সহিংসতা বন্ধ না হলে সব নির্বাচন বর্জন করবে জাতীয় পার্টি
jugantor
সহিংসতা বন্ধ না হলে সব নির্বাচন বর্জন করবে জাতীয় পার্টি

  রংপুর ব্যুরো  

২৬ নভেম্বর ২০২১, ২১:৪৩:০৭  |  অনলাইন সংস্করণ

জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু এমপি বলেছেন, নির্বাচনে সহিংসতা ও জোর করে ভোট নেওয়া বন্ধ না হলে আগামীতে জাতীয় পার্টি ইউনিয়ন পরিষদসহ (ইউপি) সব নির্বাচন বর্জন করবে।

শুক্রবার বাদ জুমা রংপুর নগরীর দর্শনায় জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রয়াত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

মহাসচিব বলেন, জনগণের ভোট ছাড়াই এখন জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়ার সংস্কৃতি শুরু হয়েছে। আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের কাছে মনোনয়নই এখন মুখ্য, কারণ মনোনয়ন পেলে জোর করেই নির্বাচিত হওয়া যায়।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মানবিক কারণে তার চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী বিবেচনা করতে পারেন, এটা তার এখতিয়ার। আর এটা বিএনপি ও বর্তমান সরকারের বিষয়। এখানে আমাদের বলার বা করার কিছু নেই।

জাতীয় পার্টির মহাসচিব নেতাকর্মীদের নিয়ে এরশাদের কবর জিয়ারত, ফাতেহা পাঠ এবং মোনাজাত শেষে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন। সকালে ঢাকা থেকে বিমানযোগে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে অবতরণ করলে দলের নেতাকর্মীরা তাকে স্বাগত জানান। এরপর সরাসরি মোটর শোভাযাত্রা সহকারে তিনি নগরীর দর্শনা এলাকায় এরশাদের বাসভবন পল্লী নিবাসে এসে পৌঁছান। অনুষ্ঠান শেষে তিনি রংপুর সার্কিট হাউজে অবস্থান করেন। পরে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন।

আগামী নির্বাচনে এককভাবে জাতীয় পার্টি অংশগ্রহণ করবে উল্লেখ করে দলটির মহাসচিব বলেন, মানুষ বিএনপি আর আওয়ামী লীগকে আর চায় না। দল দুটি জনগণের মৌলিক অধিকার হরণ করেছে। সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ হয়েছে। জনগণ এখন জাতীয় পার্টিকে ক্ষমতায় দেখতে চায়। এজন্য জনমুখী দল হিসেবে জাতীয় পার্টি কাজ করছে। জাতীয় পার্টি এখন পুরোপুরি বিরোধী দল। কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে এখন আর জাতীয় পার্টির যোগসূত্র নেই। তাই তৃণমূলে দলকে সংগঠিত করে আগামীতে আবারও জাতীয় পার্টিকে ক্ষমতায় নিয়ে আসার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অরাজকতার বিষয়টি আমি সংসদে প্রধানমন্ত্রীকে বলেছি। আমি তাকে বলেছি, আপনার নৌকার প্রার্থীরা চান আমাদের লাঙ্গলের প্রার্থীরা তাদের প্রার্থিতা তুলে নিক আর তারা বিনা ভোটে নির্বাচিত হোক। যারা নাকি সরকারি দল নৌকা মার্কা নিয়ে নির্বাচন করতে চায়, তারা ভোট না জোট করে নেবেন এই কষ্টটা তারা করতে চান না।

এ সময় জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মশিউর রহমান রাঙ্গা এমপি, প্রেসিডিয়াম সদস্য মীর আব্দুস সবুর আসুদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য ও রংপুর সিটি মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, রংপুর বিভাগীয় অতিরিক্ত মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী এমপি, অ্যাডভোকেট রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, মেজর (অব.) রানা মোহাম্মদ সোহেল এমপি, ভাইস চেয়ারম্যান আদেলুর রহমান আদেল এমপি, ভাইস চেয়ারম্যান ও রংপুর মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক এসএম ইয়াসির, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সেলিম উদ্দিন, যুগ্ম মহাসচিব গোলাম মোহাম্মদ রাজু, জসিম উদ্দিন ভূঁইয়া, ইকবাল হোসেন তাপস, সৈয়দ মঞ্জুর হোসেন মঞ্জু, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও রংপুর জেলার সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক, এনজিওবিষয়ক সম্পাদক হাফিজ উদ্দিন মাস্টার, মহাসচিবের সহধর্মিণী সাবেক অতিরিক্ত সচিব রোকসানা কাদের ও ছেলে ইসরারুল হক, জাতীয় ছাত্র সমাজের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আল মামুন ও মহাসচিবের একান্ত সচিব বেলায়েত হোসেন আরিফসহ জাতীয় পার্টি কেন্দ্রীয়, রংপুর বিভাগীয় ও জেলা-মহানগর পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় সদস্য ও রংপুর মহানগর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লোকমান হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক জাহেদুল ইসলাম, জাতীয় যুব সংহতি রংপুর জেলা সভাপতি হাসানুজ্জামান নাজিম, যুব সংহতি রংপুর মহানগর সভাপতি শাহীন হোসেন জাকির, জেলা জাপার প্রচার সম্পাদক মমিনুল ইসলাম রিপন, স্বেচ্ছাসেবক পার্টি রংপুর মহানগর সভাপতি ফারুক মন্ডল, ছাত্র সমাজ রংপুর মহানগর সভাপতি ইয়াসির আরাফাত আসিফ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সহিংসতা বন্ধ না হলে সব নির্বাচন বর্জন করবে জাতীয় পার্টি

 রংপুর ব্যুরো 
২৬ নভেম্বর ২০২১, ০৯:৪৩ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু এমপি বলেছেন, নির্বাচনে সহিংসতা ও জোর করে ভোট নেওয়া বন্ধ না হলে আগামীতে জাতীয় পার্টি ইউনিয়ন পরিষদসহ (ইউপি) সব নির্বাচন বর্জন করবে। 

শুক্রবার বাদ জুমা রংপুর নগরীর দর্শনায় জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রয়াত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। 

মহাসচিব বলেন, জনগণের ভোট ছাড়াই এখন জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়ার সংস্কৃতি শুরু হয়েছে। আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের কাছে মনোনয়নই এখন মুখ্য, কারণ মনোনয়ন পেলে জোর করেই নির্বাচিত হওয়া যায়। 

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মানবিক কারণে তার চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী বিবেচনা করতে পারেন, এটা তার এখতিয়ার। আর এটা বিএনপি ও বর্তমান সরকারের বিষয়। এখানে আমাদের বলার বা করার কিছু নেই।

জাতীয় পার্টির মহাসচিব নেতাকর্মীদের নিয়ে এরশাদের কবর জিয়ারত, ফাতেহা পাঠ এবং মোনাজাত শেষে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন। সকালে ঢাকা থেকে বিমানযোগে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে অবতরণ করলে দলের নেতাকর্মীরা তাকে স্বাগত জানান। এরপর সরাসরি মোটর শোভাযাত্রা সহকারে তিনি নগরীর দর্শনা এলাকায় এরশাদের বাসভবন পল্লী নিবাসে এসে পৌঁছান। অনুষ্ঠান শেষে তিনি রংপুর সার্কিট হাউজে অবস্থান করেন। পরে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন।

আগামী নির্বাচনে এককভাবে জাতীয় পার্টি অংশগ্রহণ করবে উল্লেখ করে দলটির মহাসচিব বলেন, মানুষ বিএনপি আর আওয়ামী লীগকে আর চায় না। দল দুটি জনগণের মৌলিক অধিকার হরণ করেছে। সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ হয়েছে। জনগণ এখন জাতীয় পার্টিকে ক্ষমতায় দেখতে চায়। এজন্য জনমুখী দল হিসেবে জাতীয় পার্টি কাজ করছে। জাতীয় পার্টি এখন পুরোপুরি বিরোধী দল। কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে এখন আর জাতীয় পার্টির যোগসূত্র নেই। তাই তৃণমূলে দলকে সংগঠিত করে আগামীতে আবারও জাতীয় পার্টিকে ক্ষমতায় নিয়ে আসার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। 

মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অরাজকতার বিষয়টি আমি সংসদে প্রধানমন্ত্রীকে বলেছি। আমি তাকে বলেছি, আপনার নৌকার প্রার্থীরা চান আমাদের লাঙ্গলের প্রার্থীরা তাদের প্রার্থিতা তুলে নিক আর তারা বিনা ভোটে নির্বাচিত হোক। যারা নাকি সরকারি দল নৌকা মার্কা নিয়ে নির্বাচন করতে চায়, তারা ভোট না জোট করে নেবেন এই কষ্টটা তারা করতে চান না।

এ সময় জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মশিউর রহমান রাঙ্গা এমপি, প্রেসিডিয়াম সদস্য মীর আব্দুস সবুর আসুদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য ও রংপুর সিটি মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, রংপুর বিভাগীয় অতিরিক্ত মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী এমপি, অ্যাডভোকেট রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, মেজর (অব.) রানা মোহাম্মদ সোহেল এমপি, ভাইস চেয়ারম্যান আদেলুর রহমান আদেল এমপি, ভাইস চেয়ারম্যান ও রংপুর মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক এসএম ইয়াসির, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সেলিম উদ্দিন, যুগ্ম মহাসচিব গোলাম মোহাম্মদ রাজু, জসিম উদ্দিন ভূঁইয়া, ইকবাল হোসেন তাপস, সৈয়দ মঞ্জুর হোসেন মঞ্জু, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও রংপুর জেলার সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক, এনজিওবিষয়ক সম্পাদক হাফিজ উদ্দিন মাস্টার, মহাসচিবের সহধর্মিণী সাবেক অতিরিক্ত সচিব রোকসানা কাদের ও ছেলে ইসরারুল হক, জাতীয় ছাত্র সমাজের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আল মামুন ও মহাসচিবের একান্ত সচিব বেলায়েত হোসেন আরিফসহ জাতীয় পার্টি কেন্দ্রীয়, রংপুর বিভাগীয় ও জেলা-মহানগর পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। 

এ ছাড়া জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় সদস্য ও রংপুর মহানগর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লোকমান হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক জাহেদুল ইসলাম, জাতীয় যুব সংহতি রংপুর জেলা সভাপতি হাসানুজ্জামান নাজিম, যুব সংহতি রংপুর মহানগর সভাপতি শাহীন হোসেন জাকির, জেলা জাপার প্রচার সম্পাদক মমিনুল ইসলাম রিপন, স্বেচ্ছাসেবক পার্টি রংপুর মহানগর সভাপতি ফারুক মন্ডল, ছাত্র সমাজ রংপুর মহানগর সভাপতি ইয়াসির আরাফাত আসিফ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন