জিয়ার ভাস্কর্য ভেঙে হেফাজতকে প্রমাণ দিতে বলল ইসলামী জোট
jugantor
জিয়ার ভাস্কর্য ভেঙে হেফাজতকে প্রমাণ দিতে বলল ইসলামী জোট

  যুগান্তর রিপোর্ট  

২২ নভেম্বর ২০২০, ২২:১৫:৩২  |  অনলাইন সংস্করণ

ভাস্কর্যকে মূর্তি স্থাপনের সঙ্গে তুলনা করে সেটাকে শিরক বা বিজাতীয় সংস্কৃতি বলে আখ্যা দেয়াকে নোংরা রাজনীতি বলে মনে করে জানিয়েছে বাংলাদেশ সম্মিলিত ইসলামী জোট। জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে রোববার জোটের সভাপতি মাওলানা জিয়াউল হাসান এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘বাঙালি সংস্কৃতি বিজাতীয় সংস্কৃতি নয়, এটি আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতি। এ সংস্কৃতিতে যেসব জিনিস শিরক বা আল্লাহর সঙ্গে অংশীবাদিতার মিশ্রণ ছাড়াই পালিত হয়ে আসছে সেটিকে হঠাৎ করে শিরকি সংস্কৃতি বলা নোংরা রাজনীতি ছাড়া কিছু নয়। বুখারি শরিফের হাদিস অনুযায়ী মূর্তি মানেই শিরকের উপকরণ নয়। হজরত আয়শা (রা.)-এর ঘরে খেলনার ঘোড়ার ছোট মূর্তি রাখা ছিল। রাসূল (সা.) তা নিষেধ করেননি। এই ছোট পুতুল বা মূর্তি পূজার জন্য ছিল না বরং খেলার জন্য ছিল। তাই রাসূল (সা.) নিষেধ করেননি। একইভাবে যেসব ভাস্কর্য সৌন্দর্যচর্চা ও রুচিশীলতার পরিচয় বা ঐতিহাসিক কোনো ঘটনার স্মৃতিফলক হিসেবে স্থাপিত হয় তা ইসলামী শিক্ষানুযায়ী নিষিদ্ধ নয়।’

মাওলানা জিয়াউল হাসান বলেন, ভাস্কর্য এবং মূর্তি পূজা এক জিনিস নয়। মূর্তি ও ভাস্কর্য শব্দের অর্থকে ভুল ব্যাখ্যা করে মাঠ গরম করার চেষ্টা করবেন না। কারণ এ দেশের মানুষ আপনাদের ’৭১ সালেও চিনতে ভুল করেনি, এখনও করবে না। শহীদ মিনার, জাতীয় স্মৃতিসৌধ, শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে গিয়ে বাংলাদেশের কোনো মুসলমান যখন ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তখন তারা কেউ বুখারি এবং মুসলিম শরিফের হাদিস ‘ইন্নামাল আমালু বিন্নিয়্যাত’-এর শিক্ষা অনুযায়ী ইবাদত বা প্রার্থনার নিয়তে করে না।

মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভাস্কর্য রয়েছে উল্লেখ করে এই নেতা আরও বলেন, কট্টর ওয়াহাবিপন্থী হুজুররাও এটি জানে, প্রাণীর ভাস্কর্য মানেই শিরক নয়। সৌদি আরবে জেদ্দার মূল কেন্দ্রে দি ফিস্ট নামে একটি ভাস্কর্য আছে, এটি একটি মুষ্টিবদ্ধ হাতের ভাস্কর্য। আরও আছে ঘোড়ার ও মাছের ভাস্কর্য। একইভাবে মুসলিম অধ্যুষিত দুবাই, ইরান, ইন্দোনেশিয়া ও মিসরে রয়েছে ঘোড়া ও অন্যান্য জীবের ভাস্কর্য। প্রমাণিত হল ভাস্কর্য জীবদেহের হোক বা জীবদেহের কোনো অংশের হোক তা যদি শিরক বা পূজার উদ্দেশ্যে নির্মিত না হয় তবে এতে কোনো বারণ নেই।

ইসলামী জোটের সভাপতি বলেন, তবে গোঁড়া তালেবানি ভাবধারায় ভাস্কর্য নির্মাণ নিষিদ্ধ, হেফাজতিরা সম্পূর্ণভাবে অ-ইসলামী সেই ভাবধারা প্রবর্তনের কথা বলছে। হেফাজতিরা যদি সত্যিকার অর্থেই ভাস্কর্য নির্মাণের বিরোধী হয়ে থাকেন তবে এর প্রমাণ তারা তাদের হাটহাজারীর কাছেই অবস্থিত খাগড়াছড়িতে প্রদর্শন করতে পারেন। খাগড়াছড়ি শহরের দ্বারপ্রান্তে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের একটি বৃহদাকার ভাস্কর্য রয়েছে। মানুষের এই মূর্তি ভেঙে এরা প্রমাণ করতে পারেন এ বিষয়ে তারা কতটা সিরিয়াস।

তিনি বলেন, মূর্তি ও ভাস্কর্য যে উদ্দেশ্যে নির্মাণ করা হচ্ছে সেই উদ্দেশ্য নির্ধারণ করবে এটি বৈধ নাকি অবৈধ। চরমোনাই পীর মুফতি মুহাম্মদ ফয়জুল করীম এবং হেফাজতের নেতা মামুনুল হককে উদ্দেশ করে মাওলানা জিয়াউল হাসান বলেন, আপনাদের দেশবিরোধী এসব আন্দোলন বাস্তবায়নের জন্য জনগণের ম্যানডেট নিয়ে সংসদে গিয়ে বিল উত্থাপন করে তা পাস করুন।

মসজিদকেন্দ্রিক রাজনীতি বন্ধ করার দাবি জানিয়ে ইসলামী জোটের সভাপতি বলেন, মসজিদ আল্লাহর ঘর, এর পবিত্রতা রক্ষা করা আমাদের সবার কর্তব্য। মসজিদে নোংরা রাজনীতি, কূটনীতি, মিছিল, আন্দোলন, ককটেল, বোমা, মসজিদের মাইক ব্যবহার করে পুলিশের ওপর আক্রমণ করা, পুলিশের অস্ত্র কেড়ে নিয়ে মারধর করা, ইট-পাথর নিক্ষেপ করা কোনো ধার্মিকের কাজ হতে পারে না। একই কথা মাদরাসার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। জামায়াত-শিবির হেফাজতি চক্রসহ জঙ্গি মদদদাতা, ধর্ম ব্যবসায়ী সাম্প্রদায়িক সংগঠনগুলোর সব রাজনৈতিক কার্যক্রম বায়তুল মোকাররম মসজিদ ও তার চত্বরে নিষিদ্ধ করার জন্য আমরা সরকারের কাছে জোর দাবি জানাই।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সহসভাপতি জোবাইদ আলী, সহসভাপতি আবদুস সোবহান মিয়া, সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মোসলেহ উদ্দিন ফোরকান, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ফারুক হোসাইন প্রমুখ।

জিয়ার ভাস্কর্য ভেঙে হেফাজতকে প্রমাণ দিতে বলল ইসলামী জোট

 যুগান্তর রিপোর্ট 
২২ নভেম্বর ২০২০, ১০:১৫ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

ভাস্কর্যকে মূর্তি স্থাপনের সঙ্গে তুলনা করে সেটাকে শিরক বা বিজাতীয় সংস্কৃতি বলে আখ্যা দেয়াকে নোংরা রাজনীতি বলে মনে করে জানিয়েছে বাংলাদেশ সম্মিলিত ইসলামী জোট। জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে রোববার জোটের সভাপতি মাওলানা জিয়াউল হাসান এ কথা বলেন। 

তিনি বলেন, ‘বাঙালি সংস্কৃতি বিজাতীয় সংস্কৃতি নয়, এটি আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতি। এ সংস্কৃতিতে যেসব জিনিস শিরক বা আল্লাহর সঙ্গে অংশীবাদিতার মিশ্রণ ছাড়াই পালিত হয়ে আসছে সেটিকে হঠাৎ করে শিরকি সংস্কৃতি বলা নোংরা রাজনীতি ছাড়া কিছু নয়। বুখারি শরিফের হাদিস অনুযায়ী মূর্তি মানেই শিরকের উপকরণ নয়। হজরত আয়শা (রা.)-এর ঘরে খেলনার ঘোড়ার ছোট মূর্তি রাখা ছিল। রাসূল (সা.) তা নিষেধ করেননি। এই ছোট পুতুল বা মূর্তি পূজার জন্য ছিল না বরং খেলার জন্য ছিল। তাই রাসূল (সা.) নিষেধ করেননি। একইভাবে যেসব ভাস্কর্য সৌন্দর্যচর্চা ও রুচিশীলতার পরিচয় বা ঐতিহাসিক কোনো ঘটনার স্মৃতিফলক হিসেবে স্থাপিত হয় তা ইসলামী শিক্ষানুযায়ী নিষিদ্ধ নয়।’

মাওলানা জিয়াউল হাসান বলেন, ভাস্কর্য এবং মূর্তি পূজা এক জিনিস নয়। মূর্তি ও ভাস্কর্য শব্দের অর্থকে ভুল ব্যাখ্যা করে মাঠ গরম করার চেষ্টা করবেন না। কারণ এ দেশের মানুষ আপনাদের ’৭১ সালেও চিনতে ভুল করেনি, এখনও করবে না। শহীদ মিনার, জাতীয় স্মৃতিসৌধ, শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে গিয়ে বাংলাদেশের কোনো মুসলমান যখন ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তখন তারা কেউ বুখারি এবং মুসলিম শরিফের হাদিস ‘ইন্নামাল আমালু বিন্নিয়্যাত’-এর শিক্ষা অনুযায়ী ইবাদত বা প্রার্থনার নিয়তে করে না।

মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভাস্কর্য রয়েছে উল্লেখ করে এই নেতা আরও বলেন, কট্টর ওয়াহাবিপন্থী হুজুররাও এটি জানে, প্রাণীর ভাস্কর্য মানেই শিরক নয়। সৌদি আরবে জেদ্দার মূল কেন্দ্রে দি ফিস্ট নামে একটি ভাস্কর্য আছে, এটি একটি মুষ্টিবদ্ধ হাতের ভাস্কর্য। আরও আছে ঘোড়ার ও মাছের ভাস্কর্য। একইভাবে মুসলিম অধ্যুষিত দুবাই, ইরান, ইন্দোনেশিয়া ও মিসরে রয়েছে ঘোড়া ও অন্যান্য জীবের ভাস্কর্য। প্রমাণিত হল ভাস্কর্য জীবদেহের হোক বা জীবদেহের কোনো অংশের হোক তা যদি শিরক বা পূজার উদ্দেশ্যে নির্মিত না হয় তবে এতে কোনো বারণ নেই।

ইসলামী জোটের সভাপতি বলেন, তবে গোঁড়া তালেবানি ভাবধারায় ভাস্কর্য নির্মাণ নিষিদ্ধ, হেফাজতিরা সম্পূর্ণভাবে অ-ইসলামী সেই ভাবধারা প্রবর্তনের কথা বলছে। হেফাজতিরা যদি সত্যিকার অর্থেই ভাস্কর্য নির্মাণের বিরোধী হয়ে থাকেন তবে এর প্রমাণ তারা তাদের হাটহাজারীর কাছেই অবস্থিত খাগড়াছড়িতে প্রদর্শন করতে পারেন। খাগড়াছড়ি শহরের দ্বারপ্রান্তে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের একটি বৃহদাকার ভাস্কর্য রয়েছে। মানুষের এই মূর্তি ভেঙে এরা প্রমাণ করতে পারেন এ বিষয়ে তারা কতটা সিরিয়াস।

তিনি বলেন, মূর্তি ও ভাস্কর্য যে উদ্দেশ্যে নির্মাণ করা হচ্ছে সেই উদ্দেশ্য নির্ধারণ করবে এটি বৈধ নাকি অবৈধ। চরমোনাই পীর মুফতি মুহাম্মদ ফয়জুল করীম এবং হেফাজতের নেতা মামুনুল হককে উদ্দেশ করে মাওলানা জিয়াউল হাসান বলেন, আপনাদের দেশবিরোধী এসব আন্দোলন বাস্তবায়নের জন্য জনগণের ম্যানডেট নিয়ে সংসদে গিয়ে বিল উত্থাপন করে তা পাস করুন।

মসজিদকেন্দ্রিক রাজনীতি বন্ধ করার দাবি জানিয়ে ইসলামী জোটের সভাপতি বলেন, মসজিদ আল্লাহর ঘর, এর পবিত্রতা রক্ষা করা আমাদের সবার কর্তব্য। মসজিদে নোংরা রাজনীতি, কূটনীতি, মিছিল, আন্দোলন, ককটেল, বোমা, মসজিদের মাইক ব্যবহার করে পুলিশের ওপর আক্রমণ করা, পুলিশের অস্ত্র কেড়ে নিয়ে মারধর করা, ইট-পাথর নিক্ষেপ করা কোনো ধার্মিকের কাজ হতে পারে না। একই কথা মাদরাসার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। জামায়াত-শিবির হেফাজতি চক্রসহ জঙ্গি মদদদাতা, ধর্ম ব্যবসায়ী সাম্প্রদায়িক সংগঠনগুলোর সব রাজনৈতিক কার্যক্রম বায়তুল মোকাররম মসজিদ ও তার চত্বরে নিষিদ্ধ করার জন্য আমরা সরকারের কাছে জোর দাবি জানাই।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সহসভাপতি জোবাইদ আলী, সহসভাপতি আবদুস সোবহান মিয়া, সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মোসলেহ উদ্দিন ফোরকান, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ফারুক হোসাইন প্রমুখ।