, রাজনীতিবিদদের নিরুৎসাহিত করা গণতন্ত্র ও দেশের সুষ্ঠু রাজনীতির জন্য খারাপ। বিএনপি তো একদলীয় শাসনের কবরের ওপর বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছে। সুতরাং গণতন্ত্রের জন্য তাদের আবেগ কম। কিন্তু জনগণের কাছে গণতন্ত্রের আবেগ বেশি। কারণ সেটা রক্ত দিয়ে অর্জিত। আগামীতে জনগণ একটি নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে শরিক হবেন এই প্রত্যাশা করছি।

মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, আমরা এই সরকার তথা আওয়ামী লীগের সেবা আর চাই না। আপনি জনগণের মতামত নিন গদি থেকে নেমে যান। জনগণ তাদের পথ বেছে নেবে। তিনি বলেন, এই সরকারের হাতে কেউ নিরাপদ নন। আজকে দেশের কোথাও মা-বোনেরা নিরাপদ নন। ছাত্রলীগের ছেলেরা মেয়েদের ধর্ষণ করে বলে ওটা আমাদের না। এই সরকার ইতিহাস নিজেরাই বিকৃতি করছে। ড. মোর্শেদ প্রবন্ধ লিখেছেন। সেটা পছন্দ নাই হতে পারে। আপনারাও লিখেন। তাই বলে চাকরি খাবেন এই অধিকার কে দিয়েছে?

শওকত মাহমুদ বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষককে চাকরি থেকে অব্যাহতি দিয়ে কলঙ্ক লেপন করেছে। তাহলে তো যারা ড. মোর্শেদের বিরোধিতা করেছে ভবিষ্যতে সবারই চাকরি খেতে হবে।

রুহুল আমিন গাজী বলেন, ড. মোর্শেদের চাকরি থেকে অব্যাহতি অন্যায়। আজ তাদের সোনার ছেলেরা ধর্ষণ করছে। এভাবে পার পাওয়া যায় না।

ড. আ ফ ম ইউসুফ হায়দার বলেন, কেবল নৈতিক স্খলন হলেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের চাকরি যায়। কিন্তু মুক্ত বুদ্ধি চর্চা ও বাকস্বাধীনতার জন্য চাকরি যাওয়ার সুযোগ নেই। তাকে অন্যয়ভাবে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। ঢাবি প্রশাসন বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম।

কাদের গণি চৌধুরী বলেন, ড. মোর্শেদ জাতির একজন হীরার টুকরো। তাকে নিবন্ধ লেখার কারণে বহিষ্কার করা হয়েছে। এটা অন্যায় এবং বিধিবহির্ভুত। যত ষড়যন্ত্রই করুন জিয়ার অবদানকে অস্বীকার করা যাবে না। তিনি কত বড়ো নেতা ছিলেন তার জানাজা নামাজে প্রমাণিত হয়েছে।

সরকার নানা ভাইরাসে আক্রান্ত: নজরুল

 যুগান্তর রিপোর্ট 
২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৪:৩৩ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

দেশে নানামুখী সংকট চলছে।  আমরা করোনার কারণে একটা মাস্ক পরি।  কিন্তু সরকারের আরও মাস্ক পরা দরকার।  তারা নানা ভাইরাসে আক্রান্ত।  এ ধরনের ভাইরাস থেকে বাঁচতে সবার উচিত দুর্নীতিবিরোধী মাস্ক পরা।

মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক পেশাজীবী সমাবেশে এসব কথা বলেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।

।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খানকে অব্যাহতির প্রতিবাদ ও পুনর্বহালের দাবিতে সমাবেশের আয়োজন করে বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ (বিএসপিপি)।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের মার্চে একটি জাতীয় দৈনিকে নিবন্ধ লেখেন ড. মোর্শেদ হাসান খান।  প্রকাশিত নিবন্ধে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি ও বঙ্গবন্ধুকে অবমাননার অভিযোগ এনে গত ৯ সেপ্টেম্বর তাকে চাকুরি থেকে অব্যাহতি দেয় ঢাবি সিন্ডিকেট।  ড. মোর্শেদ বিএনপির নির্বাহী কমিটির সহ-প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক।

বিএসপিপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক ও জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি শওকত মাহমুদের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব অধ্যাপক ডা. জাহিদ হোসেনের পরিচালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন- নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, ঢাবির সাবেক প্রোভিসি ড. আ ফ ম ইউসুফ হায়দার, বিএফইউজের সভাপতি রুহুল আমিন গাজী, ডিইউজের সভাপতি কাদের গণি চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মো. শহিদুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাদা দলের আহ্বায়ক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক লুৎফর রহমান, বিএনপির সহ-স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম, সহ-প্রচার সম্পাদক কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীম, শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ সেলিম ভূইয়া, জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক জোটের মহাসচিব মো. রফিকুল ইসলাম প্রমুখ। 

আরও উপস্থিত ছিলেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান, নূরুল আমিন, ইসরাফিল প্রামণিক, দাউদ খান, সাবেক ছাত্রনেতা শহীদুল্লাহ ইমরান, ইখতিয়ার রহমান কবির, স্বেচ্ছাসেবক দলের কাজী ইফতেখায়রুজ্জামান শিমুল, শামসুল আলম রানা, আবুল হাসান, বিএনপি নেত্রী জাহানারা বেগম, ঢাবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক রাকিবুল ইসলাম রাকিব, সদস্য সচিব আমান উল্লাহ আমান, ইডেন কলেজ ছাত্রদলের সানজিদা ইয়াসমিন তুলি প্রমুখ।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. মোর্শেদ হাসান খান ফার্স্ট ক্লাস পেয়েছেন। মেট্রিক ও ইন্টারে বোর্ড স্ট্যান্ড করেছেন। তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে! এভাবে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে হয়রানি করা হচ্ছে।  বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কোনো ভুল সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। তিনি হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, আইন ভঙ্গ করে যাদের চাকরি খেয়েছে তাদেরকে পুনর্বহাল করতে হবে।  এখন না হলেও একদিন তাদের পুনর্বহাল হবেই, ইনশাআল্লাহ।

নজরুল ইসলাম বলেন, দেশে নারী নির্যাতন মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। এটা এখন তিন নাম্বার ভাইরাস।  এজন্যও তাদের মাস্ক পরা উচিত।  তবে তারা বাঁচতে পারবেন।

তিনি বলেন, রাজনীতিবিদদের নিরুৎসাহিত করা গণতন্ত্র ও দেশের সুষ্ঠু রাজনীতির জন্য খারাপ।  বিএনপি তো একদলীয় শাসনের কবরের ওপর বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছে।  সুতরাং গণতন্ত্রের জন্য তাদের আবেগ কম।  কিন্তু জনগণের কাছে গণতন্ত্রের আবেগ বেশি।  কারণ সেটা রক্ত দিয়ে অর্জিত।  আগামীতে জনগণ একটি নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে শরিক হবেন এই প্রত্যাশা করছি।

মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, আমরা এই সরকার তথা আওয়ামী লীগের সেবা আর চাই না।  আপনি জনগণের মতামত নিন গদি থেকে নেমে যান।  জনগণ তাদের পথ বেছে নেবে।  তিনি বলেন, এই সরকারের হাতে কেউ নিরাপদ নন।  আজকে দেশের কোথাও মা-বোনেরা নিরাপদ নন।  ছাত্রলীগের ছেলেরা মেয়েদের ধর্ষণ করে বলে ওটা আমাদের না।  এই সরকার ইতিহাস নিজেরাই বিকৃতি করছে।  ড. মোর্শেদ প্রবন্ধ লিখেছেন।  সেটা পছন্দ নাই হতে পারে।  আপনারাও লিখেন।  তাই বলে চাকরি খাবেন এই অধিকার কে দিয়েছে?

শওকত মাহমুদ বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষককে চাকরি থেকে অব্যাহতি দিয়ে কলঙ্ক লেপন করেছে।  তাহলে তো যারা ড. মোর্শেদের বিরোধিতা করেছে ভবিষ্যতে সবারই চাকরি খেতে হবে।

রুহুল আমিন গাজী বলেন, ড. মোর্শেদের চাকরি থেকে অব্যাহতি অন্যায়। আজ তাদের সোনার ছেলেরা ধর্ষণ করছে। এভাবে পার পাওয়া যায় না।

ড. আ ফ ম ইউসুফ হায়দার বলেন, কেবল নৈতিক স্খলন হলেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের চাকরি যায়।  কিন্তু মুক্ত বুদ্ধি চর্চা ও বাকস্বাধীনতার জন্য চাকরি যাওয়ার সুযোগ নেই।  তাকে অন্যয়ভাবে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। ঢাবি প্রশাসন বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম।

কাদের গণি চৌধুরী বলেন, ড. মোর্শেদ জাতির একজন হীরার টুকরো। তাকে নিবন্ধ লেখার কারণে বহিষ্কার করা হয়েছে। এটা অন্যায় এবং বিধিবহির্ভুত। যত ষড়যন্ত্রই করুন জিয়ার অবদানকে অস্বীকার করা যাবে না। তিনি কত বড়ো নেতা ছিলেন তার জানাজা নামাজে প্রমাণিত হয়েছে।