মওদুদের স্মরণ সভায় যা বললেন বিএনপি মহাসচিব
jugantor
মওদুদের স্মরণ সভায় যা বললেন বিএনপি মহাসচিব

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

২৫ এপ্রিল ২০২১, ২৩:৩৫:৫৬  |  অনলাইন সংস্করণ

দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য প্রয়াত ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের স্মরণে সভা করেছে বিএনপি।রোববার বিকালে ভার্চুয়ালি এই স্মরণ সভার আয়োজন করা হয়।

স্মরণ সভায় রাজনীতির ইতিহাসে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, মওদুদ আহমদ আজীবন অর্থাৎ ছাত্র জীবন থেকে শুরু করে শেষ দিন পর্যন্ত সক্রিয়ভাবে রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। জ্ঞানের আলোয় আলোকিত হয়ে বাংলাদেশে রাজনীতি করেছেন। আইনজীবী হিসেবে, রাজনীতিবিদ হিসেবে এবং সর্বোপরি একজন লেখক এবং গবেষক হিসেবে তিনি অবশ্যই চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন। জীবিত থাকবেন তার এলাকার মানুষের কাছে, বাংলাদেশের মানুষের কাছে, বিএনপির কাছে। আমাদের রাজনীতির ইতিহাসে, সংগ্রামে আন্দোলনের ইতিহাসে।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রয়াত এই নেতার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন তুলে ধরে তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে বক্তব্য দেন।

মওদুদ আহমদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে মির্জা ফখরুল বলেন, সত্যিকার অর্থে বলতে কি অত্যন্ত পরিশালীত ভাষায় পরিমিত বক্তব্য দেওয়া ছিল তার প্রধান গুণ। আমরা তার অতীত থেকে শুরু করে শেষ জীবন পর্যন্ত দেখেছি তার যে সময়ানুবর্তিতা, নিয়মানুবর্তিতা- এটা ছিল তার বড় রকমের একটা গুণ। তার শেষ সময়টায় আমার তার খুব কাছাকাছি আসার সুযোগ হয়েছিল। আমি তার কাছে ব্যক্তিগতভাবে ঋণী তার বিভিন্ন পরামর্শের জন্য। তিনি আমার কাছে একজন অভিভাবক ছিলেন।

সিঙ্গাপুরে যাওয়ার আগে রাজধানীর এভার কেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকাকালে শেষ সাক্ষাতের স্মৃতিচারণ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘উন্নত চিতিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে যাওয়ার আগে যখন তিনি হাসপাতালে ছিলেন সেই সময়ে আমি ও ডা. জাহিদ (এজেডএম জাহিদ হোসেন) তাকে দেখতে গিয়েছিলাম। সেখানে তিনি তখন নাকের মধ্যে মাস্ক নিয়েই আমাকে বলেছিলেন, এবার স্থায়ী কমিটির মিটিংয়ে আমি থাকতে পারব না। ইনশাআল্লাহ, পরের শনিবারে থাকব। ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ পরের মিটিংয়ে আর উপস্থিত হতে পারেননি। সিঙ্গাপুর থেকে তিনি আর ফিরে আসেননি। তিনি আর কোনো দিনই আমাদের সঙ্গে থাকবেন না। তিনি থাকবেন আমাদের হৃদয়ে, আমাদের অন্তরে।

তার সহধর্মিণী হাসনা মওদুদসহ পরিবারের সদস্যদের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করেন বিএনপি মহাসচিব।

মির্জা ফখরুলের সভাপতিত্বে ও প্রচার সম্পাদক শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানির পরিচালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন- স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মইন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, কেন্দ্রীয় নেতা বরকত উল্লাহ বুলু, মোহাম্মদ শাহজাহান, অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদীন, অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী, অ্যাডভোকেট এজে মোহাম্মদ আলী, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল ও প্রয়াত নেতা ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের সহধর্মিণী হাসনা মওদুদ।

গত ১৬ মার্চ সিঙ্গাপুরে মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ।

মওদুদের স্মরণ সভায় যা বললেন বিএনপি মহাসচিব

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
২৫ এপ্রিল ২০২১, ১১:৩৫ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য প্রয়াত ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের স্মরণে সভা করেছে বিএনপি।রোববার বিকালে ভার্চুয়ালি এই স্মরণ সভার আয়োজন করা হয়।

স্মরণ সভায় রাজনীতির ইতিহাসে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, মওদুদ আহমদ আজীবন অর্থাৎ ছাত্র জীবন থেকে শুরু করে শেষ দিন পর্যন্ত সক্রিয়ভাবে রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। জ্ঞানের আলোয় আলোকিত হয়ে বাংলাদেশে রাজনীতি করেছেন। আইনজীবী হিসেবে, রাজনীতিবিদ হিসেবে এবং সর্বোপরি একজন লেখক এবং গবেষক হিসেবে তিনি অবশ্যই চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন। জীবিত থাকবেন তার এলাকার মানুষের কাছে, বাংলাদেশের মানুষের কাছে, বিএনপির কাছে। আমাদের রাজনীতির ইতিহাসে, সংগ্রামে আন্দোলনের ইতিহাসে।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রয়াত এই নেতার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন তুলে ধরে তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে বক্তব্য দেন।

মওদুদ আহমদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে মির্জা ফখরুল বলেন, সত্যিকার অর্থে বলতে কি অত্যন্ত পরিশালীত ভাষায় পরিমিত বক্তব্য দেওয়া ছিল তার প্রধান গুণ। আমরা তার অতীত থেকে শুরু করে শেষ জীবন পর্যন্ত দেখেছি তার যে সময়ানুবর্তিতা, নিয়মানুবর্তিতা- এটা ছিল তার বড় রকমের একটা গুণ। তার শেষ সময়টায় আমার তার খুব কাছাকাছি আসার সুযোগ হয়েছিল। আমি তার কাছে ব্যক্তিগতভাবে ঋণী তার বিভিন্ন পরামর্শের জন্য। তিনি আমার কাছে একজন অভিভাবক ছিলেন।

সিঙ্গাপুরে যাওয়ার আগে রাজধানীর এভার কেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকাকালে শেষ সাক্ষাতের স্মৃতিচারণ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘উন্নত চিতিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে যাওয়ার আগে যখন তিনি হাসপাতালে ছিলেন সেই সময়ে আমি ও ডা. জাহিদ (এজেডএম জাহিদ হোসেন) তাকে দেখতে গিয়েছিলাম। সেখানে তিনি তখন নাকের মধ্যে মাস্ক নিয়েই আমাকে বলেছিলেন, এবার স্থায়ী কমিটির মিটিংয়ে আমি থাকতে পারব না। ইনশাআল্লাহ, পরের শনিবারে থাকব। ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ পরের মিটিংয়ে আর উপস্থিত হতে পারেননি। সিঙ্গাপুর থেকে তিনি আর ফিরে আসেননি। তিনি আর কোনো দিনই আমাদের সঙ্গে থাকবেন না। তিনি থাকবেন আমাদের হৃদয়ে, আমাদের অন্তরে।

তার সহধর্মিণী হাসনা মওদুদসহ পরিবারের সদস্যদের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করেন বিএনপি মহাসচিব।

মির্জা ফখরুলের সভাপতিত্বে ও প্রচার সম্পাদক শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানির পরিচালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন- স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মইন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, কেন্দ্রীয় নেতা বরকত উল্লাহ বুলু, মোহাম্মদ শাহজাহান, অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদীন, অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী, অ্যাডভোকেট এজে মোহাম্মদ আলী, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল ও প্রয়াত নেতা ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের সহধর্মিণী হাসনা মওদুদ।

গত ১৬ মার্চ সিঙ্গাপুরে মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : মওদুদ আহমদ আর নেই