নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে জাতীয় পার্টি নেতাদের বৈঠক
jugantor
নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে জাতীয় পার্টি নেতাদের বৈঠক

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

২৬ মার্চ ২০২১, ১৬:৩৬:৩৫  |  অনলাইন সংস্করণ

ঢাকায় সফররত ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির নেতারা। শুক্রবার দুপুর ১টা থেকে ১টা ২৫ মিনিট পর্যন্ত হোটেল প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকে বিরোধী দলীয় নেতা ও জাতীয় পার্টির প্রধান পৃষ্ঠপোষক বেগম রওশন এরশাদ, বিরোধী দলীয় উপনেতা ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের, জাতীয় পার্টি মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু ও জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশের সুবর্ণজয়ন্তী উৎসব ও মুজিব শতবর্ষের অনুষ্ঠানে অংশ নেয়ায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে অভিনন্দন জানান জাতীয় পার্টি নেতারা।

বৈঠকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশের ঐতিহাসিক আয়োজনে উপস্থিত হতে পেরে সম্মানিত বোধ করছি। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের অকৃত্রিম বন্ধুত্ব অক্ষয় হয়ে থাকবে। ভারত সব সময় বাংলাদেশের পাশে থাকবে।

এসময় জাতীয় পার্টি নেতারা মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অকৃত্রিম সহায়তা, মুজিব-ইন্দিরা চুক্তি বাস্তবায়ন, করোনাকালে বাংলাদেশকে টিকা ও অ্যাম্বুলেন্স দেয়ায় ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

তিস্তাসহ অভিন্ন ৫৪টি নদীর পানি বন্টনে বাংলাদেশ যেন ন্যায্য হিস্যা পায় এ ব্যাপারে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেন বিরোধী দলীয় নেতারা। এছাড়া অন-এরাইভাল ভিসা প্রদান ও স্কলারশিপ বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা করেন।

বাংলাদেশ ও ভারতের জনগণের সম্পর্ক উন্নয়নের বিষয়ে আলোচনা হয় সভায়। দুদেশের কানেকটিভিটি বাড়ানোর বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বাংলাদেশ ও ভারতের সাথে বিদ্যমান সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরো জোরালো হবে এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেন জাতীয় পার্টি নেতারা।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে যোগ দিতে নরেন্দ্র মোদি শুক্রবার সকালে দুদিনের সফরে ঢাকায় আসেন।

সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে মোদি জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানাতে যান।

একই দিন বিকালে জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে ‘গেস্ট অব অনার’ হিসাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে।

সন্ধ্যায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যৌথভাবে তিনি বঙ্গবন্ধু-বাপু ডিজিটাল প্রদর্শনী পরিদর্শন করবেন।

সফরের দ্বিতীয় দিন, ২৭ মার্চ সকালে মোদি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধ পরিদর্শন করে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন।

তাছাড়া, তিনি সাতক্ষীরা ও গোপালগঞ্জে দুটি মন্দির পরিদর্শন করে স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত পরিসরে মতবিনিময় করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

শনিবার বিকালে দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে একান্ত বৈঠক ছাড়াও প্রতিনিধি পর্যায়ে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় আলোচিত হবে। বৈঠকের প্রান্তিকে দুই প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে কিছু সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর এবং কয়েকটি প্রকল্প উদ্বোধনের সম্ভাবনা রয়েছে।

সমঝোতা স্মারক এবং প্রকল্প উদ্বোধনের বিষয়টি চূড়ান্তকরণের জন্য দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। উভয় প্রধানমন্ত্রী একই সঙ্গে নিজ নিজ দেশের পক্ষে বাংলাদেশ-ভারত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে পৃথক দুটি স্মারক ডাকটিকিট উন্মোচন করবেন।

এছাড়া ভারতের প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতির সঙ্গে তার কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। সফর শেষে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ২৭ মার্চ রাতে দিল্লির উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন।

নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে জাতীয় পার্টি নেতাদের বৈঠক

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
২৬ মার্চ ২০২১, ০৪:৩৬ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

ঢাকায় সফররত ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির নেতারা। শুক্রবার দুপুর ১টা থেকে ১টা ২৫ মিনিট পর্যন্ত হোটেল প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকে বিরোধী দলীয় নেতা ও জাতীয় পার্টির প্রধান পৃষ্ঠপোষক বেগম রওশন এরশাদ,  বিরোধী দলীয় উপনেতা ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের, জাতীয় পার্টি মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু ও জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশের সুবর্ণজয়ন্তী উৎসব ও মুজিব শতবর্ষের অনুষ্ঠানে অংশ নেয়ায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে অভিনন্দন জানান জাতীয় পার্টি নেতারা।

বৈঠকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশের ঐতিহাসিক আয়োজনে উপস্থিত হতে পেরে সম্মানিত বোধ করছি। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের অকৃত্রিম বন্ধুত্ব অক্ষয় হয়ে থাকবে। ভারত সব সময় বাংলাদেশের পাশে থাকবে।

এসময় জাতীয় পার্টি নেতারা মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অকৃত্রিম সহায়তা, মুজিব-ইন্দিরা চুক্তি বাস্তবায়ন, করোনাকালে বাংলাদেশকে টিকা ও অ্যাম্বুলেন্স দেয়ায় ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

তিস্তাসহ অভিন্ন ৫৪টি নদীর পানি বন্টনে বাংলাদেশ যেন ন্যায্য হিস্যা পায় এ ব্যাপারে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেন বিরোধী দলীয় নেতারা। এছাড়া অন-এরাইভাল ভিসা প্রদান ও স্কলারশিপ বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা করেন।

বাংলাদেশ ও ভারতের জনগণের সম্পর্ক উন্নয়নের বিষয়ে আলোচনা হয় সভায়। দুদেশের কানেকটিভিটি বাড়ানোর বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বাংলাদেশ ও ভারতের সাথে বিদ্যমান সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরো জোরালো হবে এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেন জাতীয় পার্টি নেতারা।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে যোগ দিতে নরেন্দ্র মোদি শুক্রবার সকালে দুদিনের সফরে ঢাকায় আসেন। 

সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে মোদি জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানাতে যান।

একই দিন বিকালে জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে ‘গেস্ট অব অনার’ হিসাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। 

সন্ধ্যায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যৌথভাবে তিনি বঙ্গবন্ধু-বাপু ডিজিটাল প্রদর্শনী পরিদর্শন করবেন।

সফরের দ্বিতীয় দিন, ২৭ মার্চ সকালে মোদি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধ পরিদর্শন করে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। 

তাছাড়া, তিনি সাতক্ষীরা ও গোপালগঞ্জে দুটি মন্দির পরিদর্শন করে স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত পরিসরে মতবিনিময় করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

শনিবার বিকালে দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে একান্ত বৈঠক ছাড়াও প্রতিনিধি পর্যায়ে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় আলোচিত হবে। বৈঠকের প্রান্তিকে দুই প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে কিছু সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর এবং কয়েকটি প্রকল্প উদ্বোধনের সম্ভাবনা রয়েছে। 

সমঝোতা স্মারক এবং প্রকল্প উদ্বোধনের বিষয়টি চূড়ান্তকরণের জন্য দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। উভয় প্রধানমন্ত্রী একই সঙ্গে নিজ নিজ দেশের পক্ষে বাংলাদেশ-ভারত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে পৃথক দুটি স্মারক ডাকটিকিট উন্মোচন করবেন। 

এছাড়া ভারতের প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতির সঙ্গে তার কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। সফর শেষে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ২৭ মার্চ রাতে দিল্লির উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন