‘নির্বাচন কমিশনে পাঁচ ফেরেস্তা আর সরকারের একজন থাকলে ফেরেস্তাও অসহায়’
jugantor
‘নির্বাচন কমিশনে পাঁচ ফেরেস্তা আর সরকারের একজন থাকলে ফেরেস্তাও অসহায়’

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২০:৪৫:৪৪  |  অনলাইন সংস্করণ

সরকার পতনের ‘একদফা’ ছাড়া অন্য কোনো দাবিতে আন্দোলন নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

শুক্রবার দুপুরে এক আলোচনা সভায় এই মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, নির্বাচন নামের শব্দ নিয়ে আমার মনে হয়, আলোচনা না করা ভালো। এখন প্রয়োজন একটাই একদফা এক দাবি, শেখ হাসিনা সরকারের পতন। এটার মধ্যে অন্য কোনো মসলা না লাগানো ভালো।

গয়েশ্বর বলেন, দেশে এত সমস্যা, সব সমস্যা নিয়ে কথা না বলে যেই সমস্যা সমাধানের যে অন্তরায় তাকে যদি আমরা পদত্যাগ করাতে পারি, তাকে যদি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা থেকে সরাতে পারি, তাহলে জনগণই সব সমস্যা সমাধানের পথ তৈরি করবে। সুতরাং আমাদের সব চিন্তা-চেতনা-সামর্থ্য একত্রিত করে আমরা একদফায় থাকি। অন্য কোনো দাবি, অন্য কোনো দফা নয়।

নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন সম্পর্কে এই বিএনপি নেতা বলেন, নির্বাচন কমিশন। পাঁচটি ফেরেস্তা দিয়ে যদি একটা নির্বাচন কমিশন হয়। আর সরকারে যদি একটা ‘শয়তান’ থাকে তাহলে ফেরেস্তাও অসহায়, কিছু করার নাই। সুতরাং নির্বাচন কমিশন কী হবে না হবে- এই তর্কে সময় দেওয়ার প্রয়োজন নাই।

সরকারপ্রধান শেখ হাসিনার উদ্দেশে তিনি বলেন, জোর করে ক্ষমতায় থাকা যায়, কিন্তু ক্ষমতা থেকে যাওয়ার পথটা যদি সুন্দর না হয় পরিণতি ভয়াবহ হয়। অনেক কিছু করছেন। আপনি যদি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করে আহ্বান করেন গণতন্ত্রের পথে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের, তাহলে আপনার বিরুদ্ধে খ্যাপা মানুষগুলো কিছু সময়ের জন্য হলেও শান্ত হবে। কারণ বাংলাদেশের মানুষ ক্ষমা করতে পারে, তারা খুব একটা এক্সট্রিম না।

গয়েশ্বর বলেন, দীর্ঘ দিনের লড়াইয়ে যে কষ্ট আছে আমাদের সেটা যার জন্য লড়াই করছি, সেই কাজ যদি আপনি এগিয়ে দেন, তাহলে আমাদের রুষ্ট মনোভাবটা পরবর্তী পর্যায়ে প্রতিফলিত নাও হতে পারে। সেটাই হলো সবচেয়ে উত্তম পথ।

এ সময় রামায়নে বর্ণিত ‘রাম নগরের যুদ্ধ’ ইতিহাস পড়ার জন্য শেখ হাসিনাকে অনুরোধ জানান গয়েশ্বর।

তিনি বলেন, আমি শেখ হাসিনাকে বলব- সেই গল্পটা পড়ুন। অর্থাৎ গণতন্ত্র আসলে ক্ষমতায় থাকবেন না, এই কথাটা জেনেই আপনি এই উদ্যোগটা নেন- গণতন্ত্রের পথটা। আবার বলছি, দল বাঁচাতে চাইলে, দেশ বাঁচাতে চাইলে, আপনার কর্মীরা ঠিকানা মতো থাকতে চাইলে আপনাকে সেই রাবনের পথ ধরতে হবে। আপনাকে গণতন্ত্রের পূজারি হতে হবে। গণতন্ত্রে মানুষের অধিকার মানুষকে ফেরত দিতে হবে। আর মানুষ যদি ফিরে না পায় গণতান্ত্রিক অধিকার, তারপর যে লণ্ডভণ্ড হবে। কী লণ্ডভণ্ড হবে- আমি দেখি বা না দেখি- সেটা খুব ভয়ানক হবে বাংলাদেশে। সেই ভয়ানক পরিস্থিতির দিকে দেশটাকে ঠেলে না দেওয়া ভালো।

দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলনের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, সরকার পতনের জন্য এক দফার জন্য প্রস্তুত হোন। ঐক্যবদ্ধভাবে শক্তি-সামর্থ্য-জনগণকে এক জায়গায় করুন। গায়ের শক্তি না থাকুক, মনের শক্তি থাকতে হবে। আমি বলব, আমরা যখন রাস্তায় থাকতে চাই আপনারা ভয় পাবেন কেন? আপনারা পাস্পরিক দ্বিধা-দ্বন্দ্ব, পছন্দ-অপছন্দ ভুলে যান। একটাই অপছন্দ শেখ হাসিনা, একটাই অপছন্দ শেখ হাসিনার সরকার। আর কোনো পছন্দ আমাদের সামনে নেই এখন। সেই কারণেই আমরা একদফার দাবিতে নামি। আর কোনো নেতার দিকে আঙুল তুলেন না। যে পারে করুক, যে পারে না, না করুক। আপনি পারেন আপনি করুন।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি কার্যালয়ের মিলনায়তনে জাতীয়তাবাদী প্রজন্ম দলের উদ্যোগে ‘নির্দলীয় সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনের দাবি’ শীর্ষক এই আলোচনা সভা হয়।

সংগঠনের সভাপতি জনি হোসেন সরকারের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবদুস সালাম, হাবিবুর রহমান হাবিব, ছাত্র দলের সদ্য কারামুক্ত ছাত্রদলের সাবেক নেতা ইসহাক সরকার, কৃষক দলের সাবেক নেতা রাকিকুল ইসলাম রিপন প্রমুখ নেতারা বক্তব্য দেন।

‘নির্বাচন কমিশনে পাঁচ ফেরেস্তা আর সরকারের একজন থাকলে ফেরেস্তাও অসহায়’

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৮:৪৫ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

সরকার পতনের ‘একদফা’ ছাড়া অন্য কোনো দাবিতে আন্দোলন নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

শুক্রবার দুপুরে এক আলোচনা সভায় এই মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, নির্বাচন নামের শব্দ নিয়ে আমার মনে হয়, আলোচনা না করা ভালো। এখন প্রয়োজন একটাই একদফা এক দাবি, শেখ হাসিনা সরকারের পতন।  এটার মধ্যে অন্য কোনো মসলা না লাগানো ভালো।

গয়েশ্বর বলেন, দেশে এত সমস্যা, সব সমস্যা নিয়ে কথা না বলে যেই সমস্যা সমাধানের যে অন্তরায় তাকে যদি আমরা পদত্যাগ করাতে পারি, তাকে যদি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা থেকে সরাতে পারি, তাহলে জনগণই সব সমস্যা সমাধানের পথ তৈরি করবে। সুতরাং আমাদের সব চিন্তা-চেতনা-সামর্থ্য একত্রিত করে আমরা একদফায় থাকি। অন্য কোনো দাবি, অন্য কোনো দফা নয়।

নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন সম্পর্কে এই বিএনপি নেতা বলেন, নির্বাচন কমিশন। পাঁচটি ফেরেস্তা দিয়ে যদি একটা নির্বাচন কমিশন হয়। আর সরকারে যদি একটা ‘শয়তান’ থাকে তাহলে ফেরেস্তাও অসহায়, কিছু করার নাই। সুতরাং নির্বাচন কমিশন কী হবে না হবে- এই তর্কে সময় দেওয়ার প্রয়োজন নাই।

সরকারপ্রধান শেখ হাসিনার উদ্দেশে তিনি বলেন, জোর করে ক্ষমতায় থাকা যায়, কিন্তু ক্ষমতা থেকে যাওয়ার পথটা যদি সুন্দর না হয় পরিণতি ভয়াবহ হয়। অনেক কিছু করছেন। আপনি যদি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করে আহ্বান করেন গণতন্ত্রের পথে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের, তাহলে আপনার বিরুদ্ধে খ্যাপা মানুষগুলো কিছু সময়ের জন্য হলেও শান্ত হবে। কারণ বাংলাদেশের মানুষ ক্ষমা করতে পারে, তারা খুব একটা এক্সট্রিম না।

গয়েশ্বর বলেন, দীর্ঘ দিনের লড়াইয়ে যে কষ্ট আছে আমাদের সেটা যার জন্য লড়াই করছি, সেই কাজ যদি আপনি এগিয়ে দেন, তাহলে আমাদের রুষ্ট মনোভাবটা পরবর্তী পর্যায়ে প্রতিফলিত নাও হতে পারে। সেটাই হলো সবচেয়ে উত্তম পথ।

এ সময় রামায়নে বর্ণিত ‘রাম নগরের যুদ্ধ’ ইতিহাস পড়ার জন্য শেখ হাসিনাকে অনুরোধ জানান গয়েশ্বর।

তিনি বলেন, আমি শেখ হাসিনাকে বলব- সেই গল্পটা পড়ুন। অর্থাৎ গণতন্ত্র আসলে ক্ষমতায় থাকবেন না, এই কথাটা জেনেই আপনি এই উদ্যোগটা নেন- গণতন্ত্রের পথটা। আবার বলছি, দল বাঁচাতে চাইলে, দেশ বাঁচাতে চাইলে, আপনার কর্মীরা ঠিকানা মতো থাকতে চাইলে আপনাকে সেই রাবনের পথ ধরতে হবে। আপনাকে গণতন্ত্রের পূজারি হতে হবে। গণতন্ত্রে মানুষের অধিকার মানুষকে ফেরত দিতে হবে। আর মানুষ যদি ফিরে না পায় গণতান্ত্রিক অধিকার, তারপর যে লণ্ডভণ্ড হবে। কী লণ্ডভণ্ড হবে- আমি দেখি বা না দেখি- সেটা খুব ভয়ানক হবে বাংলাদেশে। সেই ভয়ানক পরিস্থিতির দিকে দেশটাকে ঠেলে না দেওয়া ভালো।

দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলনের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, সরকার পতনের জন্য এক দফার জন্য প্রস্তুত হোন। ঐক্যবদ্ধভাবে শক্তি-সামর্থ্য-জনগণকে এক জায়গায় করুন। গায়ের শক্তি না থাকুক, মনের শক্তি থাকতে হবে। আমি বলব, আমরা যখন রাস্তায় থাকতে চাই আপনারা ভয় পাবেন কেন? আপনারা পাস্পরিক দ্বিধা-দ্বন্দ্ব, পছন্দ-অপছন্দ ভুলে যান। একটাই অপছন্দ শেখ হাসিনা, একটাই অপছন্দ শেখ হাসিনার সরকার। আর কোনো পছন্দ আমাদের সামনে নেই এখন। সেই কারণেই আমরা একদফার দাবিতে নামি। আর কোনো নেতার দিকে আঙুল তুলেন না। যে পারে করুক, যে পারে না, না করুক। আপনি পারেন আপনি করুন।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি কার্যালয়ের মিলনায়তনে জাতীয়তাবাদী প্রজন্ম দলের উদ্যোগে ‘নির্দলীয় সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনের দাবি’ শীর্ষক এই আলোচনা সভা হয়।

সংগঠনের সভাপতি জনি হোসেন সরকারের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবদুস সালাম, হাবিবুর রহমান হাবিব, ছাত্র দলের সদ্য কারামুক্ত ছাত্রদলের সাবেক নেতা ইসহাক সরকার, কৃষক দলের সাবেক নেতা রাকিকুল ইসলাম রিপন প্রমুখ নেতারা বক্তব্য দেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন