উপচার্যরা কী ধরনের দুর্নীতিবাজ হয়ে ওঠেন দেখেছি: সংসদে মেনন
jugantor
উপচার্যরা কী ধরনের দুর্নীতিবাজ হয়ে ওঠেন দেখেছি: সংসদে মেনন

  সংসদ প্রতিবেদক  

২৬ জানুয়ারি ২০২২, ২০:৩৩:৩৭  |  অনলাইন সংস্করণ

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপচার্যরা কী ধরনের দুর্নীতিবাজ হয়ে ওঠেন সেটি দেখেছেন বলে জাতীয় সংসদে মন্তব্য করেছেন প্রবীণ রাজনীতিক ও বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন।

বুধবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

সিলেটে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) ভিসির পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে মেনন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি নিয়োগ কর্তা হিসেবে তাদের কুকর্মের দায় রাষ্ট্রপতির ওপর এসে পড়ে। এই উপচার্যরা কী ধরনের স্বৈরশাসক ও দুর্নীতিবাজ হয়ে ওঠেন এবং চাকরি বাণিজ্যে লিপ্ত হন, সেটা আমরা দেখেছি। বর্তমানে সব ভিসি শাহজালালের পক্ষে দল পাকিয়েছেন। সরকারকে বলব- শিক্ষামন্ত্রীকে বলব- ছাত্রদের দাবি মেনে নিন। একজন ভিসির জন্য একটি বিশ্ববিদ্যালয় ধ্বংস হতে পারে না। শিক্ষার্থীদের জীবন নষ্ট হতে পারে না।

উল্লেখ্য, গত ১৩ জানুয়ারি রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের প্রাধ্যক্ষ জাফরিন আহমেদ লিজার বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ তুলে তার পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন হলের কয়েকশ ছাত্রী। এরপর ১৫ জানুয়ারি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে ছাত্রলীগের কিছু নেতাকর্মী হামলা চালান। তারা আন্দোলনকারী সাধারণ ছাত্রীদের মারধর করেন। পরে ১৬ জানুয়ারি বিকালে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি ভবনে উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশ্ববিদ্যালয়ে পুলিশ ডাকেন উপাচার্য।

পরে বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের প্রভোস্ট জাফরিন আহমেদ লিজা পদত্যাগ করতে রাজি হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল ইসলাম ভবনের ভেতরে প্রবেশ করতে চান। কিন্তু শিক্ষার্থীরা শুধুমাত্র কোষাধ্যক্ষকে ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেন। কোষাধ্যক্ষ ভবনের ভেতরে প্রবেশ করতে যাওয়ার সময়ই পুলিশ লাঠিচার্জ, গুলি ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে শিক্ষার্থীদেরকে ছত্রভঙ্গ করতে শুরু করে। পরে উপাচার্যকে উদ্ধার করে বাসভবনে নিরাপদে পৌঁছে দেওয়া হয়।

পুলিশের লাঠিচার্জ, রাবার বুলেট ও সাউন্ড গ্রেনেডের স্প্রিন্টারের আঘাতে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী আহত হন। এ ঘটনার প্রতিবাদে ১৬ জানুয়ারি দিবাগত মধ্যরাতে উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। প্রথমে পুরো ক্যাম্পাস পুলিশের দখলে ছিল। তাই প্রধান ফটকে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। পরে রাতেই শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের মুক্তমঞ্চে অবস্থান নেন।

১৮ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য ও রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের উদ্দেশে বিশ্ববিদ্যালয় পরিস্থিতি জানিয়ে খোলা চিঠি পাঠ করেন শিক্ষার্থীরা। তার পরের দিন ১৯ জানুয়ারি দুপুর আড়াইটা থেকে উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে আমরণ অনশন শুরু করেন শাবির ২৪ শিক্ষার্থী। পাশাপাশি ক্যাম্পাসে চলতে থাকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন। ধীরে ধীরে পুরো ক্যাম্পাস শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে উত্তাল হয়ে উঠে।

অবশেষে ১৬৩ ঘণ্টা পর আজ (২৬ জানুয়ারি) সকাল সোয়া ১০টার দিকে ‘আমরণ অনশন’ ভাঙলেও উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

উপচার্যরা কী ধরনের দুর্নীতিবাজ হয়ে ওঠেন দেখেছি: সংসদে মেনন

 সংসদ প্রতিবেদক 
২৬ জানুয়ারি ২০২২, ০৮:৩৩ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপচার্যরা কী ধরনের দুর্নীতিবাজ হয়ে ওঠেন সেটি দেখেছেন বলে জাতীয় সংসদে মন্তব্য করেছেন প্রবীণ রাজনীতিক ও বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন।

বুধবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

সিলেটে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) ভিসির পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে মেনন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি নিয়োগ কর্তা হিসেবে তাদের কুকর্মের দায় রাষ্ট্রপতির ওপর এসে পড়ে। এই উপচার্যরা কী ধরনের স্বৈরশাসক ও দুর্নীতিবাজ হয়ে ওঠেন এবং চাকরি বাণিজ্যে লিপ্ত হন, সেটা আমরা দেখেছি। বর্তমানে সব ভিসি শাহজালালের পক্ষে দল পাকিয়েছেন। সরকারকে বলব- শিক্ষামন্ত্রীকে বলব- ছাত্রদের দাবি মেনে নিন। একজন ভিসির জন্য একটি বিশ্ববিদ্যালয় ধ্বংস হতে পারে না। শিক্ষার্থীদের জীবন নষ্ট হতে পারে না।

উল্লেখ্য, গত ১৩ জানুয়ারি রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের প্রাধ্যক্ষ জাফরিন আহমেদ লিজার বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ তুলে তার পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন হলের কয়েকশ ছাত্রী। এরপর ১৫ জানুয়ারি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে ছাত্রলীগের কিছু নেতাকর্মী হামলা চালান। তারা আন্দোলনকারী সাধারণ ছাত্রীদের মারধর করেন। পরে ১৬ জানুয়ারি বিকালে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি ভবনে উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশ্ববিদ্যালয়ে পুলিশ ডাকেন উপাচার্য। 

পরে বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের প্রভোস্ট জাফরিন আহমেদ লিজা পদত্যাগ করতে রাজি হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল ইসলাম ভবনের ভেতরে প্রবেশ করতে চান। কিন্তু শিক্ষার্থীরা শুধুমাত্র কোষাধ্যক্ষকে ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেন।  কোষাধ্যক্ষ ভবনের ভেতরে প্রবেশ করতে যাওয়ার সময়ই পুলিশ লাঠিচার্জ, গুলি ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে শিক্ষার্থীদেরকে ছত্রভঙ্গ করতে শুরু করে। পরে উপাচার্যকে উদ্ধার করে বাসভবনে নিরাপদে পৌঁছে দেওয়া হয়। 

পুলিশের লাঠিচার্জ, রাবার বুলেট ও সাউন্ড গ্রেনেডের স্প্রিন্টারের আঘাতে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী আহত হন। এ ঘটনার প্রতিবাদে ১৬ জানুয়ারি দিবাগত মধ্যরাতে উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। প্রথমে পুরো ক্যাম্পাস পুলিশের দখলে ছিল। তাই প্রধান ফটকে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। পরে রাতেই শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের মুক্তমঞ্চে অবস্থান নেন। 

১৮ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য ও রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের উদ্দেশে বিশ্ববিদ্যালয় পরিস্থিতি জানিয়ে খোলা চিঠি পাঠ করেন শিক্ষার্থীরা। তার পরের দিন ১৯ জানুয়ারি দুপুর আড়াইটা থেকে উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে আমরণ অনশন শুরু করেন শাবির ২৪ শিক্ষার্থী। পাশাপাশি ক্যাম্পাসে চলতে থাকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন। ধীরে ধীরে পুরো ক্যাম্পাস শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে উত্তাল হয়ে উঠে।

অবশেষে ১৬৩ ঘণ্টা পর আজ (২৬ জানুয়ারি) সকাল সোয়া ১০টার দিকে ‘আমরণ অনশন’ ভাঙলেও উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও খবর