‘জাতীয় পার্টি বাংলাদেশে প্রথম বা দ্বিতীয় শক্তি হিসেবে থাকতে চায়’
jugantor
‘জাতীয় পার্টি বাংলাদেশে প্রথম বা দ্বিতীয় শক্তি হিসেবে থাকতে চায়’

  যুগান্তর রিপোর্ট  

১৪ নভেম্বর ২০২০, ২১:০২:৩৮  |  অনলাইন সংস্করণ

জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান ও বিরোধী দলীয় উপনেতা জিএম কাদের বলেছেন, ১২ নভেম্বর কারা বাসে আগুন দিয়েছে- তা বের করতে হবে। সরকার বিএনপিকে দোষ দিচ্ছে আবার বিএনপি বলছে তারা দায়ী নয়। আগুন সন্ত্রাস মেনে নেয়া যায় না। কোনোমতেই দেশকে অস্থিতিশীল করতে দেয়া যাবে না। আগুন সন্ত্রাস প্রতিরোধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

শনিবার জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের বনানী কার্যালয় মিলনায়তনে জাতীয় মৎস্যজীবী পার্টির পরিচিতি ও মতবিনিময় সভায় জিএম কাদের এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, আস্থা ও নিরাপত্তাহীনতার মাঝে মানুষের কাছে আস্থার রাজনৈতিক শক্তি হচ্ছে জাতীয় পার্টি। তিনি বলেন, দেশের মানুষ চায় জাতীয় পার্টি আরও শক্তিশালী হয়ে মানুষের কল্যাণে দায়িত্ব গ্রহণ করুক। দেশের মানুষ অত্যন্ত আগ্রহ নিয়ে জাতীয় পার্টির দিকে তাকিয়ে আছে। জাতীয় পার্টি বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রথম বা দ্বিতীয় শক্তি হিসেবে টিকে থাকতে চায়। জাতীয় পার্টি মানুষের প্রত্যাশা পূরণের সংগ্রাম এগিয়ে নিতে রাজনীতি করছে।

জিএম কাদের বলেন, রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারের প্রধান হিসেবে পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ অনেক সংস্কারমূলক কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন করেছেন। তিনি বলেন, ঊপনিবেশিক প্রথা ভেঙে উপজেলা পদ্ধতি প্রবর্তন করেছেন। ওষুধ নীতি করে বাংলাদেশের ওষুধ শিল্পকে রফতানিমুখী শিল্পে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তিনি বলেন, এখন সবাই অনুধাবন করছেন পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের স্বাস্থ্যনীতি ও শিক্ষানীতি বাস্তবায়ন জরুরি হয়ে পড়েছে। বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা করে এরশাদের সংস্কারমূলক কর্মকাণ্ডকে বিতর্কিত করতেই তাকে স্বৈরাচার বলা হয়েছে। দেশের মানুষ এখন উপলব্ধি করতে শুরু করেছেন, এরশাদই প্রকৃত দেশপ্রেমিক রাষ্ট্রনায়ক ছিলেন।

তিনি বলেন, ৯০ সালের পরে তিন জোটের রূপরেখা অনুযায়ী, সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা হয়েছে। কিন্তু সংবিধানে ৭০ ধারা সংযোজনের মাধ্যমে ৯০ সালের পর থেকে দেশে পরোক্ষভাবে একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ৭০ ধারার কারণে সংসদের কাছে সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয় না। আর জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে গণতন্ত্র বা সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয় না। জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে দুর্নীতি রোধ করা সম্ভব হয় না। ফলে জবাবদিহিতার অভাবে দেশে দুর্নীতি ও টেন্ডারবাজি স্বাভাবিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, জাতীয় পার্টি ঐক্যবদ্ধ। ভেদাভেদ ভুলে জাতীয় পার্টি পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের আদর্শ বাস্তবায়ন করতে এগিয়ে যাবে।

জাতীয় মৎস্যজীবী পার্টির সভাপতি আজাহার সরকারের সভাপতিত্বে এবং মীর সামসুল আলম লিপটনের পরিচালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন- জাতীয় পার্টির মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু, প্রেসিডিয়াম সদস্য ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী, রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, এমরান হোসেন মিয়া, উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ড. নুরুল আজহার শামীম, সরদার শাহজাহান, ভাইস চেয়ারম্যান আহসান আদেলুর রহমান এমপি, মোস্তফা আল মাহমুদ, হুসেইন মকবুল শাহরিয়ার আসিফ, যুগ্ম মহাসচিব গোলাম মোহাম্মদ রাজু, আবদুল হামিদ ভাসানী, মো. বেলাল হোসেন।

সভায় উপস্থিত ছিলেন- সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য কর্নেল (অব.) সাব্বির আহমেদ, এনাম জয়নাল আবেদিন, মাখন সরকার, হুমায়ুন খান, সুলতান মাহমুদ, এমএ রাজ্জাক খান, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা পার্টির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ইসহাক ভূঁইয়া, মিজানুর রহমান মিরু, যুগ্ম সম্পাদক মাহমুদ আলম, সমরেশ মণ্ডল মানিক, এসএম রহমান পারভেজ, কেন্দ্রীয় নেতা রিতু নূর, সোলায়মান সামি, মোতাহার হোসেন সিদ্দিকী, ফারুক শেঠ, গোলাম মোস্তফা, মনিরুজ্জামান টিটু, জিয়াউর রহমান বিপুল প্রমুখ।

‘জাতীয় পার্টি বাংলাদেশে প্রথম বা দ্বিতীয় শক্তি হিসেবে থাকতে চায়’

 যুগান্তর রিপোর্ট 
১৪ নভেম্বর ২০২০, ০৯:০২ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান ও বিরোধী দলীয় উপনেতা জিএম কাদের বলেছেন, ১২ নভেম্বর কারা বাসে আগুন দিয়েছে- তা বের করতে হবে। সরকার বিএনপিকে দোষ দিচ্ছে আবার বিএনপি বলছে তারা দায়ী নয়। আগুন সন্ত্রাস মেনে নেয়া যায় না। কোনোমতেই দেশকে অস্থিতিশীল করতে দেয়া যাবে না। আগুন সন্ত্রাস প্রতিরোধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

শনিবার জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের বনানী কার্যালয় মিলনায়তনে জাতীয় মৎস্যজীবী পার্টির পরিচিতি ও মতবিনিময় সভায় জিএম কাদের এসব কথা বলেন। 

তিনি আরও বলেন, আস্থা ও নিরাপত্তাহীনতার মাঝে মানুষের কাছে আস্থার রাজনৈতিক শক্তি হচ্ছে জাতীয় পার্টি। তিনি বলেন, দেশের মানুষ চায় জাতীয় পার্টি আরও শক্তিশালী হয়ে মানুষের কল্যাণে দায়িত্ব গ্রহণ করুক। দেশের মানুষ অত্যন্ত আগ্রহ নিয়ে জাতীয় পার্টির দিকে তাকিয়ে আছে। জাতীয় পার্টি বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রথম বা দ্বিতীয় শক্তি হিসেবে টিকে থাকতে চায়। জাতীয় পার্টি মানুষের প্রত্যাশা পূরণের সংগ্রাম এগিয়ে নিতে রাজনীতি করছে। 

জিএম কাদের বলেন, রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারের প্রধান হিসেবে পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ অনেক সংস্কারমূলক কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন করেছেন। তিনি বলেন, ঊপনিবেশিক প্রথা ভেঙে উপজেলা পদ্ধতি প্রবর্তন করেছেন। ওষুধ নীতি করে বাংলাদেশের ওষুধ শিল্পকে রফতানিমুখী শিল্পে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তিনি বলেন, এখন সবাই অনুধাবন করছেন পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের স্বাস্থ্যনীতি ও শিক্ষানীতি বাস্তবায়ন জরুরি হয়ে পড়েছে। বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা করে এরশাদের সংস্কারমূলক কর্মকাণ্ডকে বিতর্কিত করতেই তাকে স্বৈরাচার বলা হয়েছে। দেশের মানুষ এখন উপলব্ধি করতে শুরু করেছেন, এরশাদই প্রকৃত দেশপ্রেমিক রাষ্ট্রনায়ক ছিলেন। 

তিনি বলেন, ৯০ সালের পরে তিন জোটের রূপরেখা অনুযায়ী, সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা হয়েছে। কিন্তু সংবিধানে ৭০ ধারা সংযোজনের মাধ্যমে ৯০ সালের পর থেকে দেশে পরোক্ষভাবে একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ৭০ ধারার কারণে সংসদের কাছে সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয় না। আর জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে গণতন্ত্র বা সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয় না। জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে দুর্নীতি রোধ করা সম্ভব হয় না। ফলে জবাবদিহিতার অভাবে দেশে দুর্নীতি ও টেন্ডারবাজি স্বাভাবিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, জাতীয় পার্টি ঐক্যবদ্ধ। ভেদাভেদ ভুলে জাতীয় পার্টি পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের আদর্শ বাস্তবায়ন করতে এগিয়ে যাবে। 

জাতীয় মৎস্যজীবী পার্টির সভাপতি আজাহার সরকারের সভাপতিত্বে এবং মীর সামসুল আলম লিপটনের পরিচালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন- জাতীয় পার্টির মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু, প্রেসিডিয়াম সদস্য ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী, রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, এমরান হোসেন মিয়া, উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ড. নুরুল আজহার শামীম, সরদার শাহজাহান, ভাইস চেয়ারম্যান আহসান আদেলুর রহমান এমপি, মোস্তফা আল মাহমুদ, হুসেইন মকবুল শাহরিয়ার আসিফ, যুগ্ম মহাসচিব গোলাম মোহাম্মদ রাজু, আবদুল হামিদ ভাসানী, মো. বেলাল হোসেন। 

সভায় উপস্থিত ছিলেন- সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য কর্নেল (অব.) সাব্বির আহমেদ, এনাম জয়নাল আবেদিন, মাখন সরকার, হুমায়ুন খান, সুলতান মাহমুদ, এমএ রাজ্জাক খান, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা পার্টির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ইসহাক ভূঁইয়া, মিজানুর রহমান মিরু, যুগ্ম সম্পাদক মাহমুদ আলম, সমরেশ মণ্ডল মানিক, এসএম রহমান পারভেজ, কেন্দ্রীয় নেতা রিতু নূর, সোলায়মান সামি, মোতাহার হোসেন সিদ্দিকী, ফারুক শেঠ, গোলাম মোস্তফা, মনিরুজ্জামান টিটু, জিয়াউর রহমান বিপুল প্রমুখ। 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন