বিএনপিকে একহাত নিলেন সুলতান মনসুর
jugantor
বিএনপিকে একহাত নিলেন সুলতান মনসুর

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

২৭ জুন ২০২২, ০০:১৫:৪৪  |  অনলাইন সংস্করণ

সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ।২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে মৌলভীবাজার-২ আসন থেকে গণফোরামের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।সেই সুলতান মনসুর জাতীয় সংসদে বিএনপিকে একহাত নিলেন।

তিনি এখন বিএনপিকে কোনো রাজনৈতিক দলই মনে করছেন না।বলেছেন, ‘বিএনপি হচ্ছে নো পার্টি, এটা একটি প্ল্যাটফর্ম। তাদের কোনো রাজনৈতিক দর্শন নেই।’

রোববার জাতীয় সংসদে ২০২২-২৩ অর্থ বছরের প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে সাধারণ আলোচনায় দাঁড়িয়ে তিনি একথা বলেন।

সুলতান মনসুর বলেন, ‘তাদের দর্শন হচ্ছে সরকার, ভারতের বিরুদ্ধে কথা বলা। তাদের রাজনৈতিক দর্শন হচ্ছে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে কীভাবে পাকিস্তানের বন্ধুদের খুশি রাখার ভূমিকা রাখা যায়। সেটি হলো এই রাজনৈতিক দলের উদ্দেশ্য। কিন্তু সেটা এই দেশে কোনো দিন ফলবে না।’

এই প্রবীণ রাজনীতিবিদ ছিলেন ছাত্রলীগের সভাপতি। তারপর হন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক।কিন্তু ২০০৭ সালে জরুরি অবস্থা জারির পর ‘সংস্কারপন্থি’ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আওয়ামী লীগথেকে ছিটকে পড়েন।তারপর থেকে আর রাজনীতিতে খুবএকটা সুবিধা করতে পারেননি।আওয়ামী লীগও তাদের দুর্দিনের এই ‘সংস্কারপন্থি’ নেতাকে সুদিনে আর ঠাঁই দেয়নি দলে।ফলে রাজনীতির অঙ্গনে একসময়ের প্রভাবশালী সুলতান মনসুর কোনঠাসা হয়ে পড়েন।

২০১৮ সালে একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে ড. কামাল হোসেনের গণফোরামে নাম লিখিয়ে তিনি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে মৌলভীবাজার-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।ওই নির্বাচনের আগে বিএনপির নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠিত হয়েছিল, আর এই জোটভুক্ত দলগুলোর অধিকাংশ নেতা বিএনপির প্রতীকেই প্রার্থী হয়েছিলেন।

কিন্তু রোববার উল্টো সুর সুলতান মনসুরে মুখে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি ইঙ্গিত করে সংসদে তিনি বলেন, ‘এই দলের কোনো নেতৃত্ব নেই। বাছুররা এই দেশে আসতেও পারবে না, তাদের হাতে বাংলাদেশে ক্ষমতায় যাওয়ার সুযোগ থাকবে না।’

বন্যায় সরকার কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না- বিএনপির এই সমালোচনার দিকে ইঙ্গিত করে সুলতান মনসুর বলেন, ‘সরকারের সক্রিয়তা না থাকলে সামরিক বাহিনী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, প্রশাসনযন্ত্র কীভাবে মানুষের সেবায় কাজ করল?শুধু বিরোধিতার খাতিরে বিরোধিতা নয়। ভারত বিরোধিতা করে, শেখ হাসিনাকে বিরোধিতা করে, সরকার বিরোধিতা করে রাজনীতি কোনো দিন হতে পারে না।’

এ সময় নিজের রাজনৈতিক অবস্থানও ব্যাখ্যা করেন সুলতান মনসুর। তিনি বলেন, ‘পদ্মা, মেঘনা, যমুনা তোমার আমার ঠিকানা- এই স্লোগানকে ধারণ করে যে রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে জীবন শুরু করেছিলাম। সেই পদ্মায় শনিবার সেতু উদ্বোধন হয়েছে। বিশ্বের মধ্যে প্রথম খরস্রোতা নদীর মধ্যে পদ্মা সেতু।এই সংসদে বলেছিলাম, জাতির পিতাকে যারা মেনে নেবে, তারাই শুধু রাজনীতি করতে পারবে, ক্ষমতায় যাওয়া সুযোগ থাকবে। তাছাড়া কোনো সুযোগ থাকবে না।’

বিএনপিকে একহাত নিলেন সুলতান মনসুর

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
২৭ জুন ২০২২, ১২:১৫ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ।২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে মৌলভীবাজার-২ আসন থেকে গণফোরামের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।সেই সুলতান মনসুর জাতীয় সংসদে বিএনপিকে একহাত নিলেন।

তিনি এখন বিএনপিকে কোনো রাজনৈতিক দলই মনে করছেন না।বলেছেন, ‘বিএনপি হচ্ছে নো পার্টি, এটা একটি প্ল্যাটফর্ম। তাদের কোনো রাজনৈতিক দর্শন নেই।’

রোববার জাতীয় সংসদে ২০২২-২৩ অর্থ বছরের প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে সাধারণ আলোচনায় দাঁড়িয়ে তিনি একথা বলেন।

সুলতান মনসুর বলেন, ‘তাদের দর্শন হচ্ছে সরকার, ভারতের বিরুদ্ধে কথা বলা। তাদের রাজনৈতিক দর্শন হচ্ছে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে কীভাবে পাকিস্তানের বন্ধুদের খুশি রাখার ভূমিকা রাখা যায়। সেটি হলো এই রাজনৈতিক দলের উদ্দেশ্য। কিন্তু সেটা এই দেশে কোনো দিন ফলবে না।’

এই প্রবীণ রাজনীতিবিদ ছিলেন ছাত্রলীগের সভাপতি। তারপর হন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক।কিন্তু ২০০৭ সালে জরুরি অবস্থা জারির পর ‘সংস্কারপন্থি’ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আওয়ামী লীগ থেকে ছিটকে পড়েন।তারপর থেকে আর রাজনীতিতে খুবএকটা সুবিধা করতে পারেননি।আওয়ামী লীগও তাদের দুর্দিনের এই ‘সংস্কারপন্থি’ নেতাকে সুদিনে আর ঠাঁই দেয়নি দলে।ফলে রাজনীতির অঙ্গনে একসময়ের প্রভাবশালী সুলতান মনসুর কোনঠাসা হয়ে পড়েন।

২০১৮ সালে একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে ড. কামাল হোসেনের গণফোরামে নাম লিখিয়ে তিনি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে মৌলভীবাজার-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।ওই নির্বাচনের আগে বিএনপির নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠিত হয়েছিল, আর এই জোটভুক্ত দলগুলোর অধিকাংশ নেতা বিএনপির প্রতীকেই প্রার্থী হয়েছিলেন।

কিন্তু রোববার উল্টো সুর সুলতান মনসুরে মুখে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি ইঙ্গিত করে সংসদে তিনি বলেন, ‘এই দলের কোনো নেতৃত্ব নেই। বাছুররা এই দেশে আসতেও পারবে না, তাদের হাতে বাংলাদেশে ক্ষমতায় যাওয়ার সুযোগ থাকবে না।’

বন্যায় সরকার কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না- বিএনপির এই সমালোচনার দিকে ইঙ্গিত করে সুলতান মনসুর বলেন, ‘সরকারের সক্রিয়তা না থাকলে সামরিক বাহিনী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, প্রশাসনযন্ত্র কীভাবে মানুষের সেবায় কাজ করল?শুধু বিরোধিতার খাতিরে বিরোধিতা নয়। ভারত বিরোধিতা করে, শেখ হাসিনাকে বিরোধিতা করে, সরকার বিরোধিতা করে রাজনীতি কোনো দিন হতে পারে না।’

এ সময় নিজের রাজনৈতিক অবস্থানও ব্যাখ্যা করেন সুলতান মনসুর। তিনি বলেন, ‘পদ্মা, মেঘনা, যমুনা তোমার আমার ঠিকানা- এই স্লোগানকে ধারণ করে যে রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে জীবন শুরু করেছিলাম। সেই পদ্মায় শনিবার সেতু উদ্বোধন হয়েছে। বিশ্বের মধ্যে প্রথম খরস্রোতা নদীর মধ্যে পদ্মা সেতু।এই সংসদে বলেছিলাম, জাতির পিতাকে যারা মেনে নেবে, তারাই শুধু রাজনীতি করতে পারবে, ক্ষমতায় যাওয়া সুযোগ থাকবে। তাছাড়া কোনো সুযোগ থাকবে না।’

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন