পাটকল শ্রমিকদের আন্দোলনে সংহতি ঐক্যফ্রন্টের

  যুগান্তর রিপোর্ট ৩০ জুন ২০২০, ১৭:০৭:৫১ | অনলাইন সংস্করণ

রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল বন্ধের সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শ্রমিকদের আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।

একই সঙ্গে করোনাকালীন এই চরম দুঃসময়ে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল বন্ধের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার জন্য সরকারের প্রতি দাবিও জানিয়েছে এই জোট।

মঙ্গলবার ঐক্যফ্রন্টের দফতর প্রধান জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ দাবি জানান জোটটির নেতারা।

বিবৃতিদাতারা হলেন- ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক ড. রেজা কিবরিয়া ও বিকল্পধারা বাংলাদেশ চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. নূরুল আমিন বেপারী।

নেতারা বলেন, রাষ্ট্রীয় খাতের সবগুলো পাটকল সরকার বন্ধ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাটকলগুলোয় বর্তমানে স্থায়ী শ্রমিক আছেন ২৪ হাজার ৮৮৬ জন। এ ছাড়া তালিকাভুক্ত বদলি ও দৈনিকভিত্তিক শ্রমিকের সংখ্যা প্রায় ২৬ হাজার। অর্থাৎ ৫১ হাজার কর্মীর পরিবারের অন্তত আড়াই লাখ মানুষের জীবনে এক চরম বিপর্যয় তৈরি করা হচ্ছে। এমন এক সময়ে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হল- যখন করোনার ভয়ঙ্কর অভিঘাতের ফলে কোটি কোটি মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে। নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির পদক্ষেপ নেয়া দূরে থাকুক, সরকার বর্তমানে কর্মে নিযুক্ত মানুষকেও কর্মচ্যুৎ করছে।

তারা বলেন, পাটকলগুলো বন্ধ করে দেয়ার কারণ হিসেবে পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব জানান, ‘গত ৪৮ বছরে সরকারকে এই পাট খাতে ১০ হাজার ৬৭৪ কোটি টাকা লোকসান দিতে হয়েছে’। অথচ এক ওয়াট বিদ্যুৎ না কিনে গত ১০ বছরে শুধু ক্যাপাসিটি চার্জ বাবদ সরকারের অতি ঘনিষ্ঠ কয়েকজন ব্যবসায়ীর হাতে তুলে দেয়া হয়েছে ৫২ হাজার কোটি টাকা। পাট খাতে যে লোকসান হয় সেটার জন্য শ্রমিকরা কোনোভাবেই দায়ী নয়। রাষ্ট্রায়ত্ত আর সব খাতের মতো প্রশাসনের সর্বোচ্চ পর্যায়ে দুর্নীতি, অদক্ষতা ও অযোগ্যতার কারণেই এই শিল্পগুলোতে লোকসান হয়। সেই ব্যর্থতার মূল্য আজ দিতে হচ্ছে শ্রমিক ভাইদের।

বিবৃতিতে নেতারা বলেন, এই চাকরিচ্যুতির আগেও দফায় দফায় শ্রমিকদেরকে রাস্তায় নামতে হয়েছে তাদের বকেয়া মজুরি আদায়ের দাবিতে। তথাকথিত ‘উন্নয়নের রোল মডেল’ রাষ্ট্রটি তার অত্যন্ত কঠোর পরিশ্রম করা নাগরিকদের বেতন মাসের পর মাস বাকি রেখেছিল। এখন সেই শ্রমিকদের ওপর নেমে এসেছে চরম বিপর্যয়।

তারা আরও বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে পাটকলগুলো পরবর্তী সময়ে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) আওতায় চলবে। সরকারের অতীত রেকর্ড থেকে এই আশঙ্কা করার খুবই যৌক্তিক কারণ আছে, শেষ পর্যন্ত এই পাটকল এবং এর সব সম্পত্তি সরকারের ঘনিষ্ঠ কিছু ব্যক্তির হাতে তুলে দেয়া হবে নামমাত্র মূল্যে। সরকারের এই সিদ্ধান্ত দেশের পাটকল শিল্পকে ধ্বংস করে পশ্চিম বাংলার মৃতপ্রায় পাটকল কারখানাগুলো চালু করার নীলনকশারও অংশবিশেষ বলে প্রতীয়মান হয়।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত