‘বিএনপিতে ভাঙন ধরানোর চেষ্টা হচ্ছে’
jugantor
‘বিএনপিতে ভাঙন ধরানোর চেষ্টা হচ্ছে’

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

১৪ মে ২০২২, ২১:৪৭:০৪  |  অনলাইন সংস্করণ

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি জয়নুল আবেদীন বলেছেন, ‘আমার কানে একটা কথা এসেছে- আমাদের দলের মধ্যে ভাঙন ধরানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। হালুয়া-রুটি দেবে, এই লোভে কিছু লোক চলে যাবে। যদিও আমি এ ধরনের লক্ষণ দেখি না। তারপরও যা কানে শুনি, তাদের উদ্দেশে বলতে চাই, আপনারা যদি হালুয়া-রুটির লোভে চলে যান, দলের সঙ্গে বেইমানি করেন, এই বেইমানদের জায়গা বাংলাদেশের মাটিতে হবে না।’

রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে শনিবার ঢাকা জেলা বিএনপির উদ্যোগে বিক্ষোভ সমাবেশে জয়নুল আবেদীন এসব কথা বলেন। স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপি ও তাদের জোট নেতাদের বাড়িগাড়িতে হামলার প্রতিবাদে এ সমাবেশ হয়।

পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী দেশের সব জেলা ও মহানগরে এদিন বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বিএনপি। তবে ঝালকাঠিসহ কয়েকটি জেলা ও মহানগরে কেন্দ্রীয় এ কর্মসূচি পালন করতে গেলে পুলিশ ও সরকারদলীয় নেতাকর্মীদের বাধার মুখে তা পণ্ড হয়ে যায়। সমাবেশ সফল করতে স্থায়ী কমিটির সদস্য, ভাইস চেয়ারম্যান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব, যুগ্ম মহাসচিব এবং সম্পাদক পর্যায়ের ৭৫ নেতাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা সংশ্লিষ্ট জেলা ও মহানগরে গিয়ে কর্মসূচিতে অংশ নেন।

সরকারের উদ্দেশে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, ‘এই দল জিয়াউর রহমানের দল, খালেদা জিয়ার দল, তারেক রহমানের দল। যত চেষ্টাই করেন এই দলকে ভাঙা যাবে না। এই দল মচকাবে, কিন্তু ভাঙবে না।’

তিনি বলেন, ‘সরকারকে বলব, এটা সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র না। দেশের মানুষ জেগে উঠেছে। দেশের মানুষ যে আন্দোলন করছে, এটা আপনাদের পতনের আন্দোলন। ষড়যন্ত্রের কথা বলে আপনারা থামাতে পারবেন না।’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবং তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদের সমালোচনা করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘আন্দোলনের কী দেখেছেন? শ্রীলংকার কথা স্মরণ করেন। কীভাবে জনগণের আন্দোলনের কাছে হার মেনেছে। আমাদের আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন তারেক রহমান। অতএব এ আন্দোলন থামানো যাবে না।’ এই সরকারের বেশি দিন সময় নেই বলেও উল্লে­খ করেন তিনি।

অসুস্থ খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে দেওয়া হচ্ছে না উলে­খ করে তার (খালেদা জিয়ার) এই আইনজীবী আরও বলেন, ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী একটি টাকা আত্মসাৎ না করেও তাকে জেলে পুরে রাখা হয়েছে। আইনমন্ত্রী বলেন, তার নাকি বিদেশে চিকিৎসা করারও সুযোগ নেই। সম্প্রতি মেহেরপুরের এক সভায় আইনমন্ত্রীকে চ্যালেঞ্জ করেছিলাম। বলেছিলাম, যদি আইনে সুযোগ না থাকে আমি জীবনে কোনোদিন সুপ্রিমকোর্টে ওকালতি করব না। আর যদি সুযোগ থাকে তাহলে আইনমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে। তিনি আমার চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেননি।’

সমাবেশে কেরানীগঞ্জ থানা বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট নিপুণ রায় চৌধুরী বলেন, ‘দুর্বার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে সরকারের পতন ঘটিয়ে দেশে গণতন্ত্র, আইনের শাসন, ভোটাধিকার ও জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করব। প্রয়োজনে জেলে যাব। এ সরকারের পতন না ঘটিয়ে ঘরে ফিরে যাব না।’

ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি ডা. দেওয়ান মো. সালাহউদ্দিনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আবু আশফাকের পরিচালনায় আরও বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় নেতা তমিজ উদ্দিনসহ জেলা ও থানার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

‘বিএনপিতে ভাঙন ধরানোর চেষ্টা হচ্ছে’

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
১৪ মে ২০২২, ০৯:৪৭ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি জয়নুল আবেদীন বলেছেন, ‘আমার কানে একটা কথা এসেছে- আমাদের দলের মধ্যে ভাঙন ধরানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। হালুয়া-রুটি দেবে, এই লোভে কিছু লোক চলে যাবে। যদিও আমি এ ধরনের লক্ষণ দেখি না। তারপরও যা কানে শুনি, তাদের উদ্দেশে বলতে চাই, আপনারা যদি হালুয়া-রুটির লোভে চলে যান, দলের সঙ্গে বেইমানি করেন, এই বেইমানদের জায়গা বাংলাদেশের মাটিতে হবে না।’

রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে শনিবার ঢাকা জেলা বিএনপির উদ্যোগে বিক্ষোভ সমাবেশে জয়নুল আবেদীন এসব কথা বলেন। স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপি ও তাদের জোট নেতাদের বাড়িগাড়িতে হামলার প্রতিবাদে এ সমাবেশ হয়। 

পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী দেশের সব জেলা ও মহানগরে এদিন বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বিএনপি। তবে ঝালকাঠিসহ কয়েকটি জেলা ও মহানগরে কেন্দ্রীয় এ কর্মসূচি পালন করতে গেলে পুলিশ ও সরকারদলীয় নেতাকর্মীদের বাধার মুখে তা পণ্ড হয়ে যায়। সমাবেশ সফল করতে স্থায়ী কমিটির সদস্য, ভাইস চেয়ারম্যান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব, যুগ্ম মহাসচিব এবং সম্পাদক পর্যায়ের ৭৫ নেতাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা সংশ্লিষ্ট জেলা ও মহানগরে গিয়ে কর্মসূচিতে অংশ নেন।

সরকারের উদ্দেশে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, ‘এই দল জিয়াউর রহমানের দল, খালেদা জিয়ার দল, তারেক রহমানের দল। যত চেষ্টাই করেন এই দলকে ভাঙা যাবে না। এই দল মচকাবে, কিন্তু ভাঙবে না।’ 

তিনি বলেন, ‘সরকারকে বলব, এটা সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র না। দেশের মানুষ জেগে উঠেছে। দেশের মানুষ যে আন্দোলন করছে, এটা আপনাদের পতনের আন্দোলন। ষড়যন্ত্রের কথা বলে আপনারা থামাতে পারবেন না।’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবং তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদের সমালোচনা করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘আন্দোলনের কী দেখেছেন? শ্রীলংকার কথা স্মরণ করেন। কীভাবে জনগণের আন্দোলনের কাছে হার মেনেছে। আমাদের আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন তারেক রহমান। অতএব এ আন্দোলন থামানো যাবে না।’ এই সরকারের বেশি দিন সময় নেই বলেও উল্লে­খ করেন তিনি। 

অসুস্থ খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে দেওয়া হচ্ছে না উলে­খ করে তার (খালেদা জিয়ার) এই আইনজীবী আরও বলেন, ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী একটি টাকা আত্মসাৎ না করেও তাকে জেলে পুরে রাখা হয়েছে। আইনমন্ত্রী বলেন, তার নাকি বিদেশে চিকিৎসা করারও সুযোগ নেই। সম্প্রতি মেহেরপুরের এক সভায় আইনমন্ত্রীকে চ্যালেঞ্জ করেছিলাম। বলেছিলাম, যদি আইনে সুযোগ না থাকে আমি জীবনে কোনোদিন সুপ্রিমকোর্টে ওকালতি করব না। আর যদি সুযোগ থাকে তাহলে আইনমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে। তিনি আমার চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেননি।’

সমাবেশে কেরানীগঞ্জ থানা বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট নিপুণ রায় চৌধুরী বলেন, ‘দুর্বার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে সরকারের পতন ঘটিয়ে দেশে গণতন্ত্র, আইনের শাসন, ভোটাধিকার ও জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করব। প্রয়োজনে জেলে যাব। এ সরকারের পতন না ঘটিয়ে ঘরে ফিরে যাব না।’

ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি ডা. দেওয়ান মো. সালাহউদ্দিনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আবু আশফাকের পরিচালনায় আরও বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় নেতা তমিজ উদ্দিনসহ জেলা ও থানার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন