জ্বালানি খাতের দুর্নীতির শ্বেতপত্র প্রকাশ করতে হবে: জিএম কাদের
jugantor
জ্বালানি খাতের দুর্নীতির শ্বেতপত্র প্রকাশ করতে হবে: জিএম কাদের

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

১২ আগস্ট ২০২২, ২২:৩৪:৫৮  |  অনলাইন সংস্করণ

জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান ও বিরোধীদলীয় উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ (জিএম) কাদের বলেছেন, ‘জ্বালানি খাতের দুর্নীতির শ্বেতপত্র প্রকাশ করতে হবে। দেশের মানুষ জানতে চায় জ্বালানি খাতে প্রতিবছর কত হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে। এর সঙ্গে কারা জড়িত? তাদের তালিকা প্রকাশ করতে হবে। দুর্নীতিবাজদের বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। তিনি আরও বলেন, সরকারের উন্নয়নের নৌকা এখন শ্রীলংকার পথে।’

শুক্রবার বিকালে রাজধানীর মিরপুরের চিড়িয়াখানা রোডের ঈদগাহ মাঠে মিরপুর ও শাহ্ আলী থানার দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান জিএম কাদের এমপি বলেন, ‘সরকার বলছে জ্বালানি তেলের মূল্যে ভর্তুকি দিচ্ছে। আসলে কোনো ভর্তুকি দেয়নি সরকার। কয়েক বছরে ৪২ হাজার কোটি টাকা মুনাফা করেছে সরকার। সেই টাকা দিয়ে তেলের মূল্য সমন্বয় করলে তেলের দাম বাড়াতে হতো না। তেলের দাম বাড়িয়ে মানুষকে মৃত্যুযন্ত্রণার মুখে ঠেলে দিয়েছে সরকার। জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়ে সরকার দেশের মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করেছে।’

বিরোধীদলীয় উপনেতা জিএম কাদের বলেন, ‘প্রতিবছর কারা হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করছেন; তাদের তালিকা জানতে চায় দেশের মানুষ। পাচারকারীদের বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। গেল বছর সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশ থেকে ৪ লাখ কোটি টাকা পাচার হয়েছে। সরকার পাচারকারীদের তথ্য প্রকাশ না করে নিজেকেই প্রশ্নবিদ্ধ করছে। দুর্নীতিবাজ ও পাচারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে অপরাধীদের পক্ষ নিচ্ছে সরকার। তাই সাধারণ মানুষ মনে করছে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও ক্ষমতাসীন দলের লোকজনকে বাঁচাতে সরকার দুর্নীতির তথ্য প্রকাশ করছে না। সরকার পানামা ও প্যারাডাইজ পেপারস কেলেঙ্কারির তদন্ত করেনি। কারণ নিজেদের লোকজনের নাম প্রকাশ পাবে।’

জিএম কাদের আরও বলেন, ‘ইউরোপ, আমেরিকা আর সিঙ্গাপুরের উদ্দেশ্য ছেড়ে দেওয়া উন্নয়নের নৌকা এখন শ্রীলংকার পথে। তিনি বলেন, দেশের স্বার্থে কথা বললেই সরকারের কিছু নেতা ষড়যন্ত্র খোঁজেন। আমরা যখন বলেছি, দেশ শ্রীলংকার মতো ব্যর্থ হতে চলছে। তখন আমাদের মূর্খ বলেছে। এখন আমাদের প্রশ্ন, দেশে লোডশেডিং কেন? ডলারের দাম এত বেড়েছে কেন? জ্বালানি তেলের দাম এত বেড়েছে কেন? সারাদিন বিশ্বব্যাংক আর আইএমএফকে গালাগাল দিয়ে এখন ঋণের জন্য তাদের পেছনে ঘুরছেন কেন? বিদ্যুৎ উৎপাদন করেনি এমন প্রতিষ্ঠানকে বছরে ২৪ হাজার কোটি টাকা ক্যাপাসিটি চার্জ দেওয়া হয়েছে শুধু লুটপাটের জন্য।’

জিএম কাদের বলেন, ‘সুষ্ঠু নির্বাচনের কথা বললেই আওয়ামী লীগের কিছু নেতা মনে করেন- তাদের গালাগাল দেওয়া হচ্ছে এবং অযৌক্তিকভাবে তারা আমাদের গালাগাল দিতে শুরু করেন। তারা বুঝতে চান না মানুষ তাদের ভোটাধিকার ফিরে পেতে চায়। মানুষ নির্বাচনের মাধ্যমে প্রতিনিধি নির্বাচিত করে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিতে চায়। তিনি আরও বলেন, দেশের মানুষ আর টালবাহানার নির্বাচন চায় না। নির্বাচনের নামে ইভিএমের কারসাজি চলবে না। কালো টাকা, পেশিশক্তি, অস্ত্র আর প্রশাসনকে প্রভাবিত করে যেনতেন নির্বাচন করতে পারবে না কেউ। এখন মানুষের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠাই গুরুত্বপূর্ণ।’

অনুষ্ঠানে জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু এমপি বলেন, ‘বিশ্ববাজারে যখন জ্বালানি তেলের দাম বেশি ছিল তখন দাম বাড়েনি। কিন্তু যখন তেলের দাম কমছে তখন দাম বাড়ানো হলো। কিন্তু কেন? ২০১৪ সাল থেকে জ্বালানি তেল বিক্রি করে সরকার ৪২ হাজার কোটি টাকা মুনাফা করেছে। মুনাফার সেই টাকা কোথায় গেল? ক্যাপাসিটি চার্জের নামে ৮৭ হাজার কোটি টাকা লুটপাট করা হয়েছে। সব লুটপাটের জবাব দিতে হবে।’

জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, ‘রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ হচ্ছে, বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা শুরু হয়েছে। কিন্তু সরকার কেন প্রস্তুতি নিতে পারল না? মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে কিছু বললে সরকারকে তা শুনতে হবে। কারণ বাংলাদেশের পরিস্থিতি শ্রীলংকার মতো হোক তা আমরা চাই না।’

জাতীয় পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান ও ঢাকা মহানগর উত্তরের সদস্য সচিব জাহাঙ্গীর আলম পাঠানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে প্রেসিডিয়াম সদস্য মীর আবদুস সবুর আসুদ, আলহাজ শফিকুল ইসলাম সেন্টু, মোস্তফা আল মাহমুদ, আতিকুর রহমান আতিক, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা এমএ কুদ্দুস খান, আমানত হোসেন আমানত, মাহবুবুর রহমান লিপটন বক্তব্য দেন।

সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট মমতাজ উদ্দিন, যুগ্ম মহাসচিব শামসুল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক হেলাল উদ্দিন, কাজী আবুল খায়ের, দপ্তর সম্পাদক-২ এমএ রাজ্জাক খান, সমাজকল্যাণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা, অ্যাডভোকেট আবু তৈয়ব, সমরেশ মণ্ডল মানিক, ডা. সেলিমা খান।

জ্বালানি খাতের দুর্নীতির শ্বেতপত্র প্রকাশ করতে হবে: জিএম কাদের

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
১২ আগস্ট ২০২২, ১০:৩৪ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান ও বিরোধীদলীয় উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ (জিএম) কাদের বলেছেন, ‘জ্বালানি খাতের দুর্নীতির শ্বেতপত্র প্রকাশ করতে হবে। দেশের মানুষ জানতে চায় জ্বালানি খাতে প্রতিবছর কত হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে। এর সঙ্গে কারা জড়িত? তাদের তালিকা প্রকাশ করতে হবে। দুর্নীতিবাজদের বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। তিনি আরও বলেন, সরকারের উন্নয়নের নৌকা এখন শ্রীলংকার পথে।’

শুক্রবার বিকালে রাজধানীর মিরপুরের চিড়িয়াখানা রোডের ঈদগাহ মাঠে মিরপুর ও শাহ্ আলী থানার দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান জিএম কাদের এমপি বলেন, ‘সরকার বলছে জ্বালানি তেলের মূল্যে ভর্তুকি দিচ্ছে। আসলে কোনো ভর্তুকি দেয়নি সরকার। কয়েক বছরে ৪২ হাজার কোটি টাকা মুনাফা করেছে সরকার। সেই টাকা দিয়ে তেলের মূল্য সমন্বয় করলে তেলের দাম বাড়াতে হতো না। তেলের দাম বাড়িয়ে মানুষকে মৃত্যুযন্ত্রণার মুখে ঠেলে দিয়েছে সরকার। জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়ে সরকার দেশের মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করেছে।’

বিরোধীদলীয় উপনেতা জিএম কাদের বলেন, ‘প্রতিবছর কারা হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করছেন; তাদের তালিকা জানতে চায় দেশের মানুষ। পাচারকারীদের বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। গেল বছর সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশ থেকে ৪ লাখ কোটি টাকা পাচার হয়েছে। সরকার পাচারকারীদের তথ্য প্রকাশ না করে নিজেকেই প্রশ্নবিদ্ধ করছে। দুর্নীতিবাজ ও পাচারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে অপরাধীদের পক্ষ নিচ্ছে সরকার। তাই সাধারণ মানুষ মনে করছে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও ক্ষমতাসীন দলের লোকজনকে বাঁচাতে সরকার দুর্নীতির তথ্য প্রকাশ করছে না। সরকার পানামা ও প্যারাডাইজ পেপারস কেলেঙ্কারির তদন্ত করেনি। কারণ নিজেদের লোকজনের নাম প্রকাশ পাবে।’ 

জিএম কাদের আরও বলেন, ‘ইউরোপ, আমেরিকা আর সিঙ্গাপুরের উদ্দেশ্য ছেড়ে দেওয়া উন্নয়নের নৌকা এখন শ্রীলংকার পথে। তিনি বলেন, দেশের স্বার্থে কথা বললেই সরকারের কিছু নেতা ষড়যন্ত্র খোঁজেন। আমরা যখন বলেছি, দেশ শ্রীলংকার মতো ব্যর্থ হতে চলছে। তখন আমাদের মূর্খ বলেছে। এখন আমাদের প্রশ্ন, দেশে লোডশেডিং কেন? ডলারের দাম এত বেড়েছে কেন? জ্বালানি তেলের দাম এত বেড়েছে কেন? সারাদিন বিশ্বব্যাংক আর আইএমএফকে গালাগাল দিয়ে এখন ঋণের জন্য তাদের পেছনে ঘুরছেন কেন? বিদ্যুৎ উৎপাদন করেনি এমন প্রতিষ্ঠানকে বছরে ২৪ হাজার কোটি টাকা ক্যাপাসিটি চার্জ দেওয়া হয়েছে শুধু লুটপাটের জন্য।’ 

জিএম কাদের বলেন, ‘সুষ্ঠু নির্বাচনের কথা বললেই আওয়ামী লীগের কিছু নেতা মনে করেন- তাদের গালাগাল দেওয়া হচ্ছে এবং অযৌক্তিকভাবে তারা আমাদের গালাগাল দিতে শুরু করেন। তারা বুঝতে চান না মানুষ তাদের ভোটাধিকার ফিরে পেতে চায়। মানুষ নির্বাচনের মাধ্যমে প্রতিনিধি নির্বাচিত করে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিতে চায়। তিনি আরও বলেন, দেশের মানুষ আর টালবাহানার নির্বাচন চায় না। নির্বাচনের নামে ইভিএমের কারসাজি চলবে না। কালো টাকা, পেশিশক্তি, অস্ত্র আর প্রশাসনকে প্রভাবিত করে যেনতেন নির্বাচন করতে পারবে না কেউ। এখন মানুষের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠাই গুরুত্বপূর্ণ।’

অনুষ্ঠানে জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু এমপি বলেন, ‘বিশ্ববাজারে যখন জ্বালানি তেলের দাম বেশি ছিল তখন দাম বাড়েনি। কিন্তু যখন তেলের দাম কমছে তখন দাম বাড়ানো হলো। কিন্তু কেন? ২০১৪ সাল থেকে জ্বালানি তেল বিক্রি করে সরকার ৪২ হাজার কোটি টাকা মুনাফা করেছে। মুনাফার সেই টাকা কোথায় গেল? ক্যাপাসিটি চার্জের নামে ৮৭ হাজার কোটি টাকা লুটপাট করা হয়েছে। সব লুটপাটের জবাব দিতে হবে।’

জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, ‘রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ হচ্ছে, বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা শুরু হয়েছে। কিন্তু সরকার কেন প্রস্তুতি নিতে পারল না? মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে কিছু বললে সরকারকে তা শুনতে হবে। কারণ বাংলাদেশের পরিস্থিতি শ্রীলংকার মতো হোক তা আমরা চাই না।’ 

জাতীয় পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান ও ঢাকা মহানগর উত্তরের সদস্য সচিব জাহাঙ্গীর আলম পাঠানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে প্রেসিডিয়াম সদস্য মীর আবদুস সবুর আসুদ, আলহাজ শফিকুল ইসলাম সেন্টু, মোস্তফা আল মাহমুদ, আতিকুর রহমান আতিক, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা এমএ কুদ্দুস খান, আমানত হোসেন আমানত, মাহবুবুর রহমান লিপটন বক্তব্য দেন।

সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট মমতাজ উদ্দিন, যুগ্ম মহাসচিব শামসুল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক হেলাল উদ্দিন, কাজী আবুল খায়ের, দপ্তর সম্পাদক-২ এমএ রাজ্জাক খান, সমাজকল্যাণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা, অ্যাডভোকেট আবু তৈয়ব, সমরেশ মণ্ডল মানিক, ডা. সেলিমা খান। 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন