যে কারণে জাতীয় পার্টি থেকে রাঙ্গাকে অব্যাহতি, জানালেন চুন্নু
jugantor
যে কারণে জাতীয় পার্টি থেকে রাঙ্গাকে অব্যাহতি, জানালেন চুন্নু

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

১৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৯:২৩:১৩  |  অনলাইন সংস্করণ

প্রেসিডিয়াম সদস্যসহ জাতীয় পার্টির (জাপা) সকল পদ থেকে মশিউর রহমান রাঙ্গাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বুধবার তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয় বলে দলটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। সংগঠন বিরোধী কর্মকাণ্ডের জন্য রাঙ্গাকে দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব মো. মুজিবুল হক চুন্নু এমপি।

মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, সংগঠন বিরোধী কার্যকলাপের জন্য রাঙ্গাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এক বছর ধরেই তিনি পার্লামেন্টারি পার্টির মিটিংসহ বিভিন্ন জায়গায় সংগঠনের বিরুদ্ধে কথা বলছেন। রাঙ্গার কার্যকলাপ দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছে।

বৃহস্পতিবার জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের বনানী কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, ‘জাতীয় পার্টি কারোর দালাল নয়, কারোর পকেটে নেই। দেশের মানুষ এখন জাতীয় পার্টিকে চায়। আগামীতে ৩০০ আসনে প্রার্থী দেবে জাতীয় পার্টি। মানুষের মন জয় করে জাতীয় পার্টি ক্ষমতায় আসবে। তিনি বলেন, গত ৩২ বছরে বিএনপি-আওয়ামী লীগের দুর্নীতি ও দুঃশাসনের কারণে জাতীয় পার্টিকে চায় জনগণ। জাতীয় পার্টি আগামী নির্বাচনে ৩০০ আসনে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।’

এর আগে গত বুধবার জাতীয় পার্টি থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের এমপি দলীয় গঠনতন্ত্রে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্যসহ সব পদ পদবি থেকে মশিউর রহমান রাঙ্গা এমপিকে অব্যাহতি দিয়েছেন। ইতোমধ্যে এ আদেশ কার্যকর হয়েছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়। পরিবহণ মালিক সমিতির নেতা রাঙ্গা বর্তমানে রংপুর-১ আসনে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য। ২০১৪ সালে তিনি আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারে স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। ২০১৮ সালে রাঙ্গাকে দলের মহাসচিব করেছিলেন জাতীয় পার্টির প্রয়াত চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। পরের বছর তাকে সংসদে বিরোধী দলের চিফ হুইপ করা হয়।

সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে জাতীয় পার্টি মহাসচিব বলেন, যদি জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান চান তবেই মসিউর রহমান রাঙ্গা জাতীয় পার্টির রাজনীতিতে ফিরতে পারবেন। কারণ কাউকে পার্টিতে ফেরানোর এখতিয়ার শুধুমাত্র জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের।

তিনি বলেন, কেউ দল থেকে চলে যেতে পারে তাতে দলের কোনো ক্ষতি হয় না। অনেকেই চলে গেছেন কিন্তু জাতীয় পার্টি তার স্থানেই আছে। জাতীয় পার্টি কেউ ভাঙতে পারবে না। জাতীয় পার্টি এখন অনেক শক্তিশালী এবং ঐক্যবদ্ধ।

মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, এখন গঠনতন্ত্রের বিশ ধারার সমালোচনা করছেন মসিউর রহমান রাঙা। কিন্তু যখন মহাসচিব ছিলেন তখন তো এই ধারার কথা কখনোই বলেননি তিনি।

চুন্নু বলেন, যখন জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান জিএম কাদের জাতীয় পার্টির রাজনীতি পরিষ্কার করছেন। যখন জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান বলছেন, আমরা এখন আর কোনো জোটে নেই, জাতীয় পার্টি কারো দালালি করবে না। তখন হয়ত কারো কারো কষ্ট হতে পারে। যারা দালালি করতে চায় তারা কখনোই সফল হবে না।

জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সাহিদুর রহমান টেপা, ফখরুল ইমাম এমপি, সফিকুল ইসলাম সেন্টু, রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, জহিরুল ইসলাম জহির, মোস্তফা আল মাহমুদ, ভাইস চেয়ারম্যান আহসান আদেলুর রহমান এমপি, শফিকুল ইসলাম শফিকুল, ইয়াহ ইয়া চৌধুরী, এইচ শাহরিয়ার আসিফ, আমির উদ্দিন আহমেদ ডালু, মো. জসীম উদ্দিন ভূঁইয়া, যুগ্ম মহাসচিব মো. বেলাল হোসেন, আব্দুল হামিদ ভাসানী, সৈয়দ মঞ্জুর হোসেন মঞ্জু প্রমুখ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

যে কারণে জাতীয় পার্টি থেকে রাঙ্গাকে অব্যাহতি, জানালেন চুন্নু

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
১৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৭:২৩ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

প্রেসিডিয়াম সদস্যসহ জাতীয় পার্টির (জাপা) সকল পদ থেকে মশিউর রহমান রাঙ্গাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বুধবার তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয় বলে দলটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। সংগঠন বিরোধী কর্মকাণ্ডের জন্য রাঙ্গাকে দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব মো. মুজিবুল হক চুন্নু এমপি। 

মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, সংগঠন বিরোধী কার্যকলাপের জন্য রাঙ্গাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এক বছর ধরেই তিনি পার্লামেন্টারি পার্টির মিটিংসহ বিভিন্ন জায়গায় সংগঠনের বিরুদ্ধে কথা বলছেন। রাঙ্গার কার্যকলাপ দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছে। 

বৃহস্পতিবার জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের বনানী কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। 

এ সময় মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, ‘জাতীয় পার্টি কারোর দালাল নয়, কারোর পকেটে নেই। দেশের মানুষ এখন জাতীয় পার্টিকে চায়। আগামীতে ৩০০ আসনে প্রার্থী দেবে জাতীয় পার্টি। মানুষের মন জয় করে জাতীয় পার্টি ক্ষমতায় আসবে। তিনি বলেন, গত ৩২ বছরে বিএনপি-আওয়ামী লীগের দুর্নীতি ও দুঃশাসনের কারণে জাতীয় পার্টিকে চায় জনগণ। জাতীয় পার্টি আগামী নির্বাচনে ৩০০ আসনে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।’

এর আগে গত বুধবার জাতীয় পার্টি থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের এমপি দলীয় গঠনতন্ত্রে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্যসহ সব পদ পদবি থেকে মশিউর রহমান রাঙ্গা এমপিকে অব্যাহতি দিয়েছেন।  ইতোমধ্যে এ আদেশ কার্যকর হয়েছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়। পরিবহণ মালিক সমিতির নেতা রাঙ্গা বর্তমানে রংপুর-১ আসনে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য। ২০১৪ সালে তিনি আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারে স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। ২০১৮ সালে রাঙ্গাকে দলের মহাসচিব করেছিলেন জাতীয় পার্টির প্রয়াত চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। পরের বছর তাকে সংসদে বিরোধী দলের চিফ হুইপ করা হয়।

সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে জাতীয় পার্টি মহাসচিব বলেন, যদি জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান চান তবেই মসিউর রহমান রাঙ্গা জাতীয় পার্টির রাজনীতিতে ফিরতে পারবেন। কারণ কাউকে পার্টিতে ফেরানোর এখতিয়ার শুধুমাত্র জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের। 

তিনি বলেন, কেউ দল থেকে চলে যেতে পারে তাতে দলের কোনো ক্ষতি হয় না। অনেকেই চলে গেছেন কিন্তু জাতীয় পার্টি তার স্থানেই আছে। জাতীয় পার্টি কেউ ভাঙতে পারবে না। জাতীয় পার্টি এখন অনেক শক্তিশালী এবং ঐক্যবদ্ধ। 

মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, এখন গঠনতন্ত্রের বিশ ধারার সমালোচনা করছেন মসিউর রহমান রাঙা। কিন্তু যখন মহাসচিব ছিলেন তখন তো এই ধারার কথা কখনোই বলেননি তিনি। 

চুন্নু বলেন, যখন জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান জিএম কাদের জাতীয় পার্টির রাজনীতি পরিষ্কার করছেন। যখন জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান বলছেন, আমরা এখন আর কোনো জোটে নেই, জাতীয় পার্টি কারো দালালি করবে না। তখন হয়ত কারো কারো কষ্ট হতে পারে। যারা দালালি করতে চায় তারা কখনোই সফল হবে না। 

জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সাহিদুর রহমান টেপা, ফখরুল ইমাম এমপি, সফিকুল ইসলাম সেন্টু, রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, জহিরুল ইসলাম জহির, মোস্তফা আল মাহমুদ, ভাইস চেয়ারম্যান আহসান আদেলুর রহমান এমপি, শফিকুল ইসলাম শফিকুল, ইয়াহ ইয়া চৌধুরী, এইচ শাহরিয়ার আসিফ, আমির উদ্দিন আহমেদ ডালু, মো. জসীম উদ্দিন ভূঁইয়া, যুগ্ম মহাসচিব মো. বেলাল হোসেন, আব্দুল হামিদ ভাসানী, সৈয়দ মঞ্জুর হোসেন মঞ্জু প্রমুখ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও খবর