‘আসুন, সবাই মিলে এই সরকারকে সরিয়ে দেই’
jugantor
‘আসুন, সবাই মিলে এই সরকারকে সরিয়ে দেই’

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

০৫ মে ২০২১, ২০:৩১:৩১  |  অনলাইন সংস্করণ

করোনা মহামারিতে সরকারের প্রণোদনায়ও দুর্নীতি হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, সরকার করোনার কারণে কিছু প্রণোদনা ঘোষণা করেছে। কিন্তু সেখানেও জনগণের জন্য কিছু করা হয়নি। সেই প্রণোদনা নিয়েও দুর্নীতি করেছে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আসলে এই সরকার হচ্ছে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন। যেহেতু তাদের কোনো জবাবদিহিতা নেই, সেজন্য মানুষের জীবন-জীবিকার প্রশ্নেও তাদের কোনো দায়িত্ববোধ নাই। যার কারণে আজকে গোটা জাতিকে একটা চরম বিপদের মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।

বুধবার বিকালে এক ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের (জেডআরএফ) উদ্যোগে করোনাভাইরাসে সংক্রমিত রোগীদের চিকিৎসা সেবার জন্য ‘জেডআরএফ ট্রিটমেন্ট অ্যাপস’ এর উদ্বোধন উপলক্ষে এই ভার্চুয়াল অনুষ্ঠান হয়।

অনুষ্ঠানে লন্ডন থেকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ভিডিও বার্তা প্রচার করা হয়। অ্যাপসটি স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতির মরহুম শফিউল বারী বাবুকে উৎসর্গ করা হয়।

করোনাভাইরাস সংক্রমণে সরকারের ব্যর্থতা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, প্রকৃত পক্ষে মহামারি শুরু হওয়ার পর থেকে সরকারের চরম অযোগ্যতা ও অজ্ঞানতা এই করোনা ভাইরাসকে নিয়ন্ত্রণের বাইরে ঠেলে দিয়েছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে কারোনা চিকিৎসার জন্য সরকারের তরফ থেকে সেই ধরনের কোনো ব্যবস্থাই গ্রহণ করা হয়নি।একদিকে করোনা টেস্টে মিথ্যাচার, অন্যদিকে চিকিৎসার ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ভ্রাষ্টাচার করে, দুর্নীতি করে তারা দেশটাকে চরম বিপদের মধ্যে ফেলে দিয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা কিছুদিন আগে দেখলাম, দুইটা হাসপাতাল উধাও হয়ে গেছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে যে হারে দুর্নীতি হচ্ছে, তাতে তারা দুর্নীতির পাহাড় গড়ে তুলেছে। স্বাস্থ্য খাত ভেঙে পড়েছে, চরম ভঙ্গুর একটা স্বাস্থ্যখাত এই সরকার তৈরি করেছে। সরকারের ব্যর্থতা-অযোগ্যতায় গোটা জাতি আজকে বিপদের সম্মুখীন হয়েছে।

করোনা মহামারির মতো এরকম সংকট গণতান্ত্রিক সরকার ছাড়া মোকাবিলা করা সম্ভব নয় উল্লে­খ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, সেজন্য আমাদের সবচেয়ে বড় যেটা প্রয়োজন তা হলো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা তৈরি করা, গণতান্ত্রিক সরকার তৈরি করা, গণতান্ত্রিক একটা পার্লামেন্ট তৈরি করা। যেখানে জবাবদিহিতা থাকবে, জনগণের প্রতি দায়িত্ববোধ থাকবে, মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক থাকবে। সেই ধরনের একটা ব্যবস্থা আমাদের তৈরি করা দরকার। আসুন, এই ফ্যাসিস্ট দানব সরকার যারা আমাদের সবকিছু তচনচ করে দিয়েছে তাদেরকে সরিয়ে সত্যিকার অর্থেই একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা করি।এজন্য যেটা প্রয়োজন আমরা সবাই মিলে সংগ্রাম করি, লড়াই করি।অবশ্যই আমরা সেই সংগ্রামের জয়ী হব।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অসুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়ে তিনি বলেন, আমাদের দেশনেত্রী খালেদা জিয়া যিনি অত্যন্ত অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে আছেন। আসুন, আমরা সবাই মিলে আন্তরিকতার সঙ্গে দোয়া করি তার আশু রোগমুক্তির জন্য।

ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ফরহাদ হালিম ডোনারের সভাপতিত্বে ও সৈয়দ ইমতিয়াজ উদ্দিন সাজিদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন- ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশিদ, মো. আশরাফুল হাসান মানিক, স্বেচ্ছাসেবক দলের মোস্তাফিজুর রহমান, আবদুল কাদির ভুইয়া জুয়েল, যুবদলের সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, ছাত্রদলের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন, শফিউল বারী বাবুর স্ত্রী বিথিকা বিনতে হোসাইন প্রমুখ।

ভার্চুয়াল সভায় আরও অংশ নেন- অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান, অধ্যাপক ড. আখতার হোসেন খান, অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুস সালাম, ড. আবদুল করিম, ডা. শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহ, আহমেদ শফিকুল হায়দার চৌধুরী পারভেজ, ব্যারিস্টার মীর হেলাল, স্বেচ্ছাসেবক দলের গোলাম সারোয়ার, সাইফুল ইসলাম ফিরোজ প্রমুখ।

‘আসুন, সবাই মিলে এই সরকারকে সরিয়ে দেই’

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
০৫ মে ২০২১, ০৮:৩১ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

করোনা মহামারিতে সরকারের প্রণোদনায়ও দুর্নীতি হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, সরকার করোনার কারণে কিছু প্রণোদনা ঘোষণা করেছে। কিন্তু সেখানেও জনগণের জন্য কিছু করা হয়নি। সেই প্রণোদনা নিয়েও দুর্নীতি করেছে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আসলে এই সরকার হচ্ছে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন। যেহেতু তাদের কোনো জবাবদিহিতা নেই, সেজন্য মানুষের জীবন-জীবিকার প্রশ্নেও তাদের কোনো দায়িত্ববোধ নাই। যার কারণে আজকে গোটা জাতিকে একটা চরম বিপদের মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।

বুধবার বিকালে এক ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের (জেডআরএফ) উদ্যোগে করোনাভাইরাসে সংক্রমিত রোগীদের চিকিৎসা সেবার জন্য ‘জেডআরএফ ট্রিটমেন্ট অ্যাপস’ এর উদ্বোধন উপলক্ষে এই ভার্চুয়াল অনুষ্ঠান হয়।

অনুষ্ঠানে লন্ডন থেকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ভিডিও বার্তা প্রচার করা হয়। অ্যাপসটি স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতির মরহুম শফিউল বারী বাবুকে উৎসর্গ করা হয়।

করোনাভাইরাস সংক্রমণে সরকারের ব্যর্থতা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, প্রকৃত পক্ষে মহামারি শুরু হওয়ার পর থেকে সরকারের চরম অযোগ্যতা ও অজ্ঞানতা এই করোনা ভাইরাসকে নিয়ন্ত্রণের বাইরে ঠেলে দিয়েছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে কারোনা চিকিৎসার জন্য সরকারের তরফ থেকে সেই ধরনের কোনো ব্যবস্থাই গ্রহণ করা হয়নি।একদিকে করোনা টেস্টে মিথ্যাচার, অন্যদিকে চিকিৎসার ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ভ্রাষ্টাচার করে, দুর্নীতি করে তারা দেশটাকে চরম বিপদের মধ্যে ফেলে দিয়েছে। 

তিনি বলেন, আমরা কিছুদিন আগে দেখলাম, দুইটা হাসপাতাল উধাও হয়ে গেছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে যে হারে দুর্নীতি হচ্ছে, তাতে তারা দুর্নীতির পাহাড় গড়ে তুলেছে। স্বাস্থ্য খাত ভেঙে পড়েছে, চরম ভঙ্গুর একটা স্বাস্থ্যখাত এই সরকার তৈরি করেছে। সরকারের ব্যর্থতা-অযোগ্যতায় গোটা জাতি আজকে বিপদের সম্মুখীন হয়েছে।

করোনা মহামারির মতো এরকম সংকট গণতান্ত্রিক সরকার ছাড়া মোকাবিলা করা সম্ভব নয় উল্লে­খ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, সেজন্য আমাদের সবচেয়ে বড় যেটা প্রয়োজন তা হলো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা তৈরি করা, গণতান্ত্রিক সরকার তৈরি করা, গণতান্ত্রিক একটা পার্লামেন্ট তৈরি করা। যেখানে জবাবদিহিতা থাকবে, জনগণের প্রতি দায়িত্ববোধ থাকবে, মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক থাকবে। সেই ধরনের একটা ব্যবস্থা আমাদের তৈরি করা দরকার। আসুন, এই ফ্যাসিস্ট দানব সরকার যারা আমাদের সবকিছু তচনচ করে দিয়েছে তাদেরকে সরিয়ে সত্যিকার অর্থেই একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা করি।এজন্য যেটা প্রয়োজন আমরা সবাই মিলে সংগ্রাম করি, লড়াই করি।অবশ্যই আমরা সেই সংগ্রামের জয়ী হব।
 
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অসুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়ে তিনি বলেন, আমাদের দেশনেত্রী খালেদা জিয়া যিনি অত্যন্ত অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে আছেন। আসুন, আমরা সবাই মিলে আন্তরিকতার সঙ্গে দোয়া করি তার আশু রোগমুক্তির জন্য।

ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ফরহাদ হালিম ডোনারের সভাপতিত্বে ও সৈয়দ ইমতিয়াজ উদ্দিন সাজিদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন- ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশিদ, মো. আশরাফুল হাসান মানিক, স্বেচ্ছাসেবক দলের মোস্তাফিজুর রহমান, আবদুল কাদির ভুইয়া জুয়েল, যুবদলের সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, ছাত্রদলের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন, শফিউল বারী বাবুর স্ত্রী বিথিকা বিনতে হোসাইন প্রমুখ।

ভার্চুয়াল সভায় আরও অংশ নেন- অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান, অধ্যাপক ড. আখতার হোসেন খান, অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুস সালাম, ড. আবদুল করিম, ডা. শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহ, আহমেদ শফিকুল হায়দার চৌধুরী পারভেজ, ব্যারিস্টার মীর হেলাল, স্বেচ্ছাসেবক দলের গোলাম সারোয়ার, সাইফুল ইসলাম ফিরোজ প্রমুখ।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন