আমি কোনো পাপের সঙ্গে জড়িত নই: মেয়র জাহাঙ্গীর
jugantor
আমি কোনো পাপের সঙ্গে জড়িত নই: মেয়র জাহাঙ্গীর

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

২০ নভেম্বর ২০২১, ২০:২৪:৪৭  |  অনলাইন সংস্করণ

আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র জাহাঙ্গীর আলম বলেছেন, আমার মা আমার অবিভাবক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উনি চাইলে যে কোনো সময় ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলতে রাজি। আমার প্রতিপক্ষরা আমাকে মারার ষড়যন্ত্র করেছে। যারা ঘরে ঢুকে অডিও করে তাদের বিচার হয়নি। আমি ভুল করতে পারি, আমার ভুল হতে পারে। কিন্তু আমি কোনো পাপের সঙ্গে জড়িত নই।

জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমাকে তিন বছরের জন্য পদ দেওয়া হয়েছে। আমাকে বহিষ্কার করে আমার, আমার পরিবারের এবং আমার অস্তিত্বের মধ্যে যে আঘাত দেওয়া হয়েছে সেটা আমি মানসিকভাবে মেনে নিতে পারছি না। আমার ভুল হতে পারে, কিন্তু আমি কোনো পাপ ও অন্যায়ের সঙ্গে জড়িত নই। মানুষের ভুল হয়।

গাজীপুর নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও দলের প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে শুক্রবার বহিষ্কার হওয়ার পর শনিবার সকালে বোর্ডবাজার হারিকেন এলাকার নিজ বাসভবনে সংবাদ সম্মেলন করে এসব কথা বলেন জাহাঙ্গীর।

মেয়র জাহাঙ্গীর কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘জননেত্রী শেখ হাসিনা যদি বলেন আমি বিনা কারণে ফাঁসিতে ঝুলব। আমাকে গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক থেকে বহিষ্কার করলেও আমার আপত্তি নাই। আমি পদ-পদবি চাই না। আমি আওয়ামী লীগের সমর্থক হিসেবে বাঁচতে চাই। ’

জাহাঙ্গীর বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী ও আমি যখন দেশের বাইরে ঠিক তখনই বিভিন্ন সময় যুক্তি তর্কের অডিও কাটছাঁট করে আংশিক ফেসবুকে প্রকাশ করে অপপ্রচার করা হয়েছে। আমি আবারও বলছি, আমি ষড়যন্ত্রের শিকার। আমাকে ক্ষমা করে অন্তত আওয়ামী লীগের সমর্থক হিসেবে থাকতে দিন।’

বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার ও পুনর্বিবেচনা করতে আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে দাবি জানিয়ে মেয়র বলেন, আমার সঙ্গে অবিচার করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীকে ভুল বুঝানো হয়েছে। ছাত্রলীগের মাধ্যমেই আমার রাজনীতি শুরু। আমাকে আওয়ামী লীগের সমর্থক হিসেবে বাঁচতে দিন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অবশ্যই পুনর্বিবেচনা করবেন।

সংবাদ সম্মেলনে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে মেয়র জাহাঙ্গীর আরও বলেন, ‘আমি আওয়ামী লীগের জন্য, বঙ্গবন্ধুর জন্য, আমার মা সমতুল্য প্রধানমন্ত্রীর জন্য জীবন দিতে রাজি, তবু মিথ্যা অপবাদ নিয়ে মরতে চাই না। বিশ্বমানবতার মা, আমার মায়ের কাছে বলতে চাই- আমার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে পুনর্বিবেচনা করুন।’

গত ২২ সেপ্টেম্বর বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটূক্তি ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের একটি ঘরোয়া আলোচনার রেকর্ড ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর আওয়ামী লীগের একটি অংশ মেয়র জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে নামে। এরপর গত ৩ অক্টোবর মেয়র জাহাঙ্গীরের ব্যাখ্যা চায় আওয়ামী লীগ। এতে তাকে ১৫ দিন সময় দেয়া হয়। ১৮ অক্টোবর সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই মেয়র তার ব্যাখ্যা দেন।

বঙ্গবন্ধু ও শহিদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের অভিযোগে শুক্রবার (১৯ নভেম্বর) প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কার করা হয় জাহাঙ্গীর আলমকে। সভায় সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সভায় উপস্থিত সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক একটি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘মেয়র জাহাঙ্গীর আলমকে গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সেই সঙ্গে তার প্রাথমিক সদস্যপদও বাতিল করা হয়েছে।’

জাহাঙ্গীরের রাজনীতিতে হাতেখড়ি ছাত্রলীগের মাধ্যমে। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সহসভাপতিও ছিলেন তিনি।

আমি কোনো পাপের সঙ্গে জড়িত নই: মেয়র জাহাঙ্গীর

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
২০ নভেম্বর ২০২১, ০৮:২৪ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র জাহাঙ্গীর আলম বলেছেন, আমার মা আমার অবিভাবক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উনি চাইলে যে কোনো সময় ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলতে রাজি। আমার প্রতিপক্ষরা আমাকে মারার ষড়যন্ত্র করেছে। যারা ঘরে ঢুকে অডিও করে তাদের বিচার হয়নি। আমি ভুল করতে পারি, আমার ভুল হতে পারে। কিন্তু আমি কোনো পাপের সঙ্গে জড়িত নই। 

জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমাকে তিন বছরের জন্য পদ দেওয়া হয়েছে। আমাকে বহিষ্কার করে আমার, আমার পরিবারের এবং আমার অস্তিত্বের মধ্যে যে আঘাত দেওয়া হয়েছে সেটা আমি মানসিকভাবে মেনে নিতে পারছি না। আমার ভুল হতে পারে, কিন্তু আমি কোনো পাপ ও অন্যায়ের সঙ্গে জড়িত নই। মানুষের ভুল হয়। 

গাজীপুর নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও দলের প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে শুক্রবার বহিষ্কার হওয়ার পর শনিবার সকালে বোর্ডবাজার হারিকেন এলাকার নিজ বাসভবনে সংবাদ সম্মেলন করে এসব কথা বলেন জাহাঙ্গীর। 

মেয়র জাহাঙ্গীর কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘জননেত্রী শেখ হাসিনা যদি বলেন আমি বিনা কারণে ফাঁসিতে ঝুলব। আমাকে গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক থেকে বহিষ্কার করলেও আমার আপত্তি নাই। আমি পদ-পদবি চাই না। আমি আওয়ামী লীগের সমর্থক হিসেবে বাঁচতে চাই। ’ 

জাহাঙ্গীর বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী ও আমি যখন দেশের বাইরে ঠিক তখনই বিভিন্ন সময় যুক্তি তর্কের অডিও কাটছাঁট করে আংশিক ফেসবুকে প্রকাশ করে অপপ্রচার করা হয়েছে। আমি আবারও বলছি, আমি ষড়যন্ত্রের শিকার। আমাকে ক্ষমা করে অন্তত আওয়ামী লীগের সমর্থক হিসেবে থাকতে দিন।’

বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার ও পুনর্বিবেচনা করতে আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে দাবি জানিয়ে মেয়র বলেন, আমার সঙ্গে অবিচার করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীকে ভুল বুঝানো হয়েছে। ছাত্রলীগের মাধ্যমেই আমার রাজনীতি শুরু। আমাকে আওয়ামী লীগের সমর্থক হিসেবে বাঁচতে দিন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অবশ্যই পুনর্বিবেচনা করবেন। 

সংবাদ সম্মেলনে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে মেয়র জাহাঙ্গীর আরও বলেন, ‘আমি আওয়ামী লীগের জন্য, বঙ্গবন্ধুর জন্য, আমার মা সমতুল্য প্রধানমন্ত্রীর জন্য জীবন দিতে রাজি, তবু মিথ্যা অপবাদ নিয়ে মরতে চাই না। বিশ্বমানবতার মা, আমার মায়ের কাছে বলতে চাই- আমার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে পুনর্বিবেচনা করুন।’

গত ২২ সেপ্টেম্বর বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটূক্তি ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের একটি ঘরোয়া আলোচনার রেকর্ড ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর আওয়ামী লীগের একটি অংশ মেয়র জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে নামে। এরপর গত ৩ অক্টোবর মেয়র জাহাঙ্গীরের ব্যাখ্যা চায় আওয়ামী লীগ। এতে তাকে ১৫ দিন সময় দেয়া হয়। ১৮ অক্টোবর সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই মেয়র তার ব্যাখ্যা দেন।

বঙ্গবন্ধু ও শহিদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের অভিযোগে শুক্রবার (১৯ নভেম্বর) প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কার করা হয় জাহাঙ্গীর আলমকে। সভায় সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সভায় উপস্থিত সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক একটি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘মেয়র জাহাঙ্গীর আলমকে গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সেই সঙ্গে তার প্রাথমিক সদস্যপদও বাতিল করা হয়েছে।’

জাহাঙ্গীরের রাজনীতিতে হাতেখড়ি ছাত্রলীগের মাধ্যমে। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সহসভাপতিও ছিলেন তিনি।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন