জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর জন্মদিন শনিবার
jugantor
জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর জন্মদিন শনিবার

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

১১ নভেম্বর ২০২২, ২২:২৯:২৪  |  অনলাইন সংস্করণ

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর ৭৫তম জন্মদিন আগামীকাল (শনিবার)। ১৯৪৬ সালের ১২ নভেম্বর নওগাঁ জেলায় নানার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন তিনি।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়ন প্রকৌশল পড়ার সময় তিনি পূর্ববাংলা ও পশ্চিম পাকিস্তানের একজন অ্যাথলেট ও ঢাকার প্রথম বিভাগের ফুটবল খেলোয়াড় হিসেবে সুনাম অর্জন করেন।

১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু ঘোষিত ৬ দফাকে স্বাধীনতার এক দফা আন্দোলনে পরিণতি দেওয়ার উদ্যোগে যোগ দেন ইনু। ছাত্রলীগের একজন সক্রিয় সদস্য হিসেবে ১৯৬৯ সালে গণঅভ্যুত্থান সংঘটনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এবং ছাত্রলীগের প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক মনোনীত হন।

এ সময় তিনি পেশা হিসেবে রাজনীতিকে বেছে নেন। ১৯৬৯ সালে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার শহিদ সার্জেন্ট জহুরের স্মরণে ১৯৭০ সালে স্বাধীন বাংলা নিউক্লিয়াসের উদ্যোগে ছাত্রলীগ আয়োজিত কুচকাওয়াজে নেতৃত্ব দেন। ১৯৭১ সালের জানুয়ারিতে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ঢাকার সাইন্স ল্যাবরেটরি লুটের নেতৃত্ব দেন।

তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন ও ছাত্রনেতাদের অভিবাদন জানান। এদিনই প্রথম বাংলাদেশে একযোগে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলিত হয়। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি ভারতের তান্দুয়ায় বাংলাদেশ লিবারেশন ফ্রন্ট বা বিএলএফ বা মুজিব বাহিনীর সামরিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ক্যাম্প ইনচার্জের দায়িত্বপ্রাপ্ত হন ও দশ হাজার গেরিলা মুক্তিযোদ্ধাকে প্রশিক্ষণে নেতৃত্ব দেন। ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু তাকে জাতীয় কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব প্রদান করেন।

১৯৭২ সালের ৩১ অক্টোবর নবগঠিত রাজনৈতিক দল জাসদে যোগদান করেন। ১৯৭৩ সালে তিনি জাসদ কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটির সদস্য মনোনীত হন। দল নিষিদ্ধ হলে তিনি বিপ্লবী গণবাহিনীর উপপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পান। প্রধান হন কর্নেল আবু তাহের বীরউত্তম। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর মোশতাক সরকারের বিরুদ্ধে জাসদ-ইউপিপি-জাগমুই-এর রাজনৈতিক ঐক্য গড়ে তোলার উদ্যোগে যুক্ত হন। কর্নেল আবু তাহের বীরউত্তমের সহযোগী হিসেবে তিনি ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর মহান সিপাহি জনতার অভ্যুত্থান সংঘটিত করেন। অভ্যুত্থান ব্যর্থ হওয়ার পর ২৩ নভেম্বর তাকে গ্রেফতার করা হয়।

১৯৭৬ সালে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রহসনমূলক বিচারে কর্নেল তাহেরকে ফাঁসি, হাসানুল হক ইনুকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। সাজা ভোগ করে ১৯৮০ সালের ১৩ জুন ইনু কারামুক্তি পান।

১৯৯৭ সালে তিনি ঐক্যবদ্ধ জাসদের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ২০০২ সালে জাসদের সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে তিনি কুষ্টিয়া থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ও একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে তথ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব অর্পণ করেন।

জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর জন্মদিন শনিবার

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
১১ নভেম্বর ২০২২, ১০:২৯ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর ৭৫তম জন্মদিন আগামীকাল (শনিবার)। ১৯৪৬ সালের ১২ নভেম্বর নওগাঁ জেলায় নানার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। 

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়ন প্রকৌশল পড়ার সময় তিনি পূর্ববাংলা ও পশ্চিম পাকিস্তানের একজন অ্যাথলেট ও ঢাকার প্রথম বিভাগের ফুটবল খেলোয়াড় হিসেবে সুনাম অর্জন করেন। 

১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু ঘোষিত ৬ দফাকে স্বাধীনতার এক দফা আন্দোলনে পরিণতি দেওয়ার উদ্যোগে যোগ দেন ইনু। ছাত্রলীগের একজন সক্রিয় সদস্য হিসেবে ১৯৬৯ সালে গণঅভ্যুত্থান সংঘটনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এবং ছাত্রলীগের প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক মনোনীত হন। 

এ সময় তিনি পেশা হিসেবে রাজনীতিকে বেছে নেন। ১৯৬৯ সালে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার শহিদ সার্জেন্ট জহুরের স্মরণে ১৯৭০ সালে স্বাধীন বাংলা নিউক্লিয়াসের উদ্যোগে ছাত্রলীগ আয়োজিত কুচকাওয়াজে নেতৃত্ব দেন। ১৯৭১ সালের জানুয়ারিতে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ঢাকার সাইন্স ল্যাবরেটরি লুটের নেতৃত্ব দেন। 

তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন ও ছাত্রনেতাদের অভিবাদন জানান। এদিনই প্রথম বাংলাদেশে একযোগে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলিত হয়। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি ভারতের তান্দুয়ায় বাংলাদেশ লিবারেশন ফ্রন্ট বা বিএলএফ বা মুজিব বাহিনীর সামরিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ক্যাম্প ইনচার্জের দায়িত্বপ্রাপ্ত হন ও দশ হাজার গেরিলা মুক্তিযোদ্ধাকে প্রশিক্ষণে নেতৃত্ব দেন। ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু তাকে জাতীয় কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব প্রদান করেন।

১৯৭২ সালের ৩১ অক্টোবর নবগঠিত রাজনৈতিক দল জাসদে যোগদান করেন। ১৯৭৩ সালে তিনি জাসদ কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটির সদস্য মনোনীত হন। দল নিষিদ্ধ হলে তিনি বিপ্লবী গণবাহিনীর উপপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পান। প্রধান হন কর্নেল আবু তাহের বীরউত্তম। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর মোশতাক সরকারের বিরুদ্ধে জাসদ-ইউপিপি-জাগমুই-এর রাজনৈতিক ঐক্য গড়ে তোলার উদ্যোগে যুক্ত হন। কর্নেল আবু তাহের বীরউত্তমের সহযোগী হিসেবে তিনি ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর মহান সিপাহি জনতার অভ্যুত্থান সংঘটিত করেন। অভ্যুত্থান ব্যর্থ হওয়ার পর ২৩ নভেম্বর তাকে গ্রেফতার করা হয়। 

১৯৭৬ সালে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রহসনমূলক বিচারে কর্নেল তাহেরকে ফাঁসি, হাসানুল হক ইনুকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। সাজা ভোগ করে ১৯৮০ সালের ১৩ জুন ইনু কারামুক্তি পান। 

১৯৯৭ সালে তিনি ঐক্যবদ্ধ জাসদের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ২০০২ সালে জাসদের সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে তিনি কুষ্টিয়া থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ও একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে তথ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব অর্পণ করেন। 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন