নয়াপল্টনেই সমাবেশ হবে, সিদ্ধান্ত বদল করুন: সরকারকে ফখরুল
jugantor
নয়াপল্টনেই সমাবেশ হবে, সিদ্ধান্ত বদল করুন: সরকারকে ফখরুল

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

৩০ নভেম্বর ২০২২, ২১:৫২:২৬  |  অনলাইন সংস্করণ

ঢাকার বিভাগীয় গণসমাবেশ নয়াপল্টনেই হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি সরকারকে উদ্দেশ করে বলেন, ঢাকার গণসমাবেশের জন্য যে জায়গা আপনারা (সরকার) দিতে চান সেখানে আমরা কমফোর্টেবল নই, খুব পরিষ্কার কথা।

‘চারদিকে দেওয়াল দিয়ে ঘেরা, চতুর্দিকে যাওয়ার রাস্তা নেই। একটা মাত্র গেট যে গেট দিয়ে এক-দুই জন মানুষ ঢুকতে পারে, বেরুতে পারে না। তাই পরিষ্কার করে আবার বলছি, এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করুন। জনগণের ভাষা বুঝতে পেরে নয়াপল্টনে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করার সব ব্যবস্থা গ্রহণ করুন। এটা আপনাদের দায়িত্ব। তা না হলে সব দায়-দায়িত্ব আপনাদের।’

বুধবার বিকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ বিএনপির উদ্যোগে ‘পুলিশের মিথ্যা ও গায়েবি মামলা ও নির্যাতনের প্রতিবাদে’ এ সমাবেশ হয়। ট্রাকের ওপরে অস্থায়ী মঞ্চ নির্মাণ করে নেতারা বক্তব্য দেন।

ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে এবং উত্তরের সদস্য সচিব আমিনুল হক ও দক্ষিণের সদস্য সচিব রফিকুল আলম মজনুর পরিচালনায় আরও বক্তব্য দেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, আবুল খায়ের ভুঁইয়া, কেন্দ্রীয় নেতা খায়রুল কবির খোকন, ফজলুল হক মিলন, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, মীর সরাফত আলী সপু, যুবদলের সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, স্বেচ্ছাসেবক দলের এসএম জিলানি, কৃষক দলের হাসান জাফির তুহিন, মুক্তিযোদ্ধা দলের সাদেক আহমেদ খান, তাঁতী দলের আবুল কালাম আজাদ, মৎস্যজীবী দলের রফিকুল ইসলাম মাহতাব, ছাত্রদলের কাজী রওনাকুল ইসলাম শ্রাবণ প্রমুখ।

মির্জা ফখরুল বলেন, আগামী ১০ ডিসেম্বর নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে গণসমাবেশ হবে। এটা একটা চ্যালেঞ্জ। নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নয়, নয়াপল্টনেই সমাবেশ হবে। আপনারা যে আশা নিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন, সারা বাংলাদেশের মানুষ ঘুরে দাঁড়িয়েছে। ঢাকার মানুষের কাছে, ঢাকা বিভাগের কাছে এটা একটা চ্যালেঞ্জ। ঢাকার গণসমাবেশ সফল করতে হবে, সফল হবেই। মানুষের কাফেলা এগিয়ে যাবে সামনের দিকে।

মঙ্গলবার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ২৬ শর্ত সাপেক্ষে বিএনপিকে ১০ ডিসেম্বর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করার অনুমতি দেয়। এ প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ‘আমরা একমাস আগে পার্টির তরফ থেকে ঢাকা পুলিশ কমিশনারকে চিঠি দিয়েছি আমরা নয়াপল্টনের সামনেই বিভাগীয় সমাবেশটা করতে চাই। যে চিঠি দিয়েছে এটা ঢাকা বিভাগের সমাবেশ। এটা কোনো জাতীয় সমাবেশ নয়। ঢাকা বিভাগের সমাবেশ করতে আমাদেরকে নয়াপল্টনের এই খানেই জায়গা দেওয়ার ব্যবস্থ করার কথা বলেছি। এটা পরিষ্কার কথা। আমরা বার বার বলেছি।

তিনি বলেন, ‘যে যানবাহন জটের কথা বলা হয়েছে এটা খোঁড়া যুক্তি। শনিবার দিন সরকারি ছুটির দিন। সেদিন কোনো রকমের যানবাহনের সেই জট থাকে না। এদের কানে কথা যায় না, এরা বুঝতে চায় না। আগেও বলেছি দেওয়ালের লেখা ওরা বুঝতে চায় না, মানুষের চোখের ভাষা বুঝতে চায় না। সেই কারণে তারা একটার পর একটা ভুল সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘ওই সাজিয়ে সাজিয়ে আর মামলা দেবেন না। শেষ রক্ষা কি হয়? আপনারা দেখেছেন সেনশন এসেছে। আবার জনগণের সেনশন যদি আসে তাহলে আরও ভয়াবহ পরিস্থিতি হবে। পরিষ্কার কথা গায়েবি মামলা বন্ধ করুন, হামলা বন্ধ করুন, গ্রেফতার বন্ধ করুন এবং জনগণের যে আন্দোলন সেই আন্দোলনকে শান্তিপূর্ণভাবে চলতে দিন।’

নয়াপল্টনে অতীতে বিভিন্ন সমাবেশ অনুষ্ঠানের কথা উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এখানে (নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের সড়কে) বহু সমাবেশ হয়েছে। এখানে জাতীয় সমাবেশ হয়েছে, মহাসমাবেশ হয়েছে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এখানে সভাপতিত্ব করেছেন। ২০ দলীয় জোটের সমাবেশ হয়েছে। কোনো দিন কোনো সমস্যা হয়নি।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘পরিষ্কার করে বলতে চাই- আমরা শান্তিপূর্ণভাবে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমরা এই আন্দোলন করছি। এই আন্দোলনে আপনারা অযথা গত এক মাস ধরে যেভাবে অন্যায়-অত্যাচার-দমনমূলক কাজ করছেন সেই কাজগুলো গণতন্ত্রের জন্য ভালো নয়, রাষ্ট্রের জন্য ভালো নয়। আপনাদের জন্যও ভালো নয়। আপনারা পথ খোলা রাখছেন না। আবারো বলছি, সেফ এক্সিটের ব্যবস্থা করে নিন। তা না হলে এদেশের ইতিহাস আপনাদের জানার কথা।’

‘সরকার ভীত হয়ে সমাবেশ বন্ধ করতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করছে’ এমন অভিযোগ করে বিএনপি মহাসচিব জানান, ‘গত ৭ দিনে ১৬৯টি মামলা দিয়েছে। এসব মামলায় আসামি করা হয়েছে ৬ হাজার ৭২৩ জনকে। গ্রেফতার করা হয়েছে ৬ শতাধিক নেতাকর্মীকে।’

নয়াপল্টনেই সমাবেশ হবে, সিদ্ধান্ত বদল করুন: সরকারকে ফখরুল

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
৩০ নভেম্বর ২০২২, ০৯:৫২ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

ঢাকার বিভাগীয় গণসমাবেশ নয়াপল্টনেই হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি সরকারকে উদ্দেশ করে বলেন, ঢাকার গণসমাবেশের জন্য যে জায়গা আপনারা (সরকার) দিতে চান সেখানে আমরা কমফোর্টেবল নই, খুব পরিষ্কার কথা। 

‘চারদিকে দেওয়াল দিয়ে ঘেরা, চতুর্দিকে যাওয়ার রাস্তা নেই। একটা মাত্র গেট যে গেট দিয়ে এক-দুই জন মানুষ ঢুকতে পারে, বেরুতে পারে না। তাই পরিষ্কার করে আবার বলছি, এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করুন। জনগণের ভাষা বুঝতে পেরে নয়াপল্টনে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করার সব ব্যবস্থা গ্রহণ করুন। এটা আপনাদের দায়িত্ব। তা না হলে সব দায়-দায়িত্ব আপনাদের।’

বুধবার বিকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। 

ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ বিএনপির উদ্যোগে ‘পুলিশের মিথ্যা ও গায়েবি মামলা ও নির্যাতনের প্রতিবাদে’ এ সমাবেশ হয়। ট্রাকের ওপরে অস্থায়ী মঞ্চ নির্মাণ করে নেতারা বক্তব্য দেন। 

ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে এবং উত্তরের সদস্য সচিব আমিনুল হক ও দক্ষিণের সদস্য সচিব রফিকুল আলম মজনুর পরিচালনায় আরও বক্তব্য দেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, আবুল খায়ের ভুঁইয়া, কেন্দ্রীয় নেতা খায়রুল কবির খোকন, ফজলুল হক মিলন, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, মীর সরাফত আলী সপু, যুবদলের সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, স্বেচ্ছাসেবক দলের এসএম জিলানি, কৃষক দলের হাসান জাফির তুহিন, মুক্তিযোদ্ধা দলের সাদেক আহমেদ খান, তাঁতী দলের আবুল কালাম আজাদ, মৎস্যজীবী দলের রফিকুল ইসলাম মাহতাব, ছাত্রদলের কাজী রওনাকুল ইসলাম শ্রাবণ প্রমুখ।

মির্জা ফখরুল বলেন, আগামী ১০ ডিসেম্বর নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে গণসমাবেশ হবে। এটা একটা চ্যালেঞ্জ। নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নয়, নয়াপল্টনেই সমাবেশ হবে। আপনারা যে আশা নিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন, সারা বাংলাদেশের মানুষ ঘুরে দাঁড়িয়েছে। ঢাকার মানুষের কাছে, ঢাকা বিভাগের কাছে এটা একটা চ্যালেঞ্জ। ঢাকার গণসমাবেশ সফল করতে হবে, সফল হবেই। মানুষের কাফেলা এগিয়ে যাবে সামনের দিকে। 

মঙ্গলবার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ২৬ শর্ত সাপেক্ষে বিএনপিকে ১০ ডিসেম্বর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করার অনুমতি দেয়। এ প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ‘আমরা একমাস আগে পার্টির তরফ থেকে ঢাকা পুলিশ কমিশনারকে চিঠি দিয়েছি আমরা নয়াপল্টনের সামনেই বিভাগীয় সমাবেশটা করতে চাই। যে চিঠি দিয়েছে এটা ঢাকা বিভাগের সমাবেশ। এটা কোনো জাতীয় সমাবেশ নয়। ঢাকা বিভাগের সমাবেশ করতে আমাদেরকে নয়াপল্টনের এই খানেই জায়গা দেওয়ার ব্যবস্থ করার কথা বলেছি। এটা পরিষ্কার কথা। আমরা বার বার বলেছি।

তিনি বলেন, ‘যে যানবাহন জটের কথা বলা হয়েছে এটা খোঁড়া যুক্তি। শনিবার দিন সরকারি ছুটির দিন। সেদিন কোনো রকমের যানবাহনের সেই জট থাকে না। এদের কানে কথা যায় না, এরা বুঝতে চায় না। আগেও বলেছি দেওয়ালের লেখা ওরা বুঝতে চায় না, মানুষের চোখের ভাষা বুঝতে চায় না। সেই কারণে তারা একটার পর একটা ভুল সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘ওই সাজিয়ে সাজিয়ে আর মামলা দেবেন না। শেষ রক্ষা কি হয়? আপনারা দেখেছেন সেনশন এসেছে। আবার জনগণের সেনশন যদি আসে তাহলে আরও ভয়াবহ পরিস্থিতি হবে। পরিষ্কার কথা গায়েবি মামলা বন্ধ করুন, হামলা বন্ধ করুন, গ্রেফতার বন্ধ করুন এবং জনগণের যে আন্দোলন সেই আন্দোলনকে শান্তিপূর্ণভাবে চলতে দিন।’

নয়াপল্টনে অতীতে বিভিন্ন সমাবেশ অনুষ্ঠানের কথা উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এখানে (নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের সড়কে) বহু সমাবেশ হয়েছে। এখানে জাতীয় সমাবেশ হয়েছে, মহাসমাবেশ হয়েছে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এখানে সভাপতিত্ব করেছেন। ২০ দলীয় জোটের সমাবেশ হয়েছে। কোনো দিন কোনো সমস্যা হয়নি।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘পরিষ্কার করে বলতে চাই- আমরা শান্তিপূর্ণভাবে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমরা এই আন্দোলন করছি। এই আন্দোলনে আপনারা অযথা গত এক মাস ধরে যেভাবে অন্যায়-অত্যাচার-দমনমূলক কাজ করছেন সেই কাজগুলো গণতন্ত্রের জন্য ভালো নয়, রাষ্ট্রের জন্য ভালো নয়। আপনাদের জন্যও ভালো নয়। আপনারা পথ খোলা রাখছেন না। আবারো বলছি, সেফ এক্সিটের ব্যবস্থা করে নিন। তা না হলে এদেশের ইতিহাস আপনাদের জানার কথা।’

‘সরকার ভীত হয়ে সমাবেশ বন্ধ করতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করছে’ এমন অভিযোগ করে বিএনপি মহাসচিব জানান, ‘গত ৭ দিনে ১৬৯টি মামলা দিয়েছে। এসব মামলায় আসামি করা হয়েছে ৬ হাজার ৭২৩ জনকে। গ্রেফতার করা হয়েছে ৬ শতাধিক নেতাকর্মীকে।’

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন